ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

দুর্গাপুরে ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুরসহ পাঁচজন গ্রেফতার


দুর্গাপুরে ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুরসহ পাঁচজন গ্রেফতার

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা ১৭টি ষাঁড়-বাছুরসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ একটি পিকআপ জব্দ করেছে, যা গরু পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল, এবং নাজিরপুর বাজারের নামে ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ বইও উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোরে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের উত্তরাইল বাজারের দয়ালবাড়ী এলাকায় গরুবোঝাই পিকআপসহ চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন, দুর্গাপুর উপজেলার ফুলপুর গ্রামের পারভেজ মিয়া (২৫), নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরকান্দি গ্রামের আফসার উদ্দিন (৩৪), দুর্গাপুরের চারিখাল গ্রামের হানিফ (৩০), নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরকান্দি গ্রামের ইয়াসিন মিয়া (২২) এবং কলমাকান্দার নাজিরপুর এলাকার রামপুর গ্রামের জাহিদ হাসান রাসেল (৩০)।

আরও পড়ুন: জামালপুরে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিনজন নিহত, আহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী

পুলিশের এজাহার থেকে জানা যায়, শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে দুর্গাপুর থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলাম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সোমেশ্বরী সেতুর ওপর অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ভারতীয় গরু পিকআপে করে নাজিরপুর মোড় হয়ে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়ক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সেতুর ওপর চেকপোস্ট বসিয়ে পিকআপটি থামার সংকেত দেয়। কিন্তু চালক সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সিএনজি ও মোটরসাইকেলে পিকআপটির পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে সকাল সোয়া ৫ টা দিকে উত্তরাইল বাজারের দয়ালবাড়ী এলাকায় পিকআপটি আটক করে চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ১৭টি ষাঁড়-বাছুর উদ্ধার করে। গরুগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে আটক ব্যক্তিরা নাজিরপুর বাজার, কলমাকান্দার নামসংবলিত হাতে লেখা ১৭ পাতা হলুদ রঙের রশিদ দেখান। তবে পুলিশি যাচাইয়ে সেগুলোকে বৈধ কাগজপত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য পাওয়া যায়নি। পরে গরুগুলো জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ নম্বর আসামি জাহিদ হাসান রাসেলের সহযোগিতায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে এনে নাজিরপুর বাজারের ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন বলে তথ্য দেন।

আরও পড়ুন: জামালপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন সকাল পৌনে এগারোটার দিকে নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে জাহিদ হাসান রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে নাজিরপুর বাজারের নামসংবলিত ১০৯ পাতার একটি খাস আদায়ের রশিদ বই জব্দ করা হয়। বইটির বিভিন্ন পাতায় ০৪০১ থেকে ০৫০০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বর রয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার সাকের আহমেদ জানান, ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুরের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া গরু পরিবহনে ব্যবহৃত কুষ্টিয়া-ন ১১-০০২৫ নম্বরের পিকআপটির আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনের বিরুদ্ধে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় গরু সংগ্রহ, অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে জাল রশিদ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং দণ্ডবিধির ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ কর্মী মিছিল বের করার চেষ্টা, গ্রেফতার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ এম


পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা ইউরেনিয়াম। গতকাল শুক্রবার, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় তিনটি বিশেষায়িত লরিতে এই পারমাণবিক জ্বালানির চালানটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর এবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুরে পৌঁছেছে। পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে এই রুটটি এবারই প্রথম ব্যবহৃত হলো।

রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস টুটল জানিয়েছেন, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাত।

এ চালানসহ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটিসহ মোট পাঁচটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

এদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরো দুটি কার্গো বিমানে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ৯টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে হামলা না চালালে ইসরাইল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ এম


ইরানে হামলা না চালালে ইসরাইল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দিলে ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ফ্লোরিডার নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে, ফলে ইসরাইল ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

তিনি বলেন, “আমি যদি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দিতাম, তাহলে আজ ইসরাইলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। ইসরাইল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে, তবে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বর্গের লোভ দেখিয়ে শিশুদের অনাহারে হত্যা, কেনিয়ার ধর্মগুরুকে ২০০ বছরের সাজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ এম


স্বর্গের লোভ দেখিয়ে শিশুদের অনাহারে হত্যা, কেনিয়ার ধর্মগুরুকে ২০০ বছরের সাজা

আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় দেশ কেনিয়ায় ধর্মীয় উগ্রবাদে প্ররোচনা দিয়ে অনুসারীদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার ২৮ সহযোগীকেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেশটির উপকূলীয় শহর মোম্বাসার হাইকোর্টে এ রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতের বিচারক ডায়ানা কাবেদজা-মোচাচে এ সাজা প্রদান করেন।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, পল ম্যাকেঞ্জি তার অনুসারীদের যিশুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার কথা বলে অনাহারে থাকতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার নির্দেশনায় অনুসারীরা খাবার ও পানি গ্রহণ বন্ধ করে দেন। এর ফলে ১৯০ শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্কসহ মোট ১৯১ জনের মৃত্যু ঘটে।

আদালত জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৮৩ জন অনাহারে মারা যান এবং আটজন সরাসরি হত্যার শিকার হন। এই ঘটনায় ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে দুটি পৃথক ধারায় ১০০ বছর করে মোট ২০০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর সহযোগীদের ১০ থেকে ১৬০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালে কেনিয়ার উপকূলীয় কিলিফি কাউন্টির শাকাহোলা বনাঞ্চলে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। ওই এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে চার শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অনেক মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মামলায় প্রসিকিউশন ম্যাকেঞ্জির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছিল। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে ২০০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। বিচারকের মতে, অনুসারীদের ধর্মীয় বিশ্বাসে মৃত্যুকে স্বর্গে যাওয়ার পথ হিসেবে দেখা হতো। সে ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড তাঁদের কাছে শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এদিকে ম্যাকেঞ্জির আইনজীবী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া অন্য অনুসারীদের মৃত্যুর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথক সন্ত্রাসবাদ, হত্যাসহ আরও কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।

কেনিয়ার ইতিহাসে আলোচিত এই গণমৃত্যুর ঘটনা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে দেশটির কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রত্যক্ষদর্শী দুই সেনা কর্মকর্তার লেখায় ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের চিত্র তুলে ধরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ এম


প্রত্যক্ষদর্শী দুই সেনা কর্মকর্তার লেখায় ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের চিত্র তুলে ধরা

পঁচাত্তরের ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে দেশে কার্যত কোনো সরকার ছিল না। এই সময়কাল দেশের জন্য ছিল গভীর সংকটময়, যেখানে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ছাড়া দেশ চলছিল, যা ছিল একটি চরম নেতৃত্বহীন ক্রান্তিকাল। এই পরিস্থিতির মধ্যে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব দেশকে অনিশ্চিত অবস্থা থেকে রক্ষা করে। সিপাহিদের ভাষায়, এটি ছিল ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন’।

ঢাকা সেনানিবাসে কর্মরত গুরুত্বপূর্ণ দুজন সেনা কর্মকর্তার লেখায় এই বিষয়টি উঠে এসেছে। তারা হলেন ঢাকা সেনানিবাসের তৎকালীন অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী এবং তৎকালীন ঢাকা সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার লে. কর্নেল এমএ হামিদ পিএসসি। সেনানিবাসের অভ্যন্তরের ঘটনাবলি তারা খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। নিজেদের লেখা বইতে তারা ঘটনার চমৎকার বিবরণ তুলে ধরেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও গবেষক মেজর রফিকুল ইসলামও সে সময়ের ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করেছেন তার বইয়ে।

মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী (বীরবিক্রম) তার ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য : স্বাধীনতার প্রথম দশক’ বইয়ে উল্লেখ করেন যে, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব দেশকে একটি নিশ্চিত গৃহযুদ্ধ এবং বিদেশি আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। ৩ নভেম্বরের পর সাধারণ সৈনিকদের মনে ভয় ঢুকেছিল যে, দেশ ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সেই ভয় দূর করে সিপাহি ও জনগণের মধ্যে এক অভূতপূর্ব জাতীয় সংহতি তৈরি করে। জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই সে সময় সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছিল।

মইনুল হোসেন চৌধুরী তার বইয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ৭ নভেম্বর ভোরের মধ্যেই জাসদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধারণ জওয়ানদের জাতীয়তাবাদী আবেগের কাছে মার খায় এবং জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হন। তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পুরো পরিস্থিতির হাল ধরেন। ৭ নভেম্বর ভোরের দিকে সেনানিবাসে এক ভয়ংকর অরাজক পরিস্থিতি ছিল, যেখানে সাধারণ সিপাহিরা অফিসারদের নির্দেশ মানতে চাচ্ছিল না। জিয়াউর রহমান মুক্ত হয়ে প্রথমে রেডিওতে ভাষণ দিয়ে দেশবাসীকে শান্ত করেন। এরপর তিনি সেনানিবাসে চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেন। তিনি অত্যন্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে কর্নেল তাহের ও জাসদের অবাস্তব দাবি-দাওয়া (যেমন অফিসারহীন সেনা কাঠামো) উড়িয়ে দেন এবং সেনাবাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠন করতে মনোযোগ দেন।

মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী আরো লেখেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশাল টার্নিং পয়েন্ট। যদি সেদিন জিয়াউর রহমানের মতো একজন সর্বজনগ্রাহ্য নেতা হাল না ধরতেন, তবে সেনাবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত এবং দেশ একটি দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ কিংবা বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের মুখে পড়ত। ৭ নভেম্বর সাময়িকভাবে সেনাবাহিনীতে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করলেও, দীর্ঘ মেয়াদে এটি দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী সরকার গঠনের পথ তৈরি করেছিল।

প্রায় সব অফিসারই স্বীকার করেছেন, সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে জিয়ার জনপ্রিয়তা ছিল প্রশ্নাতীত এবং ৭ নভেম্বরের মূল চালিকাশক্তি ছিল জিয়ার প্রতি সিপাহিদের ভালোবাসা ও আস্থা। সাধারণ সিপাহিদের কাছে এটি ছিল ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন’।

লে. কর্নেল এমএ হামিদ তৎকালীন ঢাকা সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার ছিলেন। সেনানিবাসের ভেতরের পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে দেখা এই কর্মকর্তা তার ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’ বইয়ে ৭ নভেম্বরের চমৎকার চোখের দেখা বিবরণ দিয়েছেন। তিনি ৭ নভেম্বরকে সিপাহি ও জনতার এক স্বতঃস্ফূর্ত এবং অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ৭ নভেম্বর রাতে সাধারণ সৈনিকরা যখন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে ট্রাকে করে রাজপথে নেমে আসে, তখন তাদের চোখে-মুখে ছিল একধরনের মুক্তির আনন্দ। জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার পর টু-ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টে যে অভূতপূর্ব উল্লাস তৈরি হয়েছিল, তার নিখুঁত চিত্র তিনি তুলে ধরেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সেনানিবাসে অফিসারদের ওপর সিপাহিদের ক্ষোভ এবং পরবর্তী দিনগুলোতে অফিসার হত্যার দুঃখজনক ঘটনাগুলোর কথাও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরেছেন।

এমএ হামিদ পরিষ্কারভাবে লিখেছেন, ৭ নভেম্বরের মূল চালিকাশক্তি ছিল মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতি সিপাহিদের গভীর ভালোবাসা ও বিশ্বাস। ৩ নভেম্বর জিয়াকে যখন বন্দি করা হয়, তখন থেকেই সাধারণ জওয়ানদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল।

সিপাহিদের স্পষ্ট ধারণা ছিল, জিয়াউর রহমান ছাড়া দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। ৭ নভেম্বর রাতে যখন সিপাহিরা বিদ্রোহ করে জিয়াকে মুক্ত করে ২ নম্বর ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টে নিয়ে আসে, তখনকার অভূতপূর্ব আনন্দের দৃশ্য তিনি বইয়ে তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, সাধারণ সিপাহিরা তখন খুশিতে জিয়াকে কাঁধে তুলে নেন।

কর্নেল হামিদ লেখেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনা কোনো সাধারণ বা পরিকল্পিত সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না। এটি ছিল সিপাহি ও জনগণের এক বিশাল, স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ। তিনি আরো লিখেছেন, ৬ নভেম্বর মধ্যরাত পার হওয়ার পর সেনানিবাস থেকে সিপাহিরা যখন ট্যাংকে এবং ট্রাকে করে ঢাকার রাজপথে বেরিয়ে আসে, তখন সাধারণ মানুষও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’ স্লোগানে পুরো ঢাকা শহর প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল। এই দুই শক্তির মিলনকেই তিনি সত্যিকারের ‘বিপ্লব’ ও ‘সংহতি’ হিসেবে দেখেছেন, যা এর আগে বা পরে বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি।

কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বাধীন ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’ এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে একটি সমাজতান্ত্রিক ও অফিসারহীন সেনাবাহিনী গঠন করতে চেয়েছিল। কিন্তু সাধারণ সিপাহিদের সিংহভাগই কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বা সমাজতন্ত্রের জন্য রাস্তায় নামেনি। তারা নেমেছিল শুধু তাদের প্রিয় নেতা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে। লে. কর্নেল হামিদ আরো উল্লেখ করেন, কর্নেল তাহের যখন জিয়াকে তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইলেন, তখন সাধারণ সিপাহিদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। এমএ হামিদ একজন পেশাদার সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ৭ নভেম্বরের একটি অন্ধকার ও বেদনাদায়ক দিকও, অর্থাৎ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা হত্যার কথাও বইয়ে তুলে ধরেছেন।

এমএ হামিদের মতে, ৭ নভেম্বর ভোরের দিকে সেনানিবাসের পরিস্থিতি এতটাই উত্তাল ও বিশৃঙ্খল ছিল যে, যেকোনো সময় পুরো দেশ একটি গৃহযুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারত। এই চরম মুহূর্তে জিয়াউর রহমান যেভাবে অসীম ধৈর্য এবং দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন, তা ছিল খুবই প্রশংসনীয়। মুক্ত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সিপাহিদের শান্ত করেন, ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং ভেঙে পড়া চেইন অব কমান্ড জোড়া লাগিয়ে সেনাবাহিনীতে কঠোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।

মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও গবেষক মেজর রফিকুল ইসলাম তার ‘বাংলাদেশ : সামরিক শাসন ও গণতন্ত্রের সংকট’ গ্রন্থে এ সময়টিকে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি ৭ নভেম্বরকে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক মেরূকরণের দিন হিসেবে দেখেছেন, যেখানে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সিপাহিরা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করলেও কর্নেল তাহেরের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন (শ্রেণিহীন সেনাবাহিনী গঠন)। কিন্তু জিয়াউর রহমান মুক্ত হওয়ার পরপরই সিপাহিদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে জাসদ বা তাহেরের বিপ্লবী এজেন্ডার বাইরে গিয়ে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও দেশের সার্বভৌমত্ব পুনর্গঠনে হাত দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%