শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ট্রাভার্স সিটিতে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, যা এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের অন্তর্ভুক্ত। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মার্কিন বিমানবাহিনী জানায়, বিমানটি টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের একটি ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত।
টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করে জানায়, তাদের একটি এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান ট্রাভার্স সিটিতে বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বের হয়ে যেতে সক্ষম হন।
বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পূর্বে পাইলট ইজেকশন সিস্টেম ব্যবহার করে বের হয়ে যান, ফলে পাইলটের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার সময় বিমানটি কী ধরনের প্রশিক্ষণ বা কার্যক্রমে ছিল এবং কেন সেটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মার্কিন বিমানবাহিনী দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করবে বলে জানিয়েছে।
এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এই বিমানটি মূলত আকাশযুদ্ধের পাশাপাশি স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে এ ধরনের যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে।
এয়ার ন্যাশনাল গার্ড মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি রিজার্ভ উপাদান, যার সদস্যরা একদিকে অঙ্গরাজ্যগুলোর অধীনে দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন, অন্যদিকে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমেও সক্রিয় দায়িত্ব পালন করেন।
দুর্ঘটনার পর মিশিগানের আইনপ্রণেতারাও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। মিশিগান থেকে মার্কিন সিনেটের প্রতিনিধি গ্রে পিটার্স জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দুর্ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং বিমানটির কারিগরি অবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
সূত্র : এএফপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি একটি বড় সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছেন। একই সময়ে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে একটি টোগো পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তার সামনে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।’ এর আগে, তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরান সমঝোতা করতে আগ্রহী এবং যুদ্ধ শেষের দিকে এগোচ্ছে।
আইআরজিসি জানায়, টোগো পতাকাবাহী ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালিতে ‘অবৈধভাবে’ প্রবেশের চেষ্টা করায় সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি থেমে যায়। তবে এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রতিদিন মাত্র কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ এ পথ অতিক্রম করছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
হরমুজ পরিস্থিতির প্রভাব তেলের বাজারেও পড়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৪ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ১০১ ডলারের কাছাকাছি ছিল। তবে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমায় দাম টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে।
এদিকে সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টাও চলছে। চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযম দেখিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে একই সময়ে হরমুজ ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায় সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে—এমন আশা করা ‘মূর্খতা’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নেতা কিম জং-উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো-জং। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের অবস্থান ‘পরম’ এবং এটি কোনোভাবেই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণের আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো-জং এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) প্রকাশ করেছে।
কিম ইয়ো-জং বলেন, উত্তর কোরিয়ার বর্তমান পারমাণবিক অবস্থান পরিবর্তনের জন্য যারা আহ্বান জানাচ্ছেন, তারা একটি ‘মূর্খ স্বপ্ন’ দেখছেন। তাঁর ভাষায়, যদি তারা সত্যিই মনে করেন যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব, তাহলে তারা ‘বিশ্ব সম্পর্কে কিছুই না জানা মূর্খ’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
তিনি আরও বলেন, আইএইএ ও পশ্চিমা দেশগুলো নিয়মিত বৈঠক করে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের কথা বললেও এসব আলোচনা দেশটির অবস্থান বা পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কিম ইয়ো-জং দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের অবস্থান শারীরিক ও আইনগতভাবে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আইএইএর সাধারণ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি, যাচাইযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগের আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির নেতৃত্ব পারমাণবিক অস্ত্রকে নিজেদের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তুলে ধরে আসছে।
এদিকে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাবে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টির মধ্যে হতে পারে। তথ্যসূত্র: এএফপি, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে একটি নতুন ও জটিল সমীকরণ উন্মোচিত হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও সামরিক তৎপরতা মোকাবিলায় সউদী আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে পর্দার অন্তরালে কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই গোপন আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হুথিদের বিরুদ্ধে যৌথ স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা।
আঞ্চলিক কূটনীতিক ও সংবাদসূত্রের বরাতে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরুজালেম পোস্ট ও আমেরিকার বেশ কয়েকটি মূলধারার সংবাদমাধ্যম এই গোপন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দাবি করা হয়েছে, হুথিদের সামরিক অবস্থান, ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং চলাচলের সুনির্দিষ্ট তথ্য রিয়াদকে সরবরাহ করছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে হরমোজ প্রণালী ও লোহিত সাগর এলাকায় ইরানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের উন্নত ড্রোন ও প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই এখন সউদী আরবকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ২.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বেলজিয়ান ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক এলাইজা ম্যাগনেইর মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেন বা এই অঞ্চলে সরাসরি বড় কোনো যুদ্ধে না জড়িয়ে, ইসরায়েলের মাধ্যমে পক্সি পদ্ধতিতে সউদী আরবকে সুরক্ষা ও কৌশলগত অস্ত্র দিতে চায়। সউদী আরব নিজেরাই সরাসরি মার্কিন অস্ত্র নেওয়ার বদলে ইসরায়েলি কাঠামোর সাহায্য চাইছে, যাতে এসব অস্ত্র ইরান এবং হুথিদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।
সম্প্রতি সউদী আরবের বেশ কয়েকটি তেল পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশনে হুথিরা সফল ড্রোন হামলা চালায়। এ ছাড়া ইয়েমেন সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের সামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক অবস্থানও লক্ষ্যবস্তু হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সউদী সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হুথিরা ড্রোন ছুড়ে পবিত্র নগরী মক্কায় হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। তবে, সউদী কর্তৃপক্ষ এই গুরুতর দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ তুলে ধরেনি।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য হিজাম আল আসাদ ও মোহাম্মদ আল বুখাইতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্পষ্ট করে বলেন, "কাবার প্রতিটি ধূলিকণা ইয়েমেনিদের কাছে পরম পবিত্র এবং ইয়েমেনিরাই যুগে যুগে বায়তুল্লাহর প্রকৃত রক্ষক। ইয়েমেনি বাহিনীর লড়াই কেবল সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি, তেল পরিকাঠামো ও অবৈধ অবরোধের বিরুদ্ধে; মক্কা বা কোনো পবিত্র স্থান তাদের লক্ষ্যবস্তু নয়।"
সানার প্রধান বিমানবন্দর ধ্বংস ও মানবিক অবরুদ্ধতার জবাব দিতেই কেবল রিয়াদ ও সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সুনির্দিষ্ট নিশানায় হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে হুথিরা।
বিখ্যাত মার্কিন ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মেয়ারশাইমার তার বিশ্লেষণে জানান, সউদী আরব একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ বা 'গল্প' তৈরি করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলিম বিশ্বের সহানুভূতি অর্জন করা এবং সাধারণ মুসলিম দেশগুলোকে ইরান ও ইয়েমেনের বিরুদ্ধে একজোট করা।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক মারান্ডির মতে, মক্কায় হামলার এই প্রচারণা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। সম্ভবত ইসরায়েলি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বিশেষজ্ঞরাই রিয়াদকে এ ধরনের ভুয়া গল্প প্রচারের পরামর্শ দিয়েছে, যাতে হুথিদের আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা যায়।
হুথি নেতৃবৃন্দ মনে করিয়ে দেন যে, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আমলেও ইয়েমেনি জাতি কাবার সুরক্ষায় অগ্রগামী ছিল। ইসলামিক ইতিহাসের সূত্রে ইয়েমেনিদের বিশেষ মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়: সহীহ বুখারীর ৪৩৯০ নম্বর হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন- "তোমাদের কাছে ইয়েমেনের লোক এসেছে, তারা নরম দিল ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী। ঈমান হলো ইয়েমেনি এবং প্রজ্ঞা হলো ইয়েমেনি।"
রাসূল (সা.)-এর বিশেষ দোয়া: সহীহ বুখারীর ৭০৯৪ নম্বর হাদিসে উল্লেখ আছে, মহানবী (সা.) কাবার আঙিনায় দাঁড়িয়ে দোয়া করেছিলেন- "হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দিন, আমাদের ইয়েমেনে বরকত দিন।"
পবিত্র কুরআনের সূরা সাবা (আয়াত ১৫) এবং সূরা বুরুজে (আয়াত ৪-৭) ইয়েমেনের সাবা জনপদ ও নাজরানের অটল ঈমানদার অধিবাসীদের ঐতিহাসিক ঈমানী দৃঢ়তার প্রশংসা করা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেল ও সামরিক স্থাপনায় ইয়েমেনি মিসাইল ও ড্রোনের চরম চাপের মুখে পড়েই মূলত মক্কায় হামলার এই রাজনৈতিক গল্প সামনে আনা হয়েছে। একদিকে সৌদি রাজতন্ত্র ধর্মীয় আবেগকে কৌশলগত ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহীরা ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংযোগ তুলে ধরে প্রমাণ করছে যে, এটি তাদের সংঘাত থেকে বিশ্বজনমতের দৃষ্টি সরানোর একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক ও সামরিক ফন্দি মাত্র।
বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের প্রাথমিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়েছে। অনেক মধ্যবর্তী অস্ত্রাগার ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যবহৃত হওয়ায় আমেরিকা এখন বাধ্য হয়ে ইসরায়েলের মাধ্যমে নতুন অস্ত্র বিন্যাস করছে এবং রিয়াদকে সামরিক তথ্য দিয়ে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া সহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধের লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি আয়োজন করেছে জেলা যুবদল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এই কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয় পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে। কর্মসূচির আওতায় সড়ক ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ কর্মসূচিতে জেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করেন।
এ সময় যুবদলের নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেন, "ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধুমাত্র মশক নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।" বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা এবং নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তারা।
তারা আরও উল্লেখ করেন, মশাবাহিত রোগের প্রকোপ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
কর্মসূচিতে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ