ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ছাগলনাইয়ায় ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায়কারী ৩২ শিশু-কিশোর পেল বাইসাইকেল


ছাগলনাইয়ায় ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায়কারী ৩২ শিশু-কিশোর পেল বাইসাইকেল

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৯০ দিন টানা জামাতে নামাজ আদায় করার জন্য ৩২ জন শিশু-কিশোরকে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।

আজ শনিবার রাত সাড়ে ৯ টায় উপজেলার পাঠান নগর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর কুতুব উল্লাহ ভূঁইয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মসজিদ পরিচালনা কমিটির আয়োজনে একটি অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের হাতে বাইসাইকেলগুলো তুলে দেওয়া হয়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে এবং সহসভাপতি ছালেহ আহাম্মদ মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর ডুমুরিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা মুফতি সামছুদ্দোহা নূরী।

আরও পড়ুন: ‘যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে’- আনোয়ার

আলোচক হিসেবে ছিলেন আলহাজ্ব মাওলানা কাজী শহীদ উল্লাহ, মাওলানা নুরুল করিম, মাওলানা আবদুল মতিন মজুমদার ও হাফেজ মাওলানা মোঃ আরমান।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তালেব হাজারী সবুজ, মোঃ সিরাজ উল্লাহ পারভেজ এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব মজুমদার।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই নামাজের প্রতি উৎসাহিত করা এবং মসজিদমুখী করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায়ের শর্ত পূরণকারী ৩২ শিশু-কিশোরকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

বাইসাইকেল উপহার পেয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তাদের অনেকেই ভবিষ্যতে নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি অন্যদেরও নামাজের প্রতি উৎসাহিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদ্‌যাপন, শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় গুরুত্ব

স্থানীয়রা এ ধরনের উদ্যোগকে শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় অনুশীলন ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে উৎসাহব্যঞ্জক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, পুরস্কারের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায়ের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং মসজিদকেন্দ্রিক সামাজিক পরিবেশও শক্তিশালী হবে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির এই উদ্যোগ এলাকায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিরাইয়ে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হামিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


দিরাইয়ে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৬নং করিমপুর ইউনিয়নের কর্নাগাঁও পয়েন্টে আজ মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই মাদক প্রতিরোধে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভা থেকে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার এবং মাদকমুক্ত সমাজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাগড়াছড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল চিতা বিড়াল, অতঃপর উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


খাগড়াছড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল চিতা বিড়াল, অতঃপর উদ্ধার

খাগড়াছড়ি জেলা শহরের ইসলামপুর এলাকা থেকে বন বিভাগ একটি বিরল প্রজাতির চিতা বিড়াল উদ্ধার করেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকালে, প্রাণীটি একটি বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়, খাগড়াছড়ি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামপুর এলাকায় চিতা বিড়ালটি মানুষের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। স্থানীয়দের অবগত করার পর, বন বিভাগের কর্মীরা সেটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময়, চিতা বিড়ালটি বন বিভাগের দুই কর্মীকে কামড়ে আহত করে। উদ্ধার করার পর, চিতা বিড়ালটিকে খাগড়াছড়ি আলুটিলায় সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হয়।

তবে, উদ্ধার করা বন্যপ্রাণী অবমুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার জন্য পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, "বন্যপ্রাণী উদ্ধার হলে প্রাণীটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "যদি প্রাণীটি অসুস্থ থাকে বা কোনো সমস্যা মনে হয়, তাহলে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার বা কেয়ার সেন্টারে রাখতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, বন বিভাগের বন্যপ্রাণীর চিকিৎসার জন্য কোনো সেন্টার নেই। আমাদের পিটাছড়ায় প্রাণীদের সুরক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। মাহফুজ রাসেল বলেন, "আজকে বিরল প্রজাতির যে চিতা বিড়ালটি উদ্ধার হয়েছে, সেটিকে কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রেখে অবমুক্ত করলে ভালো হতো। প্রাণীটিকে কিছুটা অসুস্থ মনে হয়েছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরণখোলার স্বাস্থ্যসেবা নানা সংকটে বিপর্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ পি.এম


শরণখোলার স্বাস্থ্যসেবা নানা সংকটে বিপর্যস্ত

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে উপকূলের দেড় লাখের বেশি মানুষ নানা ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের মূল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দেয়াল, ছাদ ও বিমে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং বেরিয়ে এসেছে রড। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি রোগীদের ওয়ার্ড ও বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে পড়ছে।

ঝুঁকির কারণে প্রায় এক বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বিকল্প অবকাঠামো না থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সেখানে চলছে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে জরাজীর্ণতার চিত্র স্পষ্ট। ছাদ থেকে পানি পড়ার কারণে কোথাও বালতি বা গামলা রেখে তা সামাল দিতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগের একটি অংশের পলেস্তারা খসে পড়ার পরও সেখানে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে মুখর থাকা এসব কক্ষে ঝুঁকি নিয়ে সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

শুধু ভবনের অবস্থা নয়, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোগীদের ওয়ার্ডের টয়লেটগুলো অপরিষ্কার থাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ চারটি ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্র মিলিয়ে ৩৯ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। এর মধ্যে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। গাইনি ও শিশু রোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেও নির্ধারিত চিকিৎসক নেই।

৩০ জন নার্সের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২২ জন। পাঁচটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৭১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত জনবল মাত্র ৮৬ জন।

এদিকে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও তার অনেকটাই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। প্রায় আট বছর ধরে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। সার্জারি কনসালটেন্ট না থাকায় সেখানে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অপারেশনের বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একইভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে সেবা। সরেজমিনে অপারেশন থিয়েটার ও এক্স-রে কক্ষের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অপারেশন থিয়েটার চালু থাকলে সাধারণ কিছু অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি সিজারের মতো জরুরি সেবা স্থানীয় পর্যায়ে দেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু এসব সেবা বন্ধ থাকায় রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা দূরের বাগেরহাট ও খুলনা শহরে যেতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে।

হাসপাতালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট হলো জেনারেটর। প্রায় কোটি টাকা মূল্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরটি জ্বালানি সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা অভিযোগ করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। ছাদ ও বিমের ফাটল দেখে অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় রোগীদের বিছানাও ভিজে যায়। অপরিষ্কার টয়লেট ও দুর্গন্ধের কারণে হাসপাতালের পরিবেশ আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ফরিদা বেগম, মায়া বেগম ও সবুজ মিয়াসহ কয়েকজন জানিয়েছেন, চিকিৎসার প্রয়োজনেই হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু ভবনের অবস্থা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। দ্রুত সংস্কার বা নিরাপদ ভবনের ব্যবস্থা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। শয্যা পর্যাপ্ত না হওয়ায় অনেক সময় রোগীদের বারান্দাতেও অবস্থান করতে হয়।

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ হাসপাতালের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তবে বিকল্প অবকাঠামো না থাকায় বাধ্য হয়ে ওই ভবনেই চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

তিনি জানান, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একটি টিনশেড ভবন নির্মাণের প্রস্তাব স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেটির দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, হাসপাতাল ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীর সংখ্যা অনেক কম। ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী ভর্তি থাকেন। সীমিত জনবল ও শয্যা দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তার ভাষ্য, হাসপাতালের ভবন ও জনবল দুই সংকটেরই দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয় পর্যায়ে তাদের করার মতো তেমন কিছু থাকে না।

সব মিলিয়ে চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও জনবল, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার নানা সংকটে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। উপকূলের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য সরকারি এই হাসপাতালটি কার্যকরভাবে চালু রাখতে দ্রুত নিরাপদ ভবন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল এবং বন্ধ থাকা সেবাগুলো পুনরায় চালুর দাবি উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫৮ ট্রাক সার গুদামের সামনে, কৃষকদের মধ্যে হাহাকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪১ পি.এম


ঠাকুরগাঁওয়ে ৫৮ ট্রাক সার গুদামের সামনে, কৃষকদের মধ্যে হাহাকার

ঠাকুরগাঁওয়ে সারের বাজারে সংকট চলাকালীন মাদারগঞ্জ বিএডিসি সার গুদামের সামনে ৫৮টি সারবোঝাই ট্রাক আটকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, গুদামের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মজুত এবং সময়মতো ডিলারদের মধ্যে সার বিভাজন না হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

একদিকে গুদাম ও সড়কে ট্রাকের দীর্ঘ জট দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সারের সংকটে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ১৪ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অক্টোবর মাসের বরাদ্দকৃত সার ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অগ্রিম উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সময়মতো নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করেনি।

ঠাকুরগাঁও বিএডিসি সার সহকারী পরিচালকের কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. আহাদ আলী জানিয়েছেন, গুদামের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। অথচ অক্টোবর মাসে বরাদ্দ এসেছে ৯ হাজার ৫৫৯ মেট্রিক টন। এর আগে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে, ফলে নতুন সার রাখার জন্য জায়গা নেই। বিভাজন না হওয়ায় ডিলাররাও সার তুলতে পারছেন না।

এদিকে বিসিআইসির শিবগঞ্জ বাফার গুদামের সহকারী হিসাব কর্মকর্তা মো. মজনু রহমান জানিয়েছেন, সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার ওই গুদামে বর্তমানে ৮ হাজার ৭৩৪ মেট্রিক টন ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবর মাসের নতুন বরাদ্দও এসে পৌঁছেছে।

সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স দবিরুল ইসলামের স্বত্বাধিকারী রাজিউর রহমান মন্তব্য করেছেন, কৃষকের চাহিদার তুলনায় সামান্য পরিমাণ সার দিয়ে ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, "ডিলার পয়েন্ট না বাড়িয়ে বরাদ্দ বাড়ানো না হলে সংকট কাটবে না।"

কৃষক মামুনুর রশীদ, মনসুর আলী ও ইউসুফ আলী অভিযোগ করেছেন, আমন ও শাকসবজির মৌসুমে এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। তারা জানান, সরকারিভাবে টিএসপি ও ইউরিয়া সারের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তাদের যথাক্রমে ১ হাজার ৫৫০ ও ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ডিলাররা জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে মেমো করলেও ৩০ বিঘা জমির জন্য মাত্র এক বস্তা সার দিচ্ছেন। কিছু অসাধু ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশে সার খুচরা দোকানে পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাটি বাধ্যতামূলক ছিল না। তিনি বলেন, "অক্টোবর-নভেম্বর মাসের বরাদ্দ নিরাপদ রাখতে চাওয়া হয়েছিল। আগামী ৭-৮ অক্টোবরের মধ্যে নিয়মিত বরাদ্দ ছাড় করা হবে।"

তিনি আরও জানান, জেলায় ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ৭৮ হাজার ৫৪৪ মেট্রিক টন ইউরিয়ার চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৬৫ হাজার ৯৯৭ মেট্রিক টন। ৫৬ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন টিএসপির চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ২১ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন। তবে ডিএপি সার চাহিদার তুলনায় কিছুটা বেশি পাওয়া গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%