প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান এবং নতুন প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অযৌক্তিক বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। এই বিলম্ব প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি করে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় চলমান এবং ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তিনি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) দ্রুত প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
কারাগারসংক্রান্ত প্রকল্পের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিধিনিষেধের কারণে কিছু প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে, যা যুক্তিসংগত। তবে সাধারণ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সকল সাধারণ অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কার্যকর পদক্ষেপের ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি প্রতি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্টের সুবিধা জোরদার, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপনের প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত ‘মডেল থানা’য় রূপান্তরের জন্য নির্দিষ্ট ‘প্রোটোটাইপ ডিজাইন’ অনুসরণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। জমির সংকট রয়েছে এমন এলাকায় দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহন সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্প থেকে সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে এবং কাজের দ্বৈততা এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের বাকি মেয়াদের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও ‘রিস্কোপিং’-এর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, অধীনস্থ ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন