ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পর্তুগালে নতুন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলা প্রেসক্লাবের মতবিনিময়


পর্তুগালে নতুন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলা প্রেসক্লাবের মতবিনিময়

বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাব। তারা স্থানীয় সমাজে বাংলাদেশি অভিবাসীদের একীভূতকরণ (ইন্টিগ্রেশন), প্রবাসীদের কল্যাণ এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে লিসবনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ক্লাবের নেতারা নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড. এস এম কামরুল হাসানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, কনস্যুলার সেবার মানোন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: কুয়েতে ভিসা বাণিজ্য ও জালিয়াতির অভিযোগে দুই মিশরীয়র ৫ বছর, এক বাংলাদেশির ৪ বছর কারাদণ্ড

মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রদূত ড. এস এম কামরুল হাসান পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তিনি প্রবাসীদের কল্যাণে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সমন্বিত ও ইতিবাচক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন এবং প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রবাসী সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন মিনিস্টার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, থার্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল অ্যান্ড কনস্যুলার) শাহেদ হোসেন এবং হেড অব চ্যান্সারি এস এম গোলাম সারওয়ার।

পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি রাসেল আহম্মেদ, সাবেক সভাপতি রনি মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমদ (প্রিন্স), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ, সদস্য মহি উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম এবং নোটিসিয়াস বাংলার হেড অব মাল্টিমিডিয়া আর এ ইহসান।

সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে এবং বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট চালু হবে: আরিফুল হক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে সামরিক বিমান পাঠালো অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২০ পি.এম


ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে সামরিক বিমান পাঠালো অস্ট্রেলিয়া

ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : অস্ট্রেলিয়া ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য সামরিক পরিবহন বিমান পাঠিয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই দাবানলের ধোঁয়া ও বিষাক্ত কুয়াশা আশপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। দুই দেশের সরকার জানিয়েছে, এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কয়েক মাস ধরে চলা দাবানলে বিস্তীর্ণ বনভূমি পুড়ে গেছে, যার ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। বিষাক্ত ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও প্রবাহিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাজধানী জাকার্তা থেকে সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের একটি সামরিক পরিবহন বিমান পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। বিমানটি স্থানীয়ভাবে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের অভিযানে অংশ নেবে।

বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটির প্রধান ক্রিস্টোমেই সিয়ান্তুরি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা এবং অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দেখা গেছে, পূর্ব কালিমান্তান অঞ্চলে এখনো অনেক এলাকায় আগুন জ্বলছে।’

অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সি-১৩০ বিমানটি প্রতি উড্ডয়নে ১৫ হাজার লিটার পানি ছিটাতে সক্ষম। এটি দিনে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এক লাখ লিটারেরও বেশি পানি ফেলতে পারবে।

ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত রড ব্রেজিয়ার বলেন, দুই দেশ দীর্ঘদিনের বন্ধু। তিনি ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার সহায়তার কথাও স্মরণ করেন।

অস্ট্রেলিয়া অগ্নিনির্বাপণ অভিযানে সহায়তার জন্য একটি সেসনা সাইটেশন উড়োজাহাজও পাঠাচ্ছে, যা মূল বিমানকে পথ দেখানোর কাজ করবে। পাশাপাশি পাইলট, উড়োজাহাজের কর্মী ও প্যারামেডিকসহ ২০ সদস্যের একটি দলও পাঠানো হচ্ছে।

আগামী ৬ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিন এ বিমান অভিযান চলার কথা রয়েছে।

বন উজাড়ের ওপর নজরদারিকারী সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এসব দাবানলে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিপুল বনভূমি ধ্বংসের অন্যতম কারণ হলো জমি পরিষ্কারের জন্য গাছপালা কেটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি। কাঠ, পাম অয়েল ও খনি ব্যবসার সম্প্রসারণের সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে।

বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ইন্দোনেশিয়ায় চার লাখের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পশ্চিম কালিমান্তান অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য জাপানও প্রায় ৩৫০ জন সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য ও তিনটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে জর্জিয়া সিনেটে রুওয়া রোমানের ইতিহাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২০ পি.এম


প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে জর্জিয়া সিনেটে রুওয়া রোমানের ইতিহাস

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রাজনীতিক রুওয়া রোমান। তিনি ৭ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্টের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী আয়াজ শেখকে পরাজিত করে এই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, রোমান প্রায় ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী আয়াজ শেখ ৩৪ শতাংশ ভোট অর্জন করেছেন। এর মাধ্যমে রোমান জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদ থেকে সিনেটে জায়গা করে নিলেন।

রোমান ২০২২ সালে জর্জিয়ার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ওই বছর, তিনি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের ৯৭ নম্বর আসনে নির্বাচিত হয়ে প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে জর্জিয়ার আইনসভায় প্রবেশ করেন।

২০২৪ সালে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর, তিনি ২০২৬ সালে অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।

জর্ডানের আম্মানে জন্মগ্রহণকারী রোমান একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারের সদস্য। আট বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে জর্জিয়ায় চলে আসেন। তার ফিলিস্তিনি পরিচয় রাজনৈতিক অবস্থান এবং জনপরিসরে অধিকার আদায়ের কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে শিকাগোয় অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তব্য দেওয়ার উদ্যোগের মাধ্যমে রোমান জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। গাজা যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং ইসরাইলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবির বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ন্যাশনাল আনকমিটেড মুভমেন্ট তাকে মনোনীত করেছিল।

কিন্তু কনভেনশনের আয়োজকেরা তাকে প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেননি। এ ঘটনায় আন্দোলনের সদস্য ও সমর্থকদের মধ্যে সমালোচনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।

গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে রোমান প্রকাশ্যে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিরোধিতা করেছেন।

ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে কথা বলেছেন রোমান। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি পরিচয়ের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক রয়েছে, এমন প্রচলিত ধারণার বিরোধিতা করেছেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জর্জিয়ার গভর্নর পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিলেন রোমান। তবে পরে তিনি গভর্নর নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে মনোযোগ দেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের রান-অফ নির্বাচনে ৬০ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে মনোনয়ন নিশ্চিত করেন তিনি। এরপর সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী আয়াজ শেখকে পরাজিত করেন।

রোমানের এই বিজয় জর্জিয়ায় ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর আগে ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গঙ্গাচড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের পাঠচক্রে সাহিত্যের আলোচনায় তরুণদের অংশগ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


গঙ্গাচড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের পাঠচক্রে সাহিত্যের আলোচনায় তরুণদের অংশগ্রহণ

জীবনের গল্প বইয়ের পাতায়, মানুষের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি চরিত্রের ভাঁজে ভাঁজে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সাহিত্যের পরিচয় ঘটানো এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পাঠচক্রের আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এই আয়োজনটি বই পাঠ, সাহিত্য আলোচনা ও ভাবনার আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য ও বইপ্রেমীরা অংশগ্রহণ করেন। পাঠচক্রে দেশের দুই বাংলার পাঠকমহলে পরিচিত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের আলোচিত গ্রন্থ নূরজাহান, ডাকাতরাও মানুষ, সেই বিদেশি মেয়ে, ৯ মাস ও রহস্যময় জঙ্গলবাড়িসহ তার বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বইয়ের পাতা থেকে গল্পের অংশ পাঠের পাশাপাশি সাহিত্যকর্মের বিষয়বস্তু, চরিত্রের মনস্তত্ত্ব, জীবনসংগ্রাম ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। গল্পের চরিত্রগুলোর আনন্দ-বেদনা, স্বপ্ন ও বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। এতে বই পড়ার আনন্দের পাশাপাশি সাহিত্যকে উপলব্ধি করার এবং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়।

সাহিত্য মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, অনুভূতিকে গভীর করে এবং অন্যের জীবন ও অভিজ্ঞতা বোঝার পথ খুলে দেয়। পাঠচক্রে অংশ নেওয়া তরুণদের আলোচনায়ও উঠে আসে সেই জীবনবোধ। পাঠ্যবইয়ের বাইরের জগৎ সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি এবং নিজেদের চিন্তা প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

বসুন্ধরা শুভসংঘ গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রযুক্তির এই সময়ে তরুণদের বড় একটি অংশ মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত থাকে। তাদের বইমুখী করা এবং চিন্তাশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেই আমাদের এ পাঠচক্রের আয়োজন। আমরা চাই, তরুণ প্রজন্ম বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে উঠুক।’

আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সদস্য মোনালিসা, আরমান, কাকুলি খাতুন, এখলাচ, মেহেনাজ খাতুন, হৃদয় ও রিদমসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত পাঠচক্রের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে, বিকশিত হবে সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ। বইয়ের সঙ্গে তরুণদের বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার এ উদ্যোগ জ্ঞানভিত্তিক ও আলোকিত সমাজ গঠনেও ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারাগারে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ৭ দফা নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


কারাগারে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ৭ দফা নির্দেশনা

দেশের কারাগারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাত দফা নির্দেশনার আলোকে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর।

এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে— লকআপের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা।

কারাগারে কর্তব্য পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা এবং বিদ্যমান নিয়মকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ না করার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং সংশোধনাগারগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানান, নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, সারা দেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে এবং সকল কারাগারকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিতভাবে মতামত জমা দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, নির্দেশনাগুলো কতটা মানা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগও নিয়েছে, যাদেরকে সারাদেশের কারাগারগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত করা হবে।

সেলিম উল্লেখ করেন, অধিদপ্তরটি নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছে এবং আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই এই পদক্ষেপগুলোর সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত কারা কর্মীদের আন্তঃকারাগারে বদলির নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি ক্ষেত্র ব্যতীত লক-আপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহিত করতে হবে। যেকোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার জন্য জেলারের লিখিত অনুমোদন, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে বাধ্যতামূলক নথিভুক্তিকরণ থাকতে হবে।

এই নির্দেশিকায় প্রতিটি কারাগারে ২৪-ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন করতে হবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখার জন্য প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তি-দক্ষ কারারক্ষীদের নিযুক্ত করতে হবে। আর যেখানে নির্দিষ্ট কক্ষ নেই, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করতে হবে।

কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি রোধ করতে অধিদপ্তরটি দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, কোনো প্রহরী বা অন্য কোনো পাহারাদার কর্মীকে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেলে, অবিলম্বে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, রিপোর্ট করতে বিলম্ব বা এড়িয়ে যাওয়া অথবা দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে বলে জানান তিনি।

এই নির্দেশিকায় অবহেলার জন্য বারবার রিপোর্ট করা পাহারাদার কর্মীদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থারও বিধান রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ও প্রশাসনিক স্বার্থে এই ধরনের কর্মীদের বদলি করা হতে পারে অথবা বিদ্যমান প্রবিধান অনুসারে তারা বিভাগীয় কার্যক্রমের সম্মুখীন হতে পারেন।

মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রহরী কর্মীদেরকে অবশ্যই তাদের নির্ধারিত স্থানে থাকতে হবে এবং দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।

অধিদপ্তর কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। তারা নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন এবং যেকোনো ত্রুটি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল যে কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারাগার প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এবং বিরূপ জনমত সৃষ্টি করতে পারে।

অধিদপ্তর নিরাপত্তা ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কারাগার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বৃহত্তর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে অবিলম্বে এই ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%