প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : অস্ট্রেলিয়া ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য সামরিক পরিবহন বিমান পাঠিয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই দাবানলের ধোঁয়া ও বিষাক্ত কুয়াশা আশপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। দুই দেশের সরকার জানিয়েছে, এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
কয়েক মাস ধরে চলা দাবানলে বিস্তীর্ণ বনভূমি পুড়ে গেছে, যার ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। বিষাক্ত ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও প্রবাহিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাজধানী জাকার্তা থেকে সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের একটি সামরিক পরিবহন বিমান পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। বিমানটি স্থানীয়ভাবে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের অভিযানে অংশ নেবে।
বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটির প্রধান ক্রিস্টোমেই সিয়ান্তুরি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা এবং অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দেখা গেছে, পূর্ব কালিমান্তান অঞ্চলে এখনো অনেক এলাকায় আগুন জ্বলছে।’
অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সি-১৩০ বিমানটি প্রতি উড্ডয়নে ১৫ হাজার লিটার পানি ছিটাতে সক্ষম। এটি দিনে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এক লাখ লিটারেরও বেশি পানি ফেলতে পারবে।
ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত রড ব্রেজিয়ার বলেন, দুই দেশ দীর্ঘদিনের বন্ধু। তিনি ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার সহায়তার কথাও স্মরণ করেন।
অস্ট্রেলিয়া অগ্নিনির্বাপণ অভিযানে সহায়তার জন্য একটি সেসনা সাইটেশন উড়োজাহাজও পাঠাচ্ছে, যা মূল বিমানকে পথ দেখানোর কাজ করবে। পাশাপাশি পাইলট, উড়োজাহাজের কর্মী ও প্যারামেডিকসহ ২০ সদস্যের একটি দলও পাঠানো হচ্ছে।
আগামী ৬ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিন এ বিমান অভিযান চলার কথা রয়েছে।
বন উজাড়ের ওপর নজরদারিকারী সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এসব দাবানলে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিপুল বনভূমি ধ্বংসের অন্যতম কারণ হলো জমি পরিষ্কারের জন্য গাছপালা কেটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি। কাঠ, পাম অয়েল ও খনি ব্যবসার সম্প্রসারণের সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে।
বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ইন্দোনেশিয়ায় চার লাখের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পশ্চিম কালিমান্তান অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য জাপানও প্রায় ৩৫০ জন সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য ও তিনটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন