ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কোনো ঈর্ষা ও তুলনা নয়-সূর্যবংশীকে নিয়ে ভারতীয় তারকার মন্তব্য


কোনো ঈর্ষা ও তুলনা নয়-সূর্যবংশীকে নিয়ে ভারতীয় তারকার মন্তব্য

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রাজস্থান রয়্যালসের সতীর্থ এবং ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার ধ্রুব জুড়েল প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়েছেন। জুড়েল অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বৈভবের প্রতিভা সাধারণ হিসাব-নিকাশ বা তুলনার একেবারেই বাইরে, যা তার পারফরম্যান্স এবং খেলার ধরন দেখে বোঝা যায়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১.১ কোটি টাকায় রাজস্থান তাঁকে দলে নেওয়ার পর থেকেই বৈভবকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই তরুণ ক্রিকেটার সেই প্রত্যাশারও জবাব দিয়েছেন।

সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার পডকাস্ট ‘ব্যায়ঠ অ্যান্ড বোল’-এ বৈভবকে নিয়ে আলাপকালে জুড়েল বলেন, ‘বৈভব সব প্রশংসারই যোগ্য। ও যা করে, সেটা আপনি স্বপ্নেও ভাবতে পারবেন না। ১৫ বছরের একটা ছেলে সবাইকে ব্যাট চালাচ্ছে, সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ওকে নিয়ে কোনও হিংসা নেই, তুলনাও নেই। তুলনা করার মতো কীই বা আছে? এটা আমাদের কল্পনারও বাইরে। তুলনা তখনই হয়, যখন মনে হয় যে আপনিও একই রকম কিছু করতে পারবেন। কিন্তু ও একেবারেই আলাদা। অবিশ্বাস্য প্রতিভা। আমরা শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখি।’

জুড়েল বৈভবের প্রশংসার পাশাপাশি সতীর্থদের উপর আলাদা চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও মজার ছলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘পাওয়ারপ্লেতে ও যেভাবে মারতে থাকে, ওকে দেখে মনে হয়, আমরা সুযোগ পেলেই আমাদেরও মারতে শুরু করা উচিত। কারণ ও তো একটানা মারতেই থাকে।’

আইপিএলের পাশাপাশি ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ‘এ’ দলের হয়েও নজর কেড়েছেন বৈভব। জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজে প্রত্যাশামতো রান করতে পারেননি তিনি, তিন ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ছিল ১৪, ১৩ এবং ১৫ রান।

তবে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে পরের সিরিজে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান বাঁ হাতি এই ব্যাটার। তিন ম্যাচে ১৫১ রান করে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। সিরিজের শেষ ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান বৈভব, যেখানে তাঁর ব্যাট থেকে আসে দুটি অর্ধশতরান।

আরও পড়ুন: ঢাকা টেস্ট বাংলাদেশের জন্য নিজেদের প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

এরপর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতীয় একাদশে জায়গা হয়নি বৈভবের। তাঁর পরিবর্তে অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন করেন দলে ফিরে আসা সঞ্জু স্যামসন। ভারত সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতে।

২০২৬ এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। তবে সঞ্জু স্যামসন দলে থাকায় আসন্ন ম্যাচগুলিতে তাঁকে প্রথম একাদশে সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯ বছর পর জাপানে মুক্তি পাচ্ছে আমির খানের ‘সিতারে জমিন পার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


৯ বছর পর জাপানে মুক্তি পাচ্ছে আমির খানের ‘সিতারে জমিন পার’

বলিউড তারকা আমির খান আবারও জাপানের সিনেমা হলে ফিরছেন। প্রায় নয় বছর পর, তার অভিনীত সিনেমা ‘সিতারে জমিন পার’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে দেশটির প্রেক্ষাগৃহে। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি জাপানে ২০২৭ সালের বসন্তে প্রদর্শিত হবে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানি পরিবেশক গিক পিকচার্স ২৫ সেপ্টেম্বর সিনেমাটির জাপানে মুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে সিনেমাটি ‘সিতারে! দ্য মিরাকল টিম অব স্টারডাস্ট’ নামে মুক্তি পাবে। জাপানের হিউম্যান ট্রাস্ট সিনেমা ইউরাকুচো, ইয়েবিসু গার্ডেন সিনেমা-সহ আরও বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে।

জাপানে আমির খানের সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘দঙ্গল’, যা ২০১৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এরপর ২০১৯ সালের আগস্টে তার প্রযোজিত ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ও জাপানের দর্শকদের কাছে পৌঁছেছিল। ফলে, ‘সিতারে জমিন পার’ হবে নয় বছর পর দেশটিতে আমির খানের অভিনীত নতুন সিনেমা।

‘সিতারে জমিন পার’ নামটি আমির খানের ২০০৭ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘তারে জমিন পার’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে এটি ওই সিনেমার সরাসরি সিক্যুয়েল নয়। গল্প এবং আবেগের দিক থেকে সিনেমাটিকে ‘তারে জমিন পার’-এর আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি বলা হচ্ছে।

আর. এস. প্রসন্ন পরিচালিত সিনেমাটি ২০১৮ সালের স্প্যানিশ কমেডি সিনেমা ‘চ্যাম্পিয়নস’-এর ভারতীয় রিমেক।

সিনেমায় আমির খান গুলশান নামের এক সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ক্যারিয়ারে ব্যর্থতার পাশাপাশি বেপরোয়া আচরণের কারণে একসময় তিনি সমস্যায় পড়েন। এমনকি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় তাকে সামাজিক সেবামূলক কাজের সাজাও পেতে হয়।

সেই সাজা হিসেবে তাকে একটি বাস্কেটবল দলের কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলের সদস্যরা সবাই প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্ক। শুরুতে গুলশানের কাছে কাজটি ছিল শুধুমাত্র শাস্তির অংশ। কিন্তু ধীরে ধীরে দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্ক বদলাতে থাকে।

দলের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে সাফল্য, ব্যর্থতা এবং জীবনের প্রতি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে গুলশান। হাসি, আবেগ ও মানবিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সিনেমার গল্প এগিয়ে চলে।

সিনেমাটির অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল অভিনয়শিল্পীদের নির্বাচন। দলের ১০ সদস্যের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাস্তব জীবনে প্রতিবন্ধী ১০ জন নতুন অভিনয়শিল্পী। দীর্ঘ অডিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নির্বাচন করা হয়েছে।

বক্স অফিসেও সিনেমাটি উল্লেখযোগ্য সাড়া পেয়েছে। ট্রেড ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের হিসাবে, ‘সিতারে জমিন পার’ বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৬৭.৫২ কোটি রুপি আয় করেছে। এর মধ্যে ভারতে আয় প্রায় ২০০.৭৭ কোটি এবং বিদেশের বাজার থেকে ৬৬.৭৫ কোটি রুপি। ভারতে সিনেমাটির নেট আয় ছিল প্রায় ১৬৭.৪৬ কোটি রুপি।

২০২৭ সালের বসন্তে জাপানে মুক্তির পর, আমির খানের এই সিনেমা দেশটির দর্শকদের কাছে কেমন সাড়া পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাশেদ খাঁন বিএনপি নেতা বাচ্চুকে দেখতে হাসপাতালে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাশেদ খাঁন বিএনপি নেতা বাচ্চুকে দেখতে হাসপাতালে

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। বাচ্চু ২০ সেপ্টেম্বর থেকে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যার কারণে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

রাশেদ খান শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর উত্তরার ওই বেসরকারি হাসপাতালে উপস্থিত হন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে থাকায়, বাচ্চুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে তার রাজনৈতিক সহকারীকে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী সাইদুর রহমান বাচ্চুর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। তিনি অসুস্থ বিএনপি নেতার পাশে কিছু সময় কাটান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

হাসপাতালে বিএনপি নেতা বাচ্চুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ফুল ও ফলের ঝুড়ি উপহার দেন রাশেদ খাঁন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর আগমনে সাইদুর রহমান বাচ্চু সিরাজগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভদ্রার বুক চিরে নতুন সেতু, দুই পাড়ে মানুষের ঢল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


ভদ্রার বুক চিরে নতুন সেতু, দুই পাড়ে মানুষের ঢল

বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। ভদ্রা নদীর পানিতে শেষ বিকেলের রোদ চিকচিক করছে। নদীর ওপর নির্মিত দীর্ঘ সেতুটি সেই আলোতে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে সেতুর ওপর আলো কমার কোনো লক্ষণ নেই। একের পর এক মানুষ আসছেন। কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ ইজিবাইকে, কেউ হেঁটে। সঙ্গে শিশু, পরিবার, স্বজন। কেউ নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন, কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন। শিশুরা এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে। কেউ এসেছেন সেতু দিয়ে পার হতে, আবার কেউ শুধু সেতুটি দেখতে।

খুলনার দাকোপ উপজেলার কালিনগর বাজারসংলগ্ন ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত গার্ডার সেতুটি এখন স্থানীয় মানুষের কাছে যোগাযোগের অবকাঠামোর চেয়ে নতুন এক আকর্ষণের নাম হয়ে উঠেছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এখনো হয়নি। কিন্তু সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। আর এই কারণেই নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে।

বহু বছরের অপেক্ষার পর নদীর বুকের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটিকে অনেকে নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। একজন বয়স্ক ব্যক্তি সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে বলছিলেন, ‘আগে এই নদী পার হতে খেয়ায় বসে অপেক্ষা করতে হতো। এখন নিজের চোখে সেতুটা দেখে মনে হচ্ছে, সময় সত্যিই বদলেছে।’

ভদ্রার দুই পাড়ের মানুষের কাছে এই পরিবর্তনটি সহজ কোনো গল্প নয়। দাকোপ এমন একটি উপজেলা, যার ভৌগোলিক বাস্তবতা প্রতিদিনের জীবনকে নদী ও পানির সঙ্গে বেঁধে রেখেছে। বঙ্গোপসাগর উপকূলের এই উপজেলা তিনটি দ্বীপ বা পোল্ডারে বিভক্ত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডার হিসেবে পরিচিত এসব এলাকার মানুষের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যেতে দীর্ঘদিন ধরে ভরসা ছিল খেয়া ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার।

নদী তখন শুধু নদী ছিল না, ছিল একটি অপেক্ষা। খেয়া কখন ছাড়বে, নদীর পানি কেমন, বাতাস কেমন, স্রোত কতটা- এসব হিসাব করেই চলতে হতো মানুষকে। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে নদীর ঘাটে এসে অপেক্ষা করতে হতো। কৃষকদের ফসল নিয়ে বাজারে যেতে নদী পার হতে হতো। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের স্কুলযাত্রাও খেয়ার ওপর নির্ভর করত। এখন সেই অপেক্ষার জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে সড়ক।

ভদ্রা নদীর পশ্চিম পাড়ে ৩২ নম্বর পোল্ডারে কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন রয়েছে। পূর্ব পাড়ে ৩৩ নম্বর পোল্ডারে দাকোপ, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, বাজুয়া ও বানীশান্তা ইউনিয়ন অবস্থিত। সাত ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই নদী ছিল বড় বাধা। সেতুটি চালু হওয়ার ফলে সেই বাধা অনেকটাই সরে গেছে। তাই স্থানীয় মানুষের কাছে সেতুটি যেন একসঙ্গে যোগাযোগ, স্বস্তি ও আনন্দের গল্প।

কালিনগর বাজারের ব্যবসায়ী দেবাশিষ রায় দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর দাবির সঙ্গে ছিলেন। তার মতে, এত দিন খেয়া পার হয়ে মুরগি ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে সময় ও অর্থ- দুটিই বেশি লাগত।

দেবাশিষ রায় বলেন, অনেকবার দাবি জানিয়েছি, অনেক অপেক্ষা করেছি। শেষ পর্যন্ত সেতু হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে ছোট ব্যবসায়ীদেরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শুধু ব্যবসায়ী নয়, কৃষকের চোখেও সেতুটির আলাদা অর্থ রয়েছে। জমিতে উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে পারলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে। পরিবহন ব্যয় কমতে পারে। কৃষকের হাতে পণ্যের ভালো দাম পৌঁছানোর সম্ভাবনাও বাড়বে। আর সেই সঙ্গে উৎপাদনের আগ্রহ বাড়তে পারে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মনে করছেন, এর প্রভাব সাত ইউনিয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দাকোপ উপজেলা সদর ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার সঙ্গে মোংলার যোগাযোগও আরো সুগম হবে। অর্থাৎ ভদ্রার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতুটি কেবল দুই পাড়কে নয়, বৃহত্তর একটি জনপদের অর্থনৈতিক যোগাযোগকেও কাছে টেনে আনছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সেতুটির আরেকটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে চিকিৎসাসেবায়। স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক হরিপদ হালদার বলেন, গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে আগে খেয়া পার করে উপজেলা বা জেলা সদরে নিতে হতো। নদীর ঘাটে অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হতো। এখন সড়কপথে দ্রুত রোগী নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের কাছেও এই সেতুর গল্প অন্যরকম।

কালিনগর জিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তমা রায়, প্রণিতা সরদার, লাবনী গাইন, প্রশান্ত রায় ও অনিক রায়ের বাড়ি নদীর পূর্ব পাড়ের শিংজোড়া ও রামনগর এলাকায়। প্রতিদিন খেয়া পার হয়ে তাদের স্কুলে যেতে হতো। খেয়া পেতে দেরি হলে সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো সম্ভব হতো না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নির্মাণের জন্য প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৩৭ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৫ টাকা। ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হয়নি। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল হয়।

পরে দ্বিতীয় দফায় ঠিকাদার নিয়োগ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের কার্যাদেশও বাতিল করা হয়। এরপর তৃতীয় দফায় কাজ পায় এমবিইএল-এইসিকেই (জেভি)। দীর্ঘ জটিলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মূল সেতুর বর্ধিত অংশ ও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬৬১ দশমিক ৬৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। সংযোগ সড়ক বা ভায়াডাক্টের দৈর্ঘ্য ১৪০ দশমিক ১৬ মিটার। সব মিলিয়ে নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৩৭ টাকা।

এলজিইডি খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি চালু হওয়ায় দাকোপের পাশাপাশি কয়রা ও পাইকগাছার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। কৃষি উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমবিইএল-এইসি-কেই (জেভি)-এর ঠিকাদার জহিরুল ইসলাম জামাল খান জানান, মূল গার্ডার সেতুর বর্ধিত অংশ ও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেবক সংগঠনের উদ্যোগে জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম আয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


সেবক সংগঠনের উদ্যোগে জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম আয়োজন

বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে রোড সেফটি প্রোগ্রামের প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন মনসুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রোড-১৩, ব্লক-এ অবস্থিত ফোকাস স্কুল প্রাঙ্গণে ‘জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম’ আয়োজন করে অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘সেবক’। সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা প্রয়োজন।" তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সেবকের ২২টি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারে আরো সচেতন করে তুলবে।

তিনি উল্লেখ করেন, "আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারাই ভবিষ্যতে গাড়ির মালিক, যাত্রী, পথচারী কিংবা চালক হবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তারা গড়ে তুলবে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ অতিথি মো. আব্দুল বারী বলেন, সেবক নিজস্ব অর্থায়নে যে কার্যক্রম শুরু করেছে, তা দ্রুত দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা সংগঠনটির জন্য কঠিন। তিনি মন্তব্য করেন, "সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের কর্মসূচি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।"

তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ সড়ক ও যানবাহনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞতা। তিনি মনে করেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে দুর্ঘটনা কমাতে তা ভূমিকা রাখবে।

ফোকাস স্কুলের সিইও নূরজাহান মুক্তা বলেন, সেবকের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বড়দেরও সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে জানার সুযোগ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।"

ফোকাস স্কুলের হেড অব স্কুল জাহানারা বেগম ও ভাইস প্রিন্সিপাল মুন মুন শিরিয়া প্রশিক্ষণ কর্মশালার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল বলেন, সেবক সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্যে রোড সেফটি নিয়ে কাজ তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনের সদস্যরা নিজস্ব অর্থায়নে এ পর্যন্ত ৯ হাজার মোটরগাড়ি চালককে বিনামূল্যে ডিফেনসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, "সেবকের পরিকল্পনা ও মডিউল অনুযায়ী ডিফেনসিভ ড্রাইভিং এবং জুনিয়র রোড সেফটি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।"

অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা, পথচারী হিসেবে দায়িত্ব, যানবাহনে নিরাপদ চলাচল এবং সড়ক ব্যবহারের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এছাড়া ফোকাস স্কুল ঢাকার হেড অব স্কুল জাহানারা বেগম ও ভাইস প্রিন্সিপাল মুন মুন শিরিয়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেবক সংগঠনের সিনিয়র উপদেষ্টা ও টিআইবির সদস্য ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল। সঞ্চালনা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন সেবকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিনিয়র প্রশিক্ষক খান মো. বাবুল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%