মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৭ পি.এম
চট্টগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটার আগেই তা শনাক্ত করে প্রতিরোধের উদ্যোগ নিতে চায়।
এ উদ্দেশ্যে সাইবার মনিটরিং টিমকে আরো কার্যকরী করার পাশাপাশি গুজব শনাক্তকরণ, তথ্য যাচাই এবং দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচারের জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুরোনো ছবি-ভিডিও বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক নজরদারির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়’ শীর্ষক একটি অনলাইন সভায় এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সভাপতিত্বে জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তাগণ, অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় আলোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে ঘটনা হিসেবে গ্রহণ করার পূর্বে সেটির সত্যতা যাচাই এবং গুজবের উৎস শনাক্ত করার কৌশল নিয়ে। কোনো ছবি, ভিডিও বা পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর সেটিকে সত্য ধরে না নিয়ে এর উৎস, সময় এবং প্রেক্ষাপট যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুরোনো বা অন্য কোনো ঘটনার ছবি-ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজা, পূজামণ্ডপ, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় উসকানি বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে এমন কোনো কনটেন্ট নজরে এলে সেটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাই করার জন্য বলা হয়েছে।
সভায় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যে, যাচাই ছাড়া কোনো পোস্ট বা তথ্য শেয়ার না করার বিষয়ে সচেতন হতে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে আগেই শনাক্ত করে তা প্রতিরোধ করা এবং দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সাইবার মনিটরিং কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার পাশে সতীশ বাবু লেনে সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল হোতা সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি ৯ মামলার আসামি। সোমবার রাতে কর্ণফুলী থানার উত্তর শিকলবাহা এলাকা থেকে সাদ্দামকে আটক করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাদ্দামের বিরুদ্ধে পূর্বেও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। সাদ্দাম এবং তার দলের সদস্যরা ছিনতাইয়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ১৯ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানার পাশের সতীশ বাবু লেনে একটি অটোরিকশায় বসা যাত্রীকে ছিনতাইকারীরা গতিরোধ করে ছোরার ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত মো. সাদ্দাম হোসেন এবং তার সহযোগীরা তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং বারবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে।
আরো পড়ুন
ওবায়দুরকে গ্রেপ্তার করা হলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে : মরিয়মের বাবা
সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, ডিবির একটি টিম সোমবার রাতে ভাইরাল ভিডিওতে সাদা টি-শার্ট পরিহিত প্রধান আসামি মো. সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সাদ্দাম একজন পেশাদার ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য। পূর্বে ২০২৫ সালে কোতোয়ালি থানার টেরিবাজার এলাকায় একই কায়দায় এক মহিলাকে ছুরিকাঘাত করে সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আবারও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, সাদ্দামের প্রকাশ্যে কোনো জীবিকা নেই। তিনি এবং তার সহযোগী মাইন উদ্দিন বান্ডু ছিনতাই করে জীবিকা নির্বাহ করছে। সাদ্দামের বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা, দ্রুত বিচারসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে দেখা গেছে একটি উজ্জ্বল, বহু রঙের আলো ছড়ানো রহস্যময় বস্তু। কিছু সময় ধরে আকাশে ভেসে থাকা এই বস্তুটি অনেকের কাছে কল্পবিজ্ঞানের সিনেমার দৃশ্যের মতো মনে হয়েছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিভিন্ন আলোচনা ও জল্পনা।
সম্প্রতি দেখা এই দৃশ্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের কথিত গোপন উড়োজাহাজ ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন সরকার কখনো এই ধরনের কোনো উড়োজাহাজের অস্তিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে আকাশে বড়, কালো ও ত্রিভুজাকৃতির রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু দেখার দাবি উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় এসব বস্তু খুব কম উচ্চতায় এবং প্রায় নিঃশব্দে চলাচল করেছে বলে দাবি করা হয়। তেহরানের আকাশে দেখা সাম্প্রতিক বস্তুটির সঙ্গেও এসব বর্ণনার মিল রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে তেহরানের আকাশে দেখা বস্তুটি আসলে কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’র সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে, এমন দাবিরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে রহস্যময় এই আকাশযানকে ঘিরে আলোচনা আপাতত জল্পনাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর তেহরানের আজাদেগান এক্সপ্রেসওয়ের কাছে প্রথমবার বস্তুটিকে আকাশে ভেসে যেতে দেখা যায়। ধারণ করা ভিডিওতে বড় আকারের অর্ধচন্দ্রাকৃতির একটি উড়ন্ত বস্তু এবং তাতে বিভিন্ন রঙের আলো দেখা গেছে।
এর একদিন পর, ২১ সেপ্টেম্বর ইরানের জাহেদান শহরের আকাশের আরেকটি ভিডিও সামনে আসে। সেখানে আকাশজুড়ে অস্বাভাবিক আলোর একটি গুচ্ছকে চলাচল করতে দেখা যায়।
তেহরানের ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বস্তুটি আসলে কী, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত গোপন বিমান ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ বলে দাবি করছেন।
তবে মার্কিন সরকার কখনো ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ নামে কোনো উড়োজাহাজের অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। ফলে ভিডিওতে দেখা বস্তুটি আসলে কী ছিল বা এর সঙ্গে কথিত ওই বিমানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে আকাশে দেখা এসব রহস্যময় বস্তু নিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনী বা সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
তবে রহস্যময় এই উড়ন্ত বস্তু নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি কথিত ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নামের একটি গোপন বিমান হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নামে কোনো উড়োজাহাজের অস্তিত্বের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। এমন কোনো বিমানের অস্তিত্বের দাবি মূলত অনুমান ও জল্পনার ওপরই ভিত্তি করে রয়েছে। তারপরও ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যের অবসান হয়নি।
কী এই ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’?
‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ নামে একটি কথিত অত্যাধুনিক মার্কিন উড়োজাহাজ নিয়ে বহু বছর ধরে নানা দাবি ও জল্পনা রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, এটি কালো ও ত্রিভুজাকৃতির একটি উড়ন্ত বস্তু, যার মাঝখানে উজ্জ্বল আলো দেখা যায়।
দাবি করা হয়, এটি আকাশে স্থিরভাবে ভেসে থাকতে পারে এবং হঠাৎ দ্রুতগতিতে চলে যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এর অস্তিত্বের পক্ষে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০২১ সালে ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সে সময় ইরানের গণমাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ওপর ত্রিভুজাকৃতির একটি বস্তুর ছবি প্রকাশিত হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি তখন ধারণা প্রকাশ করে, বস্তুটি অত্যন্ত গোপন ‘টিআর-৩ ব্ল্যাক মান্টা’ হতে পারে।
দাবি করা হয়, কথিত এই উড়োজাহাজ সুপারসনিক গতিতে উড়তে পারে এবং এতে ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
মিডিয়াম-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একটি তত্ত্বের কথা বলা হয়েছে। সেই তত্ত্ব অনুযায়ী, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে উচ্চচাপের প্লাজমা তৈরি করা হতে পারে, যা উড়োজাহাজের চারপাশে কথিত অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তবে এটি একটি অনুমানভিত্তিক তত্ত্ব, প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি নয়।
‘ব্ল্যাক মান্টা’ সম্পর্কে আরো দাবি রয়েছে, এতে এমন বিশেষ থ্রাস্ট ব্যবস্থা থাকতে পারে, যা খুব দ্রুত গতি, দিক ও অবস্থান পরিবর্তনে সক্ষম। পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি প্লাজমা বিমানের রাডার সিগন্যালও কমিয়ে দিতে পারে, এমন ধারণাও প্রচলিত। এসব বৈশিষ্ট্য সত্য হলে উড়োজাহাজটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে এবং দীর্ঘ দূরত্বে উড়তে সক্ষম হতে পারে বলে দাবি করা হয়।
‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ এখনো মূলত একটি রহস্যময় ও অনুমাননির্ভর বিমান হিসেবেই আলোচিত।
ব্ল্যাক মান্টা’র রহস্য কতটা সত্য?
রহস্যময় ত্রিভুজাকৃতির উড়ন্ত বস্তু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিত তদন্তগুলোর একটি চালায় যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিসকভারি সায়েন্স। প্রতিষ্ঠানটি আকাশে দেখা কালো ও ত্রিভুজাকৃতির রহস্যময় বস্তু নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়।
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম বন্ধ করার আগে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপ থেকে এমন ১৫০টির বেশি দেখার প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছিল।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিসকভারি সায়েন্স-এর তদন্তে দাবি করা হয়, এসব বস্তু অত্যন্ত নীরবে চলাচল করতে পারে এবং স্থির অবস্থান থেকে শক্তিশালী প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব দ্রুত গতি বাড়াতে সক্ষম। প্রতিষ্ঠানটি আরো ধারণা করেছিল, কথিত ‘ব্ল্যাক মান্টা’র প্রধান কাজ হতে পারে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ। তবে এসব দাবির কোনোটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ‘ব্ল্যাক মান্টা’ এখনো বিমান চলাচলের জগতে একটি রহস্য ও লোককথার অংশ হিসেবেই রয়ে গেছে।
তবে ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে কিছু অত্যাধুনিক উড়োজাহাজের অস্তিত্ব গোপন রেখেছিল। এর অন্যতম উদাহরণ এফ-১১৭ নাইটহক। বিশ্বের প্রথম কার্যকর স্টেলথ যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত এফ-১১৭ নাইটহক এর স্বতন্ত্র ত্রিভুজাকৃতির অবয়ব ১৯৮৩ সাল থেকেই বিভিন্ন সময়ে দেখা যাওয়ার দাবি ছিল। কিন্তু মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানটির অস্তিত্ব স্বীকার করে ১৯৮৮ সালে।
এ কারণে তেহরানের আকাশে দেখা রহস্যময় ত্রিভুজাকৃতির বস্তু নিয়ে ‘ব্ল্যাক মান্টা’র মতো গোপন মার্কিন বিমানের জল্পনা নতুন করে সামনে এলেও, এখন পর্যন্ত সেটিকে প্রমাণ করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিল্লিতে সর্বশেষ মঞ্চায়নের দুই বছর পর আবারও ঢাকার মঞ্চে ফিরছে ম্যাড থেটারের প্রযোজনা একক নাটক ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে নাটকটির বিশেষ দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
নাটকটির একমাত্র চরিত্রে অভিনয় করেছেন আর্য মেঘদূত। মূলধারার বাংলা নাট্যাঙ্গনের সর্বকনিষ্ঠ একক নাটকের অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত এই শিল্পী বর্তমানে ফুল ফান্ডেড বৃত্তিতে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’-এর মঞ্চায়ন ২০২৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশ ছাড়ার পর স্থগিত হয়ে যায়। সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করে ছুটিতে দেশে ফিরেছেন আর্য মেঘদূত। এই সুযোগে নাটকটির দুটি বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ফলে প্রায় দুই বছর পর ঢাকার দর্শকরা নাটকটির নবম ও দশম প্রদর্শনী দেখার সুযোগ পাবেন।
নাটকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবরে। তখন আর্য মেঘদূত ছিলেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। উদ্বোধনী উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েন।
এখন পর্যন্ত নাটকটির আটটি প্রদর্শনী হয়েছে। ২০২৪ সালে ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) আয়োজিত ভারত রং মহোৎসবে বাংলাদেশের অন্যতম নাটক হিসেবে অংশ নেয় ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। উৎসবের অংশ হিসেবে ভারতের ডিব্রুগড় ও দিল্লিতে দুটি প্রদর্শনী করে নাটকটি প্রশংসা পায়। গৌহাটির একটি আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবেও অংশ নিয়েছে প্রযোজনাটি।
তবে আর্য মেঘদূতের পড়াশোনার কারণে আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বরের বিশেষ প্রদর্শনী দুটিই হতে যাচ্ছে ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’-এর এককালীন শেষ মঞ্চায়ন। অক্সফোর্ডে পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে নাটকটিতে অভিনয় করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক চরিত্র অ্যানা ফ্রাঙ্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত এই প্রযোজনাটি বাংলাদেশে একক নাটক হিসেবে প্রথমবারের মতো মঞ্চস্থ হয়েছে। ঢাকার মঞ্চে এর বিশেষ প্রত্যাবর্তন নাট্যপ্রেমীদের জন্যও হয়ে উঠছে বিশেষ আয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাত নয়টায় পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৬২৫ কিলোমিটার এবং মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এটি অবস্থান করছিল। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। গতকাল রাত থেকে কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে এবং আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে নিম্নচাপটি আরো পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ কারণে পটুয়াখালী পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সকল মাছ ধরা ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো ফজলু গাজী জানান, সমুদ্রে অবস্থানরত সকল মাছধরা ট্রলারের জেলেদের সতর্কতার সহিত সাগরে মাছ ধরার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ