ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাকসুর মেয়াদ শেষ, পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেই


রাকসুর মেয়াদ শেষ, পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেই

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে। তবে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হলেও রাকসুর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর বিধান না থাকায় আজই বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর কথা নেই। সে জন্য আজই রাকসুর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। রাকসু ৩৫ বছর পর হয়েছে, আমরাও চাই রাকসু হোক। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তখনই এর আয়োজন করা হবে।’

গত বছরের ১৬ অক্টোবর ৩৫ বছর পর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সহসভাপতি (ভিপি) ও সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২০টি পদে জয়ী হয়। হল সংসদগুলোর শীর্ষ পদগুলোতেও এই প্যানেলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। নির্বাচনের ১০ দিন পর ২৬ অক্টোবর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে রাজনৈতিক সমাবেশের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের ফুঁসতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর

১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র সংসদ। সামরিক শাসনের কারণে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে ১৯৬২ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘রাকসু’ করা হয়। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর রাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচনের সময়সূচি বা প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরিফ আলভি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের মেয়াদ আজ শেষ হলো। অথচ পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো আপডেট নেই। এ নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাকসু কোনো দয়া বা দান নয়, এটা আমাদের অধিকার। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই রাকসু চাই। অন্যথায় রাজপথে দেখা হবে। আমাদের অধিকার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।’

রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, আমাদের সফলতা কেবল আমরা কী করতে পেরেছি বা কী করতে পারিনি, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসুকে বাস্তবে রূপ দিতে পারা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বাকি খাওয়া কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঊর্ধ্বে থেকে মেয়াদ শেষ করতে পারাটাই আমাদের আসল সফলতা বলে মনে করি। দীর্ঘদিন পর রাকসুর যাত্রা শুরু হওয়ায় পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার অভাবে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে আমরা যা করেছি, তা থেকে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে বলেই বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী রাকসু নির্বাচন ও নতুন সংসদের পথ সুগম করতে আমরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছি। সর্বশেষ অধিবেশনে বর্তমান কোষাধ্যক্ষ স্যারকে গঠনতন্ত্র সংস্কার, নির্বাচনী তফসিল প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।

আরও পড়ুন: মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ১৪ বছরে, স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের অপেক্ষা

রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ভিসি স্যার আমাদের জানিয়েছেন যে পরবর্তী নির্বাচন তিনি দিবেন। কিন্তু কার্যকরী সিদ্ধান্ত বা কোন পদক্ষেপ আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি না। এজন্য আমাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে যে আসলেই নির্বাচন উনি নিরপেক্ষভাবে, স্বতন্ত্রভাবে দিবে না কি সরকারের গ্রীন সিগনালের অপেক্ষায় থাকবে। এটা ভাবার বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৃতদের অধিকার রক্ষা করতে না পারলে জীবিতদের অধিকার কতটা নিরাপদ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ পি.এম


মৃতদের অধিকার রক্ষা করতে না পারলে জীবিতদের অধিকার কতটা নিরাপদ?

একটি রাজনৈতিক দলের বিরোধী অবস্থানে থাকা কালীন যদি তারা একজন মৃত মানুষের মর্যাদা, তার দাফনের অধিকার এবং তার পরিবারের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কতটুকু সুরক্ষিত থাকবে—এটি কি প্রশ্ন তোলা অন্যায়? বরং এটি বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের বিবেকের প্রশ্ন।

রাজনীতি শুধুমাত্র ক্ষমতা দখল নয়; বরং রাজনীতি মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং ভিন্নমতের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়। যে রাজনৈতিক দল বিরোধী দলে থেকেও মানুষের প্রতি সহনশীলতা, উদারতা ও ন্যায়বিচারের পরিচয় দিতে পারে না, সেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কেমন আচরণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে আমাদের স্পষ্ট প্রশ্ন—মানবিক অধিকার কি শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের জন্য, নাকি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য?

সম্প্রতি একজন মৃত ব্যক্তির দাফন ও কবর দেওয়া নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। একজন মানুষের রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত কর্মকাণ্ড কিংবা মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী তদন্ত হতে পারে, বিচার হতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর পর তার মরদেহের প্রতি সম্মান, পরিবারের ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার এবং আইনসম্মতভাবে দাফনের বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়।

আমরা কোনো ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে চাই না। কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তার যথাযথ বিচার হওয়া জরুরি। তবে বিচার এবং প্রতিহিংসা এক বিষয় নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মানবিকতা বিসর্জন দেওয়া যায় না। একজন মানুষকে রাজনৈতিকভাবে অপছন্দ করা এবং তার মরদেহের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

জামায়াতে ইসলামীর কাছে প্রশ্ন, যদি আপনারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মৃত্যুর পরও মানবিকতার প্রশ্নে সংযম দেখাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে ভিন্নমতের জীবিত মানুষের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করবেন? তখন কি নাগরিকদের প্রতিটি মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হবে? মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সামাজিক মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য কি মানুষকে প্রতিনিয়ত আন্দোলন করতে হবে?

অতীতে শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, বিচার ও দণ্ড কার্যকরের ঘটনাগুলো নিয়ে জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। সেই সময়ের বিচারব্যবস্থা, সাক্ষ্য এবং রাজনৈতিক চাপ নিয়ে যেসব বিতর্ক রয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ পর্যালোচনা হওয়া উচিত। তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির স্বীকারোক্তি, সাক্ষ্য কিংবা ভূমিকা সম্পর্কে অভিযোগ উত্থাপন করলে তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে সত্য প্রতিষ্ঠা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

একইভাবে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করার বিষয়ে জামায়াতের আমিরের বক্তব্য বা অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের আমিরের বক্তব্য নিজে থেকে রাষ্ট্রের আইনি ক্ষমা বা সাধারণ ক্ষমা হয়ে যায় না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। অতএব, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির কিংবা অন্য যে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে, আর কেউ নির্দোষ হলে তার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বিচারের বাইরে রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা বিশ্বাস করি, যে ধর্মের মানুষই হোন, যে বর্ণ বা জাতিগোষ্ঠীর সদস্যই হোন, যে রাজনৈতিক মতাদর্শেই বিশ্বাস করুন—প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার। এই অধিকার কোনো রাজনৈতিক দল দয়া করে দেয় না; এটি মানুষের স্বীকৃত অধিকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব তা রক্ষা করা।

আমরা আমাদের ব্যক্তিগত শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ করতে চাই। কারণ ইনসাফের প্রশ্নে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কোনো স্থান নেই। যে মানুষটি আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তারও ন্যায্য অধিকার রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন কথা বলবে, আদালত সিদ্ধান্ত দেবে। কোনো দল বা গোষ্ঠী নিজেরাই বিচারক, জল্লাদ ও অধিকার নির্ধারণকারী হয়ে উঠতে পারে না।

জামায়াতে ইসলামী যদি সত্যিই ইসলামের ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও ইনসাফের আদর্শে বিশ্বাস করে, তাহলে সেই আদর্শের প্রতিফলন তাদের আচরণেও দেখতে চাই। শুধুমাত্র বক্তৃতায় ন্যায়বিচারের কথা বললে হবে না; রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করতে হবে। মানবিকতা যদি কেবল নিজের দলের মানুষের জন্য হয়, আর প্রতিপক্ষের জন্য থাকে ঘৃণা ও প্রতিশোধ, তাহলে সেই মানবিকতার দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হবেই।

একজন মানুষ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মকাণ্ড এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করার অধিকার রাখেন। কিন্তু যারা এসব বিষয়ে সমালোচনা করেন, তাদের ভুলত্রুটি তুলে ধরার পরিবর্তে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি করা, এমনকি ফোন করে গালিগালাজ করাসহ বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর আচরণ তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তারা নিজেদের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা সহ্য করতে চান না। এ ধরনের আচরণ প্রমাণিত হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার পরিপন্থী। সমালোচনার জবাব গালিগালাজ বা হয়রানির মাধ্যমে নয়, যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে দেওয়া উচিত।

পরিশেষে বলতে চাই, মৃত মানুষের মর্যাদা রক্ষা করতে না পারা কোনো রাজনৈতিক শক্তির জন্য গর্বের বিষয় নয়; আর জীবিত মানুষের অধিকার সংকুচিত করার আশঙ্কা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিচয় হতে পারে না। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি কোনো রাজনৈতিক দলের আচরণ নিয়ে নাগরিকদের মনে অধিকার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে সেই দলকে নিজেদের অবস্থান ও আচরণ দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

বাংলাদেশ কোনো একক রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এ দেশ সব নাগরিকের। এখানে ভিন্নমত থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, মতাদর্শের সংঘাত থাকবে—কিন্তু কোনো অবস্থাতেই মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কাছে জিম্মি করা যাবে না।

আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার— ক্ষমতা নয়, ইনসাফই হোক রাজনীতির মানদণ্ড। প্রতিপক্ষের প্রতি আচরণ দিয়েই প্রমাণ হোক একটি দলের প্রকৃত চরিত্র। আর যে দল মানুষের অধিকার রক্ষার দাবি করে, তাদের আগে প্রমাণ করতে হবে—তারা বিরোধী মতের মানুষের অধিকারও সমানভাবে সম্মান করতে প্রস্তুত।

লেখক: কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, আমজনতার দল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিল্পকলা একাডেমির ককটেল বিস্ফোরণের প্রধান আসামি আবুল হায়াত দিপু গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ পি.এম


শিল্পকলা একাডেমির ককটেল বিস্ফোরণের প্রধান আসামি আবুল হায়াত দিপু গ্রেফতার

রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে গত ২০ সেপ্টেম্বর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আবুল হায়াত দিপুকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গ্রেফতার করেছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) স্পেশাল টিমের সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

রমনা মডেল থানার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ২ নম্বর গেটের পূর্ব পাশে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে রমনা মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আবুল হায়াদ দীপুকে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছবি-কবিতায় কাকদের বাঁচিয়ে রাখতে চান অভিনেত্রী ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ পি.এম


ছবি-কবিতায় কাকদের বাঁচিয়ে রাখতে চান অভিনেত্রী ভাবনা

অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা অভিনয়ের পাশাপাশি ছবি আঁকা ও লেখালেখিতে তাঁর প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। সম্প্রতি হারিয়ে যেতে বসা কাকের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি আলোচনায় এসেছেন। নিজের আঁকা কাকের ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ছবি, কবিতা ও শব্দের মাধ্যমে এই পাখিকে বাঁচিয়ে রাখতে চান।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের আঁকা কাকের একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিটির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় ভাবনা জানান, তাঁর শিল্পকর্মে কাকেরা চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি তাদের নিয়ে লিখবেন, ছবি আঁকবেন এবং নিজের সৃষ্টিতে তাদের জন্য জায়গা করে দেবেন।

ভাবনার ভাষায়, কাকের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা রয়েছে। তিনি এই পাখির সঙ্গে এক ধরনের নীরব সম্পর্ক অনুভব করেন। তাঁর বিশ্বাস, এই নীরব ভাষার মধ্যেই কোথাও কাকেরাও তাঁকে ভালোবাসে।

ঢাকা শহরের অলিগলিতে একসময় প্রচুর কাক দেখা গেলেও বর্তমানে সেগুলো আগের তুলনায় অনেক কম চোখে পড়ে। এই পরিবর্তন ভাবনাকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই তিনি এমন একটি শহরের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে কাকেরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে এবং তাদের আশ্রয় হারানোর ভয় থাকবে না।

ভাবনা এমন এক শহরের কল্পনা করেন, যেখানে আকাশ ও ছাদের কার্নিশ হবে কাকদেরও আপন ঠিকানা। সেখানে বেঁচে থাকার জন্য তাদের কাউকে জায়গা চাইতে হবে না এবং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ও থাকবে না।

অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি তানবীর হাসানের পরিচালনায় ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিং করেছেন। এতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন আব্দুল নূর সজল, শহীদুজ্জামান সেলিমসহ আরও অনেকে। এ ছাড়া তাঁর হাতে রয়েছে আরও কয়েকটি সিনেমার কাজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্যের মামলায় খালাস পেলেন রাহুল গান্ধী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ পি.এম


অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্যের মামলায় খালাস পেলেন রাহুল গান্ধী

ভারতের উত্তর প্রদেশের সুলতানপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত কংগ্রেস নেতা ও লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে মানহানির একটি মামলায় খালাস প্রদান করেছেন। এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে কথিত আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) আদালতের বিচারক শুভম বর্মা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় রাহুল গান্ধী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির গণমাধ্যম বিভাগের চেয়ারম্যান কুনওয়ার সিং নিষাদ রাহুলের খালাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগকারী বিজয় মিশ্রের আইনজীবী সন্তোষ কুমার পাণ্ডেও আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালত তাদের জমা দেওয়া সিডি ও তাতে থাকা বক্তব্য গ্রহণ করেছে। তবে আদালত ওই বক্তব্যকে মানহানিকর বলে মনে করেনি।

২০১৮ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের সময় বেঙ্গালুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে নিয়ে রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছিলেন। ওই মন্তব্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, মামলার শুনানিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে রাহুল গান্ধীর কনভয়ের কয়েকটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে সুলতানপুর জেলার হালিয়াপুর থানা এলাকার ৯০ কিলোমিটার পয়েন্টের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে চারটি গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুল্যান্স জড়িত ছিল। তবে দুর্ঘটনাটি সামান্য ছিল এবং কেউ গুরুতর আহত হননি।

হালিয়াপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতুল কুমার শ্রীবাস্তব জানান, রাহুল গান্ধীর গাড়ির পেছনে থাকা চারটি গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুল্যান্সের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%