০৫:৩৯ পি.এম
ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বুধবার হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী পালন করছে ইসরাইল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ওই হামলা ছিল দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী। এই দিবসটির তিন সপ্তাহ পর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি জানিয়েছে।
গত বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শুরুর পর এবারের হামলার বার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। নিহতদের স্মরণে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে
ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা সীমান্ত ভেঙে দক্ষিণ ইসরাইলে ঢুকে গুলি, রকেট ও গ্রেনেড হামলা চালায়। সরকারি ইসরাইলি তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি’র হিসাব অনুযায়ী, হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হয়। হামলাকারীরা ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়, যাদের মধ্যে ৪৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।
তিন বছর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে হামলা শুরু হয়েছিল। ঠিক ওই সময় গাজা সীমান্তের কাছে কিবুতজ কাফার আজায় স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। হামলায় সেখানে ৬৪ জন বাসিন্দা নিহত এবং ১৮ জন অপহৃত হন।
দক্ষিণ ইসরাইলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালের স্থানেও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হামলায় ৩৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ জিম্মি হন। নিহতদের স্বজনেরা বুধবার সন্ধ্যায় তেল আবিবের একটি পার্কে সমবেত হবেন।
কড়া নিরাপত্তা-
আরও পড়ুন: ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতা কম: নিলোফার মনি
সাধারণ নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে এবং তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হওয়ার এক সপ্তাহ পর এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার বলেন, ৭ অক্টোবরের বার্ষিকীতে গাজায় ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার জন্য হামাসের সম্ভাব্য পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সোমবার রাষ্ট্রীয় স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামাসের শাসন থাকবে না। ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত এবং জিম্মি করার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেন তিনি।
আরও পড়ুন: গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
হামাসের হামলার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে গাজার বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
গত তিন বছরে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত থেকে ইরান পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই করেছে দেশটি।
গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। লাখ লাখ মানুষ এখনও তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় বসবাস করছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পুনর্গঠন নিয়েও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি।
ইসরাইলের দাবি, তারা গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। হামাসের হুমকি নির্মূল এবং ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িতদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেছে তারা।
আরও পড়ুন: মোজতবা খামেনি বাবার পথ বেছে নিয়েছেন, সরকার উৎখাতই একমাত্র উপায়: নেতানিয়াহু
ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৪৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন