১২:৩২ এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। তিনি বলেছেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে ডাকেও যারা আসেননি, আগামীকাল উপাচার্যের কাছে প্রমোশন, আপগ্রেডেশন কিংবা অন্য কোনো সুবিধা চাইতে এলে তাদের কথা মনে রাখা হবে।’
রোববার (৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদার। জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এমন একটি কর্মসূচিতে সবার উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কলেজ শিক্ষার্থী সারজিল সিকদার নিহত
তিনি বলেন, ‘যারা আজকের এই অনুষ্ঠানকে গুরুত্ব দেননি, আমরা কিন্তু তাঁদের মনে রাখব। বারবার বলছি, আমরা তাঁদের মনে রাখব।’ পরে তিনি বলেন, ‘আপনারা আগামীকাল উপাচার্যের কাছে কোনো আবেদন নিয়ে যাবেন—প্রমোশন, আপগ্রেডেশন কিংবা অন্য কোনো সুবিধার জন্য। তখন আজকের দিনে আপনারা কোথায় ছিলেন, সেটাও আমরা মনে রাখব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকলেও অনুষ্ঠানে তুলনামূলক কম উপস্থিতি দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশে এ দিবসটি উদযাপন করতে দেখা যায়নি। এবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হওয়ায় তিনি প্রশাসনের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর হাত ধরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে ৩ হাজার কেজি অবৈধ ভারতীয় জিরাসহ ৩ জন গ্রেফতার
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার, আপনার, আমাদের সবার। বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে এবং শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমরাও এ ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
এ সময় ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন