০৫:৫১ এম
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা ১৭টি ষাঁড়-বাছুরসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ একটি পিকআপ জব্দ করেছে, যা গরু পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল, এবং নাজিরপুর বাজারের নামে ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ বইও উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোরে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের উত্তরাইল বাজারের দয়ালবাড়ী এলাকায় গরুবোঝাই পিকআপসহ চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন, দুর্গাপুর উপজেলার ফুলপুর গ্রামের পারভেজ মিয়া (২৫), নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরকান্দি গ্রামের আফসার উদ্দিন (৩৪), দুর্গাপুরের চারিখাল গ্রামের হানিফ (৩০), নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরকান্দি গ্রামের ইয়াসিন মিয়া (২২) এবং কলমাকান্দার নাজিরপুর এলাকার রামপুর গ্রামের জাহিদ হাসান রাসেল (৩০)।
আরও পড়ুন: জামালপুরে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিনজন নিহত, আহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী
পুলিশের এজাহার থেকে জানা যায়, শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে দুর্গাপুর থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলাম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সোমেশ্বরী সেতুর ওপর অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ভারতীয় গরু পিকআপে করে নাজিরপুর মোড় হয়ে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়ক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সেতুর ওপর চেকপোস্ট বসিয়ে পিকআপটি থামার সংকেত দেয়। কিন্তু চালক সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সিএনজি ও মোটরসাইকেলে পিকআপটির পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে সকাল সোয়া ৫ টা দিকে উত্তরাইল বাজারের দয়ালবাড়ী এলাকায় পিকআপটি আটক করে চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ১৭টি ষাঁড়-বাছুর উদ্ধার করে। গরুগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে আটক ব্যক্তিরা নাজিরপুর বাজার, কলমাকান্দার নামসংবলিত হাতে লেখা ১৭ পাতা হলুদ রঙের রশিদ দেখান। তবে পুলিশি যাচাইয়ে সেগুলোকে বৈধ কাগজপত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য পাওয়া যায়নি। পরে গরুগুলো জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ নম্বর আসামি জাহিদ হাসান রাসেলের সহযোগিতায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে এনে নাজিরপুর বাজারের ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন বলে তথ্য দেন।
আরও পড়ুন: জামালপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন সকাল পৌনে এগারোটার দিকে নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে জাহিদ হাসান রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে নাজিরপুর বাজারের নামসংবলিত ১০৯ পাতার একটি খাস আদায়ের রশিদ বই জব্দ করা হয়। বইটির বিভিন্ন পাতায় ০৪০১ থেকে ০৫০০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বর রয়েছে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার সাকের আহমেদ জানান, ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুরের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া গরু পরিবহনে ব্যবহৃত কুষ্টিয়া-ন ১১-০০২৫ নম্বরের পিকআপটির আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনের বিরুদ্ধে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় গরু সংগ্রহ, অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে জাল রশিদ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং দণ্ডবিধির ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ কর্মী মিছিল বের করার চেষ্টা, গ্রেফতার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন