প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার লালমাইয়ে ভূমিহীন হওয়ার কারণে তাছলিমা আক্তার নামের এক তরুণীর শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করা হয়। জমির খতিয়ান না থাকার কারণে মন্ত্রণালয় তার নিয়োগ আটকে দেয়।
এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বিষয়টি জানার পর এগিয়ে আসেন। এমপির হস্তক্ষেপের ফলে অবশেষে জটিলতা দূর হয় এবং হতদরিদ্র পরিবারে হাসির সঞ্চার ঘটে।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, লালমাই উপজেলার ভূলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের পরতী গ্রামের অটোরিকশাচালক অহিদুর রহমানের কন্যা তাছলিমা আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পান। তার বাবার নামে জমির খাজনা-খতিয়ান না থাকার কারণে মন্ত্রণালয় তার নিয়োগপত্র আটকে দেয়। ফলে চাকরি প্রত্যাশী তাছলিমা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। ছয় কন্যা সন্তানের বাবা অহিদুর রহমান অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। মেয়ের চাকরির জন্য সব শর্ত পূরণ হলেও ভূমিহীনতার কারণে জমির খাজনা-খতিয়ান না থাকার ফলে নিয়োগ বাতিল হওয়ায় পরিবারটি বিপাকে পড়ে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নজরে আসে। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে তাছলিমা আক্তার ও তার পরিবারের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
লালমাই উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ উদ্দিন ও কাজী জাফর আহমেদ রাজন বলেন, "তাছলিমা আমাদের গ্রামের মেয়ে। ভূমিহীন হওয়ায় তার চাকরি বাতিলের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।"
তাছলিমা আক্তার বলেন, "শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পাশ করলেও বাবার নামে জমির খাজনা-খতিয়ান না থাকায় আমার নিয়োগপত্র আটকে যায়। জেলা পর্যায় থেকে সব ঠিকঠাক থাকলেও মন্ত্রণালয় নিয়োগপত্রটি বাতিল করে দেয়।"
তিনি আরও বলেন, "দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়ায় চাকরিটা আমার খুব দরকার ছিল। বাবা অনেক কষ্ট করে আমাকে কলেজ পর্যন্ত পড়িয়েছেন। কিন্তু ভূমিহীন হওয়ায় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে সব শর্ত পূরণ করেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এখন মনিরুল হক চৌধুরীর সহযোগিতায় নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।"
অহিদুর রহমান বলেন, "আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাছলিমার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল দীর্ঘদিনের। নিয়োগপত্র পাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে গেছে। তিনি মেয়ের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত হওয়ায় এমপি মনিরুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন