বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৭ পি.এম
কুড়িগ্রামে দীর্ঘ সময় পর ভারি বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করেছে। বৃষ্টির সঙ্গে নদ-নদীর পানির স্তরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রধান চারটি নদী—তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র—এর পানি ধীর গতিতে বাড়ছে। যদিও সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তিস্তার পানি বিপৎসীমার মাত্র ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজারহাট উপজেলার তিস্তার চর গতিয়াশাম, চর খিতাবখাসহ কয়েকটি চরের আমন ক্ষেত নিমজ্জিত হয়ে গেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি পানি আরো বাড়ে, তবে ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যেতে পারে।
এদিকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে প্রধান নদীর কিছু পয়েন্টে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সদর, উলিপুর, ভুরুঙ্গামারী এবং চিলমারীর কয়েকটি চরে ভাঙন বেড়ে গেছে। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
আরো পড়ুন
সারা দেশে আগামী ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ২০টি পয়েন্টে কম বেশি ভাঙন দেখা যাচ্ছে। তবে ৩-৪টি পয়েন্টকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে তারা প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়েছেন।
অন্যদিকে, অল্প সময়ে অধিক বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রাম শহরের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর, জেলা জজ আদালত, পুলিশ সুপার কার্যালয় ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগামী সড়ক নিমজ্জিত অবস্থায় দেখা যায়। এসব এলাকায় হাঁটু পানি ভেঙে অনেককে যানবাহন ও হেঁটে চলাচল করতে দেখা যায়। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তবে বৃষ্টির কারণে আমন ফসলের ফলন বাড়বে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগের ধারণা। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শষ্য) মেহেদী হাসান জানান, কৃষকের বহু প্রত্যাশিত এই বৃষ্টির ফলে আমনের জমিতে সার অধিক কার্যকর হবে এবং ফলন অনেক ভালো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন।
সভায় ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীমসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভাটি তিনটি পৃথক পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। এরপর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও পরিচালকদের সঙ্গে এবং সর্বশেষ বেলা ১টা পর্যন্ত কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন উপাচার্য।
পৃথকভাবে তিন সভাতে উপাচার্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এসময় উপস্থিত শিক্ষকেরা জানান, উপাচার্যের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা উদঘাটন, পরিকল্পনা নিরূপণ ও সমস্যার সমাধানে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কাজ করে যাবে বলে জানান তারা।
শিক্ষকদের সাথে সভায় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামো বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সৌন্দর্যের মধ্যে নয়। এর মূল শক্তি হলো শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রতিটি মানুষের মেধা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সততার সমবেত প্রচেষ্টা।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় তার শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রস্তুত হয়। তাই বাকৃবিকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “খাদ্য এবং পুষ্টি নিরাপত্তায় বাকৃবির ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় একটু দূরে ময়মনসিংহে থাকাতে আমরা সুযোগ একটু কম পাই। যারা ঢাকায় আশেপাশে থাকে, তারা সুযোগ বেশি পায়। সেজন্য আমাদের এদিকে একটু খেয়াল রেখে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের শিক্ষকরা বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করছেন। এত গবেষণা বাংলাদেশের কোথাও হয় না। এত মাস্টার্স, পিএইচডি বাংলাদেশের কোনো ভার্সিটিতে হয় না। এটা আমাদের একটা বড় একটা অর্জন এবং সুযোগ। এই সুয়োগ কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।”
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশৃঙ্খল, সৎ ও দক্ষ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাব নেই। আমি তাঁদের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করতে চাই। তবে কেউ যদি মনের অজান্তে নিজেকে কোনো ভুল পথে পরিচালিত করে থাকেন, তাঁরা নিজের দুর্বলতাগুলো দূর করে নিজেদের খাঁটি মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করবেন। সময়মতো অফিসে আসা, ক্লাস নেওয়া, গবেষণা পরিচালনা করা, এটাই আমাদের আসলে মূল উদ্দেশ্য।”
তিনি সকলকে বলেন, “আপনারা আপনাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আজ থেকে আমরা হাতে হাত মিলিয়ে ন্যায়নীতির ওপর প্রস্তুত থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত করে যেন আমাদের প্রতিটি ঐতিহ্য আরও গৌরবময় ইতিহাসে রূপান্তর করতে পারি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী শনিরআখড়ায় পারিবারিক কলহের কারণে সালমা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূ কীটনাশক পানে মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি কীটনাশক পান করেন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সালমা বেগম হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর গ্রামের রহমত আলীর কন্যা। তিনি বর্তমানে শনিরআখড়ায় স্বামী সাধু মিয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার পর তার স্বামী পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সালমা বেগম কীটনাশক পানের পর তার বড় বোন পারভিন বেগমকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। এরপর তার বোন বাসায় এসে সালমাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পারভীন বেগম বলেন, সালমার আগের স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর তিনি প্রায় এক বছর আগে সাধু মিয়া নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই সাধু মিয়ার পরকীয়া নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ শুরু হয়। এ কারণে তার স্বামী প্রায়ই সালমাকে নির্যাতন করতেন। এই পরিস্থিতির জেরে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি বিষপান করেছেন। বর্তমানে তার স্বামী পলাতক রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান এবং নতুন প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অযৌক্তিক বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। এই বিলম্ব প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি করে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় চলমান এবং ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তিনি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) দ্রুত প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
কারাগারসংক্রান্ত প্রকল্পের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিধিনিষেধের কারণে কিছু প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে, যা যুক্তিসংগত। তবে সাধারণ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সকল সাধারণ অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কার্যকর পদক্ষেপের ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি প্রতি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্টের সুবিধা জোরদার, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপনের প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত ‘মডেল থানা’য় রূপান্তরের জন্য নির্দিষ্ট ‘প্রোটোটাইপ ডিজাইন’ অনুসরণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। জমির সংকট রয়েছে এমন এলাকায় দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহন সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্প থেকে সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে এবং কাজের দ্বৈততা এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের বাকি মেয়াদের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও ‘রিস্কোপিং’-এর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, অধীনস্থ ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ ঘোষণা করেছেন, নেছারাবাদে সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বরূপকাঠি পৌরসভার উদ্যোগে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতুলতলা থেকে শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত খালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, পৌরসভার সরকারি খাল দখল করে যারা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদের দখল উচ্ছেদ করা হবে। খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, পিরোজপুর জেলায় ডেঙ্গুর বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সরকারি খাল দখল করে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এসব স্থানে মশার প্রজননও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, একসময় পৌরসভার যেসব খালে স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হতো, সেখানে মানুষ সাঁতার কাটত এবং নৌকা-ট্রলার চলাচল করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব খাল দখল ও ময়লা-আবর্জনায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মশার বিস্তারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তেঁতুলতলা খালটিও ধীরে ধীরে দখলের কবলে পড়ছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অংশ হিসেবে স্বরূপকাঠি পৌরসভার উদ্যোগে খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভার শীতলা খালের পাড় দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনাগুলোও দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, পৌরশহরের সরকারি খাল দখল করে যেসব অবৈধ স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক সমাজকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেছারাবাদ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও ও স্বরূপকাঠি পৌর প্রশাসক মো. আবু রায়হান। এছাড়া বক্তব্য দেন নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদার, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসান, নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও শিক্ষক মো. ওহিদুজ্জামান মানিক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেছারাবাদ উপজেলা শাখার আমীর আবুল কালাম আজাদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ