প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে কিউআর কোড স্ক্যান করে মুহূর্তেই ক্যাশলেস কেনাকাটার এই দিনগুলোতে একটি নতুন অধ্যায় তৈরি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে বিনামূল্যে লেনদেনের সুবিধা দেওয়ার পর, এবার ইউপিআই সেবায় ফি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার।
ব্যাংক ও পেমেন্ট সার্ভিস কম্পানিগুলো যেন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি আদায় করতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২০০০ রুপির বেশি মূল্যের লেনদেনের ওপর ০.৩% থেকে ০.৫% পর্যন্ত মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা ফি ধার্য করা হতে পারে। তবে, সাধারণ ব্যবহারকারী এবং ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি পেমেন্ট পূর্বের মতোই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকবে। এর পাশাপাশি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পাড়ার মুদি দোকানদারদেরও এই বাড়তি চার্জের আওতার বাইরে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যদিও ব্যবহারকারীদের জন্য ইউপিআই সেবা এখনও বিনামূল্যে রয়েছে, কিন্তু এটি পরিচালনায় বিশাল অংকের অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে হচ্ছে পেমেন্ট কম্পানি ও ব্যাংকগুলোকে। বিশাল সার্ভার স্থাপন, দ্রুত লেনদেন সম্পন্ন করা, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং সাইবার আক্রমণ থেকে সিস্টেম সুরক্ষায় প্রচুর ব্যয় হয়। এতদিন সরকার ভর্তুকি দিয়ে এই সেবা চালু রেখেছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো টিকিয়ে রাখার জন্য ফি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নিয়ম চালু হলে ব্যাংক খাত প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন রাজস্ব পেতে সক্ষম হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপিআই-এর অভূতপূর্ব সাফল্যের মূল রহস্য হল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। যদি এই নতুন ফি কোনোভাবে ছোট বা অনানুষ্ঠানিক দোকানদারদের ওপর গিয়ে পড়ে, তবে তারা ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে অনাগ্রহী হয়ে পড়তে পারেন। এর ফলে ইউপিআই-এর বিস্তারের গতি কিছুটা মন্থর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে এই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সুবিশাল বিস্তার ও উপযোগিতা অক্ষুণ্ণ রেখে একে কিভাবে আর্থিকভাবে টেকসই করা যাবে, সেই সূক্ষ্ম ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে ভারতের নীতি নির্ধারকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন