সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২০ পি.এম
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেফতার বাইকচালক মুহিবুল্লাহ মুবিনের জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছে। ঢাকা শহরের ফার্মগেটে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়।
আজ ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে মুবিনের আইনজীবী জামিনের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
পুলিশ গত ৫ সেপ্টেম্বর মুবিনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী দিন ৬ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফার্মগেটের খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় মুবিন কেআইবির সামনে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির কাছে চলে যান। তিনি গাড়ির পাশে এসে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দেন। পরে ঘটনাস্থলেই পুলিশ মুবিনকে আটক করে। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চায়না দুয়ারি জাল, সুতিজাল এবং কারেন্ট জাল সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ উপকরণ ব্যবহার করে প্রতিদিন নদী থেকে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এই কার্যকলাপের ফলে পরিবেশ ও দেশীয় মাছের প্রজনন হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করে জাল ফেলা হচ্ছে। এমন দৃশ্য চোখে পড়লেও মৎস্য বিভাগ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
বগুড়ার নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে মাছের মৃত্যুফাঁদ হিসেবে ‘নিষিদ্ধ’ জাল ব্যবহৃত হচ্ছে। মশারির মতো মিহি বুননের এসব উপকরণ নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ফলে আটকা পড়ছে রেনু পোনা থেকে শুরু করে ছোট-বড় প্রজাতির মাছ। প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কম পরিশ্রমে বেশি মাছ পাওয়ার কারণে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিন তথ্যে দেখা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ও চাঁপাপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নাগর নদীর কয়েকটি স্থানে প্রাণ-পরিবেশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। নদীতে বাঁশের বেড়া (কৃত্রিম বাঁধ) দিয়ে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ আটকে রেখে মাছ শিকার করা হচ্ছে। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সঠিক গতিপথ নেই। পানিতে পাতানো জালে ধরা পড়ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। নিষিদ্ধ উপকরণ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে অসাধু ব্যবসায়ীরা হাট বাজারে চায়না জাল ও কারেন্ট জাল বিক্রি করছে। এলাকাভিত্তিক শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় স্থানীয় জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ছে। নদী, খাল-বিল সবখানে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে। জলাশয়ে থাকা কোনো জলজ প্রাণিও রক্ষা পাচ্ছে না। ভয়ঙ্কর জালের ফাঁদে দেশীয় মাছের প্রজনন ধ্বংস হচ্ছে।
নিষিদ্ধ উপকরণ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার তাগিদ দিয়েছেন বগুড়া পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নদী রক্ষা কমিটির সদস্য সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার। তিনি জানান, নিষিদ্ধ জালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষের মধ্যে এখনো যথেষ্ট ধারণা বা সচেতনতা তৈরি হয়নি। নদীতে বাঁশের বেড়া কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অভ্যন্তরীণ মৎস্যসম্পদ আরও ক্ষতির মুখে পড়বে। অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে আদমদীঘি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার নাহিদ হোসেন বলেন, এলাকাভিত্তিক মাছ শিকারি বেড়েছে। তাদেরকে মৌখিকভাবে সতর্ক করছেন মৎস্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। নদীর মুক্ত পানিপ্রবাহ বন্ধ রাখা এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করা বেআইনি। বাঁশের বেড়ার কৃত্রিম বাঁধসহ এসব জাল অপসারণ না করলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, এডিস মশার বিস্তার রোধ ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও অভ্যন্তরীণ সড়কে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় এডিস মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি মশকনিধন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিয়মিত কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান সোহেল বলেন, “বেরোবি ছাত্রদলকে ধন্যবাদ। এমন একটি উদ্যোগ আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে লাইব্রেরি ও আশপাশের এলাকায় মশার উপদ্রবের কারণে সন্ধ্যার পর স্বাভাবিকভাবে বসে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম থাকলে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশ আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজকের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য মশা নিধন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।”
তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ ও ভয়াবহতার চিত্র আমরা লক্ষ্য করেছি। এ কর্মসূচির পাশাপাশি বেরোবি প্রশাসনের প্রতি আমাদের আবেদন, এডিস মশা নিধনে যেন আরও কার্যকর ও নিয়মিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হল প্রশাসনকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান বলেন,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আজ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে বেরোবি ছাত্রদল।প্রযুক্তির সাহায্যে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেও বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হয়বেরোবি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ছাত্রদলের এমন ইতিবাচক কার্যক্রম সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বলেন, শুধু একদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পলিসি মেকিং এবং গবেষণা কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পৃথকভাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ বিষয়ে তথ্য প্রদান করেন।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর (আচার্য) হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
ডিগ্রি অর্জনের পর শিক্ষার্থীরা যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, সেই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক প্রয়াস চালানোর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাতকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদ্বয় রাষ্ট্রপতিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, "ফ্যাসিস্ট আমলের ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে এবং এর মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করছে।"
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার এবং হালকা প্রকৌশলসহ সম্ভাবনাময় শিল্পখাতে জার্মান বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা কামনা করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব খাতকে রফতানিমুখী, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিল্পে রূপান্তর করতে জার্মানির অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের গুরুত্ব অপরিসীম।
রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আজ শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ। বৈঠকের সময় শিল্পমন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, সরকার বাংলাদেশ-জার্মানি অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শুধুমাত্র বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। পণ্যের বৈচিত্র্য, মূল্য সংযোজন, মানোন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো গভীর ও বহুমুখী করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে, এবং একই ধরনের সাফল্য চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও হালকা প্রকৌশলসহ অন্যান্য শিল্পখাতেও অর্জন করা সম্ভব। এজন্য আন্তর্জাতিক মান, কমপ্লায়েন্স, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন।
চামড়া শিল্প সম্পর্কে শিল্পমন্ত্রী বলেন, খাতটিতে বিপুল রফতানি সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিবেশগত মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পানির ব্যবহার কমানো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে শিল্পটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিশ্ববাজারে আরো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। এ ক্ষেত্রে জার্মান প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।
জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনর্ব্যবহার খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের ইস্পাত, নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট শিল্পেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এ খাতের সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত প্রযুক্তি, নিরাপদ উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে জার্মানির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার খাতে জার্মান বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অংশীদারত্বের বড় সুযোগ রয়েছে।
জার্মান রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের শিল্পখাতের অগ্রগতি ও সম্ভাবনার প্রশংসা করেছেন এবং তৈরি পোশাক শিল্পের সাফল্যকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনর্ব্যবহারসহ সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা আরো বাড়াতে জার্মানির আগ্রহ রয়েছে বলে রাষ্ট্রদূত জানান। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পখাতে অংশীদারত্ব এবং উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক সফর বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করা হয়। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ