ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্ধ হয়ে গেল স্কারলেট জোহানসনের রূপচর্চার ব্র্যান্ড ‘দ্য আউটসেট’


বন্ধ হয়ে গেল স্কারলেট জোহানসনের রূপচর্চার ব্র্যান্ড ‘দ্য আউটসেট’

হলিউডের অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসনের রূপচর্চার ব্র্যান্ড ‘দ্য আউটসেট’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র চার বছর আগে। তবে, প্রতিষ্ঠানটি এখন ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর, ব্র্যান্ডটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে একটি বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিদায়ি বার্তায় প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করে, ‘এক অসাধারণ যাত্রার পর আউটসেট তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা আমাদের পণ্য দৈনন্দিন রূপচর্চায় বেছে নিয়েছিলেন এবং এই যাত্রায় পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

ঘোষণার পর থেকেই ব্র্যান্ডটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে নতুন করে পণ্য কেনার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে, যারা পূর্বে পণ্যের অর্ডার দিয়েছেন, তাদের কাছে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেসব পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: নেটফ্লিক্স থেকে সরানো হচ্ছে কাল্ট ক্লাসিক থ্রিলার ‘নাইটক্রলার’

২০২১ সালে স্কারলেট ব্র্যান্ড চালুর ঘোষণা দেন। পরের বছর সৌন্দর্যশিল্পের নির্বাহী কেট ফস্টারের সঙ্গে যৌথভাবে ‘দ্য আউটসেট’ যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত এবং সংবেদনশীল ত্বকের উপযোগী রূপচর্চার পণ্য তৈরি করা।

কিন্তু, গত বছর কেট ফস্টার প্রতিষ্ঠানটি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই এর পরিচালনা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। এই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় এবার পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল ব্র্যান্ডটি।

সাম্প্রতিক সময়ে তারকাদের নিজস্ব সৌন্দর্য ও প্রসাধনসামগ্রীর ব্র্যান্ডগুলো কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। বাজারে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জের কারণে এর আগে বেশ কয়েকটি তারকা-উদ্যোগও ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে।

সেই তালিকায় গায়িকা গুয়েন স্তেফানির ‘গিভ বিউটি’ এবং অভিনেত্রী ড্রু ব্যারিমোরের ‘ফ্লাওয়ার বিউটি’র মতো ব্র্যান্ডও রয়েছে। এবার সেই পথেই হাঁটল স্কারলেট জোহানসনের ‘দ্য আউটসেট’।

আরও পড়ুন: অভিনেতা শিমুলের বিয়ে ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে, জীবনযাত্রার বিশেষ তাৎপর্য

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উদ্ভাবন-দক্ষতার সমন্বয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে: শিল্প সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৬ পি.এম


উদ্ভাবন-দক্ষতার সমন্বয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে: শিল্প সচিব

দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে কম সময়ে ও কম খরচে উৎপাদন বাড়াতে উদ্ভাবন, জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকার মিরপুরে বিসিআইসি কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের ‘উদ্ভাবনী মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শিল্প সচিব উল্লেখ করেন, ‘উৎপাদনশীলতা হলো বিদ্যমান সম্পদকে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করে কম খরচে ও কম সময়ে উৎপাদন বাড়ানো এবং কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন করা।’ তিনি বলেন, দেশের সম্পদ ও সক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন সমস্যা কীভাবে সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যমে সমাধান করা যায়, এসব প্রকল্পে তার প্রতিফলন রয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, বর্জ্য কমানো, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বর্জ্যকে সার হিসেবে ব্যবহারের মতো উদ্যোগ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শিল্প সচিব বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্মের প্রতিটি উদ্ভাবনী চিন্তার মধ্যে দেশের সমস্যা সমাধানের যে প্রচেষ্টা রয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একটি প্রজন্মের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এমন একটি সিঁড়ি তৈরি করে দেওয়া, যার মাধ্যমে তারা আরো উন্নত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান, বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, বিসিআইসি ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, বিসিআইসি কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মেলায় ৫০টি স্টলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প স্থান পেয়েছে। উদ্বোধনের পর শিল্প সচিব মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদা দাবি, ‘কানা মমিন’ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫০ পি.এম


কুমিল্লায় নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদা দাবি, ‘কানা মমিন’ গ্রেফতার

কুমিল্লা নগরীতে নির্মাণাধীন ভবনের দায়িত্বে থাকা লোকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে মোমিন আহমেদ ভূইয়া, যিনি ‘কানা মমিন’ নামে পরিচিত, এমন একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

মোমিনের বয়স ৩৭৮ বছর এবং তিনি দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া এলাকার মৃত নান্নু ভূইয়ার সন্তান।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে এসআরবি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে এসআরবি-১১-এর একটি দল। অভিযানের সময় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কর্মরতদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চলছিল। চাঁদা না দিলে ভবনের রড ও সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য মোমিনের চক্র একটি ট্রাকও নিয়ে এসেছিল। অভিযান চলাকালীন মোমিনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি ওই ট্রাকটিও জব্দ করা হয়।

এসআরবি জানায়, মোমিনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদকসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ৫টির বেশি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের মূল সদস্য হিসেবে তার পরিচয় দিয়েছেন। তার সহযোগীরা ঠাকুরপাড়া ও আশপাশের এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল।

এ বিষয়ে এসআরবি-১১-এর উপ-পরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিহীন তাছলিমার নিয়োগপত্র বাতিল, এমপির হস্তক্ষেপে পুনরায় চাকরি পেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


ভূমিহীন তাছলিমার নিয়োগপত্র বাতিল, এমপির হস্তক্ষেপে পুনরায় চাকরি পেলেন

কুমিল্লার লালমাইয়ে ভূমিহীন হওয়ার কারণে তাছলিমা আক্তার নামের এক তরুণীর শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করা হয়। জমির খতিয়ান না থাকার কারণে মন্ত্রণালয় তার নিয়োগ আটকে দেয়।

এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বিষয়টি জানার পর এগিয়ে আসেন। এমপির হস্তক্ষেপের ফলে অবশেষে জটিলতা দূর হয় এবং হতদরিদ্র পরিবারে হাসির সঞ্চার ঘটে।

তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, লালমাই উপজেলার ভূলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের পরতী গ্রামের অটোরিকশাচালক অহিদুর রহমানের কন্যা তাছলিমা আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পান। তার বাবার নামে জমির খাজনা-খতিয়ান না থাকার কারণে মন্ত্রণালয় তার নিয়োগপত্র আটকে দেয়। ফলে চাকরি প্রত্যাশী তাছলিমা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।

তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। ছয় কন্যা সন্তানের বাবা অহিদুর রহমান অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। মেয়ের চাকরির জন্য সব শর্ত পূরণ হলেও ভূমিহীনতার কারণে জমির খাজনা-খতিয়ান না থাকার ফলে নিয়োগ বাতিল হওয়ায় পরিবারটি বিপাকে পড়ে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নজরে আসে। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে তাছলিমা আক্তার ও তার পরিবারের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

লালমাই উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ উদ্দিন ও কাজী জাফর আহমেদ রাজন বলেন, "তাছলিমা আমাদের গ্রামের মেয়ে। ভূমিহীন হওয়ায় তার চাকরি বাতিলের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।"

তাছলিমা আক্তার বলেন, "শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পাশ করলেও বাবার নামে জমির খাজনা-খতিয়ান না থাকায় আমার নিয়োগপত্র আটকে যায়। জেলা পর্যায় থেকে সব ঠিকঠাক থাকলেও মন্ত্রণালয় নিয়োগপত্রটি বাতিল করে দেয়।"

তিনি আরও বলেন, "দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়ায় চাকরিটা আমার খুব দরকার ছিল। বাবা অনেক কষ্ট করে আমাকে কলেজ পর্যন্ত পড়িয়েছেন। কিন্তু ভূমিহীন হওয়ায় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে সব শর্ত পূরণ করেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এখন মনিরুল হক চৌধুরীর সহযোগিতায় নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।"

অহিদুর রহমান বলেন, "আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাছলিমার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল দীর্ঘদিনের। নিয়োগপত্র পাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে গেছে। তিনি মেয়ের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত হওয়ায় এমপি মনিরুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হত্যার দাবি করল ভারত, গণমাধ্যমের সামনে জীবিত হাজির সেই পাক সেনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫২ পি.এম


হত্যার দাবি করল ভারত, গণমাধ্যমের সামনে জীবিত হাজির সেই পাক সেনা

ভারতের কাশ্মীরে সংঘর্ষে নিহত হিসেবে উল্লেখ করা পাকিস্তানের সাবেক সেনাসদস্য হাবিলদার মুহাম্মদ আসিফকে জীবিত অবস্থায় গণমাধ্যমের সামনে হাজির করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে উপস্থিত করেন।

জিও নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইএসপিআর ডিজি দাবি করেন যে, ভারত একটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ অপারেশন’-এর মাধ্যমে এমন একটি ঘটনা তৈরি করেছে। ভারতীয় পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, জম্মু ও কাশ্মীরের (আইআইওজেকে) একটি সংঘর্ষে সাবেক পাকিস্তানি সেনাসদস্য মুহাম্মদ আসিফ নিহত হয়েছেন।

তিনি জানান, ঘটনাটি শুরু হয় ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে। ওই রাতে ভারতীয় কর্পস সামাজিক মাধ্যমে জানায়, কোরাগ, ইউসমার্গ এলাকায় একটি যৌথ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং সেখানে একজন ‘সন্ত্রাসী’কে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

এর প্রায় সাত ঘণ্টা পর ভারতীয় সেনাবাহিনী আরেকটি আপডেট দিয়ে দাবি করে, পালমাইদান এলাকায় যুদ্ধের সরঞ্জামসহ লস্কর-ই-তইবার সদস্য হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পর ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মোহাম্মদ আসিফ ১৯৮০ সালের ৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০০ সালে পিএ-৩১০৬৯৪৭ সার্ভিস নম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং হাবিলদার পদ থেকে অবসর নেন। ২০০৫ সালে তিনি স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপে (এসএসজি) যুক্ত হন এবং ৪ কমান্ডো ইয়ালগার ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে বেলুচিস্তানে তার পোস্টিং ছিল এবং বেলুচ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০টি অভিযানে অংশ নেন। তাকে ১৩টি হত্যার কৃতিত্বও দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের ভিভিআইপি নিরাপত্তা দলে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেও জানানো হয়।

আইএসপিআর ডিজি বলেন, ‘আপনারা হয়তো উরি, পেহেলগাম ও পুলওয়ামার কথা মনে করছেন- একটি খুবই মজার গল্প তৈরি করা হচ্ছে, আর এখন সেই গল্প পূর্ণতা পেয়েছে।’ এরপর তিনি জীবিত মুহাম্মদ আসিফকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করেন। তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে ভারতের ওই বর্ণনা পুরোপুরি খণ্ডন হয়েছে এবং আইআইওজেকে-তে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত করার মতো আরেকটি সাজানো ঘটনার বিষয় সামনে এসেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর মহাপরিচালকের পাশে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আসিফ বলেন, তিনি অ্যাটক জেলার তেহসিল পিন্ডিঘেবের বাসিন্দা। তিনি জানান, ‘গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বন্ধুরা আমাকে ফোন করে জানায়, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে এক সংঘর্ষে আমাকে হত্যা করেছে। তারা জানতে চেয়েছিল আমি কোথায় আছি। আমি বলেছিলাম, আমি জীবিত ও সুস্থ আছি এবং আলহামদুলিল্লাহ বাড়িতে বসে আছি।’

আসিফ বলেন, ‘এর পরপরই তিনি অচেনা ভারতীয় নম্বর থেকে একাধিক ফোন পেতে শুরু করেন। ফোনকারীরা তার ব্যক্তিগত তথ্য জানতে এবং খবরে উল্লেখ করা ব্যক্তির সঙ্গে তিনি সম্পর্কিত কিনা, তা জানতে চাইছিলেন।’

তিনি জানান, ‘আমি বারবার ওই নম্বরগুলো ব্লক করি। এর কিছুক্ষণ পর আমি টেলিভিশনে খবর দেখতে পাই, যেখানে আমার ছবি ও ব্যক্তিগত সামরিক রেকর্ড দেখানো হচ্ছিল এবং দাবি করা হচ্ছিল যে কাশ্মীরে আমাকে শহিদ করা হয়েছে। আমি পুরোপুরি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমি বাড়িতে বসে আছি, অথচ তারা দাবি করছে আমাকে কাশ্মীরে হত্যা করা হয়েছে।’

আসিফ জানান, তিনি সঙ্গে সঙ্গে তার সাবেক ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান যে তিনি নিরাপদে বাড়িতে আছেন, যাতে তার বিষয়ে কোনো ভুল ধারণা বা অভিযোগ তৈরি না হয়।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে নম্বরগুলো ব্লক করতে বলেন এবং জানান, সত্য তুলে ধরার জন্য আইএসপিআর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।’

এরপর আইএসপিআর তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং তাকে প্রকাশ্যে বিষয়টি জানাতে বলা হয় বলে জানান আসিফ। তিনি ২০০০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরে যোগ দেন। ২০০৫ সালে তিনি এসএসজিতে যোগ দেন।

আসিফ বলেন, ‘আমি ১৮ বছর সম্মান ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি এবং ২০২৩ সালে অবসর নিয়েছি। অবসরের পর তিন বছর একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। গত কয়েক মাস ধরে পুরোপুরি অবসর নিয়ে বাড়িতে নিজের ছোট ব্যবসা পরিচালনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার দেশের বিরুদ্ধে ভারত যে অভিযোগ করেছে- সীমান্তপারের সন্ত্রাসে জড়িত থাকার যে দাবি করা হয়েছে- তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো এবং ভিত্তিহীন। ভারতীয় গণমাধ্যমের ছড়ানো এই মিথ্যার আমি তীব্র নিন্দা জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি জীবিত এবং আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আমার পরিচয় নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমার কাছে সরকারি সিএনআইসি ও সামরিক পরিচয়পত্র রয়েছে।’

আইএসপিআর ডিজি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাস চালানোর জন্য ভারত বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করে। ভারতের কথিত ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ নাটকের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে এবং ভারত বিশ্বের সন্ত্রাস ছড়ানো সবচেয়ে বড় দেশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ভারতের সমর্থন ও অর্থায়নের বিষয়টি সুপরিচিত বলেও দাবি করেন তিনি। আইএসপিআর ডিজি আরও বলেন, ভারত ক্রমে তথাকথিত ‘যুদ্ধের থিয়েটার’-এর দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে উঠছে। উরি, পাঠানকোট ও রাজৌরির ঘটনাগুলোও বারবার সংঘর্ষভিত্তিক বর্ণনায় উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: জিও নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%