ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টেকনাফে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ৩ রোহিঙ্গা মাদক কারবারি গ্রেফতার


টেকনাফে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ৩ রোহিঙ্গা মাদক কারবারি গ্রেফতার

কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজন রোহিঙ্গা মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫। অভিযানের সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং একটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে টেকনাফ থানাধীন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশখালী পাড়া, মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পুরুল্লার ঘাট এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়।

এসআরবি-১৫-এর সূত্রে জানা যায়, সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, মহেশখালী পাড়া পুরুল্লার ঘাটসংলগ্ন এলাকায় কিছু মাদক কারবারি ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ২টার দিকে এসআরবি-১৫-এর একটি দল সেখানে অভিযান শুরু করে।

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি

অভিযান চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু মাদক কারবারি পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের তল্লাশি করে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-১৭-এর ইমাম হোসেন (৪৫), বালুখালী ক্যাম্প-১৮-এর নূর আলম (২৭) এবং একই ক্যাম্পের জম মুল্লোক (৫০)।

এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের জন্য উদ্ধার করা ইয়াবা ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মাদক নির্মূলে এসআরবি-১৫-এর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের খোসা থেকে তৈরি হচ্ছে 'ম্যাংগো পিল টি'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী অঞ্চলে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি, নাহলে স্থানীয় নির্বাচনে বড় খেসারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


রাজশাহী অঞ্চলে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি, নাহলে স্থানীয় নির্বাচনে বড় খেসারত

রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান বেহালদশা আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংস্কারের জরুরী তাগিদ এসেছে পর্যবেক্ষক মহলের কাছ থেকে। বিগত বর্ষায় রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগজ্ঞ, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ এলাকার আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত অনেক সময় ডোবায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ না হওয়ায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে ইট-সুরকি বের হয়ে গেছে।

রাস্তাঘাটের বেহালদশার মুলে রয়েছে অতিরিক্ত মালামালবাহী ভারী ট্রাক ও যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্বল ও পুরনো রাস্তাগুলো দ্রুত ভেঙে পড়ছে। এসব রাস্তা গুলি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংস্কারসহ দলীয় বিরোধ, বড় ভাই, ওমুক তমুক ভাই বলয়, লবিং গ্রুপিং নিরসন করাও ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ডকে ভেবে দেখতে হবে বলে মতামত উঠে এসেছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, কৃষকের সার সংকট, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজী, দখলবাজি, খাসপুকুর, জমি, বালুঘাটের দখল খাদ্যগুদাম, সাব-রেজিস্টি, ভূমি অফিস, মাদক সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে এর মাসুল কড়াই গন্ডায় দিতে হবে বিএনপিক বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

এদিকে রাস্তার বেহালদশার কারণে মালামালের পরিবহন খরচ ও সময় বৃদ্ধি হচ্ছে। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে গাড়ি চলে খুব ধীর গতিতে। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় ও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। কৃষি ও ব্যবসার ক্ষতির কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে শাকসবজি ও কৃষিপণ্য অন্যান্য শহরে নেওয়ার সময় নষ্ট হয়ে পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে। রাস্তার খানাখন্দের কারণে প্রায়শই অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল উল্টে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

রাজশাহীর ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত রাজশাহী ১ এ আসনটি গোদাগাড়ী ও তানোর উপজলা নিয়ে গঠিত। অতীতে এ আসন থেকে হেবিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচন করেছেন। মরহুম ব্যারিষ্টার আমিনুল হক নির্বাচন করে জয়ী হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী, সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী সর্বশেষ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী পালন করে নির্বাচনী এলাকায় রাস্তা, বাঁধ, ব্রিজ, কালভাট, পদ্মা নদীর ধার বাধানো, নতুন নতুন স্কুল - কলেজ - মাদ্রাসা তৈরী করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবণ নির্মান, গোদাগাড়ী, কাঁকনহাট, তানোর ও মুণ্ডমালাকে পৌরসভায় উন্নতিকরার মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিলেন। গোদাগাড়ী তানোরের মাটি ব্যারিষ্টার আমিনুল হকের ঘাটি তথা বিএনপির ঘাঁটি। এখানে নির্বাচন করেছেন সাবেক আইজিপি মরহুম ড. এনামুল হকের ভাই প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সামরিক সচিব বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিন, চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহি জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এবার সামান্য ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের নায়েবে আমিরের কাছে পরাজিত হন মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিন।

এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান নির্বাচনী এলাকায় নেতা, কর্মীদের কোন কোন প্রোগ্রাম করছেন, প্রশাসনের সঙ্গে, শিক্ষকদের সঙ্গে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন। মসজিদে মসজিদে গিয়ে ইমামতির পাশাপাশি মুসাল্লীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করছেন। অবহেলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা, বাঁধ, ব্রিজ পরিদর্শন করছেন সংস্কারমূলক কাজ করে দেয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় প্রকল্প গোদাগাড়ীতে ৪ হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজটি সরজমিনে পর্যবেক্ষনে রেখেছেন নেতা, কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রাজশাহী ১ আসনের সংসদ, জামায়াতের নায়েবী আমীর অধ্যাপক মোঃ মুজিবুর রহমান। সম্প্রতি এটি পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, "বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক উদ্যোগ।" স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, "প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল জনবল প্রদানে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।" জনস্বার্থে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। কিন্তু সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্যারিষ্টার আমিনুল হকের সময়ের মত তড়িৎ কাজ পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। গোদাগাড়ী - তানোরের মানুষ ব্যারিষ্টার আমিনুল হকের মত উন্নয়ন চান। এদিকে পদ্মানদীর ভাঙ্গন, বাঁধের ক্ষতি, রাস্তার বেহালদশা, সার, বিদ্যুৎ, জ্বালানী তেল সংকট ও দাম বৃদ্ধি, বালি উত্তোলন, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাজি, খাসপুর, বিএনপির দলীয় কোন্দল এসব কিছু নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, যা আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে, যার মাসুল কড়াই গন্ডায় দিতে বলে সচেতন মহল মনে করেন। সময় থাকতে বিএনপির হাই কমান্ডাকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

পদ্মা ও মহানন্দা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছেন গোদাগাড়ী পৌরসভা ও চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের মানুষ। তারা কোন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তাদের টিনেরচালা, টিন, বাঁশ, খুটি, গরু, খাট, চেয়ার টেবিল, ছাগল হাঁসমুরগিসহ আসবাবপত্র নিয়ে বরেন্দ্রভূমিতে আশ্রায় নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিএন্ডবি থেকে আচুয়া তালতলা পর্যন্ত রাস্তার অবস্থাও শোচনীয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অদক্ষতার কারণে মাঝে মাঝে ড্রেন পরিষ্কারের নামে পচা মাটি ও আবর্জনা রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়। ফলে দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাচলে কষ্ট হয়। সম্প্রতি এ রাস্তা পরিদর্শন করেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। গর্ভবর্তী নারী, রোগী, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এছাড়া ভারী বৃষ্টিতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গোদাগাড়ীর স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার বেহাল দশা ও জনদুর্ভোগের কথা বলে শেষ করা যাবে না। গত ১৫ বছর ধরে রাস্তাগুলো এভাবেই পড়ে আছে, দেখার কেউ নেই। ডাইংপাড়া থেকে ১০ টাকার রিকশাভাড়ার জায়গায় ৪০-৫০ টাকা দিতে চাইলেও চালকরা আসতে চান না, পা ধরতে হয়। বালু ব্যবসা ও ভারী যানবাহনের চলাচলের পর থেকেই রাস্তার এই দুরবস্থা শুরু হয়েছে। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সারাংপুর গোরস্থানসহ বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পিচ-খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে কাদা ও পানি জমে স্লিপ করে পথচারীরা পড়ে যাচ্ছেন এবং প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

উপজেলার ৪ নম্বর রিশিকুল ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামের সড়কেও সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। রাস্তার পাশে কোনো ড্রেন না থাকায় চব্বিশনগর থেকে মরমড়িয়া যাওয়ার ১০০ ফুট রাস্তায় এই পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে এই অবস্থা চললেও কোনো জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতা এর কোনো সমাধান করেননি। মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও রাস্তাও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোহেল রানার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের তুলশিপুর গ্রামের একটি রাস্তার এতটাই খারাপ অবস্থা যে গত দুই মাস ধরে সেখানে কোনো ধরনের যানবাহন তো বটেই, মানুষ পায়ে হেঁটেও পার হতে পারছে না। এর প্রতিবাদ হিসেবে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী রাস্তার মাঝেই ধানের চারা রোপণ করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসলাম সরকারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে গোদাগাড়ী পৌরসভার প্রকৌশলী ও সচিবের দায়িত্বে থাকা সাওয়ার জাহান মুকুলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে এবং বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের গোপালপুর মোড় থেকে পিরিজপুর পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বর্তমানে যানবাহন ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গোপালপুর মোড় থেকে পিরিজপুর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে ইটের খোয়া বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও আবার সড়কের ওপরের অংশ ভেঙে বড় বড় গর্ত ও উঁচু-নিচু অংশের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ধীরগতিতে ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ধীরে ধীরে এর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সড়কের ভাঙাচোরা অংশে পানি জমে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। পানি জমে থাকার কারণে অনেক সময় গর্ত ও ভাঙা অংশ সহজে বোঝা যায় না। এতে পথচারী ও যানবাহন চালকদের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় চলাচল করতে হয়।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যও এ পথ দিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে নেওয়া হয়। সড়কের বেহাল দশার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকা বাসীর বলেন, গোপালপুর মোড় থেকে পিরিজপুর সড়কটি এখন চলাচলের জন্য যেন এক মরণফাঁদ।

এ দিকে রাজশাহীর তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তানোর থেকে মোহনপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বিশেষ করে কাশেম বাজার থেকে মোহনপুর থানার গেট পর্যন্ত সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এর মধ্যে মোহনপুর উপজেলার পোল্লাকুড়ি গ্রামের মসজিদ থেকে পূর্ব দিকে সড়কের একটি অংশে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় ট্যুর খুঁজুন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তানোর-বায়া সড়কের নির্মাণকাজ চলায় তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং ও ইট-সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে যেভাবে পানি জমে তাতে মনে হয় মাছ চাষ করার ডোবা।

এছাড়া সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কের গর্তগুলো পানির নিচে ঢাকা পড়ে। এতে পথচারী ও যানবাহনের চালকদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে রিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙাচোরা এ সড়কে হেলেদুলে চলায় প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ঝাঁকুনিতে যানবাহন থেকে পড়ে যাচ্ছে কাঁচামাল, ভেঙে যাচ্ছে পণ্য। বাজারে ও শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটিই বেড়েছে। এ ছাড়া রোগীরাও সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন এ সড়কটি দীর্ঘদিন আগে প্রায় ১২ ফুট প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হলেও পরে আর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত বা সংস্কার করা হয়নি। বিকল্প ভালো সড়ক না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত করতে হবে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগ দ্রুত সরেজমিনে সড়কটির অবস্থা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে। রাজশাহী ১ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, রাস্তা, পদ্মা নদীর ভাঙ্গন, বাঁধ সংস্কারের ব্যপারে বলেন, ৫ বছরের জন্য ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় ১৬ ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভায় এমপির বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে সমহারে কাজ হবে ইনশাল্লাহ। এতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় আধা কিলোমিটার রাস্তা হয় সেটা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে।

উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিবদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। উনারা আশ্বাস দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর এমপি বুলবুলের এলাকায় ৭/৮ কিলোমিটার ও আমাদের চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন ও গোদাগাড়ী পৌরসভার এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার পদ্মানদীর তীরে বাঁধ নির্মানের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। ইনশাল্লাহ অচিরে হয়ে যাবে। এছাড়া কোন অংশ ফাঁকা না রেখে একদিক বাঁধ নির্মানের পরামার্শ দিয়েছি যে ফাঁকা অংশ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নির্মিত বাঁধের ক্ষতি না হয়।

এলজিইডি, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশালী মোঃ আবুল কালাম মোল্লার (মোবাইল নং ০১৭১৬৩৭৪৫৩২ নম্বরে) যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ না করাই বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয় নি। এসব রাস্তাগুলির ব্যপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরিন ঝিনুক বলেন, "এ বিষয়ে কেউ আমাকে অবহিত করেনি। খোঁজ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।" খোঁজ নিয়ে রাস্তা গুলি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদরাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভ, অধ্যক্ষের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


মাদরাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভ, অধ্যক্ষের পদত্যাগ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটের রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসায় চারটি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান পদত্যাগপত্রে সই করেছেন।

রবিবার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদরাসা মাঠে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির বক্তারা মাদরাসার চারটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানান। তারা নিয়োগ পরীক্ষা মাদরাসায় আয়োজনের পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার মানবণ্টনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশের দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদরাসাটিতে ল্যাব সহকারী, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদে নিয়োগের জন্য ৫০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে তাদের দাবি। তারা এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।

মানববন্ধনে বক্তারা মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত বা পুনর্গঠনের দাবি জানান। তারা বর্তমান কমিটির কোনো সদস্যকে ভবিষ্যতে কমিটিতে না রাখার দাবিও তোলেন।

বিক্ষোভ চলাকালে নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মাদরাসার শিক্ষক প্রতিনিধি মিজানুর রহমান সাজুর ওপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে তাদের দাবির মুখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান পদত্যাগপত্র জমা দেন।

তবে নিয়োগ বাণিজ্যের পাঁয়তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে মাদরাসা পরিচালনা কমিটি তা গ্রহণ করেনি। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারীদের সম্মুখে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্রে সই করেছেন তিনি।

মানববন্ধনে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. মাইদুল ইসলাম, বিদ্যুৎসাহী সদস্য মো. দুলাল সরকার, প্রাক্তন ছাত্র সালমান ফারসিসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি সুজনের ঢামেকে মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি সুজনের ঢামেকে মৃত্যু

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) বন্দি এক কয়েদী, যিনি সুজন (৪৬) নামে পরিচিত, ঢামেক হাসপাতালে মারা গেছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গোড়ই গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র।

রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকালে, কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. সেলিম হোসেন জানান, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারখানার বর্জ্যে দূষিত টঙ্গী খাল, খালপারের বাসিন্দাদের দুর্বিসহ জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


কারখানার বর্জ্যে দূষিত টঙ্গী খাল, খালপারের বাসিন্দাদের দুর্বিসহ জীবন

শিল্প অধ্যুষিত এলাকা গাজীপুর ও টঙ্গীর বিভিন্ন শিল্প কারখানার বর্জ্য টঙ্গী খাল দিয়ে তুরাগ ও বালু নদীতে পড়ছে। খালের পানি কারখানা ও বাসাবাড়ির অপরিশোধিত বর্জ্য বহন করে নদীতে যাচ্ছে। এর ফলে নদী-খালপারের মানুষ দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) পর্যন্ত গত তিন দিন ধরে তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ও টঙ্গী খালপাড় এলাকা ঘুরে সেখানকার মারাত্মক দূষণ দৃশ্যমান হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের গাছা থেকে সৃষ্ট টঙ্গী খাল টঙ্গীর বনমালা হয়ে তুরাগ ও বালু নদে মিশেছে। খালের দুই পারের শত শত বাসিন্দা বাধ্য হয়ে দুর্বিসহ পরিবেশে বসবাস করছেন। দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের কারণে সারা বছরই তারা শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন।

খালপারের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, দুর্গন্ধময় পরিবেশের কারণে তাদের ছোটখাটো পারিবারিক অনুষ্ঠানও অন্য কোনো এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে করতে হয়। খালপারের কোনো বাসায় অনেকে বেড়াতে এমনকি দরকারি কাজেও আসতে চায় না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর দুই শতাধিকসহ গাজীপুরের প্রায় সাত হাজার ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য যে খাল বা নদীতেই পড়ুক না কেন, তা ঘুরে ফিরে টঙ্গী খাল এবং তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীতেই পড়ে। ফলে নদী-খালের পানি দূষণের প্রভাব এই এলাকায় বেশি।

শিল্পাঞ্চলগুলোর পানি পরীক্ষা করে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি মাত্রায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি দেখা গেছে। সেখানকার পানি খুবই অ্যাসিডিক। একসময় যেসব জলাশয় স্থানীয় মানুষের জীবিকার উৎস ছিল, তা এখন তাদের স্বাস্থ্য ও জীবনধারণের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিন টঙ্গী খাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ময়লা-আবর্জনায় পচে পানি কুচকুচে কালো রং ধারণ করেছে।

স্থানীয়দের মতে, ১৯৯০-এর দশক থেকে গাজীপুরজুড়ে শিল্পকারখানা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। বর্তমানে দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

বনমালা খালপাড়ের চা বিক্রেতা ইমাম উদ্দিন (৭৫) বলেন, ‘আগে আমরা এই খালে মাছ ধরতাম। এখন মাছ নেই, বিষাক্ত গন্ধে মাছ তো মরছেই, আমরাও অসুস্থ হয়ে যাই। তাই খালে গোসলও করতে যাই না।’

শুকুন্দিবাগের সোহেল রানা (৫৬) বলেন, ‘এই খালে একসময় ধান চাষ করতাম। কিন্তু এই পানির কারণে এখন আর আবাদ করতে পারি না। বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করে দিয়েছি।’

খালপারের বাসিন্দারা বলছেন, দুর্গন্ধময় পরিবেশের কারণে তারা অনেকটা একাকী হয়ে যাচ্ছেন। আগের মতো আত্মীয়-স্বজনও এখন আসে না। ছোটখাটো অনুষ্ঠান অন্য জায়গায় হয়। সব ঠিকঠাক হওয়ার পর বিয়েও ভেঙে যাচ্ছে।

খালপাড়ের বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, 'আমাদের এলাকায় কেউ বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে এলেও পরে অন্য কোনো বিকল্প পেলে বিয়ে ভেঙে দেয়। অনেক সময় আমরা এই দূষণের গল্প চেপে যাওয়ার চেষ্টা করি এবং চুপচাপ বিয়ের আয়োজন করি। প্রয়োজনে অন্য জায়গায় বিয়ের অনুষ্ঠান করি।

ভয়াবহ পরিবেশ দূষণে অতিষ্ঠ জীবনের এই গল্প টঙ্গী খালপারের হাজীপাড়া, টেকপাড়া, গোজারিয়ার টেক, দিলারটেক, নিমতলী, মাজুখান, বনমালা এবং নিমতলী ও হায়দরাবাদ বিলের বাসিন্দাদের।

এদিকে, দুর্গন্ধের চেয়েও ভুক্তভোগীদের কাছে বড় সংকট বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, এই দুর্গন্ধ রাসায়নিক দূষণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। কিছু রাসায়নিক পদার্থ পানি থেকে বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মেশে, যা এলাকায় বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ধাতু ও টিন ক্ষয়ে যাওয়ার পেছনেও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে।

এই গবেষক বলেন, 'ওয়াশিং প্ল্যান্টগুলোতে সেখানকার লোকজন ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করেন। এতে ক্লোরিন থাকে। এছাড়া অন্যান্য রাসায়নিকের মধ্যে সালফার থাকে। এই রাসায়নিকগুলো ধাতুতে মরচে ও ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে।'

নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনির হোসেনের মতে, এই দূষণের বড় একটি অংশ পোশাক কারখানার ওয়াশিং প্ল্যান্ট, ওষুধ কারখানা ও রাসায়নিক শিল্পের অপরিশোধিত বা অপর্যাপ্ত পরিশোধিত বর্জ্য থেকে আসছে। ওয়াশিং প্ল্যান্টগুলোতে কস্টিক সোডা, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট এবং সালফারভিত্তিক উপাদান যেমন সোডিয়াম মেটাবাইসালফাইট ব্যবহার করা হয়।

এগুলোর মাত্রা ও পরিশোধনের ধরনের ওপর নির্ভর করে রাসায়নিকগুলো বর্জ্য পানির গুণাগুণ বদলে দেয় এবং জলজ জীবন ও মানবস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে।

শিল্পাঞ্চলের আশপাশের এলাকা এবং তুরাগ নদীর উপরিভাগের পানি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাতে সীসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, নিকেল এবং আয়রনের মাত্রা বাংলাদেশ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডের চেয়ে অনেক বেশি। কিছু পানির নমুনায় পিএইচ-এর মাত্রা পাওয়া গেছে ২ থেকে ৪, যা এর অতিরিক্ত অ্যাসিডিক বা অম্লীয় অবস্থার কথা জানায়।

পিএইচ স্কেল ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিশুদ্ধ পানির পিএইচ মাত্রা ৭; আর এর নিচে হলে তা অ্যাসিডিক হিসেবে ধরা হয়।

২০২৫ সালে 'সায়েন্স ডিরেক্ট'-এ প্রকাশিত 'গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের পানির ভারী ধাতুজনিত দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন' শীর্ষক গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিজবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এ এইচ এম সেলিম বলেন, গাজীপুরের কিছু স্থানে দ্রবীভূত আয়রনের পরিমাণ নিরাপদ সীমার পাঁচ গুণ, সীসা ৩০ গুণ, ক্রোমিয়াম পাঁচ গুণ এবং নিকেল ছয় গুণ পাওয়া গেছে।

গবেষণার ফলে অনুযায়ী, এই পানি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। নিরাপদ সীমার চেয়ে অতিরিক্ত ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতির কারণে এটি প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের জন্য ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

এসব বিষয়ে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল কালের কণ্ঠকে বলেন, গাজীপুর জেলায় প্রায় সাত হাজার শিল্প কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত ৬৮৮ কারখানায় বর্জ্য পরিশোধনে ইটিপি থাকা সত্ত্বেও তারা অপরিশোধিত তরল বর্জ্য বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এসব কারখানা তদারকির দায়িত্বে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে পরিদর্শক রয়েছেন মাত্র তিনজন। পরিদর্শকসহ মোট কর্মকর্তা-কর্মচারী পাঁচজন।

উপপরিচালক বলেন, 'এখানে যদি ৫০ জন পরিদর্শকও দেওয়া হয়, তাহলেও এতগুলো শিল্পকারখানা তদারকি করা সম্ভব নয়।' তিনি বলেন, 'শুধু শিল্প কারখানাকে এককভাবে দোষ দেওয়া যায় না, কারণ জেলার বহু বাসাবাড়ির পয়োনিষ্কাশন লাইনও সরাসরি খাল ও নদীতে যুক্ত হয়েছে।'

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং উইং গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, লোকবল সংকট সত্ত্বেও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে তুরাগ নদী দূষণের দায়ে ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে তিন কোটি ২৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত দুই কোটি ৯ লাখ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%