প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারয়াণপুর ইউনিয়ন থেকে গঙ্গাধর নদী দিয়ে গভীর রাতে নৌকাযোগে ৩৯ বস্তা সার পাচারের সময় স্থানীয় জনতা জব্দ করেছে। তবে প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো দায় নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে নারায়নপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের আউয়ালের ঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একটি নৌকায় সার নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে নৌকাটি আটক করা হয়। নৌকায় ৩৯ বস্তা (১৯৫০ কেজি) সার পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা সেগুলো জব্দ করে স্থানীয় নেতা ফরিদুল জোয়ারদারের জিম্মায় জমা রাখেন।
নৌকার মাঝি আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, নারায়ণপুরের ব্যবসায়ী মোস্তফা মোল্লার কাছ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা বস্তা দরে সারটি কিনেছেন বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ বাজারের তেল-বীজ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন। তারা শুধু পরিবহন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোস্তফা মোল্লা স্থানীয় ডিলারের খুচরা বিক্রয় প্রতিনিধি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তারা সঠিকভাবে সার পান না, অথচ চোরাই বাজারে পর্যাপ্ত সার পাওয়া যায়। এই সারগুলো এভাবেই পাচার হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় নেতা ফরিদুল জোয়ারদার জানিয়েছেন, আটক ৩৯ বস্তা সার তার পাশের বাড়িতে জমা রাখা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় কৃষকদের তালিকা করে সরকারি দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
সার বিক্রির টাকা কে পাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, "যার সার সে (আলতাফ) পাবে।" এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অবগত আছেন।
আলতাফ এতগুলো সার কোথায় পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, "সার কোথায় পেল তা জানি না। তবে এই সারের চালান বা রশিদ পাইনি। এই সার অবশ্যই অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ ও বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল।"
নারায়ণপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মোস্তফা মোল্লা সাব ডিলার। তিনি আলতাফ হোসেনের সুমুন্দি (স্ত্রীর বড় ভাই)। আলতাফ হোসেন মোস্তফার মাধ্যমে এই সার নিয়ে আসছে। এগুলো আমাদের বরাদ্দের সার নয়। যাত্রাপুর থেকে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়দের প্রয়োজন থাকায় তারা আটক করেছে। আটক সার রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।
অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন এই সার তার স্বীকার করে বলেছেন, "এখন কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করছি। এ বিষয়ে সব বিস্তারিত পরে জানাব।"
এদিকে এসব সারের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেছেন, "এ সার তাদের হিসাবের নয় এবং আলতাফ ডিলার বা সাব ডিলার নয়। তিনি হয়ত কৃষকদের কাছ থেকে এই সার কিনেছেন।"
কৃষকরা যেখানে সার পায় না সেখানে কীভাবে বিক্রি করবে? এই প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দেননি। তবে এতগুলো সার একজন ব্যবসায়ী কোথা থেকে এবং কেন সংগ্রহ করলেন সে বিষয়ে অনুসন্ধান করবেন বলে জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন