০৯:৪৯ এম
ইরানের সরকার স্থিতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে হাজার হাজার কুর্দি যোদ্ধাকে তেহরানের দিকে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আপত্তি এবং হস্তক্ষেপের ফলে সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হওয়ার সুযোগ পায়নি বলে দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সরকার পতনের সম্ভাব্য বিভিন্ন পথ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেন, নেতানিয়াহু এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যেখানে ইরানের জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পাবে।
নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক দিশা ছিল কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের ইরানে প্রবেশ করানো। মার্কিন বিমান সুরক্ষার নীচে সীমান্ত অতিক্রম করে এসব যোদ্ধাকে পশ্চিম ইরানে পাঠিয়ে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মোসাদের এই পরিকল্পনা সিআইএ-র সাথে আলোচনা করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি
কিন্তু পরিকল্পনাটি তুরস্কের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেই মনে করেন এরদোয়ান। ইসরায়েলি এবং উপসাগরীয় সূত্রগুলোকে উল্লেখ করে দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, এরদোয়ান ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে বলে দেন যে তিনি এই অঞ্চলে কুর্দিদের স্বাধীনতা বা সশস্ত্র উপস্থিতি কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবেন না।
তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে-এর সাথে সংঘাতে রয়েছে। এর ফলে, ইরানে কুর্দি মিলিশিয়াদের অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে এটি তুরস্কের পূর্ব সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে আঙ্কারা আশঙ্কা করেছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারাও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানে কুর্দিদের স্থল অভিযানের সম্ভাবনাকে ওই পরিকল্পনার অবাস্তব অংশগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ট্রাম্পকে বিষয়টি জানানোর পরে, নেতানিয়াহুর সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনাকে ট্রাম্প 'হাস্যকর' মন্তব্য করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে, পরিকল্পনাটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ১ মার্চ ট্রাম্প কুর্দি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ইরানের অভ্যন্তরের স্থানীয় কর্মকর্তাদেরও তেহরানের দুর্বলতার সুযোগ নিতে রাজি করানোর চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
এদিকে, ইসরায়েল পশ্চিম ইরানে সামরিক হামলা জোরদার করে। কুর্দি সংগঠনগুলোর যোদ্ধারা সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে প্রবেশ ও সেখানকার কুর্দিদের অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণ করছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ১৮ মার্চ একটি সশস্ত্র কুর্দি জোট ইরানে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত ছিল, তাদের শুধু ট্রাম্পের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল—এমন দাবিও করা হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের ওই অভিযানে সরাসরি যুক্ত করতে আসেনি। এরদোয়ানের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোও সতর্ক করে দেয় যে, ইরানকে জাতিগতভাবে বিভক্ত করার চেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরায়েলেও অসন্তোষ সৃষ্টি হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বরাতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই ওভাল অফিসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সর্বশেষ বৈঠকে ইরানের সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গটি উঠেছিল। নেতানিয়াহু নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে এখনও সরকার পরিবর্তনের একটি সুযোগ রয়েছে বলে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত, ট্রাম্প সামরিক অভিযানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতের অবসানের পথ বেছে নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকেই আসতে পারে জ্বালানি তেলের পরবর্তী বড় ধাক্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন