ঢাকা সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নোমান গ্রুপের বিরুদ্ধে গ্যাস চুরির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন


নোমান গ্রুপের বিরুদ্ধে গ্যাস চুরির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

এখন বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ‘নোমান গ্রুপ’র বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার গ্যাস চুরির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি গ্যাস অবৈধভাবে লুটপাট এবং গোপন বাইপাস লাইন স্থাপনের গুরুতর অভিযোগের তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিগত আ’লীগ সরকারের সময় তিতাসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে পরবর্তীতে এই তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি: সূত্রে জানা যায়, ‘নোমান গ্রুপ’ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অবৈধ ডিস্ট্রিবিউশন কক্ষ ও অতিরিক্ত ব্যাসের পাইপলাইন স্থাপন করেছে। টঙ্গীর পাগাড় মৌজায় অবস্থিত গ্রুপ অব কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স লিঃ’র অভ্যন্তরে তিতাস গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশন কক্ষ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের গ্যাস লাইনের অনুমোদন নিলেও পরবর্তীতে নিজেদের অর্থায়নে গোপনে ১২ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের পাইপলাইন সংযোগ করে নিয়েছে। টঙ্গী চেরাগআলী টিবিএস থেকে আরেকটি নতুন গ্যাস লাইন ও ডিআরএস স্থাপন করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে বিশাল পরিমাণে গ্যাস ব্যবহার করছে। তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সাকশন পাম্প ও বাইপাস লাইনের মাধ্যমে গ্যাস চুরি হচ্ছে।

কারখানার মূল সরবরাহ লাইনে মিটারের পূর্বে গোপন পাইপ বা বাইপাস লাইন যুক্ত করার ফলে গ্যাস সরাসরি কারখানায় চলে যাচ্ছে। এর ফলে মিটারে সঠিক রিডিং উঠছে না। এছাড়া কারখানায় শক্তিশালী সাকশন পাম্প ব্যবহার করে গ্যাস টেনে নেয়ার কারণে আশেপাশের সাধারণ গ্রাহকরা গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছেন। অনুমোদনহীন একাধিক রাইজার ব্যবহারের ফলে সরকার প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

আরও পড়ুন: হারুনুর রশীদ আজাদ: দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে

এদিকে এর আগেও একই বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলে কোনো ফলাফল আসেনি। প্রতিষ্ঠানটির বিগত দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্টরা তদন্তের নামে প্রহসন করে নোমান গ্রুপের কাছ থেকে অন্তত: ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ফলে বিপুল গ্যাস চুরির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তদন্তের নাটক মঞ্চস্থ করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের ঘুষ দিয়ে নোমান গ্রুপ বেঁচে যায়। কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় সম্প্রতি আরেকটি অভিযোগ দাখিল করার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর আবারো তদন্ত কমিটি গঠন করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ৩০ মে ‘নোমান কম্পোজিট টেক্সটাইল লিঃ’র তিতাস গ্যাসের বরাবরে দাখিল করা অনুরূপ এক আবেদনপত্রেও তাদের নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপিত লাইন থেকে অন্য কোনো গ্রাহককে গ্যাস সংযোগ না দেয়ার জন্য তদবির করা হয়েছিল। অতীতেও এই ধরনের সিন্ডিকেটের কারণে সরকারের শত শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার্থে এবং হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নোমান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক কে.এম. মাসুদুর রহমান, জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স’র পরিচালক মো: আব্দুল্লাহ জাবের, টঙ্গী তিতাসের ম্যানেজার মো: মিজান-উর-রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে তিতাস বরাবর দাখিলকৃত অভিযোগে। জাতীয় স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নিকট অবিলম্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ ডিস্ট্রিবিউশন কক্ষ ও গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদের আর্জি জানানো হয়েছে।

তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি :

আরও পড়ুন: গাদি আইজেনকটের হাতে ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব

এদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এখন এই কমিটির বিরুদ্ধেই ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বরাবর দায়ের করা হয়েছে পৃথক অভিযোগ। অভিযোগে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবর্তে অভিযোগকারীর কাছ থেকেই উল্টো ৩৪ প্রশ্নের উত্তর দাবির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। নোমান গ্রুপের প্রতি তদন্ত কমিটির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন অভিযোগকারী মো: কাজল সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে করা আবেদনে এ কমিটির কাছ থেকে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে না-মর্মে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাই তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রের ১০ সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বয়ে নতুন কমিটি দ্বারা ব্যাপকভিত্তিক তদন্তের দাবি জানানো হয়।

রহস্যজনক অফিস আদেশ: গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নোমান গ্রুপ, জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের পরিচালক এবং তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানানো হয়। তবে অভিযোগ জমা দেয়ার তিন দিন আগেই, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হাসান আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৌশলী ড. প্রদীপ চন্দ্র মন্ডলকে আহ্বায়ক এবং প্রকৌশলী কে এম মনিরুল ইসলাম ও প্রকৌশলী মো: গোলাম মহিউদ্দীনকে সদস্য করে গঠিত এই কমিটি মূল অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন-মর্মে অভিযোগকারীর দাবি।

গত ২৬ অক্টোবর তিতাস প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগকারী শুনানিতে অংশ নিলে তদন্ত কমিটি তাকে জানান যে, কেবল ‘জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড’র সীমানার ভেতরের বিষয় ছাড়া নোমান গ্রুপের ‘নোমান ফ্যাশন ফেব্রিক্স, নোমান ফেব্রিক্স ইউনিট ১ ও ২, এবং ইসমাইল আঞ্জুমান আরা ফেব্রিক্স’র মতো অন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অবৈধ সংযোগের তদন্ত তারা করতে পারবেন না।

অভিযোগকারীর অভিযোগ, শুনানিকালে তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের নথিপত্রের ছায়ালিপি চাওয়া হলেও নোমান গ্রুপের প্রভাবের ভয়ে কমিটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়া বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে আবেদনে বলা হয়, তদন্ত কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপঢৌকনে প্রভাবিত হয়েছেন, ফলে তাদের দিয়ে নিরপেক্ষ বিচার ও সঠিক প্রতিবেদন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ১০ সদস্যের শক্তিশালী কমিটি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিবিদ্যমান পরিস্থিতির আলোকে ৩ সদস্যের গঠিত দুর্বল ও বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে ম্যাজিস্ট্রেট ও তিতাসের ঢাকা বিভাগের প্রকৌশলী ছাড়া নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। নোমান গ্রুপ এ পর্যন্ত কত টাকার গ্যাস চুরি করেছে তা উদঘাটন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিএফআইইউ, সিআইডি, গাজীপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি যৌথ তদন্ত টিম গঠনের দাবি জানান অভিযোগকারী। তার মতে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সরজমিনে পাইপের সংযোগস্থল উন্মোচন করে নিরপেক্ষ তদন্ত না করা হলে দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠন অব্যাহত থাকবে। প্রকৃত অপরাধীরাও থেকে যাবে ধরা- ছোঁয়ার বাইরে।

আরও পড়ুন: দেবিদ্বার বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বহিষ্কার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের পর বাংলাদেশে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে টোকিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৯ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২১ এম


প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের পর বাংলাদেশে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে টোকিও

তারেক রহমানের জাপান সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কাজ করছে জাপান সরকার। বিশেষত, পরিবহন অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে চেষ্টা করছে দেশটি।

এই প্রেক্ষাপটে, ঢাকায় মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর এবং মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। ঢাকা মাস ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের মেট্রোরেল লাইন-১-এর চারটি প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত সাইদা অংশগ্রহণ করেন। চুক্তিগুলোর মধ্যে সিপি-০৪, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওগাতুল আলম, জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রদূত সাইদা মেট্রোরেল লাইন-১-এর প্রাথমিক উন্নয়ন পর্যায়ে যুক্ত সাত জাপানি নাগরিকের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো ওই জাপানি নাগরিকদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণ বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, "মেট্রোরেলের মতো উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্প বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।" তিনি প্রকল্পটির দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। গত ২৭ অক্টোবর জাপান-বাংলাদেশ শীর্ষ বৈঠকে ঘোষিত যৌথ বিবৃতিতেও এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এদিকে, এর আগে রাষ্ট্রদূত সাইদা জেরা মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। জেরা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড পরিচালিত গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় কেন্দ্রটির পরিচালনা কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।

২০২৫ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাপানে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে জেরার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত সাইদা পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের মাধ্যমে সৃষ্ট ইতিবাচক গতি কাজে লাগিয়ে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পরিবহন ও জ্বালানি খাতে জাপানের এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীলঙ্কার কোচের সাফের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৯ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২১ এম


শ্রীলঙ্কার কোচের সাফের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ

শ্রীলঙ্কার কোচ আবদুল্লাহ আল মুতাইরি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভুটানের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করার পর তিনি আয়োজক দেশ এবং ভারতের পক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। একই সাথে, গ্রুপ পর্বে ভিএআর ব্যবহারের দাবি করেছেন এই কোচ।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে মুতাইরি বলেন, “যদি বাণিজ্যিক স্বার্থে ভারত ও বাংলাদেশকে ফাইনালে দেখতে চান, তাহলে শুধু এই দুই দলকে নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করুন। অন্য দলগুলোকে প্লে-অফ খেলতে বলুন, অন্য কোনো সময়ে খেলতে বলুন। আমাদের সময় নষ্ট করবেন না।”

তিনি দাবি করেন, ভুটানের বিপক্ষে কিছু সিদ্ধান্ত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গেছে। বিশেষ করে পেনাল্টি এবং অফসাইডের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। মুতাইরির মতে, ভিএআর থাকলে ভুটানের দ্বিতীয় গোলটি বাতিল হতে পারত। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কারও একটি পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল।

রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এএফসি বা ফিফার সেরা রেফারি আনা সম্ভব না হলে অন্তত ভিএআর রাখুন। শুধু সেমিফাইনাল ও ফাইনালে কেন ভিএআর থাকবে? খরচের কারণে? আয়োজন করার সামর্থ্য না থাকলে প্রতিযোগিতা আয়োজনের দরকার কী?”

শ্রীলঙ্কা ১১ নভেম্বর বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই জানিয়ে মুতাইরি বলেন, “আমি শুধু একজনকেই ভয় পাই, আমার বাবাকে। তিনি ৩০ বছর আগে মারা গেছেন। আল্লাহ তাকে রহম করুন। তাই আর কাউকে ভয় পাই না।”

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচকে সাফের ইতিহাসের সেরা লড়াই বানানোর প্রত্যয়ও তিনি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রদল রাজপথে পাহারা দিচ্ছে, শিবির বা সুবিধাবাদীরা মাঠে নেই: রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৯ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২২ এম


ছাত্রদল রাজপথে পাহারা দিচ্ছে, শিবির বা সুবিধাবাদীরা মাঠে নেই: রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান উল্লেখ করেছেন যে, ছাত্রদল রাজপথে পাহারা দিচ্ছে এবং শিবির বা সুবিধাবাদীরা মাঠে নেই। রবিবার (৮ নভেম্বর) রাতে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানান।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, টিএসসিতে ককটেল বিস্ফোরণের সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ছাত্রদল। তিনি আবারও উল্লেখ করেন, এই কাজটি ছাত্রদলই করেছে। তিনি বলেন, "হ্যাঁ, ১৬ বছর ছাত্রদলের ছেলেরা ঘরে ঘুমাতে পারেনি। ধানক্ষেত, পাটক্ষেত, বনে কিংবা নদী হাওর-বাঁওড়ের মাচাংয়ে ঘুমিয়েছে আর দিনেরবেলা রাজপথে লড়াই করেছে, কিংবা বছরের পর বছর বা মাসের পর মাস জেল খেটেছে, আবার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রাজপথে ছুটে গেছে।"

তিনি আরও বলেন, এখনও ছাত্রদলই আওয়ামী দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করতে রাজপথে পাহারা দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কথিত বিপ্লবী শিবির কিংবা অন্যান্য সুবিধাবাদীরা মাঠে নেই। তিনি প্রশ্ন করেন, "জাতভাইদের জন্য তাদের দরদ থাকবে না?" তিনি বলেন, ১৬ বছর যারা তাদেরকে গুপ্ত হিসেবে আশ্রয় দিয়েছিল, তাদের প্রতি রাজপথে সহনশীলতা দেখিয়ে কিছুটা হলেও তো প্রতিদান দেওয়ার প্রয়োজন আছে, সেটিই হয়ত তারা করছে। তবে ছাত্রদল দেশমাতৃকা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নয়। রাজপথে তাদের এই সক্রিয় অবস্থানের কারণে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা দিশেহারা হয়ে ঘুরছে।

তিনি আরও লেখেন, অন্যথায়, অন্যরা যেভাবে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ ও সুবিধা বিবেচনায় রাজপথের লড়াই থেকে দূরে রয়েছে, ছাত্রদলও চাইলে সেভাবে নিজেদের গুটিয়ে রাখতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। কারণ, ছাত্রদলের কাছে দেশ ও স্বাধীনতার প্রশ্নটি যেকোনো স্বার্থের ঊর্ধ্বে। সেই কারণেই আওয়ামী দুর্বৃত্তদের দমনে ছাত্রদল রাজপথে এবং বিপ্লবী নামধারী গুপ্ত শিবিরসহ সুবিধাবাদীরা জাতভাইদের রক্ষায় মশগুল। তিনি সতর্ক করে বলেন, আ. লীগের বিরুদ্ধে যারা মাঠে নামবে না, এদের চিনে রাখুন, এরাও দেশ, জাতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য আ.লীগের মতোই হুমকি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘যারা অনুষ্ঠানে আসেননি, প্রমোশন-আপগ্রেডেশন কিংবা অন্য কোনো সুবিধা চাইতে এলে মনে রাখব’: কুবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুবি প্রতিনিধি

সোমবার, ৯ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩২ এম


‘যারা অনুষ্ঠানে আসেননি, প্রমোশন-আপগ্রেডেশন কিংবা অন্য কোনো সুবিধা চাইতে এলে মনে রাখব’: কুবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। তিনি বলেছেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে ডাকেও যারা আসেননি, আগামীকাল উপাচার্যের কাছে প্রমোশন, আপগ্রেডেশন কিংবা অন্য কোনো সুবিধা চাইতে এলে তাদের কথা মনে রাখা হবে।’

রোববার (৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদার। জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এমন একটি কর্মসূচিতে সবার উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।

তিনি বলেন, ‘যারা আজকের এই অনুষ্ঠানকে গুরুত্ব দেননি, আমরা কিন্তু তাঁদের মনে রাখব। বারবার বলছি, আমরা তাঁদের মনে রাখব।’ পরে তিনি বলেন, ‘আপনারা আগামীকাল উপাচার্যের কাছে কোনো আবেদন নিয়ে যাবেন—প্রমোশন, আপগ্রেডেশন কিংবা অন্য কোনো সুবিধার জন্য। তখন আজকের দিনে আপনারা কোথায় ছিলেন, সেটাও আমরা মনে রাখব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকলেও অনুষ্ঠানে তুলনামূলক কম উপস্থিতি দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশে এ দিবসটি উদযাপন করতে দেখা যায়নি। এবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হওয়ায় তিনি প্রশাসনের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর হাত ধরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার, আপনার, আমাদের সবার। বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে এবং শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমরাও এ ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

এ সময় ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৩৯
মাগরিব ০৫:১৫
ইশা ০৬:২৮
সূর্যোদয় : ০৬:০৯ সূর্যাস্ত : ০৫:১৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%