সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৪০ পি.এম
রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকায় জমি বিক্রির সাথে সম্পর্কিত ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উত্তরা পূর্ব থানা ছাত্রদলের সভাপতি এম সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে বিশেষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (এসআরবি) তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সাজ্জাদকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দক্ষিণখান থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার বাদী শামীমা আক্তার ডালিয়া তার এজাহারে উল্লেখ করেন, ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে দক্ষিণখান থানার সামনে তাদের নিজস্ব জমি বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়। এর অংশ হিসেবে জমিটির উপর একটি বিক্রয় বিজ্ঞপ্তি সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। কিন্তু সাইনবোর্ড স্থাপনের পরপরই মোকলেছুর রহমান এবং এম সাজ্জাদ হোসেন জমির মালিকের কাছে গিয়ে দশ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে জমি বিক্রিতে বাধা দেওয়ার এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শামীমা আক্তার ডালিয়া ১৯ অক্টোবর দক্ষিণখান থানায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- মোকলেছুর রহমান, আল আমিন হোসেন শান্ত, সুমন, রনি, পলাশ, রায়হান, নাজমুল হাসান শুভ, শামিম, সিফাত, রায়হান, পাপাই, আহাদ, রকি, সামির, তুষার, তুহিন, নাঈম, পরভেজ, দিপু, নাহিদ, সজিব ও সুমন।
এসআরবি অভিযান চালিয়ে মামলার দ্বিতীয় আসামি সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফইমউদ্দিন জানান, সুনির্দিষ্ট চাঁদাবাজির মামলার ভিত্তিতে সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি বলেন, রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে মামলার এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। পরে আমাদের জানানো হলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিস্থিতির অবনতির কারণে এবং ভঙ্গুর স্থিতিশীলতার মধ্যে ইয়েমেনের হুত্থিরা সউদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং বড় শহরগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি করছে। এর ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে, সউদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার কারণ কী? হুত্থিরা তাদের হামলাকে সউদি হস্তক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে সউদি সামরিক আগ্রাসনে ৪ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং জাতীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের সউদি হস্তক্ষেপ। হুত্থিদের দাবি, সউদি সামরিক হস্তক্ষেপ, এর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা এবং ইয়েমেনের নৌ ও বিমানবন্দরগুলোর ওপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা ইয়েমেনের মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সীমান্তপারের বড় ধরনের হামলা অনেকাংশে বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু হুত্থি সমর্থক ইরানের বিরুদ্ধে সউদি মিত্র আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ, ইয়েমেনের ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অমিমাংসিত পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সেপ্টেম্বরে হুত্থিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করে এবং বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি কৌশলগত অবস্থান দখল করে। এর প্রতিক্রিয়ায় সউদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনে রিয়াদের সম্পৃক্ততার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যয় বাড়ানো হুত্থিদের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তাদের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সানা ও উত্তর ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, ভবিষ্যৎ সরকারে নির্ধারক ভূমিকা নিশ্চিত করা, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর পুনরায় চালু করা, বিদেশি সামরিক চাপ কমানো এবং বাব আল-মান্দাবের কাছে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা।
হুত্থিরা কি ইরানের হয়ে কাজ করছে, নাকি নিজেদের লক্ষ্য অনুসরণ করছে? এই দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হুত্থিদের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের মাত্রা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইরান তাদের অস্ত্রপ্রযুক্তি, সামরিক দক্ষতা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করেছে। এর ফলে হুতিরা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে, রয়টার্স চলতি মাসে জানিয়েছে, ইয়েমেনের ওপর নিষেধাজ্ঞাতে ছাড় আদায় এবং ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ওয়াশিংটনকে রাজি করানোর জন্য সউদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওপর চাপ সৃষ্টি করাও এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য।
১৯৯০-এর দশকে উত্তর ইয়েমেনে হুত্থিদের এই আন্দোলনের উত্থান ঘটে এবং ২০১৪ সালে তারা সানা দখল করে। তাদের উচ্চাকাঙ্খার পেছনে রয়েছে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ক্ষমতা, ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃতি নিয়ে লড়াই। বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও নৌপথে হামলার উদ্দেশ্য কী? সামরিকভাবে শক্তিশালী সউদি আরবের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করার জন্য হুত্থিরা অর্থনৈতিকভাবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলছে। তারা সামরিক অভিযান ও বিধিনিষেধের জবাব হিসেবে এই চাপ সৃষ্টির যুক্তি তুলে ধরেছে, যার মাধ্যমে দেশটির বিমানবন্দর, পাইপলাইন, শোধনাগার ও জাহাজ চলাচলের টার্মিনালে হামলা হলে বিমান চলাচল ব্যাহত হতে পারে, নিরাপত্তা ব্যয় বাড়তে পারে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়াতে পারে এবং জ্বালানি রপ্তানি হুমকির মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ সংঘাতের গতিপথ কীভাবে বদলে দিয়েছে? হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সউদি আরব পশ্চিমাঞ্চলের তেল অবকাঠামো এবং লোহিত সাগর দিয়ে রপ্তানির পথের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ইয়ানবুর কাছের স্থাপনাগুলোও রয়েছে।
এসব পথে হুমকি সৃষ্টি হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি জটিল হয়ে উঠতে পারে, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ইরানের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়তে পারে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে। বাব আল-মান্দাব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এএফপি জানিয়েছে, গত মাসে দ্রুতগতির অভিযানে হুত্থিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল দখল করে। বাব আল-মান্দাব ও হরমুজ প্রণালি, উভয় পথেই চলাচল ব্যাহত হলে তেলবাহী জাহাজের বিমা প্রিমিয়াম, পণ্য পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে।
কীভাবে সংঘাতের অবসান হতে পারে? হুত্থিরা ইয়েমেনের রাজনৈতিক স্বীকৃতি এবং বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ কমানোর দাবিতে লড়ছে, যদিও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু সামরিক প্রতিরোধ যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়েমেনের জনগণের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও মানবিক চাহিদার সমাধানকে প্রাধান্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা পরস্পর প্রতিশোধমূলক হামলার ক্রমবর্ধমান চক্রের চেয়ে অধিক স্থায়ী পথ।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ, উইকিপিডিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কন্যাশিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিশেষ অবদানের জন্য গুড নেইবারস বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ে ৫ জন আদর্শ বাবাকে সম্মাননা প্রদান করেছে।
এ সম্মাননা সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল গুড ড্যাডি ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এ প্রদান করা হয়।
‘মেয়েদের পাশে পিতারা : শিক্ষায় হ্যাঁ, বাল্যবিবাহে না’ এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গুড নেইবারস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কান্ট্রি হেড বার্টিন গোমেজ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ইফাত আরা পারভীন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি ও চাইল্ড প্রোটেকশন বিভাগের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর জামাল উদ্দিন, এবং ফুড ফর দ্য হাংরি বাংলাদেশের প্রোডাক্টিভ লার্নিং স্পেশালিস্ট নুসরাত বিনতে হায়দার।
বার্টিন গোমেজ তার সভাপতির বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মেয়েদের স্বপ্নপূরণে বাবাদের আন্তরিক সহযোগিতা, সচেতন সিদ্ধান্ত এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কন্যাশিশুর শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং তার নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবারের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে গুড ড্যাডি অ্যাওয়ার্ডের ঘোষণা দেন সংস্থাটির হেড অব প্রোগ্রাম আনন্দ কুমার দাস। বিভিন্ন কমিউনিটির নির্বাচিত পিতা ও তাদের কন্যারা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে গুড ড্যাডি ক্যাম্পেইনের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শপথ পাঠ এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কন্যাশিশুদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী পিতারা তাদের কন্যাদের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো, ইতিবাচক অভিভাবকত্বের চর্চা সম্প্রসারণ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করতে ‘গুড ড্যাডি নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বক্তারা কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, কমিউনিটি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গুড নেইবারস বাংলাদেশ ২০১৬ সাল থেকে আদর্শ পিতাদের সম্মাননা দিয়ে আসছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ২৯৬ জন বাবাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। ইতিবাচক অভিভাবকত্বের চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া এবং কন্যাশিশুর শিক্ষার প্রসারে অন্য অভিভাবকদের উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে। তবে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হলেও রাকসুর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর বিধান না থাকায় আজই বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর কথা নেই। সে জন্য আজই রাকসুর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। রাকসু ৩৫ বছর পর হয়েছে, আমরাও চাই রাকসু হোক। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তখনই এর আয়োজন করা হবে।’
গত বছরের ১৬ অক্টোবর ৩৫ বছর পর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সহসভাপতি (ভিপি) ও সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২০টি পদে জয়ী হয়। হল সংসদগুলোর শীর্ষ পদগুলোতেও এই প্যানেলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। নির্বাচনের ১০ দিন পর ২৬ অক্টোবর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।
১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র সংসদ। সামরিক শাসনের কারণে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে ১৯৬২ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘রাকসু’ করা হয়। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর রাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচনের সময়সূচি বা প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরিফ আলভি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের মেয়াদ আজ শেষ হলো। অথচ পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো আপডেট নেই। এ নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাকসু কোনো দয়া বা দান নয়, এটা আমাদের অধিকার। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই রাকসু চাই। অন্যথায় রাজপথে দেখা হবে। আমাদের অধিকার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।’
রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, আমাদের সফলতা কেবল আমরা কী করতে পেরেছি বা কী করতে পারিনি, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসুকে বাস্তবে রূপ দিতে পারা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বাকি খাওয়া কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঊর্ধ্বে থেকে মেয়াদ শেষ করতে পারাটাই আমাদের আসল সফলতা বলে মনে করি। দীর্ঘদিন পর রাকসুর যাত্রা শুরু হওয়ায় পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার অভাবে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে আমরা যা করেছি, তা থেকে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে বলেই বিশ্বাস করি।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী রাকসু নির্বাচন ও নতুন সংসদের পথ সুগম করতে আমরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছি। সর্বশেষ অধিবেশনে বর্তমান কোষাধ্যক্ষ স্যারকে গঠনতন্ত্র সংস্কার, নির্বাচনী তফসিল প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ভিসি স্যার আমাদের জানিয়েছেন যে পরবর্তী নির্বাচন তিনি দিবেন। কিন্তু কার্যকরী সিদ্ধান্ত বা কোন পদক্ষেপ আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি না। এজন্য আমাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে যে আসলেই নির্বাচন উনি নিরপেক্ষভাবে, স্বতন্ত্রভাবে দিবে না কি সরকারের গ্রীন সিগনালের অপেক্ষায় থাকবে। এটা ভাবার বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি রাজনৈতিক দলের বিরোধী অবস্থানে থাকা কালীন যদি তারা একজন মৃত মানুষের মর্যাদা, তার দাফনের অধিকার এবং তার পরিবারের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কতটুকু সুরক্ষিত থাকবে—এটি কি প্রশ্ন তোলা অন্যায়? বরং এটি বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের বিবেকের প্রশ্ন।
রাজনীতি শুধুমাত্র ক্ষমতা দখল নয়; বরং রাজনীতি মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং ভিন্নমতের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়। যে রাজনৈতিক দল বিরোধী দলে থেকেও মানুষের প্রতি সহনশীলতা, উদারতা ও ন্যায়বিচারের পরিচয় দিতে পারে না, সেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কেমন আচরণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে আমাদের স্পষ্ট প্রশ্ন—মানবিক অধিকার কি শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের জন্য, নাকি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য?
সম্প্রতি একজন মৃত ব্যক্তির দাফন ও কবর দেওয়া নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। একজন মানুষের রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত কর্মকাণ্ড কিংবা মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী তদন্ত হতে পারে, বিচার হতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর পর তার মরদেহের প্রতি সম্মান, পরিবারের ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার এবং আইনসম্মতভাবে দাফনের বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়।
আমরা কোনো ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে চাই না। কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তার যথাযথ বিচার হওয়া জরুরি। তবে বিচার এবং প্রতিহিংসা এক বিষয় নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মানবিকতা বিসর্জন দেওয়া যায় না। একজন মানুষকে রাজনৈতিকভাবে অপছন্দ করা এবং তার মরদেহের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
জামায়াতে ইসলামীর কাছে প্রশ্ন, যদি আপনারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মৃত্যুর পরও মানবিকতার প্রশ্নে সংযম দেখাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে ভিন্নমতের জীবিত মানুষের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করবেন? তখন কি নাগরিকদের প্রতিটি মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হবে? মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সামাজিক মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য কি মানুষকে প্রতিনিয়ত আন্দোলন করতে হবে?
অতীতে শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, বিচার ও দণ্ড কার্যকরের ঘটনাগুলো নিয়ে জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। সেই সময়ের বিচারব্যবস্থা, সাক্ষ্য এবং রাজনৈতিক চাপ নিয়ে যেসব বিতর্ক রয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ পর্যালোচনা হওয়া উচিত। তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির স্বীকারোক্তি, সাক্ষ্য কিংবা ভূমিকা সম্পর্কে অভিযোগ উত্থাপন করলে তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে সত্য প্রতিষ্ঠা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করার বিষয়ে জামায়াতের আমিরের বক্তব্য বা অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের আমিরের বক্তব্য নিজে থেকে রাষ্ট্রের আইনি ক্ষমা বা সাধারণ ক্ষমা হয়ে যায় না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। অতএব, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির কিংবা অন্য যে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে, আর কেউ নির্দোষ হলে তার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বিচারের বাইরে রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়।
আমরা বিশ্বাস করি, যে ধর্মের মানুষই হোন, যে বর্ণ বা জাতিগোষ্ঠীর সদস্যই হোন, যে রাজনৈতিক মতাদর্শেই বিশ্বাস করুন—প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার। এই অধিকার কোনো রাজনৈতিক দল দয়া করে দেয় না; এটি মানুষের স্বীকৃত অধিকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব তা রক্ষা করা।
আমরা আমাদের ব্যক্তিগত শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ করতে চাই। কারণ ইনসাফের প্রশ্নে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কোনো স্থান নেই। যে মানুষটি আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তারও ন্যায্য অধিকার রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন কথা বলবে, আদালত সিদ্ধান্ত দেবে। কোনো দল বা গোষ্ঠী নিজেরাই বিচারক, জল্লাদ ও অধিকার নির্ধারণকারী হয়ে উঠতে পারে না।
জামায়াতে ইসলামী যদি সত্যিই ইসলামের ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও ইনসাফের আদর্শে বিশ্বাস করে, তাহলে সেই আদর্শের প্রতিফলন তাদের আচরণেও দেখতে চাই। শুধুমাত্র বক্তৃতায় ন্যায়বিচারের কথা বললে হবে না; রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করতে হবে। মানবিকতা যদি কেবল নিজের দলের মানুষের জন্য হয়, আর প্রতিপক্ষের জন্য থাকে ঘৃণা ও প্রতিশোধ, তাহলে সেই মানবিকতার দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হবেই।
একজন মানুষ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মকাণ্ড এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করার অধিকার রাখেন। কিন্তু যারা এসব বিষয়ে সমালোচনা করেন, তাদের ভুলত্রুটি তুলে ধরার পরিবর্তে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি করা, এমনকি ফোন করে গালিগালাজ করাসহ বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর আচরণ তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তারা নিজেদের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা সহ্য করতে চান না। এ ধরনের আচরণ প্রমাণিত হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার পরিপন্থী। সমালোচনার জবাব গালিগালাজ বা হয়রানির মাধ্যমে নয়, যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে দেওয়া উচিত।
পরিশেষে বলতে চাই, মৃত মানুষের মর্যাদা রক্ষা করতে না পারা কোনো রাজনৈতিক শক্তির জন্য গর্বের বিষয় নয়; আর জীবিত মানুষের অধিকার সংকুচিত করার আশঙ্কা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিচয় হতে পারে না। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি কোনো রাজনৈতিক দলের আচরণ নিয়ে নাগরিকদের মনে অধিকার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে সেই দলকে নিজেদের অবস্থান ও আচরণ দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
বাংলাদেশ কোনো একক রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এ দেশ সব নাগরিকের। এখানে ভিন্নমত থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, মতাদর্শের সংঘাত থাকবে—কিন্তু কোনো অবস্থাতেই মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কাছে জিম্মি করা যাবে না।
আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার— ক্ষমতা নয়, ইনসাফই হোক রাজনীতির মানদণ্ড। প্রতিপক্ষের প্রতি আচরণ দিয়েই প্রমাণ হোক একটি দলের প্রকৃত চরিত্র। আর যে দল মানুষের অধিকার রক্ষার দাবি করে, তাদের আগে প্রমাণ করতে হবে—তারা বিরোধী মতের মানুষের অধিকারও সমানভাবে সম্মান করতে প্রস্তুত।
লেখক: কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, আমজনতার দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ