বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৮ পি.এম
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী শনিরআখড়ায় পারিবারিক কলহের কারণে সালমা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূ কীটনাশক পানে মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি কীটনাশক পান করেন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সালমা বেগম হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর গ্রামের রহমত আলীর কন্যা। তিনি বর্তমানে শনিরআখড়ায় স্বামী সাধু মিয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার পর তার স্বামী পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সালমা বেগম কীটনাশক পানের পর তার বড় বোন পারভিন বেগমকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। এরপর তার বোন বাসায় এসে সালমাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পারভীন বেগম বলেন, সালমার আগের স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর তিনি প্রায় এক বছর আগে সাধু মিয়া নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই সাধু মিয়ার পরকীয়া নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ শুরু হয়। এ কারণে তার স্বামী প্রায়ই সালমাকে নির্যাতন করতেন। এই পরিস্থিতির জেরে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি বিষপান করেছেন। বর্তমানে তার স্বামী পলাতক রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান এবং নতুন প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অযৌক্তিক বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। এই বিলম্ব প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি করে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় চলমান এবং ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তিনি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) দ্রুত প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
কারাগারসংক্রান্ত প্রকল্পের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিধিনিষেধের কারণে কিছু প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে, যা যুক্তিসংগত। তবে সাধারণ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সকল সাধারণ অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কার্যকর পদক্ষেপের ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি প্রতি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্টের সুবিধা জোরদার, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপনের প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত ‘মডেল থানা’য় রূপান্তরের জন্য নির্দিষ্ট ‘প্রোটোটাইপ ডিজাইন’ অনুসরণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। জমির সংকট রয়েছে এমন এলাকায় দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহন সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্প থেকে সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে এবং কাজের দ্বৈততা এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের বাকি মেয়াদের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও ‘রিস্কোপিং’-এর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, অধীনস্থ ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ ঘোষণা করেছেন, নেছারাবাদে সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বরূপকাঠি পৌরসভার উদ্যোগে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতুলতলা থেকে শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত খালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, পৌরসভার সরকারি খাল দখল করে যারা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদের দখল উচ্ছেদ করা হবে। খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, পিরোজপুর জেলায় ডেঙ্গুর বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সরকারি খাল দখল করে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এসব স্থানে মশার প্রজননও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, একসময় পৌরসভার যেসব খালে স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হতো, সেখানে মানুষ সাঁতার কাটত এবং নৌকা-ট্রলার চলাচল করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব খাল দখল ও ময়লা-আবর্জনায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মশার বিস্তারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তেঁতুলতলা খালটিও ধীরে ধীরে দখলের কবলে পড়ছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অংশ হিসেবে স্বরূপকাঠি পৌরসভার উদ্যোগে খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভার শীতলা খালের পাড় দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনাগুলোও দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, পৌরশহরের সরকারি খাল দখল করে যেসব অবৈধ স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক সমাজকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেছারাবাদ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও ও স্বরূপকাঠি পৌর প্রশাসক মো. আবু রায়হান। এছাড়া বক্তব্য দেন নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদার, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসান, নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও শিক্ষক মো. ওহিদুজ্জামান মানিক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেছারাবাদ উপজেলা শাখার আমীর আবুল কালাম আজাদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মুদি দোকান ব্যবসায়ী মো. হৃদয় মিয়া (২৫) চাপাতির আঘাতে আহত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার মোটরসাইকেল এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মোহাম্মদপুরের সাদেক খান রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহতের বন্ধু মোহাম্মদ বিপ্লব জানিয়েছেন, হৃদয় সকালে মোটরসাইকেল চালিয়ে কৃষি মার্কেটে মালপত্র আনতে যাচ্ছিলেন। সাদেক খান রোডে পৌঁছানোর পর অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জন ছিনতাইকারী তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর তারা হৃদয়ের পিঠ ও কোমরে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
ছিনতাইকারীরা হৃদয়ের সুজুকি মোটরসাইকেল এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, আহত হৃদয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত হৃদয় মিয়ার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম সবুজ মিয়া। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির শংকর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কর্মকর্তাদের কাছে পুনরায় চিঠি প্রেরণ করেছে। এই তথ্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইসি সচিবালয়ে পাঠানোর জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার, ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুত করে হার্ডকপি ও সফটকপি (নিকস ফন্ট) সংযুক্ত করে নির্বাচন সহায়তা-৩ শাখায় আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়া, চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা যদি অচল হয়ে থাকে, তবে তা জরুরিভিত্তিতে সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র মারফত তাগিদ প্রদান করার জন্য সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার/জেলা নির্বাচন অফিসারদেরকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে, ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। কমিশন পূর্বেও সিসি ক্যামেরার তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ