সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৫৯ পি.এম
নওগাঁর বদলগাছীতে টিকটক ভিডিও তৈরি করার সময় শালিকার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তার ছোট বোনকে বিয়ে করার ঘটনায় আলোচনায় আসা মো. মাসুদ রানাকে নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী মো. শাহীন কাদির ডলার অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলামবিরোধী ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) আইনজীবী শাহীন কাদির ডলারের দেওয়া গণবিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়। মাসুদ রানা একজন আইনজীবী সহকারী এবং টিকটকার হিসেবে পরিচিত।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাসুদ রানাকে সেরেস্তার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সম্মানিত মক্কেল ও সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, সেরেস্তার মামলা, আইনি কার্যক্রম কিংবা দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য। একই সঙ্গে সেরেস্তার নাম ব্যবহার করে তার সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতেও সতর্ক করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, মাসুদ রানার সঙ্গে সেরেস্তার নাম ব্যবহার করে কোনো অননুমোদিত যোগাযোগ বা আর্থিক লেনদেনের ফলে সৃষ্ট কার্যক্রমের দায় সেরেস্তা কিংবা সেখানে কর্মরত কেউ নেবেন না।
সম্প্রতি মাসুদ রানার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের শালিকাকে নিয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গিসংবলিত টিকটক ভিডিও প্রকাশ করে আসছিলেন। এর মধ্যে গত ২৫ অক্টোবর শালিকাকে বিয়ে করার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি কয়েকটি গণমাধ্যমেও সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মাসুদ রানা ও তার স্ত্রী মৌসুমীর দাম্পত্য জীবন রক্ষার বিষয়কে কেন্দ্র করে মৌসুমীর ছোট বোন পূর্ণিমার সঙ্গে মাসুদ রানার বিয়ের ঘটনা সামনে আসে। গত ২৪ অক্টোবর তার ভাড়া বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন তাদের বিয়ে হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে আলোচিত টিকটকার মাসুদ রানা জানিয়েছেন, শালিকার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তার সঙ্গে পূর্বে করা ভিডিওগুলোর জন্য তাকে হেনস্তার শিকার হতে হতো। তাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমির সম্মতি ও সহযোগিতায় শালিকা পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছেন।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো পুরুষের জন্য স্ত্রী ও তার বোনকে একই সময়ে বিবাহবন্ধনে রাখা নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একসঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এ বিষয়ে মাওলানা রেজাউল করিম বলেছেন, আল্লাহ যা হারাম ঘোষণা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ। তাই একই সময়ে দুই বোনকে বিয়ে করে সংসার করার সুযোগ নেই। তবে স্ত্রী মারা গেলে বা তালাক দিলে তার বোনকে বিয়ে করা যেতে পারে বলেও তিনি জানান।
এসব ঘটনা ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী শাহীন কাদির ডলারের গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাসুদ রানাকে সেরেস্তার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হাতির চলাচলের পুরনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৩০টিরও বেশি বন্য হাতি আটকে পড়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী গবেষকরা। ভারতের মেঘালয় অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং হাতির বিচরণক্ষেত্রে কৃষিকাজ সম্প্রসারণকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সংকট নিরসনে ভারতকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানোর কথাও জানিয়েছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। তবে এখনো কোনো কার্যকর সমাধানের তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিবিসি বাংলা জানায়, বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় একসময় হাতি চলাচলের জন্য ৪৪টি গেট এবং ১১টি নদী বা ছড়াপথ ব্যবহৃত হতো। এসব পথ দিয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করত বন্য এশীয় হাতির দল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তের একাধিক চলাচলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতিগুলোর স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে এই অঞ্চলে হাতির সংখ্যা ছিল ৫০টির কাছাকাছি। বর্তমানে তা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫টিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন কর্মকর্তা ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, আগে হাতিগুলো বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশে আসত এবং অধিকাংশ সময় ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে বিচরণ করত। কিন্তু এখন অনেক হাতিকে সারা বছর বাংলাদেশের অংশেই অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে।
গবেষকদের মতে, সীমান্তে বেড়া ও গেট নির্মাণের পাশাপাশি ভারতের কিছু পুরনো বিচরণক্ষেত্রে কাজুবাদামের চাষ সম্প্রসারিত হওয়ায় হাতির চলাচল এবং খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ কমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের গারো পাহাড়সংলগ্ন বনাঞ্চলেও কৃষিজমি ও বসতি বেড়েছে। এতে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
খাদ্যসংকটে লোকালয়ে হাতির বিচরণ
শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ধ্যার পর হাতির দলকে বন থেকে বেরিয়ে ফসলি জমি ও লোকালয়ের দিকে যেতে দেখা যায়। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে বনের ভেতরে খাবার ও পানির প্রাপ্যতা কমে গেলে হাতি বিকল্প খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করে।
ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিমের তথ্য অনুযায়ী, একটি এশীয় বন্য হাতির দৈনিক প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কেজি খাবার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। এ চাহিদা পূরণে হাতিকে বিস্তৃত এলাকায় বিচরণ করতে হয়। কিন্তু বনভূমি কমে যাওয়া এবং সীমান্তপথ বন্ধ থাকায় তাদের খাদ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, হাতির আক্রমণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক কৃষক জমির চারপাশে তারের বেড়া বসাচ্ছেন। কোথাও কোথাও এসব বেড়ায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাতি তাড়াতে পটকা ফোটানো, মশাল জ্বালানো এবং অন্যান্য পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাতকে আরো বিপজ্জনক করে তুলছে।
বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত এক যুগে শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে অন্তত ৩৫টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতের মতো ঘটনাও এসব মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষতির ঘটনাও ঘটছে।
আবাসস্থল সংকোচনে বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত
প্রকৃতি সংরক্ষণবিদদের মতে, গারো পাহাড়ের বনাঞ্চল একসময় হাতির বিস্তৃত বিচরণক্ষেত্র ছিল। সময়ের সঙ্গে সেখানে কৃষিজমি, বসতি ও গবাদি পশুর বিচরণ বেড়েছে। ফলে হাতির চলাচলের জায়গা কমে গিয়ে মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকার সঙ্গে তাদের সংঘাত বাড়ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন বিভাগ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করেছে। হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, স্থানীয়দের সতর্ক করা এবং সংঘাত কমাতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। হাতির কারণে মানুষের প্রাণহানি কিংবা ফসলের ক্ষতির ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাতি তাড়ানো বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। হাতির স্বাভাবিক বিচরণপথ পুনরুদ্ধার, বনভূমি সংরক্ষণ এবং নিরাপদে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সমাধানে ভারতের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
সীমান্তবর্তী হাতিগুলো বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশের বাস্তুতন্ত্রের অংশ। এ কারণে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রশ্ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাতির চলাচল নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সম্পর্কে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান কঠিন হবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে হাতির অবাধ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সীমান্তে হাতির চলাচলের পথ পুনরায় সচল করা এবং দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী বছরগুলোতে হাতির খাদ্যসংকট, লোকালয়ে অনুপ্রবেশ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। ফলে সংকট নিরসনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বন সংরক্ষণ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে.
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটেছে, কারণ গত সপ্তাহের নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
শুক্রবার তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর সোমবার কিছুটা কমেছে। যদিও বাজার সামান্য স্বস্তি পেয়েছে, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটেনি। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হতে পারে— এমন আশঙ্কা বাজারের মনোভাবকে দুর্বল করে রেখেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিপুল বিনিয়োগের ফলে শেয়ারবাজার একাধিকবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে এই বিপুল বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মুনাফা এনে দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থ থেকে আদৌ কখন এবং কতটা মুনাফা আসবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন। একই সঙ্গে সুদের হার ও বন্ডের মুনাফার হার বাড়তে থাকায় কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেটের আর্থিক ফলাফল প্রকাশিত হবে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান বহুল আলোচিত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ প্রযুক্তি কোম্পানির অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংয়ের ফলাফলও প্রকাশ করা হবে।
গত সপ্তাহে টেসলা ও মেটার আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রযুক্তি খাতে বিপুল ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে।
এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তা স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘চলতি আয় প্রকাশের মৌসুমের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের আগে এআই খাতের ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও অ্যামাজন এখন বিনিয়োগকারীদের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে যাচ্ছে। এটি এমন কোনো প্রান্তিক নয়, যেখানে একটি কোম্পানি শুধু প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল দেখিয়ে বা পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়ে প্রশংসা পেয়ে যাবে। বিনিয়োগকারীরা এখন বাস্তব প্রমাণ চান।’
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান তিনটি শেয়ারসূচকই দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এশিয়ার বাজারগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা যায়।
এআই খাতের পরিস্থিতি বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে এক শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে। এ ছাড়া টোকিও, সাংহাই, হংকং, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও ম্যানিলার বাজারেও দর কমেছে।
এদিকে শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংকটের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম তিন শতাংশের বেশি বেড়েছিল। উত্তর গোলার্ধে শীতকাল ঘনিয়ে আসায় জ্বালানির চাহিদা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে সোমবার তেলের দাম এক শতাংশের বেশি কমেছে।
আগামী মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন— এমন জল্পনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কয়েকজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন মার্কিন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরুর আগের কয়েক মাস বিশেষভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন, যা ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা শুরুর আশঙ্কা কমাতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘আমাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমি কি এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করব, যা করা খুবই সহজ, নাকি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাব? ব্যস, এটাই।’
এদিকে ওই অঞ্চলে আরও সামরিক শক্তি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরির বহরও রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জনবলও কমানো হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) এবং জাপান ব্যাংকের মুদ্রানীতিসংক্রান্ত সিদ্ধান্তও বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে।
ফেডারেল রিজার্ভ এবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘সরকার চাইলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ’—এমন মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, শান্তিতে বসবাসের জন্য পুলিশের ভূমিকা অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রয়োজন হলে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও দ্বিধা করবে না।
আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, ‘পুলিশ যখন বলপ্রয়োগ করে, তখন এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার যখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তখন দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কাজ করতে হবে। পুলিশ সদস্যদের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’
আইজিপি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। গুজব ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা জরুরি।’
তিনি জানান, গত দুই মাসে ২৭ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি’র তথ্য অনুসারে, বিশ্বের প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে বসবাস করছে। বাংলাদেশে ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান। প্রতি বছর ডেঙ্গুজ্বরের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ২০০০ সালে, রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুজ্বর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা এবং অনেক মৃত্যুর কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ডেঙ্গুজ্বরকে অনেকেই নিশ্চিত মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত করতে শুরু করে। এর ফলে রক্ত ও প্ল্যাটিলেট দেওয়া এবং অ্যান্টিবডি পরীক্ষার জন্য হিড়িক পড়ে যায়।
বর্তমান বছরে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু রোগের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রাজধানীসহ সারা দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টির ধরন পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল এবং প্রাইভেট ক্লিনিকে অসংখ্য রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, এমনকি অনেক রোগী ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গুর সংক্রমণ সারা বছর ধরে চলমান এবং নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে ডেঙ্গু নতুন কোনো রোগ নয়, ২০০০ সাল থেকে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করছি। তবে ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এর প্রকোপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে টিকা বা ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা। ডেঙ্গুজ্বরের জন্য কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও নেই। টিকা বা ভ্যাকসিন ডেঙ্গু প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকরী উপায়। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, করোনা মহামারি শুরুর এক বছরের মধ্যে আমরা টিকা পেয়েছি। সারা বিশ্বের মানুষ করোনা টিকার আওতায় এসেছে। কিন্তু ডেঙ্গু এত বছর ধরে বিভিন্ন দেশে প্রকোপ ছড়ালেও কেন এখনো এর টিকা সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া অনেকে জানতে চান, আমাদের দেশে ডেঙ্গুর কোনো টিকা দেওয়া হয় কি না বা অতি দ্রুত সময়ে টিকা দেওয়া হবে কিনা।
আসলে ডেঙ্গুর টিকা একেবারে নেই তা নয়। ডেঙ্গু ভাইরাসের চার ধরনের সেরোটাইপ রয়েছে, ডেন ১, ২, ৩ ও ৪। পূর্বে এমন কোনো কার্যকরী টিকা বা ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি যা এই চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধে কাজ করবে। যদিও ডেঙ্গুর টিকা তৈরি করার জন্য অনেক বছর ধরে চেষ্টা চলছে, তবে দুটি টিকা ইতিমধ্যে বের হয়েছে, ডেংভ্যাক্সিয়া এবং কিউডেঙ্গা ভ্যাকসিন।
ডেংভ্যাক্সিয়া: এই টিকাটি ফ্রান্সের একটি ওষুধ কোম্পানি তৈরি করেছে। টিকাটির প্রয়োগে শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, কিন্তু সেল মেডিয়েটেড ইমিউনিটি তৈরি হয় না। ফলে, এই টিকা নেওয়ার পর ডেঙ্গু ভাইরাসে সংক্রমিত হলে কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এর কারণ পরিষ্কার নয়, তবে এ ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াকে এন্টিবডি ডিপেন্ডেন্ট এনহান্সমেন্ট বলা হয়।
এই টিকার তিনটি ডোজ দিতে হয় ছয় মাস পরপর। টিকাটির ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত ৯ থেকে ১৬ বছরের বাচ্চাদের দেওয়া হয়, অর্থাৎ ৯ বছরের নিচে এবং ১৬ বছরের ওপরে কেউ এই টিকা নিতে পারবেন না। এছাড়া, যাদের একবারও ডেঙ্গু হয়নি, তাদের এই টিকা দেওয়া যাবে না। যাদের রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ অ্যান্টিবডি পাওয়া যায় বা যারা আগে কখনো ডেঙ্গু হয়েছিল, তাদের টিকাটি দেওয়া যায়। পূর্বে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হলে এবং ভুলক্রমে তাকে এই টিকা দেওয়া হলে মারাত্মক জটিলতার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই যারা পূর্বে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়নি, তাদের জন্য এই টিকাটি নিরাপদ নয়। কম বয়সী শিশু এবং যাদের পূর্বে ডেঙ্গু হয়নি, তাদের এই টিকা দিলে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু মারাত্মক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহের কথা শোনা যায়। কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে জনমনে শঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এবং জনগণের মাঝে সংখ্যার কারণে এই টিকাটি আপাতত আর তৈরি হচ্ছে না।
কিউডেঙ্গা: এই টিকাটি জাপানের একটি কোম্পানি তৈরি করেছে। টিকাটির একটি বৈশিষ্ট্য হলো, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকুক বা না থাকুক, উভয় ক্ষেত্রেই এটি দেওয়া যায়। টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু সংক্রমণের পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের কিউডেঙ্গা টিকা দেওয়া যায়। অনেকের মতে, ৪ বছর বয়সী শিশু থেকে ৬০ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ এই টিকাটি নিতে পারবে। পৃথিবীর অনেক দেশে ইতিমধ্যে টিকাটির ব্যবহার শুরু হয়েছে। দুটি ডোজ দিতে হয় তিন মাস পরপর। এই টিকা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধে কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, কিউডেঙ্গার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুবই কম। পৃথিবীর প্রায় ২০টি দেশে টিকাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়াতে কিউডেঙ্গা টিকাটি প্রচুর পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে। কিউডেঙ্গা টিকাটি চার বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয় প্রায় ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই। এই টিকা ৭০ ভাগ কার্যকরী এবং যারা এটি একবার গ্রহণ করে, তাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে ৯০ ভাগ রোগীকে হাসপাতালে যেতে হয় না।
ডেংভ্যাক্সিয়া এখনও স্বীকৃতি পায়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার, তবে কিউডেঙ্গার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বাংলাদেশে অনেকেই কিউডেঙ্গা টিকা ব্যবহারের পক্ষপাতী, বিশেষ করে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের একটি বড় অংশ শিশু ও কিশোর। তাই ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য টিকা দেওয়া উচিত বলে অনেকের মত। তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। অনেক দেশে টিকাটি ব্যবহৃত হচ্ছে, যদি ফলাফল ইতিবাচক, কার্যকরী ও ভালো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের দেশে এই টিকা দেওয়ার বিষয়টি চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।
সম্প্রতি একটি খবরে জানা গেছে, ডেঙ্গু মোকাবেলায় নতুন একটি ঢাল পেতে যাচ্ছে ভারত। কিউডেঙ্গা ভারতে বাজারজাত ও বিতরণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করেছে ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবরেটরী। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ডেঙ্গুর নিশ্চিত সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাটি কার্যকারিতা দেখিয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার এক বছর পর নিশ্চিত ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা ছিল ৮০.২ শতাংশ, আর ১৮ মাস পর ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ৯০.৪ শতাংশ। ভারতের ঔষধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা চলতি বছরের জুলাইয়ে কিউডেঙ্গার অনুমোদন দিয়েছে। তবে বাজারে আসার আগে আরো কিছু নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ডেঙ্গুর আরেকটি টিকা আছে ‘টেট্রাভালেন’ নামের, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের আবিষ্কার করা ডেঙ্গু টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালিয়েছিল আই.সি.ডি.ডি.আর.বি'র গবেষকরা। ওই টিকার নাম টিভি০০৫। যেটার পরীক্ষা প্রথম দুই ধাপ শেষ হয়েছে এবং সফলতা পেয়েছে। পরবর্তী ধাপগুলোর পরীক্ষা চালানোর চেষ্টা চলছে। এই টিকার সুবিধা হলো একটি ডোজ নিলেই ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধে কার্যকরী হবে। শিশুসহ যেকোনো বয়সের মানুষের জন্যই টিকাটি কার্যকরী। ভারতেও এই টিকার পরীক্ষা চলছে।
মনে রাখতে হবে যতদিন কার্যকরী টিকা আমরা না পাই, ততদিন ডেঙ্গু থেকে নিরাপদে থাকতে আমাদের প্রতিকার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করাটাই আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। বাস্তবতা হলো, ডেঙ্গু শুধু শহরকেন্দ্রিক রোগ নয়, সারা দেশে গ্রামেগঞ্জে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আমাদের সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি টেকসই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জনসাধারণকেও এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গু সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হতে পারে।
লেখক: একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ