ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবরোধ, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সমষ্টিগত শাস্তির আতঙ্ক


পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবরোধ, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সমষ্টিগত শাস্তির আতঙ্ক

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর ঠিক কয়েক দিন আগে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে পূর্ণাঙ্গ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। প্রায় এক হাজার সামরিক চেকপোস্ট বন্ধ করে রামাল্লায় যাতায়াতের সমস্ত পথ বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। হেবরনে একটি সামরিক চেকপোস্টে গুলির হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন ও সমষ্টিগত শাস্তি নেমে আসতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

হেবরনে হামলার পর ইসরাইলের প্রথম পদক্ষেপ ছিল শহরের তিনতলা একটি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া। ইসরাইলি বাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভবনটি ভেঙে ফেলে। সেখানে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে নিজেদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়।

এছাড়া, হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এই অভিযানের সময় তাদের কয়েকজন স্বজনকে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

ইসরাইলের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেবরনে ‘জেনিন মডেল’ প্রয়োগ করা হবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জেনিনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাকে বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইসরাইলি কর্মকর্তারা হেবরনের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব পদক্ষেপকে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

শুক্রবার, হেবরনের কাছে হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির। তিনি বলেন, ‘হামলায় জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করতে এবং তাদের কাছে পৌঁছাতে ইসরাইলি বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেবে।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান হবে নজিরবিহীন। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ইসরাইল এমন অভিযান আর চালায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

এদিকে, ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির পশ্চিম তীরের সড়কগুলোতে ফিলিস্তিনিদের চলাচল সীমিত করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ফিলিস্তিনিদের চলাচলের স্বাধীনতার চেয়ে ইসরাইলিদের জীবন ‘দশ লাখ গুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ’।

ফিলিস্তিনিদের ওপর সমষ্টিগত শাস্তি আরোপকে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হয়। তবে হেবরনের হামলার পর এবার এর মাত্রা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ফিলিস্তিনিরা।

এএম

আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের অর্ধদিবস সড়ক অবরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ এম


রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের অর্ধদিবস সড়ক অবরোধ

রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে অর্ধদিবস সড়ক অবরোধ চলছে। এই অবরোধ সাজেকে চলমান আন্দোলনের সমর্থনে এবং সাজেকে হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ চলাকালীন রাঙ্গামাটি শহরের অভ্যন্তরে যানবাহন চলাচল ও নৌপথে নৌ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও, জেলা শহর থেকে খাগড়াছড়ি গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শহরের মানিকছড়ি ও কুতুকছড়ি সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আন্দোলনকারীদের পিকেটিং করতে দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীরা অনেক স্থানে সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধের সমর্থনে অবস্থান নিয়েছেন।

যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। অবরোধ চলাকালীন এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

অবরোধের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, "অবরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।" অবরোধ পালিত হলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, জনভোগান্তি ও জরুরি সেবার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অবরোধ চলাকালে জরুরি সেবাসমূহকে এই কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স, রোগীবাহী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিস, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী পরিবহন এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি অন্যান্য দিনের মতোই নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচল করেছে।

অবরোধ ছাড়াও, ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ -এর যৌথ উদ্যোগে ঘোষিত তিন দফা দাবির অনির্দিষ্টকালের সাজেক অবরোধ কর্মসূচি তৃতীয় দিনের মতো শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে।

বর্তমানে সাজেক ও আশপাশের এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাজেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদপুরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার অস্ত্র ও মোবাইল ফোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


মোহাম্মদপুরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার অস্ত্র ও মোবাইল ফোন

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নারী, পুরুষ ও কিশোরসহ ১৩ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র এবং চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম। তিনি জানান, মোহাম্মদপুর এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি সুইচ গিয়ার, দুটি ধারালো চাকু, চারটি রড এবং একটি করাত কাটার চাকু। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন কিশোর এবং একজন নারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হাসনাইন হাসান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি এবং শেরেবাংলানগর থানায় ছিনতাইয়ের অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা পথচারী, বাসযাত্রী, রিকশার আরোহী এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনদের টার্গেট করতেন। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অথবা নারীদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে তারা ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার এই কর্মকর্তা জানান, ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত আইএইএ, দাবি গ্রোসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


ইরানের পরমাণু কর্মসূচি যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত আইএইএ, দাবি গ্রোসি

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের পরমাণু কার্যক্রম যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতির অধিকাংশই সম্পন্ন করেছে।

এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হবে এবং কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব হবে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় গ্রোসি উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য যে কারিগরি কাজের প্রয়োজন, তার অধিকাংশই সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, “আইএইএ প্রস্তুত।”

গ্রোসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন এবং মধ্যস্থতার উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তান, কাতার, ওমান ও মিসরের ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, “কূটনৈতিক সমঝোতা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ও স্থিতিশীল সমাধান সম্ভব নয়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেকোনো চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইএইএর মাধ্যমে যাচাই নিশ্চিত করা আবশ্যক।

এসময় সিরিয়ার পরমাণু কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও অগ্রগতির কথা জানান আইএইএর মহাপরিচালক।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিরিয়ার সব পরমাণু উপাদান এখন আইএইএর নজরদারির আওতায় রয়েছে।

গ্রোসি আশা প্রকাশ করেন যে, সিরিয়ার ক্ষেত্রে অর্জিত এই অগ্রগতির মতো ইরানের সঙ্গেও একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুরে রাশিয়ার কালিনিনের চেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


রূপপুরে রাশিয়ার কালিনিনের চেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব

আধুনিক প্রযুক্তি ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরমাণু থেকে নিরাপদে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এর একটি বড় উদাহরণ হলো রাশিয়ার কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, যা চার দশক ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছে। বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হয়েছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়েও আধুনিক প্রযুক্তি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি থাকা যথেষ্ট নয়, আদর্শ নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলাও প্রয়োজন।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় সাড়ে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে উদোমলিয়া শহর অবস্থিত। ২৫ হাজারের বেশি মানুষের বসবাসের এই শহরের জনজীবন অন্যান্য এলাকার মতোই স্বাভাবিক। সবুজে ঘেরা পার্কে কেউ অবসর কাটাচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত খেলাধুলায়। স্বচ্ছ পানির লেকে সাঁতার কাটা ও মাছ ধরায় সময় পার করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সেই লেকের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে ৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট।

প্রশ্ন উঠছে, লোকালয় ও পরিবেশের স্বাভাবিকতা বজায় রেখে স্পর্শকাতর পারমাণবিক জ্বালানি থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে? কেন্দ্রটির কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এখানে সবার আগে নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়া হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত হয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১০০০ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও প্রতিটি ধাপে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নিরাপত্তার এসব দিক নিশ্চিত করেই রাশিয়ার কালিনিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরাপদে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নজির গড়ে তুলেছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব ও বিকিরণের মাত্রা পর্যবেক্ষণে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। এ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয় ১৭টি স্টেশন থেকে। এসব তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এ ছাড়া উদোমলিয়ার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, স্থানীয় আবহাওয়া, বায়ুর মান ও পানির গুণগত মানও নিয়মিত পরীক্ষা করে কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার কালিনিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকিরণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ভিক্টর ও. দোলেচিখ বলেন, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার নিরাপত্তা ও বিকিরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার বিকিরণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করছি। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।”

এদিকে, কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের তুলনায় আরও উন্নত থ্রি প্লাস জেনারেশন প্রযুক্তির ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানিয়েছেন, রূপপুরের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ের কোনো জায়গা নেই।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “এটি প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত একটি প্রকল্প। আল্লাহ চাইলে আমাদের এর চেয়ে বেশি কিছু নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন হবে না।”

কালিনিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো রূপপুরেও আদর্শ নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তাব্যবস্থা যত উন্নত হোক না কেন, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দক্ষ ব্যবস্থাপনা। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বাড়তি নিরাপত্তার কারণে রিঅ্যাক্টরে দুর্ঘটনা ঘটলেও তেজস্ক্রিয়তা বাইরে ছড়িয়ে পড়বে না; এটি আমরা মেনে নিলাম। কিন্তু ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে শেষ পর্যন্ত এই রিঅ্যাক্টর আর চালানো সম্ভব হবে না। রিঅ্যাক্টর চালাতে না পারলে দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে, যা সামাল দেয়া কঠিন। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নিরাপদে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতাও জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%