ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৩ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন সিপিসি আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং


৩ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন সিপিসি আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘকালীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার সম্ভাবনা নিয়ে আগামী ৩ থেকে ৫ নভেম্বর ঢাকা সফরে আসছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং অভিজ্ঞ কূটনীতিক হিসেবে তাঁর এই সফরকে দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অংশীদারিত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে লিউ হাইশিংয়ের পারিবারিক যোগসূত্রও দীর্ঘদিনের। তাঁর বাবা লিউ শুচিং ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮০ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের সময় লিউ হাইশিংয়ের এই পারিবারিক সংযোগ দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ঐতিহাসিক দিকটিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ নভেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ক্রিস্টাল হলে ‘হোয়্যার হিস্ট্রি ইলুমিনেটস দ্য ফিউচার: চায়না-বাংলাদেশ ‘পলিটিক্যাল পার্টিজ প্লাস’ রাউন্ডটেবিল অ্যান্ড ইনাগুরেশন সেরিমনি অব বাংলাদেশ-চায়না সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজনে দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৬৩ সালের এপ্রিলে জন্ম নেওয়া লিউ হাইশিং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ১৯৮৫ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি ফ্রান্সে চীনা দূতাবাস, জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী মিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপবিষয়ক বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউরোপবিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করেন। বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি চীনের কেন্দ্রীয় জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের কার্যালয়ে নির্বাহী উপপরিচালক ছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিভাগ বিদেশি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্ক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে লিউ হাইশিংয়ের সফরকে কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সফর হিসেবেই নয়, বরং দুই দেশের রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তিও লিউ হাইশিংয়ের সফরের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৪ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী পাঁচ দশকে বাণিজ্য, অবকাঠামো, জ্বালানি, যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারত্বে উন্নীত হয়। ২০২৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ধারাবাহিকতাকে আরও দৃশ্যমান করে।

এ সম্পর্কের নতুন মাত্রা যুক্ত হয় ২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে। ওই সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, কৃষি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায় গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই সফরে চীনা নেতৃত্বকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান। ফলে লিউ হাইশিংয়ের বর্তমান সফর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের অবস্থান বাংলাদেশের জন্য এ সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, চীনের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ প্রায় ১৯ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে জাপানের জিডিপি প্রায় ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বর্তমান বাজারমূল্যে চীনের অর্থনীতি জাপানের তুলনায় চার গুণেরও বেশি বড়। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদনকেন্দ্র, প্রযুক্তি ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং বিশাল ভোক্তাবাজার হিসেবে চীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিজিএমইএ এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ এর যৌথ ফোরামের ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এই অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া, ওষুধ, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের বাজার সম্প্রসারণে চীনের বিশাল ভোক্তাবাজার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে শিল্পকারখানা, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

এছাড়াও অর্থনীতিবিদদের মতে, চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন, পরিবহন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে এসব সম্ভাবনার সুফল পেতে বিনিয়োগ বাস্তবায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান গত ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ৩০ আগস্ট চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন গতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব বক্তব্য দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহের প্রতিফলন।

লিউ হাইশিংয়ের সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নীতিনির্ধারণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়। নতুন বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রশাসনিক দক্ষতা, দারিদ্র্য হ্রাস, শিল্পায়ন ও স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ কার্যকর হলে দুই দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাণিজ্যঘাটতি কমানো, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের সুফল দেশের অর্থনীতিতে ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। লিউ হাইশিংয়ের মতো উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধির সফর এসব বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লিউ হাইশিংয়ের ঢাকা সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার একটি সম্ভাবনাময় উপলক্ষ। রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে কার্যকর অর্থনৈতিক সহযোগিতায় রূপান্তর করা গেলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে পারে। দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, সমান মর্যাদা ও বাস্তব স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণই হতে পারে এ সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্বধলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ পি.এম


পূর্বধলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা হেলিপ্যাড মাঠে এ কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচির শুরুতে উপজেলা হেলিপ্যাড মাঠ থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি পূর্বধলা বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনসুর আজাদ খোকন আকন্দের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব নাজমুল হুদা ফিরোজ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক তিনবারের সাধারণ সম্পাদক ও পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ আবু তাহের তালুকদার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ বাবুল আলম তালুকদার, জেলা বিএনপির সাবেক নেতা আব্দুর রহিম তালুকদার, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, ফকির সাইয়েদ আল মামুন শহীদ, আনোয়ারুল ইসলাম আনার, হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুল হাসনাত বেপারী ও আব্দুল গফুরসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই আন্দোলনে জিহাদ হত্যায় রিমান্ড শেষে কারাগারে আনিসুল ও মামুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ পি.এম


জুলাই আন্দোলনে জিহাদ হত্যায় রিমান্ড শেষে কারাগারে আনিসুল ও মামুন

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে জিহাদ হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আজ বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের ইন্সপেক্টর ফরিদ উদ্দিন কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেননি। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আজ আদালতে হাজির করার পর কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর শনির আখড়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন জিহাদ হোসেন। তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল আমিন মোল্লা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জনকে আসামি করে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাসুদকে তালাক দিলেন শ্যালিকা পূর্ণিমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ পি.এম


মাসুদকে তালাক দিলেন শ্যালিকা পূর্ণিমা

নওগাঁর আলোচিত মাসুদ, যিনি তার আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিলেন, আইনগতভাবে তালাক পেয়েছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমার কাছ থেকে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে মাসুদ নিজেই ফেসবুকে তালাকনামার ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি তিনি লাইভে এসে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

লাইভে মাসুদ নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করে বলেন, "ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী একই সঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করা যে জায়েজ নয়, তা আমাদের জানা ছিল না।" তিনি আরও জানান, "না বুঝে আমরা এই ভুলটি করেছিলাম। এই ভুলের কারণে আমাদের বিভিন্নভাবে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। যে ভুলটি হয়েছিল, আমরা তা সংশোধন করেছি।"

তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ণিমা তাকে আইনগতভাবে তালাক দিয়েছেন এবং বর্তমানে তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমীই কেবল তার সঙ্গে স্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। মাসুদ নেটিজেনদের কাছে অনুরোধ করেন, তালাকের প্রয়োজনীয় প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপন করার পর যেন তারা আর লাঞ্ছনার শিকার না হন। একই সঙ্গে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত এই শরিয়াহবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য পরিবারসহ সবার কাছে ক্ষমা চান।

এর আগে, ২৪ অক্টোবর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী সহকারী মাসুদ তার প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতেই আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন। ২৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের পর দুই স্ত্রীকে নিয়ে ছবি ও টিকটক ভিডিও পোস্ট করলে মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২৬ অক্টোবর রাতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা মাসুদকে মুখে চুন-কালি মেখে এলাকা থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার মাসুদের শ্বশুরবাড়ির উঠানে আয়োজিত এক মাতবরী সালিশ বৈঠকে গ্রামবাসীর সামনে মাসুদের শ্বশুর মান্নান সাপুরে এবং ছোট মেয়ে পূর্ণিমা হাত জোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

একই দিনে মাসুদও ফেসবুক লাইভে এসে ভুল স্বীকার করে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা জানান। তার ধারাবাহিকতায় বুধবার পূর্ণিমা আইনগতভাবে মাসুদকে তালাক প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেক দূষণমুক্ত করতে রাজউকের কারিগরি কমিটির সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


লেক দূষণমুক্ত করতে রাজউকের কারিগরি কমিটির সভা

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন এলাকার লেকগুলোকে দূষণমুক্ত করার উদ্দেশ্যে এবং পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গঠিত কারিগরি কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন, অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম এবং রাজউকের সদস্য এরাদুল হক।

সভায় রাজধানীর লেকগুলোর বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি, দূষণের উৎস চিহ্নিতকরণ, পানির গুণগত মান উন্নয়ন, বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা এবং লেকগুলোর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ১ হাজার ২৬৯টি ভবনে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে, এবং সেসব ভবনের তালিকা সংশ্লিষ্ট সোসাইটিগুলোকে সরবরাহ করা হবে।

এছাড়া সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েলের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন রাজউক থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এই সংক্রান্ত আবেদন প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে রাজউককে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।

সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয়, যেসব ভবনের অনুমোদিত নকশায় সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণের সংস্থান রয়েছে, সেসব ভবনের মালিকদের আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায়, ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

এছাড়া সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রফিকুল হাসান; প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কে এম মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর; গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান সুমন; বারিধারা সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সাকিফ এ তাবানী ও সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মতিন; বনানী সোসাইটির প্রেসিডেন্ট শওকত আলী ভূঁইয়া দিলন এবং নিকেতন সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল করিম চৌধুরী আরিফসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দপ্তরের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%