মোঃ উজ্জ্বল মিয়া,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৯:২৯ পি.এম
নেত্রকোনায় সাত বছর ধরে শিশুদের পাঠদান, চিঠিতে প্রশংসা ও সহযোগিতার আশ্বাস তারেক রহমানের
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করেছেন। কাজ করেছেন জনতা ব্যাংকেও। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও প্রচলিত পেশাগত পথ ছেড়ে বেছে নিয়েছেন শিশুদের শিক্ষকতা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাওয়া নায়লা সারাফের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নায়লা সারাফ। তাঁর ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে একটি চিঠি দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে নায়লা সারাফকে তাঁর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
নায়লা সারাফ গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। শিশুদের পাঠদান সহজ ও আকর্ষণীয় করতে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকে আরও কার্যকর করাই তাঁর উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে বলা হয়, নায়লা সারাফের মতো মানুষের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অন্যদেরও দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসার গুরুত্ব তুলে ধরে তাঁর কাজের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকৌশলী ও ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের শিক্ষাদানকে বেছে নেওয়া নায়লা সারাফের এই পথচলা শিক্ষা ও সমাজের কল্যাণে নিবেদিত মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজার উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে নব্বই দশকের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'চিরকুট'। সিনেমাটির টিজার এবং ট্রেলার প্রকাশের পর থেকে সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে, চিরকুট চলচ্চিত্রের রোমান্টিক গান 'প্রেমে গেলাম ডুবে' গানটি প্রিয় মানুষের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এই চলচ্চিত্র। ক্যাম্পাসজুড়ে তরুণদের উচ্ছ্বাস, বন্ধুত্ব, নস্টালজিয়া, প্রেম এবং জীবনের নানা গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেকালের একটি সত্য ঘটনা এবার বড় পর্দায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’ বর্তমান সিনেমার ভাষায় সেই সময়ের গল্পকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ১৬ অক্টোবর আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ফিল্ম ম্যানিয়া প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটির গল্প, চিত্রনাট্য এবং পরিচালনা করেছেন নির্মাতা মুনতাসির আকিব।
‘চিরকুট’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া একটি সময়কে বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর বিশাল অভিনয়শিল্পী দল। এতে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মিম, কাজী নওশাবা, সুমন পাটোয়ারী, তেহজিব, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, সঞ্জিব আহমেদ, শাওন আশরাফ, ইকবাল, আজমল মিঠু, সিয়াম নাসির, শিমুল, সাদি খান, শামীম আহসান, শেখ চাঁদনী, মাহিরা হাসান, ইব্রাহিম সুজনসহ আরও অনেকে।
শুধু পেশাদার অভিনয়শিল্পীরাই নয়, ‘চিরকুট’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। চলচ্চিত্রটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন শিক্ষার্থী অভিনয় করেছেন। ফলে সিনেমাটিতে শুধু গল্পের সময়কালই নয়, তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের আবহও বড় পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
নির্মাতা মুনতাসির আকিব বলেন, “টিজার, ট্রেলার আর রোমান্টিক গান 'প্রেমে গেলাম ডুবে' রিলিজের পর থেকে এতো রেসপন্স পাচ্ছি যা দেখে আমি অভিভূত। চিরকুট একটি বিশুদ্ধ বাংলা সিনেমা। নব্বই দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা থেকেই ‘চিরকুট’-এর গল্পের সূত্রপাত। সেই সময়ের পরিবেশ, মানুষের আবেগ এবং ঘটনাটিকে সিনেমার ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দর্শক যেন শুধু একটি গল্প দেখেন না, বরং একটি সময়কে অনুভব করতে পারেন—সেটাই আমাদের চেষ্টা। আশা করি চিরকুট এবারের দুর্গাপূজার আনন্দকে বাড়িয়ে দেবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"ও ভাই, কোন জায়গা গেলে বিচার পাব? এই মাফিয়ারা আমারে নিঃস্ব করে ফেলছে। এর বিচার করবে কারা?"
ফরিদপুরে সক্রিয় লিবিয়া মাফিয়াচক্রের বিচারের দাবিতে মানববন্ধনের সামনে সড়কে গড়াগড়ি করে এভাবেই পাগলের মতো আর্তনাদ করছিলেন নগরকান্দা উপজেলার ফুলসূতি গ্রামের মিজানুর রহমান (৪০)।
মিজানুরকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। ৩ দফায় মুক্তিপণের নামে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মাফিয়াচক্র। তারপরও মুক্তি মেলেনি।
ভয়াবহ নির্যাতন সইতে না পেরে, জানালা ভেঙে পালিয়ে লিবিয়া পুলিশের শরণাপন্ন হন মিজানুর। তার মতো আরও অন্তত ১১ জন পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ডিসি অফিসের সামনে মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে। একইসঙ্গে, মাফিয়াচক্রের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও তাদেরকে দেওয়া টাকা উদ্ধারের দাবিও জানানো হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে ইতালি নেওয়ার কথা বলে ফরিদপুরের অন্তত ১৫টি পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মাফিয়াচক্র। মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় হত্যা করা হয় একজনকে। এছাড়াও, এই চক্রের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে কয়েকজন সাড়ে ৩ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।
তাদের দাবি, এই চক্রের মূলহোতা নগরকান্দার কৃষ্ণনগর গ্রামের মুরাদ বেপারী (৪০)। সহযোগী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩৫), বকুল মাতুব্বর (৫০), ভাঙ্গার বাড়ৈইহাট গ্রামের আনোয়ার শেখ (৩৮), মনির মাতুব্বর (৩৪) এবং আসলাম ও শাহিন নামে আরও দুইজন। সহযোগীরাই স্থানীয় যুবকদের ইতালিতে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে, মূলহোতা মুরাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।
এর আগে, ২০২৩ সালে এই চক্রের ফাঁদে পড়ে ইতালির নামে লিবিয়া নিয়ে বন্দি করা হয় ভাঙ্গার জাঙ্গালপাশা গ্রামের হাবিব মাতুব্বরকে (৪০)।
বিদেশযাত্রার আগেই তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতনের ভিডিও পরিবারে পাঠিয়ে ফের নেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা। এরপরও মুক্তি মেলেনি। আরও দাবি করা হয় ১০ লাখ টাকা। পরিবার সেই টাকা দিতে ব্যর্থ হলে হাবিবকে হত্যা করা হয়। এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যুর খবর পায় পরিবার।
স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে আসেন হাবিবের স্ত্রী তাসলিমা বেগম। বর্তমানে ৩ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, "১০ লাখ টাকা দিতে না পারায় আমার স্বামীরে মুরাদ মাইর্যা ফেলছে। আমার স্বামীর ১ শতাংশ জায়গা ছিল, সেই জমিও বিক্রি করে দিছি। ৩ সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেছি। স্বামী হত্যার বিচার চাই।"
সে সময় নির্যাতনে হাবিবের মৃত্যু দেখে বন্দিঘরের জানালা ভেঙে অন্তত ২৫ জন পালিয়ে যায় বলে, জানান ভুক্তভোগী আজিজুল ইসলাম। তার কাছ থেকে একই চক্র হাতিয়ে নেয় ২৭ লাখ টাকা।
নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে আজিজুল বলেন, ৩ দিন না খাইয়ে রাখার পর এক রাতে প্রচুর মারধরে হাবিব মারা যায়। হাবিবের লাশ নিয়ে ভূ-মধ্যসাগরে ফেলে দিতে যাওয়ার সুযোগে জানালা ভেঙে পালিয়ে এক লিবিয়ানের বাসায় আশ্রয় নিই। ওই ব্যক্তি পুলিশে খবর দেয়। পরবর্তীতে আইওএমের মাধ্যমে দেশে ফিরি।
ওই চক্রের কব্জায় গিয়ে নিখোঁজ আল-আমিনের মা চামেলী বেগম বলেন, আজ তিন বছর যাবৎ ছেলে নিখোঁজ। কী অবস্থায় আছে জানতে পারি নাই। আমি শুধু ছেলেটার সন্ধান চাই। এ ঘটনায় মামলা করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চক্রের মূলহোতা মুরাদ বেপারীর লিবিয়ার নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল ও খুদেবার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া অন্য সহযোগীরাও গা ঢাকা দিয়েছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শামসুল আজম এ প্রসঙ্গে জানান, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ মামলা করে থাকলে, তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ নেবে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশের যেসব স্থানে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে, সেখানেই তাদের পোস্টিং করা হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সপ্তম বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে জটিল অস্ত্রোপচারও হচ্ছে। চিকিৎসকরা অতীতে তাদের সফলতা প্রমাণ করেছেন। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি। এটি আমার জন্য স্থায়ী নয়। আমি আপনাদের জন্য কাজ করবো। আমি সবসময় আপনাদের এবং আমার মানুষের কথা চিন্তা করি।’
সাখাওয়াত হোসেন আরও উল্লেখ করেন, দেশের সম্পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা গেলে অনেক উন্নয়ন সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকদের সহযোগিতায় ৭০টির বেশি রেডিও থেরাপি মেশিন প্রদান করতে সক্ষম হয়েছি। যেখানে চিকিৎসক প্রয়োজন, আমরা সেখানেই পাঠাবো।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা ডাক্তার, আমি লেবার। সবাই সবার সেক্টরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ডাক্তাররা মানবজাতির জন্য অত্যাবশ্যক। বিদেশে কনফারেন্সে আমি বলি, আমাদের চিকিৎসকদের অবমূল্যায়ন করবেন না। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট ডাক্তাররাই করেন। সামনে রোবটিক সার্জারিতেও প্রবেশ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘যদি দেশ স্বাধীন না হতো, তাহলে আজ আপনারা ডাক্তার হয়ে এখানে বসতে পারতেন না। জেলা প্রশাসক কিংবা বিচারক কেউ হতে পারতেন না। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে রক্ত টগবগ করে উঠেছিল। দেশটির প্রতি সবার দায়িত্ব রয়েছে।’
মন্ত্রী জানান, কিছুদিনের মধ্যে কিছু চিকিৎসক ও টেকনোলোজিস্টকে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ‘একাত্তরের প্রেম নিয়ে দেশের মানুষ ও আপনাদের জন্য কাজ করবো। আপনারা সমাজের সেরা ব্যক্তি। আপনারা সামনে থাকবেন। পেছন থেকে আমি সব কিছু করে যাবো।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার চল্লিশা এলাকায় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী, ওলামায়ে কেরাম ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চল্লিশা বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চল্লিশা কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজের পর কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করাকে কেন্দ্র করে মসজিদ কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মাদ্রাসার বড় হুজুর মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম খানের অভিযোগ, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম চলে আসছে। সম্প্রতি মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়। এ সময় মাদ্রাসার আসবাবপত্র ও পবিত্র কোরআন শরিফেরও ক্ষতি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী তানভীরের ভাষ্য, ফজরের নামাজের পর ধর্মীয় কার্যক্রম পালনের সময় আব্দুল হামিদ নামের এক ব্যক্তি বাধা দেন। বিষয়টি মসজিদ কমিটিকে জানানো হলে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিরোধের জেরে আব্দুল হামিদ তাঁর ছেলে ও অন্যদের নিয়ে এসে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁকেসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ সাকিবের অভিযোগ, হামলার সময় আশপাশের লোকজনকেও মারধর করা হয়। এমনকি পাশের বাড়িতে ঢুকে নারীদের সঙ্গেও অসদাচরণ ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. গিয়াস উদ্দিন এ ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার দুপুরে চল্লিশা বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
নেত্রকোনা জেলা খেলাফত আন্দোলনের সদস্যসচিব গাজী আব্দুর রহিম রুহি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার করা গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ