ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুদকের মামলায় পবিপ্রবির সাবেক ভিসি স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসু


দুদকের মামলায় পবিপ্রবির সাবেক ভিসি স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসু

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের ছেলেসহ একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন। মামলায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুকেও আসামি করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুসারে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়া এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদের অতিরিক্ত পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটি রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব অভিযোগ

দুদক সূত্রে জানা গেছে, স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই আসামি পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসির অনুমোদন ছিল না। একই সঙ্গে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদের চেয়েও অতিরিক্ত পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সাবেক উপাচার্যের ছেলেসহ অন্যান্যদের নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাছাই বোর্ডের সদস্যদের অবৈধভাবে প্রভাবিত করা হয়েছিল। রিজেন্ট বোর্ডের রেজুলেশন তৈরি ও অনুমোদন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

৮০ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, অভিযোগে উল্লিখিত নিয়োগগুলোর বিপরীতে বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, এই অর্থ ব্যয়ের ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে তদন্তের ক্ষেত্রে নিয়োগের অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট পদগুলোর বৈধতা, বাছাই বোর্ডের কার্যক্রম, রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং বেতন-ভাতা পরিশোধের নথি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

জবাবদিহির প্রশ্ন

সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদ, নির্ধারিত যোগ্যতা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দুদকের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) যেন একটি পারিবারিক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে ২৫ দম্পতি ও বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা শিক্ষক ও কর্মকর্তা পদে কর্মরত আছেন। কারও ছেলে, কারও মেয়ে, কারও ভাই, কারও বোন, কারও শ্যালক, কারও শ্যালিকা, কারও শ্বশুর, কারও জামাতা, কারও ননদ, কারও জা কর্মরত এখানে। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর'২০২৪ সেকশন অফিসার পদে উপাচার্য অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলেসহ বিভিন্ন পদে কয়েকজন কর্মকর্তার স্বজন নিয়োগ পেয়েছেন।

পবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ না পাওয়া সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২ ডিসেম্বর'২০২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড তৎকালীন উপাচার্যের ছেলেসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে মোট ৫৮ জনকে নিয়োগ দেয়। তবে ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর এবং এর আগের কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মোট পদ ছিল ৩৯টি। ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সেকশন অফিসার পদে তিনজনকে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২ ডিসেম্বর'২০২৪ নিয়োগ পান ছয়জন।

তাঁরা হলেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলে শাওন চন্দ্র সামন্ত তনু, পবিপ্রবি কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েলের ছোট ভাই মো. আরিফুর রহমান পিয়েল, সহকারী রেজিস্ট্রারের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা, পবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকের বড় ভাই মো. হাফিজুর রহমান, দুমকী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালামের ছেলে তানভীর হাসান স্বাধীন, অপরজন তাকছিনা নাজনীন নামের এক নারী।

২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে ইউজিসির করা অর্গানোগ্রামে পবিপ্রবিতে সেকশন অফিসারের পদ ৩০টি। তবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৮ জন সেকশন অফিসার।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসির অনুমোদন না নিয়েই পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগে ১ জন প্রভাষক নিয়োগের উল্লেখ করা হয়। সমালোচনার মুখে ওই পদে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হলেও নতুন বিজ্ঞপ্তি না দিয়েই ২ ডিসেম্বর'২০২৪ দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের একজন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান সোহাগের স্ত্রী শেখ তানজিলা ইসলাম দোলা।

২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ১১ অক্টোবর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড সিস্টেম ইনফরমেশন বিভাগ এবং ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে তিনজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তবে মেধাতালিকায় ৭ শতাংশের মধ্যে থাকা পবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীদের কেউ ভাইভা কার্ড না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ১৯ নভেম্বর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড সিস্টেম ইনফরমেশন বিভাগের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগের দাবিতে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি দেন।

এতে সেদিনই ওই বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ স্থগিত করা হয়। তবে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয় ল্যান্ড রেকর্ড অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক সাউদ বিন আলমের (প্রতীক) স্ত্রী আমিনা সারওয়ারকে।

এ দিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বিতর্কিত শিক্ষক সন্তোষ কুমার বসুকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৫ হাজার ছাত্র হত্যার হুমকি ও আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের হল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিতর্কিত মন্তব্যে তোপের মুখে পড়েন সাবেক রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসু। একইসাথে তার কয়েকটি অডিও ক্লিপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পেজে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে সাবেক রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অজানা কারণে এখনো স্থায়ীভাবে তাকে বরখাস্ত না করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শীতের আগমনে খেজুর গাছ কাটা ও হাঁড়ি বাঁধার প্রস্তুতি, কমছে গাছের সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


শীতের আগমনে খেজুর গাছ কাটা ও হাঁড়ি বাঁধার প্রস্তুতি, কমছে গাছের সংখ্যা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে শীতের আগমন বার্তা আসার সাথে সাথে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। হেমন্তের শেষ ভাগ থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গাছিরা খেজুর গাছের পরিচর্যা, নির্দিষ্ট অংশ কাটা এবং রস সংগ্রহের জন্য হাঁড়ি বাঁধার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। শীতের সকালে খেজুরের মিষ্টি রস এবং সেই রস থেকে তৈরি পাটালি ও ঝোলা গুড়ের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা অপেক্ষা করছেন। তবে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকিয়ে রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

উপজেলার দাওকান্দি, পানানগর, ঝালুকা ও জয়নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছিরা খেজুর গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোমরে দড়ি বেঁধে গাছে উঠে তাঁরা নির্দিষ্ট অংশ ছেঁটে রস সংগ্রহের উপযোগী করছেন। সন্ধ্যায় গাছে মাটির হাঁড়ি বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। রাতভর সেই হাঁড়িতে জমছে খেজুরের রস, যা ভোরে সংগ্রহ করা হয়।

স্থানীয় প্রবীণ গাছি মো. সাহাজ আলী (৫০) জানিয়েছেন, এ বছর তিনি প্রায় ৮০টি খেজুর গাছ কেটেছেন। তিনি বলেন, "কার্তিক মাসের শেষ দিকে গাছ প্রস্তুত করলে রস ভালো পাওয়া যায়।" একটি গাছ থেকে দৈনিক দুই থেকে চার লিটার পর্যন্ত রস সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। সংগৃহীত রস দিয়ে তিনি খাঁটি পাটালি ও ঝোলা গুড় তৈরি করবেন।

তিনি আরও বলেন, "দুর্গাপুরের খেজুরের গুড়ের সুনাম রয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। শীতের মৌসুমে এ গুড়ের চাহিদা বাড়ে।" রস সংগ্রহ থেকে গুড় তৈরি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় গাছিদের দীর্ঘ পরিশ্রম করতে হয়।

দেশজুড়ে রয়েছে গুড়ের চাহিদা

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দুর্গাপুরের খেজুরের পাটালি গুড়ের চাহিদা রাজশাহী শহরের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে। শীতের মৌসুমে খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় দিয়ে পিঠা-পুলি, পায়েসসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরি করা হয়। গ্রামবাংলার শীতকালীন খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড় গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

একসময় গ্রামের বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে ও মাঠের পাশে সারি সারি খেজুর গাছ দেখা যেত। শীত এলেই গাছিদের কর্মব্যস্ততা, রস সংগ্রহ এবং গুড় তৈরির আয়োজন গ্রামীণ জীবনে ভিন্ন আমেজ সৃষ্টি করত। সময়ের পরিবর্তনে সেই পরিচিত দৃশ্য অনেক এলাকায় কমে আসছে।

কমছে খেজুর গাছ, শঙ্কায় ঐতিহ্য

গাছিদের অভিযোগ, আগের তুলনায় এলাকায় খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। কেউ কেউ ইটভাটাসহ অন্যান্য কাজে বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে রস সংগ্রহের সুযোগ যেমন কমছে, তেমনি গাছিদের ঐতিহ্যবাহী পেশাও হুমকির মুখে পড়ছে।

গাছিরা জানান, খেজুর গাছ প্রস্তুত করা, নিয়মিত পরিচর্যা, রস সংগ্রহ এবং গুড় তৈরি—প্রতিটি ধাপেই শ্রম ও সময় দিতে হয়। তারপরও এ পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে খাঁটি খেজুরের রস ও গুড়ের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।

তাদের মতে, খেজুর গাছ সংরক্ষণ, নতুন গাছ রোপণ এবং গাছিদের উৎসাহিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পাওয়া গেলে এ ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।

কাঁচা রস পানে সতর্কতার পরামর্শ

খেজুরের রস সংগ্রহ ও পান করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত সতর্কতা জরুরি। বাদুড়ের মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় কাঁচা খেজুরের রস পান না করার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। রস সংগ্রহের হাঁড়ি এমনভাবে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে বাদুড় বা অন্য কোনো প্রাণী রসে মুখ দিতে না পারে। রস ভালোভাবে ফুটিয়ে পান করা তুলনামূলক নিরাপদ।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে দুর্গাপুরের গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ আরও জমে উঠবে। গাছিদের ব্যস্ততা, ভোরের রস সংগ্রহ এবং খাঁটি গুড়ের মৌসুমি চাহিদায় মুখর হয়ে উঠবে গ্রামীণ জনপদ। তবে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে খেজুর গাছ সংরক্ষণ ও নতুন গাছ রোপণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে একসময় গ্রামবাংলার শীতের অন্যতম পরিচিত অনুষঙ্গ খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন

পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং পদ্মা সেতু ও সংলগ্ন অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এই তথ্য জানান রিটকারী মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) চেয়ারম্যান আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া।

হাইকোর্ট বেঞ্চ, বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ দ্বারা গঠিত, এই আবেদনের শুনানি করবে।

রিট পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর প্রাকৃতিক গঠন, নদীতীরের স্থিতিশীলতা, পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এছাড়া, পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

রিটে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়া, আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অভিযোগের তদন্ত, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া মন্তব্য করেন, পদ্মা নদী বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হলে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিজমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিকটক থেকে শ্যালিকার কাছে আসা, মাসুদ রানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


টিকটক থেকে শ্যালিকার কাছে আসা, মাসুদ রানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

নওগাঁর বদলগাছীতে টিকটক ভিডিও তৈরি করার সময় শালিকার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তার ছোট বোনকে বিয়ে করার ঘটনায় আলোচনায় আসা মো. মাসুদ রানাকে নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী মো. শাহীন কাদির ডলার অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলামবিরোধী ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) আইনজীবী শাহীন কাদির ডলারের দেওয়া গণবিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়। মাসুদ রানা একজন আইনজীবী সহকারী এবং টিকটকার হিসেবে পরিচিত।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাসুদ রানাকে সেরেস্তার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সম্মানিত মক্কেল ও সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, সেরেস্তার মামলা, আইনি কার্যক্রম কিংবা দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য। একই সঙ্গে সেরেস্তার নাম ব্যবহার করে তার সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতেও সতর্ক করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, মাসুদ রানার সঙ্গে সেরেস্তার নাম ব্যবহার করে কোনো অননুমোদিত যোগাযোগ বা আর্থিক লেনদেনের ফলে সৃষ্ট কার্যক্রমের দায় সেরেস্তা কিংবা সেখানে কর্মরত কেউ নেবেন না।

সম্প্রতি মাসুদ রানার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের শালিকাকে নিয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গিসংবলিত টিকটক ভিডিও প্রকাশ করে আসছিলেন। এর মধ্যে গত ২৫ অক্টোবর শালিকাকে বিয়ে করার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি কয়েকটি গণমাধ্যমেও সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মাসুদ রানা ও তার স্ত্রী মৌসুমীর দাম্পত্য জীবন রক্ষার বিষয়কে কেন্দ্র করে মৌসুমীর ছোট বোন পূর্ণিমার সঙ্গে মাসুদ রানার বিয়ের ঘটনা সামনে আসে। গত ২৪ অক্টোবর তার ভাড়া বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন তাদের বিয়ে হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে আলোচিত টিকটকার মাসুদ রানা জানিয়েছেন, শালিকার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তার সঙ্গে পূর্বে করা ভিডিওগুলোর জন্য তাকে হেনস্তার শিকার হতে হতো। তাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমির সম্মতি ও সহযোগিতায় শালিকা পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছেন।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো পুরুষের জন্য স্ত্রী ও তার বোনকে একই সময়ে বিবাহবন্ধনে রাখা নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একসঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এ বিষয়ে মাওলানা রেজাউল করিম বলেছেন, আল্লাহ যা হারাম ঘোষণা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ। তাই একই সময়ে দুই বোনকে বিয়ে করে সংসার করার সুযোগ নেই। তবে স্ত্রী মারা গেলে বা তালাক দিলে তার বোনকে বিয়ে করা যেতে পারে বলেও তিনি জানান।

এসব ঘটনা ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী শাহীন কাদির ডলারের গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাসুদ রানাকে সেরেস্তার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুর সীমান্তে আটকে ১৩০ হাতি, ভারত প্রবেশ বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


শেরপুর সীমান্তে আটকে ১৩০ হাতি, ভারত প্রবেশ বন্ধ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হাতির চলাচলের পুরনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৩০টিরও বেশি বন্য হাতি আটকে পড়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী গবেষকরা। ভারতের মেঘালয় অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং হাতির বিচরণক্ষেত্রে কৃষিকাজ সম্প্রসারণকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সংকট নিরসনে ভারতকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানোর কথাও জানিয়েছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। তবে এখনো কোনো কার্যকর সমাধানের তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিবিসি বাংলা জানায়, বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় একসময় হাতি চলাচলের জন্য ৪৪টি গেট এবং ১১টি নদী বা ছড়াপথ ব্যবহৃত হতো। এসব পথ দিয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করত বন্য এশীয় হাতির দল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তের একাধিক চলাচলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতিগুলোর স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে এই অঞ্চলে হাতির সংখ্যা ছিল ৫০টির কাছাকাছি। বর্তমানে তা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫টিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন কর্মকর্তা ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, আগে হাতিগুলো বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশে আসত এবং অধিকাংশ সময় ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে বিচরণ করত। কিন্তু এখন অনেক হাতিকে সারা বছর বাংলাদেশের অংশেই অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে।

গবেষকদের মতে, সীমান্তে বেড়া ও গেট নির্মাণের পাশাপাশি ভারতের কিছু পুরনো বিচরণক্ষেত্রে কাজুবাদামের চাষ সম্প্রসারিত হওয়ায় হাতির চলাচল এবং খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ কমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের গারো পাহাড়সংলগ্ন বনাঞ্চলেও কৃষিজমি ও বসতি বেড়েছে। এতে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

খাদ্যসংকটে লোকালয়ে হাতির বিচরণ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ধ্যার পর হাতির দলকে বন থেকে বেরিয়ে ফসলি জমি ও লোকালয়ের দিকে যেতে দেখা যায়। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে বনের ভেতরে খাবার ও পানির প্রাপ্যতা কমে গেলে হাতি বিকল্প খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করে।

ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিমের তথ্য অনুযায়ী, একটি এশীয় বন্য হাতির দৈনিক প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কেজি খাবার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। এ চাহিদা পূরণে হাতিকে বিস্তৃত এলাকায় বিচরণ করতে হয়। কিন্তু বনভূমি কমে যাওয়া এবং সীমান্তপথ বন্ধ থাকায় তাদের খাদ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, হাতির আক্রমণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক কৃষক জমির চারপাশে তারের বেড়া বসাচ্ছেন। কোথাও কোথাও এসব বেড়ায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাতি তাড়াতে পটকা ফোটানো, মশাল জ্বালানো এবং অন্যান্য পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাতকে আরো বিপজ্জনক করে তুলছে।

বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত এক যুগে শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে অন্তত ৩৫টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতের মতো ঘটনাও এসব মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষতির ঘটনাও ঘটছে।

আবাসস্থল সংকোচনে বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত

প্রকৃতি সংরক্ষণবিদদের মতে, গারো পাহাড়ের বনাঞ্চল একসময় হাতির বিস্তৃত বিচরণক্ষেত্র ছিল। সময়ের সঙ্গে সেখানে কৃষিজমি, বসতি ও গবাদি পশুর বিচরণ বেড়েছে। ফলে হাতির চলাচলের জায়গা কমে গিয়ে মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকার সঙ্গে তাদের সংঘাত বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন বিভাগ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করেছে। হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, স্থানীয়দের সতর্ক করা এবং সংঘাত কমাতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। হাতির কারণে মানুষের প্রাণহানি কিংবা ফসলের ক্ষতির ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাতি তাড়ানো বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। হাতির স্বাভাবিক বিচরণপথ পুনরুদ্ধার, বনভূমি সংরক্ষণ এবং নিরাপদে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সমাধানে ভারতের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

সীমান্তবর্তী হাতিগুলো বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশের বাস্তুতন্ত্রের অংশ। এ কারণে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রশ্ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাতির চলাচল নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সম্পর্কে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান কঠিন হবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে হাতির অবাধ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সীমান্তে হাতির চলাচলের পথ পুনরায় সচল করা এবং দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী বছরগুলোতে হাতির খাদ্যসংকট, লোকালয়ে অনুপ্রবেশ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। ফলে সংকট নিরসনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বন সংরক্ষণ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%