মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
০৪:৫৯ পি.এম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি থেকেই পরিচিতি বাড়তে শুরু করেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের হাজাছড়া এলাকার লাল শাপলা বিলের। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এ বিল দেখতে এখন প্রতিদিনই ছুটে আসছেন বিভিন্ন এলাকার ভ্রমণপিপাসু মানুষ। লাল শাপলার সমারোহ, পানিতে রাজহাঁসের বিচরণ আর চারপাশের মনোরম পরিবেশে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
বিশেষ করে ভোরের দৃশ্য যেন এ বিলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। সকালের কুয়াশা ভেদ করে যখন পানির বুকে লাল শাপলা ফুটে ওঠে, তখন পুরো বিলজুড়ে তৈরি হয় অপরূপ এক দৃশ্য। শাপলার ফাঁকে ফাঁকে রাজহাঁসের বিচরণ প্রকৃতির সৌন্দর্যে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। তবে এ সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ খুব বেশি সময় থাকে না। সকাল ১১টা পর্যন্ত শাপলাগুলো ফুটে থাকতে দেখা যায়। তাই ভোরেই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়।
পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এখনো গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে বিলে মাত্র দুটি নৌকা রয়েছে। ফলে দর্শনার্থীদের চাপ বাড়লে সবাই নৌকায় চড়ে বিলের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ পান না। অনেককে মাঝবিলের সৌন্দর্য কাছ থেকে না দেখেই হতাশ হয়ে ফিরতে হয়।
বিল দেখতে আসা খাগড়াছড়ির জয়া চাকমা জানান, ফেসবুকে ছবি দেখে বিলটি দেখতে এসেছেন তারা। বাস্তবে বিলের সৌন্দর্য ছবির চেয়েও বেশি। স্থানীয়দের আন্তরিক সহযোগিতায় নৌকায় করে বিলের মাঝখানে ঘুরেছেন এবং শাপলার সঙ্গে ছবি তুলেছেন। পুরো ভ্রমণটি তাদের কাছে আনন্দদায়ক ছিল।
কবাখালী থেকে আসা দর্শনার্থী আসিফ বলেন, শাপলা বিলটির সৌন্দর্যের কথা অনেক শুনেছেন। এবার সরাসরি এসে মুগ্ধ হয়েছেন। রাস্তার পাশেই বিলটির অবস্থান হওয়ায় যাতায়াতও বেশ সহজ।
স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে এ বিলকে ঘিরে দীঘিনালায় পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সরকারি কিংবা প্রশাসনিক উদ্যোগে আরও কয়েকটি নৌকার ব্যবস্থা করা হলে পর্যটকেরা সহজে বিলের ভেতরে ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও শাপলার সৌন্দর্য রক্ষায় দর্শনার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিশেষ করে শাপলা না ছিঁড়ে এবং পরিবেশের ক্ষতি না করে সৌন্দর্য উপভোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
যেভাবে যাবেন
দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী বাজার থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় মেরুং বাজার হয়ে হাজাছড়া এলাকার লাল শাপলা বিলে পৌঁছানো যায়। এ পথে অটোরিকশার ভাড়া জনপ্রতি প্রায় ৬০ টাকা। চাইলে মোটরসাইকেলেও সহজে যাওয়া সম্ভব।
তবে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল সকাল রওনা হওয়া ভালো। কারণ বেলা ১১টার পর শাপলাগুলো আর আগের মতো ফুটে থাকে না।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় নৌকা, নিরাপদ যাতায়াত ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে হাজাছড়ার লাল শাপলা বিল হয়ে উঠতে পারে দীঘিনালার অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তরুণ ও মেধাবীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ ইসলামিক সলিডারিটি এডুকেশন ওয়াক্ফ (আইএসডিবি-বিআইএসইডব্লিউ) আইটি স্কলারশিপ প্রোগ্রামে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৭৫তম রাউন্ডে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়, এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় নন-আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের স্নাতকোত্তর ও স্নাতকধারীরা বিনামূল্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর চাকরির বাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে সময়োপযোগী কোর্স পরিচালনা করে থাকে।
এই প্রোগ্রামের অধীনে কোর্স শেষ করা ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী সফলভাবে দেশ-বিদেশে কর্মরত আছেন। আইএসডিবি-বিআইএসইডব্লিউ বাংলাদেশ সরকারের এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জেদ্দা, সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান। এটি তথ্য-প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্প প্রণয়ন, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন করে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটি এই প্রোগ্রামের আওতায় ১৩টি কোর্সের ওপর স্কলারশিপ প্রদান করছে। প্রোগ্রামটি ১৯ বছর ধরে চলছে এবং এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৯৬৩ জন আইটি প্রফেশনাল তৈরি করেছে, যারা বর্তমানে দেশে-বিদেশের ৩ হাজার ২৫৪টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
সুযোগ-সুবিধা : এটি একটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম। কোর্সটির মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা। সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের জন্য ‘প্লেসমেন্ট সেল’ এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।
যা জানা প্রয়োজন : চলমান রাউন্ডে আবেদনের শেষ তারিখের মধ্যে আগ্রহী প্রার্থীর বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে হবে। পূর্ববর্তী কোনো রাউন্ডের কোর্সে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা নতুন করে আবেদন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ডিপ্লোমাধারী প্রার্থীদের জন্য সব কোর্স কেবল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
স্নাতক ও সমমানদের জন্য কোর্সসমূহ
১. ওয়েব অ্যান্ড মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ইউজিং স্প্রিং বুট, অ্যান্ড্রয়েড অ্যান্ড ফ্লাটার,
২. ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট উইথ লারাভেল, রিঅ্যাক্ট, ভিউ.জেএস অ্যান্ড ওয়ার্ডপ্রেস,
৩. ক্রস প্ল্যাটফর্ম অ্যাপস ইউজিং এএসপি.নেট, অ্যাঙ্গুলার অ্যান্ড রিঅ্যাক্ট,
৪. ওরাকল ডেটাবেজ অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট,
৫. নেটওয়ার্ক সলিউশন অ্যান্ড সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন,
৬. গ্রাফিকস, অ্যানিমেশন অ্যান্ড ভিডিও এডিটিং।
চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কোর্সসমূহ
১. আর্কিটেকচারাল অ্যান্ড সিভিল ক্যাড,
২. ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ইউজিং লারাভেল অ্যান্ড রিঅ্যাক্ট,
৩. নেটওয়ার্ক সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন,
৪. গ্রাফিকস, ভিডিও এডিটিং অ্যান্ড মোশন গ্রাফিকস,
৫. ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ইউজিং এসপি.নেট,
৬. ক্লাউড কম্পিউটিং ইউজিং ওরাকল অ্যাপেক্স,
৭. থ্রি-ডি ভিজুয়ালাইজেশন।
আবেদনের প্রক্রিয়া : আগ্রহী প্রার্থীরা আইএসডিবি-বিআইএসইডব্লিউ স্কলারশিপের জন্য এই https://apply.isdb-bisew.info/ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের সময়সীমা : আগ্রহী প্রার্থীরা রাউন্ড ৭৫–এর জন্য আগামী ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৬ ইং তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি সরকার ঘোষণা করছে, "আমরা সংবিধানে সংযোজন করে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনব।"
তিনি শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামীয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, "এ দেশে অনেকেই ইসলামের নামে রাজনীতি করে। অথচ তাদের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত কোনো আদর্শ ও অনুশাসন নেই।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি কখনোই কোরআন, সুন্নাহ এবং ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেনি। তবে, বর্তমানে বিএনপি সরকার এই ঘোষণা দিয়েছে।
সালাউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপি ইসলামের মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং তারা আজীবন ইসলাম ও ঈমানের খেদমত করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী পোশাকশিল্পে অস্থিরতার পেছনে পলাতক ফ্যাসিস্ট অপশক্তির সম্পৃক্ততা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "দেশকে অস্থিতিশীল করতে গোষ্ঠীটি অপচেষ্টা চালাচ্ছে।" তিনি বলেন, "তবে এ দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যতে আর রাজনীতি করতে দেবে না।"
তিনি আরও বলেন, "আওয়ামী লীগ এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার রাখে না।" মন্ত্রী উল্লেখ করেন, "অনেকেই ফ্যাসিস্টদের এ দেশে পুনর্বাসন করতে চায়, প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্র তৈরি করছে।" তিনি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, "তাদের এ অপচেষ্টা জনগণ ও সরকার রুখে দেবে ইনশাআল্লাহ।"
মন্ত্রী গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে বলেন, "শাপলা চত্বর গণহত্যায় কত আলেম-ওলামা শহীদ হয়েছেন তা আমরা জানি না।" তিনি বলেন, "অনেকের লাশ পাওয়া যায়নি, অনেকের কবরও আমরা চিনি না। তবে বর্বরোচিত এ গণহত্যার বিচার এ দেশের মাটিতে হবে।" তিনি বলেন, "চব্বিশের জুলাই গণহত্যার বিচারও করা হবে ইনশাআল্লাহ।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি সেবা অনলাইনে নিয়ে আসার মাধ্যমে ডিজিটাল রূপান্তর সম্পন্ন হয় না, এমন মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেটি মুখ্য নয়; বরং নাগরিকদের জন্য সেবা কতটা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হয়েছে, সেটিই ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্যের মূল মাপকাঠি।
আজ শুক্রবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘জাতিসংঘের শাসনব্যবস্থার উদ্ভাবন সম্মেলন : ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অষ্টম অধিবেশনে তিনি বক্তব্য রাখেন। ‘শাসনব্যবস্থায় প্রচলিত পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ এবং আগাম প্রস্তুতিমূলক শাসনব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকারি প্রশাসনে পরিবর্তন আনার জন্য শুধুমাত্র প্রযুক্তির ব্যবহার যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি ব্যবহারের পূর্বে বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোর পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ধাপগুলো বাদ দিতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব স্পষ্ট করা এবং তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তার মতে, সংযোগ হলো ভিত্তি; তবে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা সেই সংযোগকে জনকল্যাণে রূপান্তরিত করে।
মন্ত্রী ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য তিনটি বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এগুলো হলো—সক্ষম প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনবল ও জনগণের আস্থা। তিনি বলেন, সক্ষম প্রতিষ্ঠানের জন্য স্পষ্ট জবাবদিহি, একে অপরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানে সক্ষম তথ্যব্যবস্থা এবং কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য তথ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সহজে অভিযোগ জানানোর ও তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “প্রযুক্তি নাগরিককে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য করবে না; বরং সরকারি ব্যবস্থাই নাগরিকের সঙ্গে খাপ খাওয়াবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও বাধাগুলো চিহ্নিত করে প্রশাসনিক সংস্কারকে দ্রুততর করা সম্ভব। বাংলাদেশ প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, কাগজে-কলমে থাকা পুরনো পদ্ধতিকে শুধু অনলাইনে স্থানান্তর করাই ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য নয়। নাগরিকের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পুরো সেবা-প্রক্রিয়াই নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানোর পাশাপাশি সরকারি সেবা আরো দ্রুত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হচ্ছে।
অধিবেশনে বাংলাদেশের মন্ত্রী ছাড়াও লেসোথোর মন্ত্রী মোয়েকেতসি মোৎসোয়ানে, মৌরিতানিয়ার ব্রাহিম বুলখেইর এবং মেক্সিকোর ক্যারোলিনা প্লাটা লোপেজ অংশ নেন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের অধীন সরকারি সেবা ও সামাজিক উদ্ভাবনবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থার উপচেয়ারম্যান জেহুন সালমানভ অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।
সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রশাসনিক উদ্ভাবন এবং জনসেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে মতবিনিময় করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্কের পার্লামেন্ট সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অনুমোদন প্রদান করেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যদি কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হয়, তাহলে অন্যান্য দেশগুলোকে তার সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। এই চুক্তির ফলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবের পাশে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর পথ আরও সুগম হলো তুরস্কের জন্য।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। এর আগে গত আগস্টে মক্কায় সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে তুরস্ক। গত মাসে অনুমোদনের জন্য এটি পার্লামেন্টে পাঠানো হয়।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পার্লামেন্টে চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদ অনুমোদিত হয়। এরপর ডেপুটি স্পিকার জেলাল আদান অধিবেশন মুলতবি করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে আইনপ্রণেতারা চুক্তির বাকি অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
চূড়ান্তভাবে চুক্তির পক্ষে ২৭৯টি এবং বিপক্ষে ১১৯টি ভোট পড়ে। পার্লামেন্টের ৫৯২ সদস্যের মধ্যে ভোটে অংশ নেন ৩৯৮ জন।
রয়টার্সের হাতে আসা তুরস্কের পার্লামেন্টের নথি অনুযায়ী, চুক্তিটিতে মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সদস্যদেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি হুমকি দূর করতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ‘সব প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহার করবে। কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে এই অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে।
চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো সদস্যদেশ অন্য কোনো দেশ বা দেশের জোটের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তাহলে অন্য সদস্যরা অবিলম্বে তাকে সহায়তা দেবে। পারস্পরিক সহযোগিতার সব ধরনের ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে আক্রান্ত দেশকে সহযোগিতা করতে হবে।
এই প্রতিরক্ষা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ধারাটি ন্যাটো জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ন্যাটোর ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে তুরস্ক একই সঙ্গে ন্যাটো ও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য হওয়ায় দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও সম্পদ ব্যবহারে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে বলে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। যদিও তুরস্কের কর্মকর্তারা এসব আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
চুক্তির অন্যান্য অনুচ্ছেদে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, সামরিক সমন্বয় এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় সদস্যদেশগুলো যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং রসদ ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।
অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ী, চুক্তিটি ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। এরপর সদস্যদেশগুলো চাইলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে। বিদ্যমান সদস্যদের সম্মতি সাপেক্ষে অন্য দেশগুলোরও এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিরিয়া।
তবে পার্লামেন্টে চুক্তি অনুমোদন পেলেই সৌদি আরবে তুরস্কের সেনা মোতায়েন নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটিতে তুর্কি সেনা পাঠাতে হলে আরও কিছু আইনগত ও সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের গত অক্টোবরে বলেছিলেন, চুক্তি অনুমোদনের পর সৌদি আরবকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘হুথিদের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়ানোর পরিকল্পনা আমাদের একেবারেই নেই।’ বরং সৌদি আরবকে দেওয়া সহায়তার লক্ষ্য হবে প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা। সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ