মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১৪ এম
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির বিদায় ছুঁয়ে গেছে তার জাতীয় দল সতীর্থদের। সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস, রদ্রিগো দে পলরা। তারা তুলে ধরেছেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের শ্রেষ্ঠত্বের কথা।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সোমবার (৩১ আগস্ট) আর্জেন্টিনা দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি।
ক্লাব পর্যায়ের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলেও সম্ভাব্য সবকিছুই মেসি জিতেছেন। সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন তো বটেই, অনেকের চোখে তিনিই সেরা।
মিডফিল্ডার পারেদেস সেই কথাই বলেছেন।
“সবকিছুর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি সর্বকালের সেরা এবং সবসময় তা-ই থাকবেন। আমরা আপনাকে ভালোবাসি, অধিনায়ক।”
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড মেসির। তার নেতৃত্বে ২৮ বছরের শিরোপা খরা ঘুচিয়ে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা ট্রফি জয় করে দেশটি। পরে তার কাঁধে ভর করেই ৩৬ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব সেরার ট্রফি জয় করে আর্জেন্টিনা। ২০২৪ সালে তারা ধরে রাখা কোপা আমেরিকার শিরোপা।
গত জুন-জলাইয়ের আসরে দলকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলেন মেসি, যেখানে তারা স্পেনের বিপক্ষে হারে ১-০ গোলে।
আর্জেন্টিনার আরেক তারকা দে পল ক্লাব পর্যায়েও খেলেন মেসির সঙ্গেই, ইন্টার মায়ার হয়ে। এই মিডফিল্ডার তুলে ধরেছেন, মেসি দেশের মানুষকে কতটা আনন্দ দিয়েছেন।
“আমাদের দেশের প্রতি আপনার নিঃশর্ত ভালোবাসা, কখনও হাল না ছাড়তে আপনার লড়াই, অবিচার সবসময় সহ্য করার শক্তি, অনুশীলনের মাঠে নামা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের প্রতি আপনার নেতৃত্ব ও উদারতা, তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এবং আমাদের জাতীয় দলের প্রত্যেক স্টাফ সদস্যের প্রতি আপনার দেখানো যত্ন... কেবল ধন্যবাদই জানাই। সর্বকালের সেরা। আমাদের এতটা আনন্দ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না যে, আপনি আমাদের মুখে কত হাসি ফুটিয়েছেন।”
ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের চোখে মেসিই ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ।
“আপনি আমার জন্য এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য উদাহরণ, ফুটবলে একজন বিজয়ী এবং জীবনেও একজন বিজয়ী। আমার মেয়ে খুব গর্বিত হবে যে, তার বাবা এমন একজন অসাধারণ মানুষের সঙ্গে একই দলে খেলেছে। আপনি ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ, কারণ ফুটবলের ক্ষেত্রে, সত্যি বলতে, আপনার কোনো তুলনা হয় না।
“আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি।”
জাতীয় দলে লম্বা সময় মেসির সঙ্গে খেলেছেন যিনি, সেই সাবেক মিডফিল্ডার আনহেল ডি মারিয়া কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মহাতারকার প্রতি।
“একজন আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য এবং আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সারাজীবন তোমার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। যখন তুমি সহজেই অন্য কিছু বেছে নিতে পারতে, তখন আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছো। ধন্যবাদ, অধিনায়ক। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। ইতিহাসের সেরা।”
ভালো কিংবা খারাপ, প্রতিটি মুহূর্তে মেসির সবচেয়ে কাছে থাকা তার স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোক্কুস্সো গর্বিত অনুভব করছেন এই যাত্রাপথের সঙ্গী হতে পেরে।
“এই যাত্রাপথে তোমার পাশে থাকতে পারা এবং তোমার সকল স্বপ্ন পূরণ করতে দেখতে পারাটা অনেক গর্বের। এই (জীবনের) গল্প এবং আরও অনেক কিছু তোমার প্রাপ্য ছিল। আমরা তোমাকে অনেক ভালোবাসি।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে পূর্ববিরোধের কারণে আবু সুমা (৩৫) নামে এক যুবকের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায়, গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে।
আবু সুমা গোয়ালপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম মোল্লার পুত্র এবং অভিযুক্ত মামুন (২৬) একই গ্রামের শফি মাস্টারের ছেলে।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত মামুন প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার স্ত্রীকে মারধর করতেন। আবু সুমা তাকে পারিবারিকভাবে কয়েকবার নিষেধ করার পর দুজনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সোমবার সন্ধ্যায়, আবু সুমা তার ছেলেকে খেলার মাঠ থেকে ডাকতে গেলে মামুন তাকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডান পায়ে একাধিক কোপ দেয়। এর ফলে তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আবু সুমাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ঝিনাইদহ সদর থানা-পুলিশ জানিয়েছে যে, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি, আরেকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন- শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটু এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান। এদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। অপর শিক্ষক হলেন সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী ডিগ্রি না থাকায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।
এছাড়া, বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. শবনম জাহানের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়াও, সিন্ডিকেটে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানকে ডাকসু ২০১৯ এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হলের প্রধান গেট বন্ধের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরছেন আরো ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক, যারা লিবিয়ায় আটকে ছিলেন। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩১ আগস্ট ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে আইওএম-এর সহযোগিতায় তাদের দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
প্রত্যাবসিত অভিবাসীরা ১ সেপ্টেম্বর আনুমানিক সকাল ৭টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন, যা লিবিয়ার বুরাক এয়ারের মাধ্যমে হবে।
সোমবার দূতাবাসের প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও মানবিক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়।
বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেছে এবং অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে। উল্লেখযোগ্য যে, প্রত্যাবসিত অভিবাসীরা ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন।
বার্তায় দূতাবাস জানায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিয়মিতভাবে সমুদ্রপথে বিদেশ গমনের চেষ্টা অনেক সময় অভিবাসীদের মৃত্যু, নিখোঁজ হওয়া, জিম্মি বা আটক হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে অনেক অভিবাসীকে দীর্ঘ সময় ধরে মানবেতর পরিবেশে বন্দি জীবনযাপন করতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ দূতাবাস সকলকে দালাল ও মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে অনিয়মিত পথে বিদেশ গমনের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চারদিন পর তালাবদ্ধ ঘর থেকে আছিয়া বেগম নামের ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধার পচা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথপুর পৌরসভার ইনাতনগর এলাকায়।
আছিয়া বেগম ওই এলাকার মৃত খালিক মিয়ার স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে আছিয়া বেগম একা বাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে জেলা শহর সুনামগঞ্জে যান তিনি। এরপর থেকে তার সাথে পরিবারের সদস্যদের কেউ যোগাযোগ করতে পারেননি। সোমবার রাতে স্থানীয়রা ওই তালাবদ্ধ ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পচা দুর্গন্ধ অনুভব করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে খাটের উপর কম্বল গায়ে অর্ধ-গলিত অবস্থায় আছিয়া বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কল্পনা বেগম, আছিয়া বেগমের মেয়ে, বলেন, "বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মায়ের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।" তিনি জানান, একাধিকবার মোবাইলে কল করেও তার মাকে পাওয়া যায়নি। আছিয়া বেগম একাই থাকতেন।
কল্পনার স্বামী দিলশাদ মিয়া জানান, "আমার শ্বাশুড়ির সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতাও ছিল না।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, আছিয়া বেগমের কাছে চিকিৎসার জন্য নগদ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিল। তাদের ধারণা, ওই টাকার জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘরটি বাহির থেকে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, "ওই মহিলার দেহের বেশকিছু অংশ পচে গেছে।" মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হবে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, "ওই ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ঘরের একটি মাত্র দরজা ছিল।" তিনি আরও জানান, পুলিশ তদন্ত করছে এবং দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ