শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০৪ পি.এম
এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হানো পেভকুর পদত্যাগ করেছেন, কারণ সাত কোটি ইউরোর বেশি মূল্যের গোলাবারুদ কেনার চুক্তি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
চুক্তিটি ভারতের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত হয়েছিল, যার পূর্বে কামানের গোলা বিক্রির অভিজ্ঞতা ছিল না। গোলাবারুদ সরবরাহে দেরি হওয়া এবং সরবরাহ করা গোলাবারুদের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর, ২০২২ সাল থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা পেভকুর বুধবার তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের একাধিক সমালোচনামূলক প্রতিবেদনের পর তিনি প্রতিরক্ষা চুক্তির রাজনৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিতে চান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেভকুর উল্লেখ করেন, "এস্তোনিয়ার নিরাপত্তা কোনো একজনের দায়িত্ব নয়। এটি সবার যৌথ দায়িত্ব।" তিনি জানান, উপযুক্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
এই ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে, যখন এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র ইতালিতে নিবন্ধিত দাতাসেল এসআরএল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোলাবারুদ কেনার চুক্তি করে।
চুক্তির কিছুদিন আগে ভারতের মালিকানাধীন নেকো ডিফেন্স মিউনিশনস দাতাসেলকে অধিগ্রহণ করে। ইউক্রেনের জন্য কামানের গোলা সংগ্রহ করাই ছিল চুক্তির মূল উদ্দেশ্য।
এসময় ইউক্রেন তীব্র গোলাবারুদ সংকটে ভুগছিল। এস্তোনিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ইআরআর এবং দেশটির সংবাদপত্র এসতি এক্সপ্রেস ও পোস্টিমিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোলাবারুদ কেনার অর্থের একটি অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোপীয় শান্তি তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছিল।
এস্তোনিয়া চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে কয়েক দফায় অগ্রিম অর্থ দেয়। পরে অগ্রিম দেওয়া অর্থের মোট পরিমাণ প্রায় সাত কোটি ইউরোতে পৌঁছায়। ২০২৪ সালের আগস্টে প্রথম চুক্তির সময় প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ ইউরো অগ্রিম দেওয়া হয়। একই বছরের অক্টোবরে দ্বিতীয় চুক্তিতে আরো এক কোটি ইউরোর বেশি দেওয়া হয়। বছরের শেষ নাগাদ আরো কয়েকটি চুক্তি হয়। সব মিলিয়ে অগ্রিম দেওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ইউরোতে পৌঁছে যায়।
প্রথমে কয়েক মাসের মধ্যে ইউক্রেনে গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে সরবরাহ বারবার পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে কিছু গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়। তবে এসতি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব গোলাবারুদ নির্ধারিত মানের শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
গোলাবারুদ কেনার এই চুক্তির সঙ্গে জড়িত দাতাসেল দাবি করেছে, চুক্তি বাতিলের আগে তারা এস্তোনিয়াকে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ইউরো মূল্যের গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে। চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এস্তোনিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক সালিশেও গড়িয়েছে।
আইনজীবীর মাধ্যমে এসতি এক্সপ্রেসকে দাতাসেল জানিয়েছে, এই চুক্তির কারণে তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চুক্তি বাতিলের জন্য এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র যে কারণ দেখিয়েছে, সেগুলো পরস্পরবিরোধী এবং যুক্তিহীন।
দাতাসেল আরো জানিয়েছে, এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র তাদের মোট পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ইউরো অগ্রিম দিয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে করা চুক্তির মোট মূল্য ছিল প্রায় সাত কোটি ইউরো। এ কারণে বাকি অর্থ কোথায় গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এসতি এক্সপ্রেস। তবে পত্রিকাটি জানিয়েছে, অর্থটির বিষয়ে এখনো পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।
দাতাসেলের দাবি, তারা বিপুল পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করেছে এবং মোট পাঁচ কোটি ৮০ লাখ ইউরোর চালান জমা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহে দেরি হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে গোলাবারুদের মান খারাপ ছিল- এই অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে। দাতাসেল জানিয়েছে, পরে তাদের জানানো হয়, এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র বাকি পণ্য আর গ্রহণ করতে পারবে না।
তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন করত, তাহলে তারা এখনো চুক্তিটি শেষ করতে প্রস্তুত ছিল।
গত শরতে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র দাতাসেলের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো বাতিল করে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কাছে আগে দেওয়া অর্থ ফেরত চাওয়া হয়। এরপর এস্তোনিয়া বিষয়টি ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে অবস্থিত ইউরোপীয় সালিস ও মধ্যস্থতা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিরোধ মেটানোর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এস্তোনিয়া প্রায় সাত কোটি ইউরোর অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছে।
এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্রের মহাপরিচালক এলমার ভাহের বলেছেন, দাতাসেলের সঙ্গে এ চুক্তি করা উচিত হয়নি। তিনি বলেন, "কোনো প্রতিষ্ঠান আগে কখনো একটি বাড়ি না বানালে তাকে দিয়ে বাড়ি বানানোর কাজ করানো হলে সেটি শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।" তার মতে, দাতাসেলের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি ছিল। পেভকুরের পদত্যাগের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো এস্তোনিয়ার জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের সমালোচনা।
প্রতিরক্ষা তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে দপ্তরটি একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছে। ইআরআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতি এবং সম্পদের হিসাব রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। এর আগেও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছিল নিরীক্ষা দপ্তর।
দপ্তরটি সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ ফেরত পাওয়া না গেলে শেষ পর্যন্ত এস্তোনিয়াকে নিজস্ব বাজেট থেকে প্রায় সাত কোটি ইউরো পরিশোধ করতে হতে পারে। তবে পেভকুর বলেছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি সামরিক সরঞ্জাম কেনার চুক্তি দেখভাল করেন না।
তিনি বলেন, "একজন মন্ত্রী প্রতিটি সরঞ্জাম বা গোলাবারুদ গুনে দেখেন না এবং প্রতিটি চুক্তি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন না।" তবে জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের সমালোচনা প্রতিরক্ষা বাহিনী ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে হওয়ায় রাজনৈতিক দায়ের প্রশ্ন উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের বিষয়ে এস্তোনিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ইউরোপীয় কমিশন।
কমিশনের মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান উইগান্ড বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের করদাতাদের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য কমিশনের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখাল এর আগে বলেছিলেন, গোলাবারুদ কেনার ঘটনায় পেভকুর ব্যক্তিগতভাবে দোষী- এমন কিছু তিনি দেখছেন না। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে রাজনৈতিক দায় তার ওপর বর্তাতে পারে বলে স্বীকার করেছিলেন তিনি। পেভকুর বলেন, এস্তোনিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে সরকার যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে, সেগুলো সঠিক ছিল- এই বিশ্বাস থেকেই তিনি পদত্যাগ করছেন।
তিনি আরো বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরুর পর এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে পেভকুর দাবি করেন, এস্তোনিয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি নিরাপদ। ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেন তিনি। তার মতে, ইউক্রেনকে সহায়তা করা মানে এস্তোনিয়ার নিজের নিরাপত্তায়ও অবদান রাখা।
প্রায় ১২ লাখ মানুষের দেশ এস্তোনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য। দেশটির সঙ্গে রাশিয়ার স্থলসীমান্ত রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে এস্তোনিয়া ও বাল্টিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে। রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডকে তারা সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে। এস্তোনিয়া ইউক্রেনের অন্যতম শক্তিশালী ইউরোপীয় সমর্থক। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছে দেশটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে।
বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে গত ৩০ আগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিলেন ভারতের হিলির ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়। এতে স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং দুই দেশের শত শত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যা, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মণ্ডল জানান, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।
এদিকে হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এখনো লিখিতভাবে জানানো হয়নি।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে এবং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানান, চলতি মাসের শেষের দিকে সারা দেশে হামের জন্য একটি বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হামের প্রকোপ কমানোর জন্য টিকা কার্যক্রম চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা ও হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেন।
তিনি রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিলা বেলমিরোর বাজে পিচ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কোপা দো ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে পালমেইরাসের কাছে হেরে যাওয়ার পর সান্তোসের বিদায়ের রাতে উরুর চোটে পড়ে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
দুই লেগের খেলায় ৩-০ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে প্রবেশ করেছে পালমেইরাস।
ম্যাচ শেষে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ক্লাবের মাঠকর্মীদের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে নেইমার লেখেন, ‘অভিনন্দন, চমৎকার এক বাজে কাজ করেছেন! গতকালের ভিলা বেলমিরোর মাঠটি ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ছিল। ম্যাচের ঠিক আগের দিন তারা ডিকম্প্যাকশনের কাজ করেছে, ফলে পুরো মাঠ গর্তে ভরা ছিল। অবিশ্বাস্য!’
অন্য একটি স্টোরিতে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিপক্ষের পাশাপাশি আমাদের নিজেদের মাঠের বিরুদ্ধেও খেলতে হয়েছে।
মাটি অমসৃণ থাকায় দৌড়ানো থামানো কিংবা শুরু করার জন্য অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে। শুধু প্রথমার্ধেই তিন ফুটবলার চোটের সমস্যায় পড়েনি!’
ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে পালমেইরাসের ডিফেন্ডার অগাস্টিন জিয়াইয়ের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে দূর থেকে বাঁ পায়ে শট নিতে যান নেইমার। এরপর তার ডান উরুতে টান পড়ে এবং তিনি ডাগআউটের দিকে অস্বস্তির ইঙ্গিত দেন। প্রথমার্ধের বাকি সময় কষ্ট করে খেললেও বিরতির পর আর মাঠে নামেননি তিনি, তার জায়গায় রনিকে মাঠে নামান কোচ কুকা।
বৃহস্পতিবার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নেইমারের চোটের পরীক্ষা করা হলেও সান্তোস আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানায়নি। তবে আগামী রবিবার ব্রাসিলেইরাওতে ইন্তারনাসিওনালের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না বলে কোচ কুকা ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, ‘পরিস্থিতি ভালো নয়, সম্ভবত তিনি খেলতে পারবেন না। তাকে ছাড়াই আমাদের পরিকল্পনা সাজাতে হবে।’
আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ব্রাসিলেইরাও ম্যাচের পর বুধবার কোপা সুদেরামেরিকানার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে অ্যাটলেটিকো মিনেইরোর মুখোমুখি হবে সান্তোস।
তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেইমারকে পাওয়া যাবে কি না, তা মেডিকেল রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ (হাবিব) বলেছেন, বিএনপি বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ কারো একার নয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিএনপি একটি ঐক্যের দল এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। ধর্ম যাই হোক, রাষ্ট্রের কাছে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান।
আজ শুক্রবার রাজধানীর সবুজবাগ এলাকার একটি কালী মন্দিরে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম সকলেই একত্রিত হয়ে রক্তঝড়া আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার জমিনে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।
জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি উল্লেখ করেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতান্ত্রিক এই বাংলাদেশে বিভাজনের রাজনীতিতে আমাদের বিশ্বাস নেই। ধর্মের নামে বিভেদ চাই না।
আমরা জাতি-গোষ্ঠীর নামে বৈষম্য চাই না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ঐক্য, সম্প্রীতি, সাম্য ও অধিকারভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গঠন করা।
হাবিবুর রশিদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে গড়ে ওঠা বিএনপি একটি ঐক্যের দল, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দল। এই দল বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ কারো একার নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে।
তিনি বলেন, আমাদের সুস্পষ্ট নীতি হচ্ছে, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যাই হোক, রাষ্ট্রের কাছে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান। প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। রাষ্ট্রের কাছ থেকে সবাই সমান মর্যাদা ও অধিকার পাবেন, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার জানিয়ে তিনি বলেন, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, বৌদ্ধ বিহারসহ প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা আমাদের সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে মানুষের পরিচয়ের কারণে কেউ ছোট হবে না। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে সংখ্যগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু পরিচয়ে কারো অধিকার নির্ধারিত হবে। আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে সব নাগরিকের পরিচয় একটাই, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদের সবার পরিচয় হচ্ছে, আমরা সবাই বাংলাদেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ