হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
০৫:২৯ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় তিন দফা বাস্তবায়নের দাবিতে তেঁতুলিয়া টু টেকনাফ মার্চ ফর ইনসাফ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে দেশব্যাপী এ পদযাত্রা শুরু করেন তাঁরা।
এসময় শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের নামে প্রহসন ও তদন্ত বারবার পেছানোর প্রতিবাদ তুলে ধরে দ্রুততম সময়ে এই বিচারকার্য সম্পাদনের দাবি জানানো হয়েছে।
এর আগে, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। পরে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবি সম্মিলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। শুরু হওয়া এই কর্মসূচি তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণ রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে অবস্থান করা খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়।
কর্মসূচিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
জানা গেছে, কর্মসূচি শুরুর প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে ২১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তেঁতুলিয়ায় গিয়ে প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ হবে। এর মাঝে বিভিন্ন বাজারে দাবি সম্মিলিত লিফলেট বিতরণ করবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের দাবি, ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। মার্চ ফর ইনসাফ-এর মাধ্যমে তারা এসব দাবির প্রতি জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকান্ডের পেছনে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।’ ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যায় সরাসরি জড়িতদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।
জাবের অভিযোগ, বাংলাদেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকা- ও সহিংসতার সঙ্গে ভারতের ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, তাদের আন্দোলন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।’ বাংলাদেশে অন্য কোনো রাষ্ট্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও তারা এর বিরোধিতা করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাদি হত্যায় ভারত, আওয়ামী লীগ এবং ‘র’ জড়িত মন্তব্য করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও বলেছেন, হাদী হত্যাকে সাধারণ কোনো হত্যাকা- হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে বিবেচনার দাবি জানান জাবের। এ হত্যাকা-ের তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাইয়ের হত্যাকা-ের বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলে জাবের বলেন, ‘এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মার্চ ফর ইনসাফের মাধ্যমে জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতা করতে চান তারা।’ তবে দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি বা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ২২ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই ২২ দিনের সময়কালে ভোলার মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি একটি দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে ভোলার ২ লক্ষাধিক জেলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে গত কয়েকদিন ধরে মাছঘাটগুলোতে সচেতনামূলক মাইকিং করা হচ্ছে এবং ঘাটে ঘাটে ব্যানার টানানো হয়েছে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে। জেলে ও মৎস্যজীবিদের নিয়ে বিভিন্ন সভা ও সেমিনারও আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট পরিদর্শন করে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমজুড়ে নদীতে মাছের অভাব দেখা দেওয়ায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার খবর শুনে জেলেদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংসারের খরচের পাশাপাশি আড়তদারের দাদন ও এনজিওর ঋণের চাপ নিয়ে তারা চিন্তিত।
নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকার জেলেদের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিলেও অভিযোগ রয়েছে যে, সকল জেলে এই চাল পায় না। যেসব জেলে সরকারি বরাদ্দের চাল পায়, তারাও এক সপ্তাহের বেশি এই চাল দিয়ে সংসার চালাতে পারেন না। ফলে অভিযানের সময় ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে যায় জেলেদের জন্য।
সরেজমিনে বিভিন্ন মাছঘাট পরিদর্শন করে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নদী থেকে মাছ শিকার করে ঘাটে বিক্রি করে আবার নদীতে ছুটে যাচ্ছেন তারা। সাগর মোহনার জেলেরা নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি হিসেবে জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম গুছিয়ে রাখছেন। শেষ সময়ে প্রতিটি ঘটেই চলছে জেলেদের কর্মব্যস্ততা।
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ জন। নিবন্ধনের বাইরেও প্রায় ৩০-৪০ হাজার জেলে রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রগামী জেলে রয়েছেন ৬৪ হাজার। মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালীন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে মোট ৩ লাখ ৫৯০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ভোলা সদর উপজেলার জেলে মো. হারুন মাঝি জানান, এই বছর ভরা মৌসুমে নদীতে তেমন মাছের দেখা মেলেনি। মৌসুমের শেষের দিকে গত ১০-১৫ দিন আগে থেকে কিছু মাছ ধরা পড়লেও তা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। যা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা তো দূরের কথা, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৬ সদস্যের পরিবারের খরচ যুগিয়ে সপ্তাহে দুই হাজার টাকা এনজিওর কিস্তি দিতে হয়। ফলে তারা টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকার ২২ দিনের মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান ঘোষণা করেছে। এই ২২ দিনে নতুন করে ঋণ নিতে হবে। সরকার যে চাল দেয়, তা দিয়ে সর্বোচ্চ ৮-৯ দিন চলে।
উপজেলার ধনিয়া তুলাতুলি এলাকার জেলে মো. বাবুল মাঝি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার নদীতে মাছ অনেক কম। তাই পুরো বছর ঋণের বোঝা টানতে হয়। বর্তমানে নদী থেকে যে মাছ পাওয়া যায়, তা বিক্রি করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নতুন করে ধারদেনা করতে হবে। জেলে পেশা ছাড়া তিনি আর কোনো কাজ করতে পারেন না। তাই বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ শিকার করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন।
একই এলাকার ছিডু মাঝি জানান, তিনি ৪০ বছর ধরে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নদীতে মাছ শিকার করে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিন বেলা খেয়ে কোনো মতে দিন কাটান। প্রায় চার দশক নদীতে মাছ শিকার করেও তিনি কিছুই করতে পারেননি। উল্টো বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে বছরে তিন থেকে চারবার নদীতে অভিযান হয়। অন্য সময়েও নদীতে তেমন মাছ ধরা পড়ে না। প্রতি বছরই মাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ঋণের বোঝা ভারী হওয়ায় অনেকে জেলে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় জেলে খুঁজে পাওয়া যাবে না। বর্তমানে যারা আছেন, তারা বাধ্য হয়ে এ পেশা ধরে রেখেছেন।
সদর উপজেলার তুলাতুলি মাছঘাটের আড়তদার মো. জসিম বেপারী জানান, গত বছর তার আড়তে প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকার মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত অর্ধেকও হয়নি। গত বছর অভিযানের আগ মুহূর্তে মাছ বিক্রি করার জন্য দম ফেলার সময় পাওয়া যায়নি। এ বছর সারাদিন বসে থেকেও ৫০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করতে কষ্ট হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর নদীতে মাছ অনেক কম ধরা পড়েছে। জেলেরা যে মাছ পায়, তা দিয়ে তাদের সংসারও ঠিকমতো চালাতে পারে না।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন কালের কণ্ঠকে জানান, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে ২২ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান চলবে। অভিযান সফল করার লক্ষ্যে জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সভা করা হয়েছে। ঘাটে ঘাটে মাইকিংয়ের পাশাপাশি প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে। জেলেদের নদী যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এ চাল পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে অভিযানের শুরু দিন থেকেই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। এ ছাড়াও অভিযান চলাকালে জেলের ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বুধবার হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী পালন করছে ইসরাইল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ওই হামলা ছিল দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী। এই দিবসটির তিন সপ্তাহ পর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি জানিয়েছে।
গত বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শুরুর পর এবারের হামলার বার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। নিহতদের স্মরণে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা সীমান্ত ভেঙে দক্ষিণ ইসরাইলে ঢুকে গুলি, রকেট ও গ্রেনেড হামলা চালায়। সরকারি ইসরাইলি তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি’র হিসাব অনুযায়ী, হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হয়। হামলাকারীরা ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়, যাদের মধ্যে ৪৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।
তিন বছর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে হামলা শুরু হয়েছিল। ঠিক ওই সময় গাজা সীমান্তের কাছে কিবুতজ কাফার আজায় স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। হামলায় সেখানে ৬৪ জন বাসিন্দা নিহত এবং ১৮ জন অপহৃত হন।
দক্ষিণ ইসরাইলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালের স্থানেও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হামলায় ৩৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ জিম্মি হন। নিহতদের স্বজনেরা বুধবার সন্ধ্যায় তেল আবিবের একটি পার্কে সমবেত হবেন।
কড়া নিরাপত্তা-
সাধারণ নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে এবং তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হওয়ার এক সপ্তাহ পর এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার বলেন, ৭ অক্টোবরের বার্ষিকীতে গাজায় ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার জন্য হামাসের সম্ভাব্য পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সোমবার রাষ্ট্রীয় স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামাসের শাসন থাকবে না। ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত এবং জিম্মি করার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেন তিনি।
হামাসের হামলার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে গাজার বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
গত তিন বছরে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত থেকে ইরান পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই করেছে দেশটি।
গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। লাখ লাখ মানুষ এখনও তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় বসবাস করছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পুনর্গঠন নিয়েও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি।
ইসরাইলের দাবি, তারা গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। হামাসের হুমকি নির্মূল এবং ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িতদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেছে তারা।
ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৪৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিসরের কর্তৃপক্ষ স্বাধীন তথ্য যাচাইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘মাতসদাকশ’-এর ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। সোমবার, সাংবাদিকদের আইনজীবী নাবেহ আল-গানাদি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এই তথ্য জানান।
আল-গানাদি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার। তবে মাতসদাকশ এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রসিকিউশন পাঁচ সাংবাদিককে ১৫ দিনের হেফাজতে পাঠিয়েছে এবং আরেকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান আল-গানাদি।
গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন নিন্দা প্রকাশ করেছে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) মাতসদাকশ (Matsda2sh)-এর পুরো নিউজরুমের সদস্যদের আটককে মিসরে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের ‘গুরুতর বিস্তার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সিপিজে জানায়, সাংবাদিকদের কারাগারে বা আটক রাখার দিক থেকে মিসর বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ। বর্তমানে দেশটিতে ২৫ জন সাংবাদিক কারাবন্দি বা আটক রয়েছেন।
বিবিসি জানাচ্ছে, ২০১৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করার পর প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির আমলে ভিন্নমতের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে। এতে হাজার হাজার মানুষ আটক হয়েছেন, যার মধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা-কর্মী, ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং শিক্ষাবিদরাও রয়েছেন।
‘বিশ্বাস করো না’ অর্থের ‘মাতসদাকশ’ ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা এই প্ল্যাটফর্মটি নিয়মিত মিসরের সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য যাচাই করে এবং মিসরসহ বিভিন্ন আরব দেশে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
মিসরীয় ইনিশিয়েটিভ ফর পারসোনাল রাইটস (ইআইপিআর) জানায়, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুল্লাহ কাদরি, মোহাম্মদ আশরাফ আবু এমেইরা, ইসলাম বারাকাত, ওমর হেলাল, মোহাম্মদ মাহমুদ ও মোহাম্মদ আদেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংগঠনটির আইনজীবীরা সাংবাদিকদের পক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন।
ইআইপিআর জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রথম দিকে তাদের কোথায় রাখা হয়েছে বা কেন আটক করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ‘মাতসদাকশ’ দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
মন্ত্রণালয় আরো দাবি করে, প্ল্যাটফর্মটির কোনো সরকারি অনুমোদন নেই এবং এটি বিদেশ থেকে পরিচালিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা আবদেল রহমান মনসুর মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলেও দাবি করা হয়। তবে সিপিজেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মনসুর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং কর্তৃপক্ষও বিষয়টি জানে।
এদিকে ইআইপিআর সোমবার জানিয়েছে, আটক সাংবাদিকদের অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রসিকিউশনের কাছে বলেছেন, আদালতে হাজির করার আগে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার বিভিন্ন স্থাপনায় নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মারধর, জোর করে কাপড় খুলে দেওয়া, বৈদ্যুতিক শক এবং নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তবে মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এড়ানোর চেষ্টা থেকেই এসব দাবি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ