বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:৫৬ এম
বুধবার সকালে অনুভূত হওয়া প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার কম্পনটি ভূমিকম্পের কারণে নয়, বরং ভূমিধসের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বুধবার রাতের দিকে বিষয়টি পরিষ্কার করে জানায় যে, হিমবাহ ধসে পড়ার ফলে পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নামার কারণে ওই কম্পন তৈরি হয়েছিল।
এর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ইউএসজিএস জানায়, কাঠমান্ডুর উত্তরে নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। পরে সংস্থাটি তাদের তথ্য সংশোধন করে জানায়, সেখানে কোনো ভূমিকম্প হয়নি। যে কম্পনটি রেকর্ড করা হয়েছিল, সেটি আসলে হিমবাহ ধসে পড়া এবং ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। ইউএসজিএস জানায়, এই ঘটনায় নদীর নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।
প্রাথমিকভাবে প্ল্যানেট ল্যাবসের উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বরফ ও পাথরের বড় একটি ভূমিধসের ফলে লহেন্দে নদীতে হঠাৎ কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নামে। ঘটনাটি নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাড়ি সীমান্ত চৌকি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ঘটে।
লহেন্দে নদী ভোতে কোশি নদীর একটি শাখা। এই নদীটি চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে নেপালে প্রবাহিত হয়েছে।
হিমবাহ ও পাথর ধসে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নামার পর ভোতে কোশি নদীতেও আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এই বন্যায় নেপালে ১৫৭ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভয়াবহ ওই ভূমিধসের শক্তি পরে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য হিসেবে হিসাব করা হয়েছে। আকস্মিক বন্যার পর নেপালের রাসুওয়া, ধাদিং ও নুওয়াকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু হয়েছে। নেপাল পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে। তবে দুর্যোগের কয়েক ঘণ্টা পরেও শত শত মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্তত ৪০৩ জন পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। কাদা ও পানির নিচে আটকে থাকা মানুষ এবং মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা দিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা গেছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সরকারের সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করা হবে।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ পানির ঢল নামে। তিব্বতের দিক থেকে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে এসে নদীটি প্লাবিত করে। নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুওয়া ও ধাদিং জেলা এবং নুওয়াকোট জেলার বিভিন্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় বহু বাড়িঘর, গাছপালা ও যানবাহন পানিতে ডুবে যায়। অনেক স্থাপনা ও যানবাহন কাদার নিচে চাপা পড়ে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের তিব্বত অংশের নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা গেছে, পাথর, কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসার আগে অনেক মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রবল স্রোত ভবন ও যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে তিব্বতের গিরং এলাকায়ও এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে নিহতের সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তিব্বত অংশেও উদ্ধারকাজ চলছে। সীমান্তের দুই পাশেই পানির প্রবল স্রোত, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে যোগাযোগ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত নুওয়াকোট ও ধাদিং এলাকার অনেক বাসিন্দা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে নেপালি সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বাইরে জড়ো হয়েছেন। উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পরিচালনার জন্য কেন্দ্রটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করতে সেখানে তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ফলে পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলো ব্যবহার করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ও তথ্য লিখে রাখতে দেখা গেছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আটকে পড়া জীবিত মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বাড়িঘর, গাছপালা ও যানবাহন পানিতে ডুবে গেছে বা কাদার নিচে চাপা পড়েছে। একই সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলছে। জীবিতদের উদ্ধার করে নিয়ে যেতে সারা দিন ওই এলাকার আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দিয়েছে। দুর্যোগের পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজ মানুষদের সন্ধান করা এবং দুর্গতদের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অংশ হিসেবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি আজ বৃহস্পতিবার তেহরান সফর করবেন।
তেহরানে তিনি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে উত্তেজনা কমানোর উপায় এবং সংলাপের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি নিয়ে আলোচনা হবে। আজ আল-জাজিরার এক
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কাতার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, আঞ্চলিক বিরোধ সমাধান এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো কূটনীতি।
আল-আনসারি আরও বলেন, বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে থাকবে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা। পাশাপাশি, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় কাতারের পাশাপাশি পাকিস্তানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কাতার এর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল হিসেবে কাজ করেছে এবং জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে সহায়তা করেছিল।
তবে হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে ঐ সমঝোতার বাস্তবায়ন আটকে গেছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক তেহরান সফরও এই কূটনৈতিক তৎপরতার একটি অংশ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, যেখানে অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক প্রক্সিদের হামলা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমানও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থায় বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ইরান ও ওমানের জলসীমা ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে সামরিক জাহাজকে এই ব্যবস্থার বাইরে রাখার কথা রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জুনের সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি—বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দ করা সম্পদ ছাড়ার মতো বিষয়—বাস্তবায়ন করতে হবে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও এখন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার বিষয়ে তাড়াহুড়ো করছেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক—দুই ধরনের চাপই কার্যকর হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর তেহরান সফরকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক পথ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা, অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ সংলাপ পুনরায় শুরু করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ চীন থেকে জে-১০সিই আধুনিক মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই যুদ্ধবিমানে রয়েছে দীর্ঘপাল্লার বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (বিভিআর) ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত রাডার এবং ডেল্টা-ক্যানার্ড ডানা প্রযুক্তি। সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন, আকাশযুদ্ধে দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন এবং দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার কারণে ভারতীয় তেজাস ও মার্কিন এফ-১৬-এর তুলনায় জে-১০সিইকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চীন থেকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে একটি খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যা সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
জে-১০সিই একটি মাঝারি ওজনের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান।
ভারতের তেজাস একটি হালকা যুদ্ধবিমান হওয়ায়, অস্ত্র ও জ্বালানি বহনের সক্ষমতায় জে-১০সিই এগিয়ে রয়েছে। এতে ব্যবহৃত চীনের পিএল-১৫ বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (বিভিআর) ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২০০ কিলোমিটারের বেশি।
এফ-১৬ বিশ্বের অন্যতম পরীক্ষিত যুদ্ধবিমান হলেও, জে-১০সিইতে রয়েছে ডেল্টা-ক্যানার্ড ডানা প্রযুক্তি, যা আকাশযুদ্ধে দ্রুত গতিপথ পরিবর্তনের সুযোগ দেয়।
এছাড়া, জে-১০সিইর পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং রাডার প্রযুক্তি এফ-১৬তে ব্যবহৃত এআইএম-১২০ডি ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক বলে দাবি করা হচ্ছে। চীনা যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক এবং তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চীন থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমানসহ সামরিক সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমআরসিএ (জে-১০সিই) ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার ক্ষেত্রে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে চীনা জে-১০ যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে চীনা প্রযুক্তির ব্যবহার থাকায়, জে-১০সিই যুক্ত হলে পাইলটদের প্রশিক্ষণ এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ফলস্বরূপ। এই পরিস্থিতিতে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা ২১৫ স্কোর নিয়ে বায়ুদূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে।
এই বাতাসের মান নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ৯৭ স্কোর নিয়ে তালিকার ১৮ নম্বরে রয়েছে। ঢাকা শহরের বাতাসের এই মান নাগরিকদের জন্য ‘মাঝারি বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) প্রকাশিত সূচক থেকে এই তথ্য জানা যায়।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হ্যানয়, যার বায়ুমান স্কোর ১৭৩। এই স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। তালিকার তৃতীয় স্থানে কাতারের দোহা রয়েছে।
দোহা শহরের বায়ুমান স্কোর ১৫৭। এরপরের অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, পাকিস্তানের লাহোর, উগান্ডার কাম্পালা এবং ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার মতো শহরগুলো, যা দূষণের দিক থেকে উপরের দিকে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে সেটি ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক অভিযানে গুরুতর আহত হলেও এখনও বেঁচে আছেন। দীর্ঘ সময় ধরে জনসমক্ষে না আসার কারণে তার শারীরিক অবস্থা এবং ভাগ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যখন গুঞ্জন চরম আকার ধারণ করেছে, তখনই তিনি মার্কিন ভাষ্যকার গ্লেন বেককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, "তিনি মারা গেছেন বলে আমি মনে করি না। তবে তিনি খুব মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন—তার শরীরের বাম পাশ, হাত ও পা পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।" ইরানের নেতৃত্ব তার অসুস্থতা বা মৃত্যুর খবর গোপন রাখছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প যোগ করেন, "তেহরান যদি ঘটনা লুকিয়ে থাকে তবে তারা একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে।"
সাক্ষাৎকারে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, "গত রাতে আমরা ২২টি নৌকা ধ্বংস করেছি।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের নৌবাহিনী অবিশ্বাস্য কাজ করছে এবং চলমান এই সামরিক অভিযান এক বিশাল বিজয়ের দিকে এগোচ্ছে।"
এদিকে, মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে বাড়তে থাকা জল্পনা-কল্পনা খণ্ডন করতে তৎপর হয়ে উঠেছে ইরানি গণমাধ্যমগুলো। তবে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ‘আল আরাবিয়া’ এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের ফার্স নিউজ বা মেহের নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত সুস্থ খামেনির ভিডিওটি পুরনো ও তারিখবিহীন একটি আর্কাইভ ফুটেজ, যা তিনি সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগেই ধারণ করেছিলেন। এর আগে ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছিল যে, সামরিক হামলায় খামেনি অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
তবে তেহরান এই সমস্ত দাবি সরাসরি খারিজ করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নিয়মিত দীর্ঘ প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় তার পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি; তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ