মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:২৫ এম
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরছেন আরো ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক, যারা লিবিয়ায় আটকে ছিলেন। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩১ আগস্ট ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে আইওএম-এর সহযোগিতায় তাদের দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
প্রত্যাবসিত অভিবাসীরা ১ সেপ্টেম্বর আনুমানিক সকাল ৭টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন, যা লিবিয়ার বুরাক এয়ারের মাধ্যমে হবে।
সোমবার দূতাবাসের প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও মানবিক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়।
বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেছে এবং অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে। উল্লেখযোগ্য যে, প্রত্যাবসিত অভিবাসীরা ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন।
বার্তায় দূতাবাস জানায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিয়মিতভাবে সমুদ্রপথে বিদেশ গমনের চেষ্টা অনেক সময় অভিবাসীদের মৃত্যু, নিখোঁজ হওয়া, জিম্মি বা আটক হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে অনেক অভিবাসীকে দীর্ঘ সময় ধরে মানবেতর পরিবেশে বন্দি জীবনযাপন করতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ দূতাবাস সকলকে দালাল ও মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে অনিয়মিত পথে বিদেশ গমনের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চারদিন পর তালাবদ্ধ ঘর থেকে আছিয়া বেগম নামের ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধার পচা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথপুর পৌরসভার ইনাতনগর এলাকায়।
আছিয়া বেগম ওই এলাকার মৃত খালিক মিয়ার স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে আছিয়া বেগম একা বাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে জেলা শহর সুনামগঞ্জে যান তিনি। এরপর থেকে তার সাথে পরিবারের সদস্যদের কেউ যোগাযোগ করতে পারেননি। সোমবার রাতে স্থানীয়রা ওই তালাবদ্ধ ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পচা দুর্গন্ধ অনুভব করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে খাটের উপর কম্বল গায়ে অর্ধ-গলিত অবস্থায় আছিয়া বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কল্পনা বেগম, আছিয়া বেগমের মেয়ে, বলেন, "বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মায়ের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।" তিনি জানান, একাধিকবার মোবাইলে কল করেও তার মাকে পাওয়া যায়নি। আছিয়া বেগম একাই থাকতেন।
কল্পনার স্বামী দিলশাদ মিয়া জানান, "আমার শ্বাশুড়ির সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতাও ছিল না।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, আছিয়া বেগমের কাছে চিকিৎসার জন্য নগদ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিল। তাদের ধারণা, ওই টাকার জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘরটি বাহির থেকে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, "ওই মহিলার দেহের বেশকিছু অংশ পচে গেছে।" মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হবে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, "ওই ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ঘরের একটি মাত্র দরজা ছিল।" তিনি আরও জানান, পুলিশ তদন্ত করছে এবং দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দিলেন ভারতের জনপ্রিয় র্যাপার বাদশা ও পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি। গত কয়েক মাস ধরে তাদের দাম্পত্যজীবনে টানাপোড়েনের যে গুঞ্জন চলছিল, সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সেটির চূড়ান্ত অবসান ঘটান এই তারকা দম্পতি।
চলতি বছরের মার্চ মাসে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই জুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে তাদের ডিভোর্সের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া বিবৃতিতে বাদশা বলেন, আমি এবং ইশা রিখি পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা হয়ে যাওয়ার এবং নিজেদের নিজ নিজ পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে আমরা সবার কাছে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি আরও যুক্ত করেন, এই বিষয়ে এটিই আমাদের একমাত্র বক্তব্য। আমাদের সম্পর্ক নিয়ে আর কোনো অনুমান বা জল্পনা-কল্পনা না করার জন্য আমরা সবাইকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই বাদশা ও ইশা রিখির সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে। সে সময় ইশা রিখি বাদশা ও নিজের বেশ কিছু ভিডিও এবং ছবির একটি কোলাজ পোস্ট করেছিলেন। ক্যাপশনে ভাঙা হৃদয় ও হাতজোড় করার ইমোজি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, প্রতিটি ঝড়ই একটি শিক্ষা এবং প্রতিটি প্রার্থনাই একটি আশা। তার এই পোস্টের পরই অনুরাগী ও নেটিজেনদের মনে তাদের বিবাহিত জীবন নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এমনকি সম্প্রতি ইশার মা পুনম রিখিও কর্মফল নিয়ে একের পর এক পোস্ট শেয়ার করে সে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
এর আগে, গত জুন মাসে ইনস্টাগ্রামের একটি ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ সেশনে বাদশার সঙ্গে নিজের বিয়ের খবর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছিলেন ইশা রিখি। সালমান খানের সঞ্চালনায় আসন্ন ‘বিগ বস ২০’-এর প্রতিযোগী হিসেবে ইশা রিখির অংশ নেওয়ার জোর গুঞ্জনের মধ্যেই তাদের এই বিবাহবিচ্ছেদের খবরটি সামনে এলো।
উল্লেখ্য, এটি বাদশার দ্বিতীয় বিবাহবিচ্ছেদ। এর আগে তিনি জেসমিন মসিহকে বিয়ে করেছিলেন। ২০২০ সালে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি ঘটে এবং বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। বাদশা ও জেসমিনের সংসারে জেসেমি গ্রেস মসিহ সিং নামে ৯ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর প্রেরিত একটি পদত্যাগপত্রে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে আজ বিকেলে হলে আসন বরাদ্দের সুপারিশ নিয়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে হল প্রভোস্টের মধ্যে একটি বাগবিতণ্ডার অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই অডিওতে শোনা যায়, রাশেদুল নামক এক ছাত্রদলকর্মীর জন্য আসন বরাদ্দের সুপারিশ করছেন আব্দুল্লাহ আল নোমান। কিন্তু হল প্রভোস্ট তাকে জানান যে, ওই শিক্ষার্থী এমফিলের রানিং শিক্ষার্থী নয়, তাই তাকে আসন দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ছাত্রদল নেতা বলেন, হল প্রভোস্ট শিবিরের ‘এস্টাবলিশমেন্ট’ করেছেন এবং মেধাতালিকার বাইরে শিবিরের নেতাকর্মীদের আসন বরাদ্দ দিয়েছেন। এসময় তিনি হলের সব আসন বরাদ্দের তালিকা জানতে চান। পাশাপাশি প্রশ্ন করেন, হল প্রভোস্ট জামায়াত-শিবিরের চেয়ে বড় ক্যাডার কিনা এবং উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য চেয়ে তিনি বড় কি না।
এদিকে ভাইরাল হওয়া অডিওর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্টে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান উল্লেখ করেন যে, ওই শিক্ষার্থী মেধার ভিত্তিতে পূর্বে থেকেই হলে আসন পেয়েছেন। মাস্টার্সের ফল প্রকাশের পর এমফিলে ভর্তির প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তিনি আসনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন।
নোমান বলেন, প্রভোস্ট বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় তিনি প্রো-ভিসির কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে প্রো-ভিসির সুপারিশ নিয়ে প্রভোস্টের কাছে গেলে তাকে হল ছাড়তে বলা হয় এবং তার মা-বাবার সামর্থ্য নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি প্রভোস্টকে ফোন করে এমন আচরণের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে ৫ আগস্টের পর মেধার ভিত্তিতে এবং সুপারিশের মাধ্যমে কতটি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশের দাবি জানান।
নোমান আরও জানান, স্বচ্ছতা ও বৈষম্যমুক্ত হল নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় প্রশ্ন তোলার সাহস তিনি সবসময় রাখবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করলেও দলের নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দুঃশাসনের মধ্যে দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার, মামলা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা এবং সাংগঠনিক সংকটের পরিস্থিতিতে তিনি লন্ডন থেকে দলের পরিচালনার জন্য একটি ভার্চুয়াল কাঠামো গড়ে তোলেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে, দেশে না থেকেও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক কার্যক্রম, নির্বাচন প্রস্তুতি এবং আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তারেক রহমানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শারীরিকভাবে দেশে না থেকেও কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভিডিও কনফারেন্স, স্কাইপ এবং অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত থাকতেন। ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার ঘটনা ছিল এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সে সময় তিনি লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫৪০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেন। এই ঘটনা নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততা প্রদর্শন করেছে এবং দেশে না থেকেও দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে তাঁর অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। আওয়ামী লীগ তখন তাঁর এই ভূমিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগও করেছিল, কিন্তু কমিশনের তৎকালীন সচিব জানিয়েছিলেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার নেওয়াকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তারেক রহমান। ২০১৮ সালের পর বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক প্রশ্ন ছিল খালেদা জিয়া কারাগারে, তারেক রহমান লন্ডনে; তাহলে দলকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করবেন কে? বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তখন বলেছিলেন, প্রযুক্তির যুগে শারীরিকভাবে দেশে উপস্থিত থাকা দল পরিচালনার প্রধান শর্ত নয়। তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই দল পরিচালনা করেন।
বাস্তবে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশের মাঠের রাজনীতি সামলালেও বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কৌশল নির্ধারণে তারেক রহমানের ভূমিকা ক্রমে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এর ফলে বিএনপির নেতৃত্বে একটি দ্বিস্তরীয় কাঠামো গড়ে ওঠে- দেশের ভিতরে মাঠের নেতৃত্ব এবং লন্ডন থেকে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নির্দেশনা। শুধু কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নয়, দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসেও তারেক রহমান সক্রিয় ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন জেলা কমিটি গঠন এবং ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিকে শুধু আন্দোলননির্ভর দল না রেখে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠনের চেষ্টা ছিল তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম দিক। পরবর্তী সময়ে সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহের মতো কর্মসূচিতেও লন্ডন থেকে তিনি সরাসরি যুক্ত হন। এমনকি নিজের প্রাথমিক সদস্যপদও অনলাইনে নবায়ন করেন। এই কর্মসূচিতে তিনি দল পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ‘ভালো মানুষ’ ও মেধাবীদের সামনে আনার ওপর গুরুত্ব দেন।
স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্বিষহ দমনপীড়নের সময়ে বিএনপির রাজনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি করা এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখা। লন্ডন থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে তারেক রহমান নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি দলকে অটুটভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন, আন্দোলন ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে বিএনপির রাজনৈতিক বার্তাও তিনি নিয়মিত তুলে ধরেন। ২০২৪-পরবর্তী সময়েও লন্ডন থেকে বিএনপির বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান অব্যাহত রাখেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি শুধু নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দিকে নয়, সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বিভিন্ন জোটের কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়ে তিনি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা দেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে ধরে রাখার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এই দীর্ঘ অধ্যায়ের পর, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারেক রহমান দেশে ফেরেন। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের দায়িত্ব নেন। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে লন্ডন থেকে বিএনপি পরিচালনার অভিজ্ঞতা তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। শারীরিক অনুপস্থিতিকে প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্বে রূপান্তর, কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে যোগাযোগ, দলীয় কমিটি পুনর্গঠন, নির্বাচনি প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক ঐক্য— এ কয়েকটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি দীর্ঘ সময় দলটির সাংগঠনিক কাঠামো সচল রাখার চেষ্টা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ