শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০২ পি.এম
চট্টগ্রাম হাটহাজারী উপজেলা থেকে পুলিশ মো. নাছির উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করেছে, তার কাছে বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ওয়ান শুটারগান (এলজি) এবং ১১ রাউন্ড গুলি-কার্তুজ পাওয়া গেছে। তিনি নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ধলই ইউনিয়নের সভাপতি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম কালের কণ্ঠকে জানান, নাছির উদ্দীনের বসতঘরে অবৈধ অস্ত্র মজুদের তথ্য পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় নাছির উদ্দীনের শয়নকক্ষের স্টিলের ওয়ারড্রবের ড্রয়ার থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটারের চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, একই কক্ষের স্টিলের আলমারির নিচের ড্রয়ার থেকে একটি ওয়ান শুটারগান (এলজি) ও সাত রাউন্ড তাজা শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কার্তুজের গায়ে লেখা রয়েছে শক্তিমান এক্সপ্রেস মেড ইন ইন্ডিয়া।
জিজ্ঞাসাবাদে নাছির অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। তার বন্ধু রাউজানের মো. তৈয়ব তিন-চার মাস আগে বিদেশে যাওয়ার সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদ তার কাছে রেখে যান। দেশে ফিরে তৈয়ব এগুলো নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
এ ঘটনায় নাছির উদ্দীন ও পলাতক তৈয়বের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে হাটহাজারী থানায় মামলা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও সক্রিয়। তিনি প্রায়ই দুই বাংলার ভক্ত ও অনুরাগীদের সঙ্গে নিজের নানা মুহূর্তের সুখ-দুঃখ শেয়ার করেন। অভিনেত্রী নিয়মিতভাবে তার ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
অভিনয়ের বাইরে, অবসর সময়ে তিনি বাড়ির উন্মুক্ত বাগান দেখভাল করতেও ব্যস্ত থাকেন। গাছপালা ও পোষ্যদের সঙ্গে কাটান তার এই সময়। তবে সময় যেন থমকে গেছে তার রূপ ও লাবণ্যের কাছে, ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে সব বয়সের দর্শকদের কাছে তিনি সমান আকর্ষণীয়।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে কিছু ছবি পোস্ট করেছেন জয়া আহসান। সদ্য প্রকাশিত ছবিগুলো আবার প্রমাণ করে যে, বয়স যেন তার কাছে দুধভাত! রূপের জাদুতে ভক্তদের মুগ্ধতায় ভাসিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, বিশেষ একটি কাজ করার জন্য কোনো পরিকল্পনা করেননি।
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, স্নিগ্ধ গোলাপি রঙের পোশাকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে ধরা দিয়েছেন জয়া আহসান। টেবিলের সামনে বসে থাকাকালীন তার মুখে ফুটে উঠেছে এক মিষ্টি হাসি। অভিনেত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, আচমকা ঠোঁটের কোণে ভেসে ওঠা তার এই হাসিগুলোই চলে আসে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই!
ছবির ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন— ‘আ স্মাইল আই ডিডন্ট প্ল্যান’। অর্থাৎ কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া বা নিজের অজান্তেই হাসতে জানেন তিনি। জয়ার সঙ্গে একমত হয়ে এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন— ‘ঠিকই বলেছেন, হাসতে অন্তত প্ল্যান করতে হয় না।’
এ ছাড়া জয়া আহসানের এমন আনকোরা অভিব্যক্তি এবং মিষ্টি হাসির ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে সাড়া ফেলেছে নেটিজেন ও তার ভক্তদের মাঝে। তবে হাসির চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার এভারগ্রিন লুক। নেটিজেনদের একাংশের মন্তব্য ছিল— ‘চল্লিশের জয়া যেন ১৮ -তে নেমে এসেছেন।’ আবার কেউ কেউ তাকে তিন পুরুষের ক্রাশ বলেও অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী জয়া আহসানকে অভিনয়ে সর্বশেষ দেখা গেছে কৌশিক গাঙ্গুলির ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’তে। বেশ কিছু দিন আগে সিনেমাটি ভারতে মুক্তি পেয়েছে এবং পেয়েছে ভূয়সী প্রশংসা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সউদী আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ভবিষ্যতে মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি ব্যাপক প্রতিরক্ষা জোটে রূপ নিতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুর্তুলমুশ। তিনি শুক্রবার এ কথা বলেন।
গত আগস্টে মক্কায় সউদী আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, পরে এতে তুরস্কও যুক্ত হয়। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, যদি কোনো সদস্যদেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হয়, তবে সেটিকে সকল সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
কুর্তুলমুশ উল্লেখ করেন, চুক্তিটি মুসলিম বিশ্বের আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এমনকি ভবিষ্যতে ইরানকে এ কাঠামোর অংশ করার কথাও উল্লেখ করেন। চুক্তিটি আগামী মাস থেকে সংসদীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে চুক্তির পক্ষগুলো পূর্বে জোর দিয়ে বলেছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়নি। একই সঙ্গে, বিদ্যমান কোনো আন্তর্জাতিক বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিকল্প হিসেবেও এটি কাজ করবে না বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, তুরস্ক, সউদী আরব, পাকিস্তান এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সম্প্রতি সউদী আরবের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করেছেন এবং আঞ্চলিক সংকট সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সূত্র : রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) মতো বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি সচরাচর কোনো বিশ্বনেতার পক্ষে ভাবা সম্ভব নয়।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উপস্থিত থাকলেও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধানের অনুপস্থিতি সকলকে বিস্মিত করেছে।
চলুন জানি, কোন কোন বিশ্বনেতা এই মহাসমাবেশ থেকে দূরে থেকেছেন এবং এর পেছনের কারণ কী।
জার্মানি: ফ্রিডরিখ মার্ৎস
জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দ্বিতীয় বছর দায়িত্ব পালনরত ফ্রিডরিখ মার্ৎস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন।
সেপ্টেম্বরে জার্মানির তিনটি রাজ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস-এর নেতা ও চ্যান্সেলর হিসেবে মার্ৎস বর্তমানে চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। বিরোধীদের সম্ভাব্য বিদ্রোহ ঠেকানোর জন্য তিনি নিজেই দেশে অবস্থান করছেন। তার বদলে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছেন।
ইতালি: জর্জিয়া মেলোনি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও অভ্যন্তরীণ জরুরি কাজের কারণে নিউইয়র্কে যাননি।
জুলাইয়ের শুরুর দিকে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটেশন অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে তিনি জানান যে ইতালির কিছু পেন্ডিং কাজ ও অভ্যন্তরীণ বিষয় তাকে সামলাতে হবে। তার পরিবর্তে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সম্মেলনে যোগদান করেছেন এবং ভাষণও দিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা: সিরিল রামাফোসা
ভারতের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।
স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ করেননি। তার পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা যোগদান করেছেন।
মিশর: আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও এবার নিউইয়র্কে যাননি।
তার পরিবর্তে দেশের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলি মিশরের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে আল-সিসির কার্যালয় থেকে তার অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ২০২০ সালের পর থেকে তিনি সশরীরে জাতিসংঘের এই অধিবেশনে কখনো যোগ দেননি।
নাইজেরিয়া: বোলা টিনুভু
আফ্রিকার আরেক প্রভাবশালী দেশ নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুভুর অনুপস্থিতির কারণ হলো তার অবকাশ যাপন।
অগাস্টের শেষ দিক থেকে তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে ছুটি কাটাচ্ছেন। তার দেশ থেকে দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি কাশিম শেটিমা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ভারত: নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিয়মিতভাবে উপস্থিত হন না। এর আগে তিনি শেষবার ২০২১ সালে এই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছিলেন।
এরপর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটি নিয়মিতভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করকে পাঠাচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এবারও মোদির নাম বক্তার তালিকায় থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়।
চীন: শি জিনপিং
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থাকলেও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান করেননি।
এর পরিবর্তে তিনি প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ওয়াশিংটনে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন, যেখানে তিনি হোয়াইট হাউসের গালা ডিনার ও সামরিক কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় কূটনীতির চেয়ে পরাশক্তিগুলোর দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া: ভ্লাদিমির পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বরাবরই জাতিসংঘের এই আইকনিক মঞ্চে সশরীরে উপস্থিত থাকা এড়িয়ে চলেন। তাই এবারও তার পরিবর্তে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
পুতিন নিজেই ডিক্রি জারি করে তাকে পাঠিয়েছেন এবং নিজের অনুপস্থিতির কোনো কারণ জানাননি।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড: মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের অধিবেশনে নিয়মিত মুখ ছিলেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র তাকে কূটনৈতিক ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গত বছরের মতো এবারও তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশ সহজ করার কথা থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পিএলও এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদস্যদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে।
বাধ্য হয়ে মাহমুদ আব্বাস গতবারের মতো এবারও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ