শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:২৫ পি.এম
ঢাকাই চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান খলনায়ক নাসির খানের জন্মস্থান পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় অবস্থিত। স্থানীয়দের মতে, সেখানে একটি গলি বর্তমানে ‘নাসির খানের গলি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এই নামকরণের উদ্দেশ্য হলো প্রিয় অভিনেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
নাসির খান ১৯৫৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মঠবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মফস্বল থেকে উঠে এসে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
নাসির খানের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ১৯৮৫ সালে ‘চোর’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর তিনি প্রায় ২৭ বছরের অভিনয়জীবনে পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। হুমায়ুন ফরীদি, রাজীব, এ টি এম শামসুজ্জামান ও আহমেদ শরীফের মতো খ্যাতিমান খলনায়কদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েও তিনি নিজস্ব অভিনয় শৈলীতে দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন।
তিনি ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘ভালোবাসার ঘর’, ‘পাগল মন’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ এবং ‘গরিবের রাণী’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি নাসির খানের সংলাপও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তার অভিনীত বিভিন্ন চরিত্রের সংলাপ দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মুখে ফিরেছে।
২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি নাসির খান মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি স্ত্রী মেহেরুন্নেসা এবং তিন কন্যা—নাছিমা খানম মমতা, ফাহিমা খানম শর্মিতা ও মহিমা খানম নিশিতাকে রেখে যান।
মঠবাড়িয়া পৌর শহরের বাসিন্দা সজীব মিত্র জানান, "ছোটবেলা থেকেই আমরা তার সিনেমা দেখতাম। তিনি আমাদের এই জনপদের একজন কৃতী সন্তান। শুরুতে বিষয়টি জানতাম না। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তিনি আমাদের এলাকার মানুষ ছিলেন। শুক্রবার হলে ছুটে যেতাম তার সিনেমা দেখতে। শুনেছি জন্মস্থানের ভিটা ঘিরে নাসির খানের গলি নামে পরিচিত।"
প্রবীণ সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার আরটিভিকে বলেন, "নাসির খানের বাড়ি এ উপজেলার একটি ইউনিয়নে। তিনি মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতেন, তবে গ্রামের বাড়িতে খুব একটা আসতেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন অভিনেতা ও শিল্পমনা মানুষ। পরিচিত মুখ হিসেবে তার অভিনয় আমাদের জনপদের মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। মৃত্যুর পরও মানুষ তাকে তার অভিনয় ও কাজের মাধ্যমে মনে রেখেছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা এবং দলের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা।
এছাড়াও, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং এর প্রস্তুতিমূলক বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক, যিনি বর্তমানে কারাবন্দি, তাকে গৃহবন্দি অবস্থায় বাকি সাজা কাটানোর অনুমতি দিয়েছেন রাজা সুলতান ইব্রাহিম। নাজিব রাজাককে ১এমডিবি দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার কারণে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
এখন তাকে শর্তসাপেক্ষে গৃহবন্দি থেকে বাকি সাজা ভোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরব নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে, এই সুবিধা পেতে তাকে প্রায় ১২ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে।
৭৩ বছর বয়সী নাজিবকে ১ মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ (১এমডিবি) থেকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাজা সুলতান ইব্রাহিম নাজিবকে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা দিয়েছেন। এর ফলে, তিনি ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত গৃহবন্দি থেকে বাকি সাজা ভোগ করতে পারবেন।
আইন বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সুবিধা পেতে নাজিবকে ৫০ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ১২ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে। তাকে গৃহবন্দি থাকার সব শর্তও মেনে চলতে হবে। যদি কোনো শর্ত ভঙ্গ করেন, তবে ক্ষমা বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে আবার কারাগারে ফিরে গিয়ে বাকি সাজা ভোগ করতে হবে। গত বছরের শেষ দিকে, একজন মালয়েশীয় বিচারক নাজিবের গৃহবন্দি থাকার আবেদন খারিজ করেছিলেন।
পরে জানা যায়, ১এমডিবির সাবেক সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডি থেকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় ২০২০ সালের জুলাইয়ে তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে একটি ক্ষমা বোর্ড তার সাজা অর্ধেক কমিয়ে দেয় এবং জরিমানার পরিমাণ ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিত করা হয়। এই মামলায় তার সাজা ২০২৮ সালের আগস্টে শেষ হওয়ার কথা।
এর মধ্যে, গত ডিসেম্বরে গৃহবন্দি থাকার আবেদন নাকচ হওয়ার কিছুদিন পর, ১এমডিবি-সংক্রান্ত আরেকটি মামলায় নাজিবকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলায় তাকে ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানাও করা হয়েছে।
নাজিব এই ১৫ বছরের সাজা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করছেন। তার বর্তমান ছয় বছরের সাজা শেষ হওয়ার পর নতুন ১৫ বছরের সাজা কার্যকর হওয়ার কথা। নাজিব মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতার ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তাকে রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে ১এমডিবি কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ক্ষমতা হারান। এরপর বিভিন্ন সরকারের সময় চলা তদন্তে নাজিব ও তার স্ত্রী রোসমাহ মানসুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং ১এমডিবির উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালে নাজিব নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তহবিলের বিপুল অর্থ নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে দামি সম্পত্তি, একটি বিলাসবহুল ইয়ট এবং মোনে ও ভ্যান গঘের মতো বিখ্যাত শিল্পীদের মূল্যবান চিত্রকর্ম কেনা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসাইন মন্তব্য করেছেন যে, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "হার্টের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।"
আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কার্ডিওভাসকুলার সার্জিক্যাল কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, হৃদ্রোগের চিকিৎসায় দেশে এখন অনেক আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়েছে। তবে চিকিৎসক ও সার্জনদের দক্ষতা কাজে লাগাতে ভিশনারি প্ল্যানিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, হৃদরোগের প্রকোপ বাড়লেও এখন হার্টের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশের সার্জন ও অধ্যাপকদের কাজে লাগিয়ে চিকিৎসাসেবার আউটপুট বৃদ্ধি করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারের বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং রোগীর প্রয়োজনের মুহূর্তে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মন্ত্রী হাসপাতালগুলোতে ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, ইমার্জেন্সি সার্ভিস ২৪/৭ চালু রাখতে হবে, যেখানে রোগী ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যে ওয়ার্কআপ এবং ৬ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাত্র ১৫ বছর বয়সে অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিয়ে ভারত জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন উদীয়মান তারকা বৈভব সূর্যবংশী। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শুরুটা খুব সহজ ছিল না। ইংল্যান্ড সফরে প্রথম তিনটি ম্যাচে ১৩ থেকে ১৫ রানের মধ্যে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। পরবর্তীতে জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যাক-টু-ব্যাক হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পুরো সময় তাকে সাইডলাইনে থাকতে হয়েছে।
যখন তাকে একাদশে না রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাকে এখন ‘সুযোগের অপেক্ষায়’ থাকতে হবে। আফগানিস্তানকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ক্লিন সুইপ করার পথে অভিষেক শর্মার সঙ্গে নিয়মিত ওপেনিং করেছেন সঞ্জু স্যামসন। দুই ম্যাচে দুর্দান্ত দুটি হাফসেঞ্চুরি করে স্যামসন নিজের জায়গা শক্ত করে নিয়েছেন। মূলত স্যামসনকে টপ অর্ডারে সুযোগ দিতে গিয়ে সূর্যবংশীকে একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছে। ভিভিএস লক্ষ্মণের অধীনে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল যখন আসন্ন এশিয়ান গেমসে অংশ নেবে, তখনও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন এই তরুণ ব্যাটার।
আফগানদের বিরুদ্ধে সিরিজ শেষের পর সংবাদ সম্মেলনে কোচ গম্ভীর পরিষ্কার করেন, অভিজ্ঞতার বিচারে সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা আপাতত আগে প্রাধান্য পাবেন। তিনি বলেন, ‘বৈভবের সঙ্গে দলগত আলোচনাটা খুবই পরিষ্কার, তাকে আপাতত সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হবে। তার মধ্যে কী পরিমাণ প্রতিভা রয়েছে কিংবা সে কী করতে সক্ষম, সে বিষয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র সংশয় নেই।’
তবে অতীত পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে সাবেক এই ভারতীয় ওপেনার যোগ করেন, ‘যারা বিগত এক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ খেলে আসছে, যেকোনো নতুন খেলোয়াড়ের চেয়ে তারা স্বাভাবিকভাবেই দলে এগিয়ে থাকবে। তবে বৈভব যখনই সুযোগ পাবে, তার কাছেও দীর্ঘ সময় পারফর্ম করার সুযোগ থাকবে।’
দলে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়ে গম্ভীর আরও বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটের মূল সৌন্দর্যই তো এটি। আমরা দলে সুস্থ প্রতিযোগিতা দেখতে চাই, ড্রেসিংরুমে এমন দারুণ সব প্রতিভার উপস্থিতি চাই। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাস্তবতা এমনই। এখানে আপনার বয়স ১৫ বছর হোক কিংবা ৩০ বছর, একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষা করতেই হয়।’
উল্লেখ্য, জাতীয় দলের আকাশি-সাদা জার্সিতে এ পর্যন্ত ৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন বৈভব সূর্যবংশী। সেখানে ১৮৯-এর বেশি বিধ্বংসী স্ট্রাইকরেট ও ৩২.১৬ গড়ে ইতিমধ্যে ১৯৩ রান সংগ্রহ করেছেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ