এস এম সাহান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
০৮:২৭ পি.এম
ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার শহরের কবি জসীমউদ্দীন হলে ১১ দলীয় ঐক্য, ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার আমির মাওলানা বদরুদ্দীন। যৌথভাবে সেমিনার পরিচালনা করেন ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার মুখপাত্র ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী, সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল ওহাব এবং এনসিপি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. বাইজিদ আহমদ শাহেদ।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ.এস.এম. শাহরিয়ার কবির।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি শারাফাত হোসাইন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।
এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, পৌর আমির ড. এহসানুল মাহবুব রুবেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বকুল, জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা সভাপতি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা শাহ আব্দুল মতিন বিন আব্দুল বারী এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ শামসুরের স্ত্রী মেঘলা আক্তারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, জুলাই সনদ দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং গণভোটের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে জনগণের রায় কার্যকর করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণভোটের রায় কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের কেশবপুরে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে বাসায় মুখোশ পরা দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে সিয়াম হোসেন (১৫) নামের এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) সকালে মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।
সিয়াম হোসেন হচ্ছেন মঙ্গলকোট গ্রামের আব্দুস সবুরের ছেলে। সে মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। স্থানীয়রা জানায়, সকাল বেলায় সিয়াম স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে ছিল যা অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার জন্য ছিল। ঠিক সেই সময় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা চারজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে সিয়ামের গতিপথ বন্ধ করে ছুরিকাঘাত করে।
এই আক্রমণে সিয়াম দু'হাতে আঘাত পায় যা গুরুতর ছিল। পরে তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয়। এই কারণে, সিয়াম তার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, যা তার জন্য দুঃখের বিষয়।
এ বিষয়ে আরও পড়ুন, ভাঙ্গায় বাসচাপায় আহত এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর খবরও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে এসেছে।
মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সিয়ামের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা ছিল, কিন্তু দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতের কারণে সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।
সিয়াম হোসেনের বাবা আব্দুস সবুর ঘটনাটি জানিয়ে বলেছেন, এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪ ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেকসনা খাতুন জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং এই বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা শাশুড়িেকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর মেয়ের জামাতার বিরুদ্ধে। উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে গত শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম আজিম চৌকিদার (৩৫)। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধাকে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফরেনসিক টেস্টের জন্য তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধা অভিযোগ করেন, শনিবার গভীর রাতে তিনি নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তাঁর মেয়ের জামাতা আজিম চৌকিদার ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে মারধরও করা হয়।
অভিযুক্তের স্ত্রী রেক্সোনা বেগম জানান, ঘটনার সময় তিনি শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে চরম মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। নিজের বিয়ের ভয়াবহ স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর আগে আজিম তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে স্থানীয়দের উদ্যোগে তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, রেক্সোনার আগের সংসারের আট বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকেও আজিম বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ছেলের এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও লজ্জা প্রকাশ করেছেন খোদ অভিযুক্তের মা নাজমা বেগম। তিনি বলেন, আমার ছেলে মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালায়। অতীতেও একটি শিশুকে ধর্ষণের মামলায় সে জেল খেটেছে। আমি আমার ছেলের কঠোর আইনগত শাস্তি দাবি করছি।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু বকর সিদ্দিক জানান, হাসপাতালের দুজন নারী চিকিৎসক ভুক্তভোগী বৃদ্ধাকে পরীক্ষা করেছেন। প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। উন্নত চিকিৎসা ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তাঁকে দ্রুত বরিশালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। অভিযুক্ত আজিম চৌকিদারকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকায় অভিযুক্ত আজিম চৌকিদারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের মিরওয়ারিশপুর গ্রামের চাপরাশি বাড়িতে আলমারিতে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ত সাপের কামড়ে ২৫ বছরের গৃহবধূ শাহানাজ আক্তারের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।
এই ঘটনা রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ঘটে। আক্রান্ত শাহানাজ আক্তার পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত শাহানাজ আক্তার জায়েদ হোসেনের স্ত্রী এবং তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালের সময় রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন শাহানাজ। দুপুরে আলমারিতে পেঁয়াজ নিতে হাত দিলে আলমারির ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি বিষাক্ত সাপ তাকে কামড় দেয়। কামড় খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পরিবার প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করে। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, শাহানাজকে বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং চিকিৎসা চলাকালে বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলছেন, পরিবার সঠিকভাবে পুলিশের কাছে ঘটনার জন্য অভিযোগ করেনি, কিন্তু বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ