০৫:৩৯ পি.এম
মিসরের কর্তৃপক্ষ স্বাধীন তথ্য যাচাইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘মাতসদাকশ’-এর ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। সোমবার, সাংবাদিকদের আইনজীবী নাবেহ আল-গানাদি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এই তথ্য জানান।
আল-গানাদি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার। তবে মাতসদাকশ এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রসিকিউশন পাঁচ সাংবাদিককে ১৫ দিনের হেফাজতে পাঠিয়েছে এবং আরেকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান আল-গানাদি।
আরও পড়ুন: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি: অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার ৪
গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন নিন্দা প্রকাশ করেছে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) মাতসদাকশ (Matsda2sh)-এর পুরো নিউজরুমের সদস্যদের আটককে মিসরে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের ‘গুরুতর বিস্তার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সিপিজে জানায়, সাংবাদিকদের কারাগারে বা আটক রাখার দিক থেকে মিসর বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ। বর্তমানে দেশটিতে ২৫ জন সাংবাদিক কারাবন্দি বা আটক রয়েছেন।
বিবিসি জানাচ্ছে, ২০১৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করার পর প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির আমলে ভিন্নমতের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে। এতে হাজার হাজার মানুষ আটক হয়েছেন, যার মধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা-কর্মী, ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং শিক্ষাবিদরাও রয়েছেন।
‘বিশ্বাস করো না’ অর্থের ‘মাতসদাকশ’ ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা এই প্ল্যাটফর্মটি নিয়মিত মিসরের সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য যাচাই করে এবং মিসরসহ বিভিন্ন আরব দেশে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র
মিসরীয় ইনিশিয়েটিভ ফর পারসোনাল রাইটস (ইআইপিআর) জানায়, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুল্লাহ কাদরি, মোহাম্মদ আশরাফ আবু এমেইরা, ইসলাম বারাকাত, ওমর হেলাল, মোহাম্মদ মাহমুদ ও মোহাম্মদ আদেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংগঠনটির আইনজীবীরা সাংবাদিকদের পক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন।
ইআইপিআর জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রথম দিকে তাদের কোথায় রাখা হয়েছে বা কেন আটক করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ‘মাতসদাকশ’ দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
মন্ত্রণালয় আরো দাবি করে, প্ল্যাটফর্মটির কোনো সরকারি অনুমোদন নেই এবং এটি বিদেশ থেকে পরিচালিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা আবদেল রহমান মনসুর মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলেও দাবি করা হয়। তবে সিপিজেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মনসুর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং কর্তৃপক্ষও বিষয়টি জানে।
এদিকে ইআইপিআর সোমবার জানিয়েছে, আটক সাংবাদিকদের অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রসিকিউশনের কাছে বলেছেন, আদালতে হাজির করার আগে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার বিভিন্ন স্থাপনায় নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মারধর, জোর করে কাপড় খুলে দেওয়া, বৈদ্যুতিক শক এবং নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকেই আসতে পারে জ্বালানি তেলের পরবর্তী বড় ধাক্কা
তবে মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এড়ানোর চেষ্টা থেকেই এসব দাবি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন