০৪:৩৫ পি.এম
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। ছবিটি সংগৃহীত।
রূপগঞ্জের গজারিয়াপাড়ার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা রহিমা বেগম। কাপড়ের আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে বলছিলেন, ‘বাবা, আমার বুকডা জুড়াইয়া গেসে।
যে কেউ কিছুই করতে পারত না, হেইডা সাইফুল ইসলাম করছে। হেগরে ধইরা জেল দিয়া আমাগো শান্তি দিছে।’ গজারিয়াপাড়ার সবার মুখে ছিল এমন স্বস্তির কথা।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত
এক সময় এই জনপদ মাদকের থাবায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল। যেখানে সন্ধ্যার পর মানুষ ভয়ে ঘরের বাইরে যেত না। কিন্তু এখন রূপগঞ্জে স্বস্তির সুবাতাস বইছে। আর এই পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। গত দুই মাসে তার অভিযান ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে পুরো উপজেলার চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনও সাইফুল ইসলাম এলাকার মাদক কারবারি, ভূমিদস্যু এবং ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। যারা বিগত দীর্ঘ সময়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করে আসছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যে ভেজালকারীদের উদ্দেশে দিয়েছেন কড়া হুঁশিয়ারি।
অপরাধীদের উদ্দেশ্যে ইউএনও সাইফুল ইসলামের হুশিয়ারি ছিল—অপরাধ করে রূপগঞ্জে একমুহূর্তের জন্যও ছাড় পাওয়া যাবে না। তার এই আপসহীন অবস্থানের ফলে স্থানীয় অপরাধ সিন্ডিকেট কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
দুই মাসে ১৪৫ জন মাদক কারবারি ও সেবনকারী সাজা পেয়েছে। উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, মাদকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে বাঁচাতে ইউএনও সাইফুল ইসলাম সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছেন। গত দুই মাসের ব্যবধানে উপজেলাজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৪৫ জন মাদক কারবারি ও মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমিতে বৌদ্ধ ঐতিহ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
শুধু আইন প্রয়োগে ক্ষান্ত হননি; মাদকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতেও তিনি মাঠে নেমেছেন। তার এই ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানের কারণে রূপগঞ্জের অলিগলি থেকে মাদকের আস্তানাগুলো একে একে বন্ধ হতে শুরু করেছে।
প্রশাসনের চৌকাঠে মিলছে মানবিকতার ছোঁয়া। অন্ধ জুয়েল মিয়া ও বৃদ্ধা রাহেলা খাতুন বলেন, একজন কঠোর ম্যাজিস্ট্রেটের রূপের বাইরেও ইউএনও সাইফুল ইসলামের অন্য পরিচয় রয়েছে। তিনি এলাকার অসহায় মানুষের পরম বন্ধু। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা হতদরিদ্র, অসুস্থ ও সহায়-সম্বলহীন মানুষ তার দপ্তরে এসে খালি হাতে ফেরেন না।
সরকারি তহবিলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও তিনি অসংখ্য অসহায় পরিবারকে আর্থিক অনুদান, চিকিৎসা সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করে চলেছেন। প্রশাসনের শীতল দেওয়াল ভেঙে তিনি সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গেছেন এক মানবিক সেবক হিসেবে।
সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক দুর্ভেদ্যতা এবং নানা অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই কর্মকর্তা। দালালের দৌরাত্ম্যমুক্ত সেবা প্রদান এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক কার্যক্রমে আজ মুখরিত রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ, প্রতিবাদে বাবা-চাচার সংবাদ সম্মেলন
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ইউএনও সাইফুল ইসলামের মতো এমন সৎ, কর্মবীর ও সাহসী কর্মকর্তারাই পারেন সমাজ থেকে সব অনিয়ম দূর করে একটি বাসযোগ্য ও সুন্দর জনপদ গড়ে তুলতে। রূপগঞ্জের এই সফল অভিযান এখন পুরো জেলার মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন