প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক, যিনি বর্তমানে কারাবন্দি, তাকে গৃহবন্দি অবস্থায় বাকি সাজা কাটানোর অনুমতি দিয়েছেন রাজা সুলতান ইব্রাহিম। নাজিব রাজাককে ১এমডিবি দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার কারণে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
এখন তাকে শর্তসাপেক্ষে গৃহবন্দি থেকে বাকি সাজা ভোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরব নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে, এই সুবিধা পেতে তাকে প্রায় ১২ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে।
৭৩ বছর বয়সী নাজিবকে ১ মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ (১এমডিবি) থেকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাজা সুলতান ইব্রাহিম নাজিবকে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা দিয়েছেন। এর ফলে, তিনি ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত গৃহবন্দি থেকে বাকি সাজা ভোগ করতে পারবেন।
আইন বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সুবিধা পেতে নাজিবকে ৫০ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ১২ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে। তাকে গৃহবন্দি থাকার সব শর্তও মেনে চলতে হবে। যদি কোনো শর্ত ভঙ্গ করেন, তবে ক্ষমা বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে আবার কারাগারে ফিরে গিয়ে বাকি সাজা ভোগ করতে হবে। গত বছরের শেষ দিকে, একজন মালয়েশীয় বিচারক নাজিবের গৃহবন্দি থাকার আবেদন খারিজ করেছিলেন।
পরে জানা যায়, ১এমডিবির সাবেক সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডি থেকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় ২০২০ সালের জুলাইয়ে তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে একটি ক্ষমা বোর্ড তার সাজা অর্ধেক কমিয়ে দেয় এবং জরিমানার পরিমাণ ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিত করা হয়। এই মামলায় তার সাজা ২০২৮ সালের আগস্টে শেষ হওয়ার কথা।
এর মধ্যে, গত ডিসেম্বরে গৃহবন্দি থাকার আবেদন নাকচ হওয়ার কিছুদিন পর, ১এমডিবি-সংক্রান্ত আরেকটি মামলায় নাজিবকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলায় তাকে ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানাও করা হয়েছে।
নাজিব এই ১৫ বছরের সাজা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করছেন। তার বর্তমান ছয় বছরের সাজা শেষ হওয়ার পর নতুন ১৫ বছরের সাজা কার্যকর হওয়ার কথা। নাজিব মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতার ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তাকে রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে ১এমডিবি কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ক্ষমতা হারান। এরপর বিভিন্ন সরকারের সময় চলা তদন্তে নাজিব ও তার স্ত্রী রোসমাহ মানসুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং ১এমডিবির উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালে নাজিব নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তহবিলের বিপুল অর্থ নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে দামি সম্পত্তি, একটি বিলাসবহুল ইয়ট এবং মোনে ও ভ্যান গঘের মতো বিখ্যাত শিল্পীদের মূল্যবান চিত্রকর্ম কেনা হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন