সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২৬ এম
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ঘরের মাঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছে। ম্যাচের শুরুতেই ফিল ফোডেন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায়, ফলে প্রায় এক ঘণ্টা ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় ম্যানচেস্টার সিটিকে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ইউনাইটেড। বরং, দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হালান্ডের গোলে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় তারা।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের প্রথম ম্যানচেস্টার ডার্বিতে জয়লাভ করেছে সিটি। ফোডেনের বিদায়ের পর দীর্ঘ সময় একজন কম নিয়ে খেললেও ইউনাইটেডের আক্রমণ সামলে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে পেপ গার্দিওলার দল।
ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় সিটি বড় ধাক্কা খায়। ব্রুনো ফার্নান্দেজকে লাথি মারার কারণে সরাসরি লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন ফিল ফোডেন। এরপর ইউনাইটেড একজন বেশি নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্বাগতিকরা একাধিক সুযোগ তৈরি করে। দুটি দারুণ আক্রমণে বল সিটির পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে গোলের দেখা পায়নি ইউনাইটেড।
এরপর ৬০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোল করে বসে সিটি। ইয়োশকো গাভারদিওলের নিচু ক্রসটি ডিফ্লেক্ট হয়ে গোলমুখে গেলে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন হালান্ড।
প্রথমে সহকারী রেফারি হালান্ডকে অফসাইডের পতাকা দেখান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এরপর গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইউনাইটেড। কিন্তু সিটির রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে নেয়। ১০ জন নিয়েও তারা শেষ বাঁশি পর্যন্ত লিড ধরে রেখে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ের মাধ্যমে নতুন কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে প্রিমিয়ার লিগে সিটির শতভাগ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকল। চার ম্যাচে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে সিটি। তাদের সমান ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। অন্যদিকে, ৪ ম্যাচে মাত্র এক জয় আর এক ড্রয়ে ইউনাইটেড চার পয়েন্ট নিয়ে ১৩ নম্বরে অবস্থান করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উত্তর সিটিতে এবং নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী দক্ষিণ সিটিতে মেয়র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল রোববার বিকেলে এনসিপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এই ঘোষণা দেন দলটির আহ্বায়ক এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করা হয়। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে মহানগর পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী খোঁজা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। নাহিদ ইসলাম সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, জুলাই মাসের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার এবং তাদের পাশে থাকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন নাহিদ ইসলাম। সভায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। মহানগরের প্রতিটি এলাকায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এনসিপি নেতাদের মতে, সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, স্থানীয় নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে নির্বাচনি প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবসহ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারয়াণপুর ইউনিয়ন থেকে গঙ্গাধর নদী দিয়ে গভীর রাতে নৌকাযোগে ৩৯ বস্তা সার পাচারের সময় স্থানীয় জনতা জব্দ করেছে। তবে প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো দায় নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে নারায়নপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের আউয়ালের ঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একটি নৌকায় সার নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে নৌকাটি আটক করা হয়। নৌকায় ৩৯ বস্তা (১৯৫০ কেজি) সার পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা সেগুলো জব্দ করে স্থানীয় নেতা ফরিদুল জোয়ারদারের জিম্মায় জমা রাখেন।
নৌকার মাঝি আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, নারায়ণপুরের ব্যবসায়ী মোস্তফা মোল্লার কাছ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা বস্তা দরে সারটি কিনেছেন বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ বাজারের তেল-বীজ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন। তারা শুধু পরিবহন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোস্তফা মোল্লা স্থানীয় ডিলারের খুচরা বিক্রয় প্রতিনিধি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তারা সঠিকভাবে সার পান না, অথচ চোরাই বাজারে পর্যাপ্ত সার পাওয়া যায়। এই সারগুলো এভাবেই পাচার হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় নেতা ফরিদুল জোয়ারদার জানিয়েছেন, আটক ৩৯ বস্তা সার তার পাশের বাড়িতে জমা রাখা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় কৃষকদের তালিকা করে সরকারি দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
সার বিক্রির টাকা কে পাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, "যার সার সে (আলতাফ) পাবে।" এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অবগত আছেন।
আলতাফ এতগুলো সার কোথায় পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, "সার কোথায় পেল তা জানি না। তবে এই সারের চালান বা রশিদ পাইনি। এই সার অবশ্যই অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ ও বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল।"
নারায়ণপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মোস্তফা মোল্লা সাব ডিলার। তিনি আলতাফ হোসেনের সুমুন্দি (স্ত্রীর বড় ভাই)। আলতাফ হোসেন মোস্তফার মাধ্যমে এই সার নিয়ে আসছে। এগুলো আমাদের বরাদ্দের সার নয়। যাত্রাপুর থেকে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়দের প্রয়োজন থাকায় তারা আটক করেছে। আটক সার রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।
অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন এই সার তার স্বীকার করে বলেছেন, "এখন কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করছি। এ বিষয়ে সব বিস্তারিত পরে জানাব।"
এদিকে এসব সারের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেছেন, "এ সার তাদের হিসাবের নয় এবং আলতাফ ডিলার বা সাব ডিলার নয়। তিনি হয়ত কৃষকদের কাছ থেকে এই সার কিনেছেন।"
কৃষকরা যেখানে সার পায় না সেখানে কীভাবে বিক্রি করবে? এই প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দেননি। তবে এতগুলো সার একজন ব্যবসায়ী কোথা থেকে এবং কেন সংগ্রহ করলেন সে বিষয়ে অনুসন্ধান করবেন বলে জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধ্যায়। দীর্ঘ সামরিক শাসন, রাজনৈতিক বৈষম্য ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পক্ষে সুস্পষ্ট গণরায় দেয়। কিন্তু নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট দ্রুত গভীরতর হয়। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং জেনারেল ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষিত ছয় দফা ছিল বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধিকারের অন্যতম প্রধান দাবি। ফলে ১৯৭০ সালের নির্বাচন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কাছে কেবল একটি সাধারণ নির্বাচন ছিল না; ছয় দফার পক্ষে এটি কার্যত একটি গণরায় হিসেবেও বিবেচিত হয়।
জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬২টি সাধারণ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসনে জয়লাভ করে। সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় পরিষদে দলটির আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬৭টি, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট ছিল।
অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি—পিপিপি—সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী আসন মিলিয়ে ৮৬টি আসন লাভ করে।
পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করে। ৩০০টি আসনের মধ্যে দলটি ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের। কিন্তু নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে অনীহা দেখা দেয়।
পিপিপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো দাবি করেন, পশ্চিম পাকিস্তানে তাঁর দল প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হওয়ায় কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব থাকতে হবে। এ অবস্থানকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও পিপিপির মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়তে থাকে।
নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ১ মার্চ তিনি আকস্মিকভাবে অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
এই ঘোষণায় পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ আন্দোলনে যুক্ত হতে থাকে। কার্যত পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও ক্রমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রভাবাধীন হয়ে পড়ে।
অসহযোগ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে মুক্তির সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরেন এবং জনগণকে প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
তাঁর ভাষণের অন্যতম আলোচিত বক্তব্য ছিল—‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
৭ মার্চের ভাষণ বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলনে ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মার্চ মাসে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। একই সময়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্য, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পূর্ব পাকিস্তানে আনার কার্যক্রম চলতে থাকে।
আলোচনা চললেও সংকটের কোনো রাজনৈতিক সমাধান শেষ পর্যন্ত হয়নি। পরিস্থিতি ক্রমেই সংঘাতের দিকে এগিয়ে যায়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচালিত ওই অভিযানে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
২৫ মার্চের রাত পেরিয়ে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর শুরু হয় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
১৯৭০ সালের নির্বাচন বাঙালির রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন ছিল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করে, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ছিল।
নির্বাচনের গণরায় অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর না করা, জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত এবং পরবর্তী সামরিক দমন-পীড়ন পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় অসহযোগ আন্দোলন, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনের গণরায় তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই গণরায় বাস্তবায়নে ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রকাঠামোর ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে এবং জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। এই নিউজ কি নামে প্রকাশ করা যায়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা - রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। একই সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের তৎপরতা, মাদক, জমি দখল এবং আবাসিক হোটেলগুলোতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘বিগত একটি ফ্যাসিস্ট সরকার এই রাষ্ট্রটি ভোগদখল করে রেখেছিল। অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, জুলুম ও নির্যাতন করেছে। দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে। সেই অবস্থা থেকে আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার গঠিত হয়েছে। আমাদের আন্তরিকতা ও চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রশাসন- সকলে মিলে চেষ্টা করলে এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে।’
ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে আমাদের আলাদাভাবে নজরদারি রাখতে হবে। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের অনেকে ঢাকা সিটিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তারা যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’
রাজধানী ও আশপাশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মাদক ও জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রের চাকরি করেন। তাই রাষ্ট্রকে কীভাবে আরও ভালো রাখা যায়, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই প্রশাসনের সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সিভিল সার্জন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ