ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ফ্রান্স-স্পেনে দাবানল নিয়ন্ত্রণে মরিয়া চেষ্টা দমকল কর্মীদের


ফ্রান্স-স্পেনে দাবানল নিয়ন্ত্রণে মরিয়া চেষ্টা দমকল কর্মীদের

নতুন তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার আগে ফ্রান্স ও স্পেনে স্মরণকালের ভয়াবহতম দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা মঙ্গলবার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দাবানলে দুই দেশেই বিশাল বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার মানুষকে। তীব্র গরম শুরু হওয়ার আগে হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন দমকল কর্মীরা। মঙ্গলবার ফ্রান্সে ও বুধবার স্পেনে আবারও অসহনীয় তাপমাত্রা ফিরে আসবে। তাই দাবানল নিয়ন্ত্রণে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন তারা।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নৈসর্গিক শহর লেজ-ক্যাপ-ফেরে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সংকট ও উত্তরণের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন

আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে তাপপ্রবাহ আঘাত হানবে।

ফ্রান্সের ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপে ৫০ মিটার প্রশস্ত ও ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অগ্নিনিরোধক ফাঁকা এলাকা পরিদর্শনের সময় দমকল বাহিনীর কমান্ডার এরিক পিতো বলেন, দমকলকর্মীরা এখন ‘আক্রমণাত্মক অবস্থানে’ রয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার দলের সদস্যরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় এ অগ্নিনিরোধক এলাকা তৈরি করা হয়েছে।

গত ছয় দিনে ফ্রান্সের বোর্দোর কাছে দাবানলে ৪২ হাজার হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ এবং ২৪০টি বাড়ি পুড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ইরান

প্রিফেকচারের কার্যালয় জানিয়েছে, রাতে উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলে কিছু স্থানে আগুন আবার জ্বলে উঠলেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

স্পেনে মাদ্রিদের পশ্চিমে ভয়াবহ দাবানল-কবলিত এলাকার পাশে আলদেয়া দেল ফ্রেসনো শহরের বাইরে নিজ নিজ বাড়ি ও পোষা প্রাণীর কাছে ফিরতে আশায় গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন অনেক বাসিন্দা।

তারা ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে রয়েছেন, যারা ৭৭ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়িয়ে দেওয়া দাবানলের কারণে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

পুড়ে যাওয়া এ এলাকার আয়তন প্রায় নিউইয়র্ক সিটির সমান। তবে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের ঝুঁকির কারণে আপাতত তাদের ফিরতে দিচ্ছে না গার্দিয়া সিভিল।

আরও পড়ুন: ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

৫৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী গালিয়া বোরিসোভা কাছের পিকাদাস এলাকায় তার গৃহপালিত প্রাণীগুলোর কাছে যেতে চাইলেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তারা বলছে, এত বেশি ধোঁয়া যে মাস্ক পরেও শ্বাস নেওয়া যায় না। আমি সেটা বিশ্বাস করি। কারণ এখান থেকেও ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।’

‘চরম পরিস্থিতি’ -

এই বছর ইউরোপে একের পর এক তাপপ্রবাহ এবং তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা উদ্ভূত এই পরিস্থিতির জন্য মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।

তীব্র গরমে মাটি শুকিয়ে গেছে। বছরের শুরুতে আর্দ্র ও মৃদু আবহাওয়ায় দ্রুত বেড়ে উঠা উদ্ভিদও শুকিয়ে গেছে এবং এর ফলে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: তেল-সার-গার্মেন্টসকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র চলছে: ত্রাণমন্ত্রী

ফ্রান্স ও স্পেন উভয় দেশের নেতারাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া এ নতুন বাস্তবতার কথা উল্লেখ করেছেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দাবানলকে ‘জলবায়ু জরুরি অবস্থার সবচেয়ে বেদনাদায়ক প্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, ‘সামনের কয়েক সপ্তাহে কঠিন সময় থাকবে। আমাদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।’

এখন পশ্চিম ইউরোপে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাদজা লাহবিব সতর্ক করে বলেছেন, মহাদেশের অন্য অংশেও নতুন দাবানল ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এতে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা উদ্ধার ও দমকল সম্পদের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স ও আইবেরীয় উপদ্বীপের পাশাপাশি হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রেও চরম পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আজ থেকেই পর্তুগালেও পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।’

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ, তদন্ত চলছে

স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা এএমইটি জানিয়েছে, বুধবার থেকে নতুন করে তাপপ্রবাহ শুরু হবে। এটি অন্তত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ সময় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মধ্যাঞ্চলে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের সরকারি আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষণা সংস্থা মেটিও ফ্রান্সও মঙ্গলবার থেকে শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফের্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা সোমবার বলেন, রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমে জ্বলতে থাকা দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী কয়েক ঘণ্টা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হবে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হারমিত ধিলন বিচার বিভাগের পদত্যাগ করেছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরার আ.লীগ নেতা নজরুল কারাগারে, রিমান্ড শুনানি বুধবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


সাতক্ষীরার আ.লীগ নেতা নজরুল কারাগারে, রিমান্ড শুনানি বুধবার

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমেদ রূপকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশের সাত দিনের রিমান্ডের জন্য শুনানির তারিখ আগামীকাল বুধবার নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষ হওয়ার পর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আরিফ রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এবং ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন। তবে রিমান্ড সংক্রান্ত শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামীকাল নির্ধারণ করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই মামলার এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার তথ্য এবং সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামির বাড়ি একটি ভিন্ন জেলায় অবস্থিত। তার নাম ও ঠিকানা যাচাই করা হয়নি। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে চিরতরে পলাতক হয়ে যেতে পারে এমন সম্ভাবনা রয়েছে।

এমতাবস্থায়, মামলার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবং মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম প্রাপ্তি, তাদের অবস্থান নির্ধারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আসামির নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। ২৭ জুলাই রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মামলার অভিযোগ অনুসারে, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপ (২১) বন্ধুবর্গের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগদান করেন। ঐদিন কাওরান বাজার মেট্রো রেল স্টেশনের কাছে আসামিদের গুলিতে রূপের ডান চোখে আঘাত লাগে। তাকে মৃত ভেবে আসামিরা রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে চলে যায়।

পরে তার বন্ধুরা এবং আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য কাঠালবাগানের পদ্মা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার বাবা এ কে এম রকিবুল আহম্মেদ বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এশিয়ার দীর্ঘতম নদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এশিয়ার দীর্ঘতম নদী

শিল্পবর্জ্য, অপরিশোধিত নর্দমার পানি, বেপরোয়া মাছ ধরা এবং একের পর এক বিশাল বাঁধ নির্মাণের চাপে পড়ে প্রায় নিঃশেষ হতে বসেছিল এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংজি। প্রায় ৬ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীকে চীনের ‘মা নদী’ বলা হয়। বহু বছরের লাগামহীন দূষণ এবং অব্যবস্থাপনার কারণে নদীটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের চূড়ান্ত কিনারায় পৌঁছেছিল। দূষণের প্রভাবে নদীর অনন্য প্রাণী, সাদারঙা বাইজি ডলফিন এবং বিশালাকার চাইনিজ প্যাডলফিশ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তবে সম্প্রতি চীন সরকারের নেওয়া কঠোর কিছু প্রশাসনিক নীতি এবং সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থার ফলে নদীটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। দ্য ইকোনমিস্টের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসের হাত থেকে ইয়াংজিকে টেনে তোলার প্রধান চালিকাশক্তি হলো ২০২১ সাল থেকে নেওয়া একগুচ্ছ বিপ্লবী সিদ্ধান্ত। এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ১০ বছরের জন্য বাণিজ্যিক মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা। ৫০-এর দশকে প্রতিবছর ইয়াংজি থেকে ৪ লাখ টনের বেশি মাছ ধরা হতো, কিন্তু ২০২১ সালে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে সেই পরিমাণ কমে এক লাখ টনের নিচে নেমে আসে।

চীন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘ সাত দশক ধরে কমতে থাকা ইয়াংজির মাছের মোট পরিমাণ বা ‘বায়োমাস’ ২০২১ সালের পর থেকে ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এমনকি দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিরল প্রজাতির স্টার্জন মাছকে প্রাকৃতিক পরিবেশে ডিম ছাড়তে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা।

নিষেধাজ্ঞা তদারকি করার জন্য নদীতে সার্বক্ষণিক ড্রোন, নজরদারী ক্যামেরা এবং টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি কঠোর জরিমানা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নদীটির তীরবর্তী হাজার হাজার রাসায়নিক কারখানা বন্ধ করা হয়েছে অথবা দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নদীর উজানে মাটির ক্ষয় রোধের জন্য ব্যাপকভাবে গাছ লাগানো হচ্ছে। নদীর অববাহিকার শহরগুলোতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে কৃত্রিম জলাভূমি তৈরি করা হচ্ছে এবং সেগুলোকে ‘স্পঞ্জ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নদীর বাস্তুতন্ত্রেও নতুন করে প্রাণ ফিরছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইয়াংজি অববাহিকায় বর্তমানে ১,৪০০টির বেশি ফিনলেস পরপয়েস বাস করছে, যেখানে ২০১৭ সালে এর সংখ্যা নেমে এসেছিল মাত্র ১ হাজারে। স্থানীয়রা গোলগাল এই প্রাণীকে ‘নদীর শূকর’ নামে চেনে। ফিনলেস পরপয়েসের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াটা পুরো নদীর খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুতন্ত্র সুস্থ হওয়ার প্রধান লক্ষণ বলে মনে করছেন সংরক্ষণবিদেরা।

তবে পরিবেশ সুরক্ষার এই সাফল্যের অপর পাশে বড় ধরনের সামাজিক মূল্য দিতে হয়েছে। হঠাৎ মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার জেলে জীবিকা হারিয়েছেন। অনেক এলাকাতেই তারা পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক জেলেরা। বাধ্য হয়ে তাদের একটি বড় অংশ শহরে গিয়ে দিনমজুরের কাজ বেছে নিয়েছেন।

যদিও পরিবেশবিদেরা বলছেন, সাফল্য সত্ত্বেও ইয়াংজির সামনে এখনো বড় বাধা জলবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বাঁধ। থ্রি গর্জেস ড্যামসহ ইয়াংজি নদীতে বহু বড় বাঁধ রয়েছে, যা মাছের স্বাভাবিক প্রজনন এবং চলাচলে বাধা তৈরি করে। সম্প্রতি পয়াং হ্রদের মুখে নতুন একটি বাঁধ নির্মাণের অনুমোদনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, পুরোনো বাঁধগুলোতে মাছ চলাচলের পথ না রাখলে ইয়াংজি নদী পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ৬ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ৬ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার ৭৫ দিন পার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে না পারায় ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, সংগঠনটি উত্থাপিত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন নেতারা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম ফারাবী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো অভিযুক্তকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। এ সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরো কয়েকটি হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সুমা ডুমরী বলেন, ঘটনার পর নারী নিরাপত্তা মঞ্চ প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করলেও এখন পর্যন্ত একটি দাবিও বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার এসব দাবির বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাযিহা বিনতে শামসুদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিরাপত্তা সংকট একটি কাঠামোগত সমস্যা। তার অভিযোগ, কার্যকর সংস্কারের পরিবর্তে প্রশাসন পুরো ক্যাম্পাসে অপরিকল্পিতভাবে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের মতো সীমিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরাসহ নানা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও অপরাধ কমেনি।

বক্তারা জানান, নারী নিরাপত্তা মঞ্চের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পূর্ববর্তী ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা।

সমাবেশ থেকে দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটির নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা সীমান্তে ৩৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা সীমান্তে ৩৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে বিভিন্ন সময়ে বিজিবির অভিযান চালিয়ে জব্দ করা প্রায় ৩৩ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর প্রশিক্ষণ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মাদক ধ্বংসের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ছিল ১৭ হাজার ৩১১ কেজি গাঁজা, ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪০ হাজার ৯৬৪ বোতল ভারতীয় হুইস্কি, ২৫ হাজার ২৭ বোতল এসকাফ সিরাপ, ১০ হাজার ২৯৪ বোতল ফেন্সিডিল, ৯ হাজার ১৪৫ ক্যান ও বোতল বিয়ার, বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের মাদকজাত ট্যাবলেট এবং ৩০ হাজার ৫০ প্যাকেট সিগারেট। জব্দ করা এসব মাদকের মোট আনুমানিক সিজার মূল্য ৩২ কোটি ৭২ লাখ ১৭ হাজার ২১৫ টাকা।

বিজিবি জানায়, ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এসব মাদক জব্দ করা হয়েছে।

মাদক ধ্বংস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদক দেশের যুবসমাজ, পরিবার ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অন্যতম বড় হুমকি। তিনি বললেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সীমান্তে মাদক পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে মাদক পাচার, চোরাচালান ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%