ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শীতের আগমনে খেজুর গাছ কাটা ও হাঁড়ি বাঁধার প্রস্তুতি, কমছে গাছের সংখ্যা


শীতের আগমনে খেজুর গাছ কাটা ও হাঁড়ি বাঁধার প্রস্তুতি, কমছে গাছের সংখ্যা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে শীতের আগমন বার্তা আসার সাথে সাথে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। হেমন্তের শেষ ভাগ থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গাছিরা খেজুর গাছের পরিচর্যা, নির্দিষ্ট অংশ কাটা এবং রস সংগ্রহের জন্য হাঁড়ি বাঁধার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। শীতের সকালে খেজুরের মিষ্টি রস এবং সেই রস থেকে তৈরি পাটালি ও ঝোলা গুড়ের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা অপেক্ষা করছেন। তবে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকিয়ে রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

উপজেলার দাওকান্দি, পানানগর, ঝালুকা ও জয়নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছিরা খেজুর গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোমরে দড়ি বেঁধে গাছে উঠে তাঁরা নির্দিষ্ট অংশ ছেঁটে রস সংগ্রহের উপযোগী করছেন। সন্ধ্যায় গাছে মাটির হাঁড়ি বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। রাতভর সেই হাঁড়িতে জমছে খেজুরের রস, যা ভোরে সংগ্রহ করা হয়।

স্থানীয় প্রবীণ গাছি মো. সাহাজ আলী (৫০) জানিয়েছেন, এ বছর তিনি প্রায় ৮০টি খেজুর গাছ কেটেছেন। তিনি বলেন, "কার্তিক মাসের শেষ দিকে গাছ প্রস্তুত করলে রস ভালো পাওয়া যায়।" একটি গাছ থেকে দৈনিক দুই থেকে চার লিটার পর্যন্ত রস সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। সংগৃহীত রস দিয়ে তিনি খাঁটি পাটালি ও ঝোলা গুড় তৈরি করবেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, "দুর্গাপুরের খেজুরের গুড়ের সুনাম রয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। শীতের মৌসুমে এ গুড়ের চাহিদা বাড়ে।" রস সংগ্রহ থেকে গুড় তৈরি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় গাছিদের দীর্ঘ পরিশ্রম করতে হয়।

দেশজুড়ে রয়েছে গুড়ের চাহিদা

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দুর্গাপুরের খেজুরের পাটালি গুড়ের চাহিদা রাজশাহী শহরের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে। শীতের মৌসুমে খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় দিয়ে পিঠা-পুলি, পায়েসসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরি করা হয়। গ্রামবাংলার শীতকালীন খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড় গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

একসময় গ্রামের বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে ও মাঠের পাশে সারি সারি খেজুর গাছ দেখা যেত। শীত এলেই গাছিদের কর্মব্যস্ততা, রস সংগ্রহ এবং গুড় তৈরির আয়োজন গ্রামীণ জীবনে ভিন্ন আমেজ সৃষ্টি করত। সময়ের পরিবর্তনে সেই পরিচিত দৃশ্য অনেক এলাকায় কমে আসছে।

আরও পড়ুন: জমি নেই, একমাত্র সম্বল বসতঘরেই আব্দুল করিমকে দাফন

কমছে খেজুর গাছ, শঙ্কায় ঐতিহ্য

গাছিদের অভিযোগ, আগের তুলনায় এলাকায় খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। কেউ কেউ ইটভাটাসহ অন্যান্য কাজে বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে রস সংগ্রহের সুযোগ যেমন কমছে, তেমনি গাছিদের ঐতিহ্যবাহী পেশাও হুমকির মুখে পড়ছে।

গাছিরা জানান, খেজুর গাছ প্রস্তুত করা, নিয়মিত পরিচর্যা, রস সংগ্রহ এবং গুড় তৈরি—প্রতিটি ধাপেই শ্রম ও সময় দিতে হয়। তারপরও এ পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে খাঁটি খেজুরের রস ও গুড়ের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।

তাদের মতে, খেজুর গাছ সংরক্ষণ, নতুন গাছ রোপণ এবং গাছিদের উৎসাহিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পাওয়া গেলে এ ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বৈঠক মঙ্গলবার

কাঁচা রস পানে সতর্কতার পরামর্শ

খেজুরের রস সংগ্রহ ও পান করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত সতর্কতা জরুরি। বাদুড়ের মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় কাঁচা খেজুরের রস পান না করার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। রস সংগ্রহের হাঁড়ি এমনভাবে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে বাদুড় বা অন্য কোনো প্রাণী রসে মুখ দিতে না পারে। রস ভালোভাবে ফুটিয়ে পান করা তুলনামূলক নিরাপদ।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে দুর্গাপুরের গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ আরও জমে উঠবে। গাছিদের ব্যস্ততা, ভোরের রস সংগ্রহ এবং খাঁটি গুড়ের মৌসুমি চাহিদায় মুখর হয়ে উঠবে গ্রামীণ জনপদ। তবে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে খেজুর গাছ সংরক্ষণ ও নতুন গাছ রোপণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে একসময় গ্রামবাংলার শীতের অন্যতম পরিচিত অনুষঙ্গ খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

আরও পড়ুন: দেশ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন রুমি, বললেন-‘আপনারা ভালো থাকেন’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন

পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং পদ্মা সেতু ও সংলগ্ন অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এই তথ্য জানান রিটকারী মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) চেয়ারম্যান আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া।

হাইকোর্ট বেঞ্চ, বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ দ্বারা গঠিত, এই আবেদনের শুনানি করবে।

রিট পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর প্রাকৃতিক গঠন, নদীতীরের স্থিতিশীলতা, পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এছাড়া, পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

রিটে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়া, আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অভিযোগের তদন্ত, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া মন্তব্য করেন, পদ্মা নদী বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হলে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিজমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিকটক থেকে শ্যালিকার কাছে আসা, মাসুদ রানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


টিকটক থেকে শ্যালিকার কাছে আসা, মাসুদ রানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

নওগাঁর বদলগাছীতে টিকটক ভিডিও তৈরি করার সময় শালিকার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তার ছোট বোনকে বিয়ে করার ঘটনায় আলোচনায় আসা মো. মাসুদ রানাকে নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী মো. শাহীন কাদির ডলার অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলামবিরোধী ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) আইনজীবী শাহীন কাদির ডলারের দেওয়া গণবিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়। মাসুদ রানা একজন আইনজীবী সহকারী এবং টিকটকার হিসেবে পরিচিত।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাসুদ রানাকে সেরেস্তার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সম্মানিত মক্কেল ও সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, সেরেস্তার মামলা, আইনি কার্যক্রম কিংবা দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য। একই সঙ্গে সেরেস্তার নাম ব্যবহার করে তার সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতেও সতর্ক করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, মাসুদ রানার সঙ্গে সেরেস্তার নাম ব্যবহার করে কোনো অননুমোদিত যোগাযোগ বা আর্থিক লেনদেনের ফলে সৃষ্ট কার্যক্রমের দায় সেরেস্তা কিংবা সেখানে কর্মরত কেউ নেবেন না।

সম্প্রতি মাসুদ রানার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের শালিকাকে নিয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গিসংবলিত টিকটক ভিডিও প্রকাশ করে আসছিলেন। এর মধ্যে গত ২৫ অক্টোবর শালিকাকে বিয়ে করার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি কয়েকটি গণমাধ্যমেও সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মাসুদ রানা ও তার স্ত্রী মৌসুমীর দাম্পত্য জীবন রক্ষার বিষয়কে কেন্দ্র করে মৌসুমীর ছোট বোন পূর্ণিমার সঙ্গে মাসুদ রানার বিয়ের ঘটনা সামনে আসে। গত ২৪ অক্টোবর তার ভাড়া বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন তাদের বিয়ে হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে আলোচিত টিকটকার মাসুদ রানা জানিয়েছেন, শালিকার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তার সঙ্গে পূর্বে করা ভিডিওগুলোর জন্য তাকে হেনস্তার শিকার হতে হতো। তাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমির সম্মতি ও সহযোগিতায় শালিকা পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছেন।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো পুরুষের জন্য স্ত্রী ও তার বোনকে একই সময়ে বিবাহবন্ধনে রাখা নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একসঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এ বিষয়ে মাওলানা রেজাউল করিম বলেছেন, আল্লাহ যা হারাম ঘোষণা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ। তাই একই সময়ে দুই বোনকে বিয়ে করে সংসার করার সুযোগ নেই। তবে স্ত্রী মারা গেলে বা তালাক দিলে তার বোনকে বিয়ে করা যেতে পারে বলেও তিনি জানান।

এসব ঘটনা ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী শাহীন কাদির ডলারের গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাসুদ রানাকে সেরেস্তার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুর সীমান্তে আটকে ১৩০ হাতি, ভারত প্রবেশ বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


শেরপুর সীমান্তে আটকে ১৩০ হাতি, ভারত প্রবেশ বন্ধ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হাতির চলাচলের পুরনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৩০টিরও বেশি বন্য হাতি আটকে পড়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী গবেষকরা। ভারতের মেঘালয় অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং হাতির বিচরণক্ষেত্রে কৃষিকাজ সম্প্রসারণকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সংকট নিরসনে ভারতকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানোর কথাও জানিয়েছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। তবে এখনো কোনো কার্যকর সমাধানের তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিবিসি বাংলা জানায়, বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় একসময় হাতি চলাচলের জন্য ৪৪টি গেট এবং ১১টি নদী বা ছড়াপথ ব্যবহৃত হতো। এসব পথ দিয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করত বন্য এশীয় হাতির দল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তের একাধিক চলাচলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতিগুলোর স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে এই অঞ্চলে হাতির সংখ্যা ছিল ৫০টির কাছাকাছি। বর্তমানে তা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫টিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন কর্মকর্তা ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, আগে হাতিগুলো বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশে আসত এবং অধিকাংশ সময় ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে বিচরণ করত। কিন্তু এখন অনেক হাতিকে সারা বছর বাংলাদেশের অংশেই অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে।

গবেষকদের মতে, সীমান্তে বেড়া ও গেট নির্মাণের পাশাপাশি ভারতের কিছু পুরনো বিচরণক্ষেত্রে কাজুবাদামের চাষ সম্প্রসারিত হওয়ায় হাতির চলাচল এবং খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ কমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের গারো পাহাড়সংলগ্ন বনাঞ্চলেও কৃষিজমি ও বসতি বেড়েছে। এতে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

খাদ্যসংকটে লোকালয়ে হাতির বিচরণ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ধ্যার পর হাতির দলকে বন থেকে বেরিয়ে ফসলি জমি ও লোকালয়ের দিকে যেতে দেখা যায়। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে বনের ভেতরে খাবার ও পানির প্রাপ্যতা কমে গেলে হাতি বিকল্প খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করে।

ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিমের তথ্য অনুযায়ী, একটি এশীয় বন্য হাতির দৈনিক প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কেজি খাবার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। এ চাহিদা পূরণে হাতিকে বিস্তৃত এলাকায় বিচরণ করতে হয়। কিন্তু বনভূমি কমে যাওয়া এবং সীমান্তপথ বন্ধ থাকায় তাদের খাদ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, হাতির আক্রমণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক কৃষক জমির চারপাশে তারের বেড়া বসাচ্ছেন। কোথাও কোথাও এসব বেড়ায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাতি তাড়াতে পটকা ফোটানো, মশাল জ্বালানো এবং অন্যান্য পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাতকে আরো বিপজ্জনক করে তুলছে।

বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত এক যুগে শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে অন্তত ৩৫টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতের মতো ঘটনাও এসব মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষতির ঘটনাও ঘটছে।

আবাসস্থল সংকোচনে বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত

প্রকৃতি সংরক্ষণবিদদের মতে, গারো পাহাড়ের বনাঞ্চল একসময় হাতির বিস্তৃত বিচরণক্ষেত্র ছিল। সময়ের সঙ্গে সেখানে কৃষিজমি, বসতি ও গবাদি পশুর বিচরণ বেড়েছে। ফলে হাতির চলাচলের জায়গা কমে গিয়ে মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকার সঙ্গে তাদের সংঘাত বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন বিভাগ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করেছে। হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, স্থানীয়দের সতর্ক করা এবং সংঘাত কমাতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। হাতির কারণে মানুষের প্রাণহানি কিংবা ফসলের ক্ষতির ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাতি তাড়ানো বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। হাতির স্বাভাবিক বিচরণপথ পুনরুদ্ধার, বনভূমি সংরক্ষণ এবং নিরাপদে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সমাধানে ভারতের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

সীমান্তবর্তী হাতিগুলো বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশের বাস্তুতন্ত্রের অংশ। এ কারণে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রশ্ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাতির চলাচল নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সম্পর্কে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান কঠিন হবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে হাতির অবাধ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সীমান্তে হাতির চলাচলের পথ পুনরায় সচল করা এবং দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী বছরগুলোতে হাতির খাদ্যসংকট, লোকালয়ে অনুপ্রবেশ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। ফলে সংকট নিরসনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বন সংরক্ষণ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রযুক্তি খাতের আয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে ঘিরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে দরপতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


প্রযুক্তি খাতের আয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে ঘিরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে দরপতন

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটেছে, কারণ গত সপ্তাহের নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

শুক্রবার তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর সোমবার কিছুটা কমেছে। যদিও বাজার সামান্য স্বস্তি পেয়েছে, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটেনি। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হতে পারে— এমন আশঙ্কা বাজারের মনোভাবকে দুর্বল করে রেখেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিপুল বিনিয়োগের ফলে শেয়ারবাজার একাধিকবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে এই বিপুল বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মুনাফা এনে দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থ থেকে আদৌ কখন এবং কতটা মুনাফা আসবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন। একই সঙ্গে সুদের হার ও বন্ডের মুনাফার হার বাড়তে থাকায় কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেটের আর্থিক ফলাফল প্রকাশিত হবে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান বহুল আলোচিত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ প্রযুক্তি কোম্পানির অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংয়ের ফলাফলও প্রকাশ করা হবে।

গত সপ্তাহে টেসলা ও মেটার আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রযুক্তি খাতে বিপুল ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে।

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তা স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘চলতি আয় প্রকাশের মৌসুমের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের আগে এআই খাতের ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও অ্যামাজন এখন বিনিয়োগকারীদের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে যাচ্ছে। এটি এমন কোনো প্রান্তিক নয়, যেখানে একটি কোম্পানি শুধু প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল দেখিয়ে বা পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়ে প্রশংসা পেয়ে যাবে। বিনিয়োগকারীরা এখন বাস্তব প্রমাণ চান।’

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান তিনটি শেয়ারসূচকই দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এশিয়ার বাজারগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা যায়।

এআই খাতের পরিস্থিতি বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে এক শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে। এ ছাড়া টোকিও, সাংহাই, হংকং, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও ম্যানিলার বাজারেও দর কমেছে।

এদিকে শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংকটের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম তিন শতাংশের বেশি বেড়েছিল। উত্তর গোলার্ধে শীতকাল ঘনিয়ে আসায় জ্বালানির চাহিদা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে সোমবার তেলের দাম এক শতাংশের বেশি কমেছে।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন— এমন জল্পনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কয়েকজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন মার্কিন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরুর আগের কয়েক মাস বিশেষভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন, যা ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা শুরুর আশঙ্কা কমাতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘আমাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমি কি এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করব, যা করা খুবই সহজ, নাকি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাব? ব্যস, এটাই।’

এদিকে ওই অঞ্চলে আরও সামরিক শক্তি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরির বহরও রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জনবলও কমানো হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) এবং জাপান ব্যাংকের মুদ্রানীতিসংক্রান্ত সিদ্ধান্তও বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে।

ফেডারেল রিজার্ভ এবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%