০৫:৪৬ পি.এম
নতুন তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার আগে ফ্রান্স ও স্পেনে স্মরণকালের ভয়াবহতম দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা মঙ্গলবার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দাবানলে দুই দেশেই বিশাল বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার মানুষকে। তীব্র গরম শুরু হওয়ার আগে হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন দমকল কর্মীরা। মঙ্গলবার ফ্রান্সে ও বুধবার স্পেনে আবারও অসহনীয় তাপমাত্রা ফিরে আসবে। তাই দাবানল নিয়ন্ত্রণে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন তারা।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নৈসর্গিক শহর লেজ-ক্যাপ-ফেরে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সংকট ও উত্তরণের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন
আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে তাপপ্রবাহ আঘাত হানবে।
ফ্রান্সের ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপে ৫০ মিটার প্রশস্ত ও ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অগ্নিনিরোধক ফাঁকা এলাকা পরিদর্শনের সময় দমকল বাহিনীর কমান্ডার এরিক পিতো বলেন, দমকলকর্মীরা এখন ‘আক্রমণাত্মক অবস্থানে’ রয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার দলের সদস্যরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় এ অগ্নিনিরোধক এলাকা তৈরি করা হয়েছে।
গত ছয় দিনে ফ্রান্সের বোর্দোর কাছে দাবানলে ৪২ হাজার হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ এবং ২৪০টি বাড়ি পুড়ে গেছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ইরান
প্রিফেকচারের কার্যালয় জানিয়েছে, রাতে উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলে কিছু স্থানে আগুন আবার জ্বলে উঠলেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
স্পেনে মাদ্রিদের পশ্চিমে ভয়াবহ দাবানল-কবলিত এলাকার পাশে আলদেয়া দেল ফ্রেসনো শহরের বাইরে নিজ নিজ বাড়ি ও পোষা প্রাণীর কাছে ফিরতে আশায় গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন অনেক বাসিন্দা।
তারা ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে রয়েছেন, যারা ৭৭ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়িয়ে দেওয়া দাবানলের কারণে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
পুড়ে যাওয়া এ এলাকার আয়তন প্রায় নিউইয়র্ক সিটির সমান। তবে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের ঝুঁকির কারণে আপাতত তাদের ফিরতে দিচ্ছে না গার্দিয়া সিভিল।
আরও পড়ুন: ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প
৫৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী গালিয়া বোরিসোভা কাছের পিকাদাস এলাকায় তার গৃহপালিত প্রাণীগুলোর কাছে যেতে চাইলেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তারা বলছে, এত বেশি ধোঁয়া যে মাস্ক পরেও শ্বাস নেওয়া যায় না। আমি সেটা বিশ্বাস করি। কারণ এখান থেকেও ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।’
‘চরম পরিস্থিতি’ -
এই বছর ইউরোপে একের পর এক তাপপ্রবাহ এবং তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা উদ্ভূত এই পরিস্থিতির জন্য মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।
তীব্র গরমে মাটি শুকিয়ে গেছে। বছরের শুরুতে আর্দ্র ও মৃদু আবহাওয়ায় দ্রুত বেড়ে উঠা উদ্ভিদও শুকিয়ে গেছে এবং এর ফলে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: তেল-সার-গার্মেন্টসকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র চলছে: ত্রাণমন্ত্রী
ফ্রান্স ও স্পেন উভয় দেশের নেতারাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া এ নতুন বাস্তবতার কথা উল্লেখ করেছেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দাবানলকে ‘জলবায়ু জরুরি অবস্থার সবচেয়ে বেদনাদায়ক প্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, ‘সামনের কয়েক সপ্তাহে কঠিন সময় থাকবে। আমাদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।’
এখন পশ্চিম ইউরোপে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাদজা লাহবিব সতর্ক করে বলেছেন, মহাদেশের অন্য অংশেও নতুন দাবানল ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এতে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা উদ্ধার ও দমকল সম্পদের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স ও আইবেরীয় উপদ্বীপের পাশাপাশি হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রেও চরম পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আজ থেকেই পর্তুগালেও পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।’
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ, তদন্ত চলছে
স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা এএমইটি জানিয়েছে, বুধবার থেকে নতুন করে তাপপ্রবাহ শুরু হবে। এটি অন্তত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ সময় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মধ্যাঞ্চলে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের সরকারি আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষণা সংস্থা মেটিও ফ্রান্সও মঙ্গলবার থেকে শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফের্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা সোমবার বলেন, রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমে জ্বলতে থাকা দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী কয়েক ঘণ্টা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হবে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হারমিত ধিলন বিচার বিভাগের পদত্যাগ করেছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন