১১:৪১ পি.এম
ঠাকুরগাঁওয়ে সারের বাজারে সংকট চলাকালীন মাদারগঞ্জ বিএডিসি সার গুদামের সামনে ৫৮টি সারবোঝাই ট্রাক আটকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, গুদামের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মজুত এবং সময়মতো ডিলারদের মধ্যে সার বিভাজন না হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
একদিকে গুদাম ও সড়কে ট্রাকের দীর্ঘ জট দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সারের সংকটে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ১৪ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অক্টোবর মাসের বরাদ্দকৃত সার ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অগ্রিম উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সময়মতো নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করেনি।
আরও পড়ুন: ইঁদুরের উপদ্রবে চান্দিনায় শীতের আগাম সবজি নিয়ে কৃষকের শঙ্কা
ঠাকুরগাঁও বিএডিসি সার সহকারী পরিচালকের কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. আহাদ আলী জানিয়েছেন, গুদামের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। অথচ অক্টোবর মাসে বরাদ্দ এসেছে ৯ হাজার ৫৫৯ মেট্রিক টন। এর আগে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে, ফলে নতুন সার রাখার জন্য জায়গা নেই। বিভাজন না হওয়ায় ডিলাররাও সার তুলতে পারছেন না।
এদিকে বিসিআইসির শিবগঞ্জ বাফার গুদামের সহকারী হিসাব কর্মকর্তা মো. মজনু রহমান জানিয়েছেন, সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার ওই গুদামে বর্তমানে ৮ হাজার ৭৩৪ মেট্রিক টন ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবর মাসের নতুন বরাদ্দও এসে পৌঁছেছে।
সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স দবিরুল ইসলামের স্বত্বাধিকারী রাজিউর রহমান মন্তব্য করেছেন, কৃষকের চাহিদার তুলনায় সামান্য পরিমাণ সার দিয়ে ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, "ডিলার পয়েন্ট না বাড়িয়ে বরাদ্দ বাড়ানো না হলে সংকট কাটবে না।"
কৃষক মামুনুর রশীদ, মনসুর আলী ও ইউসুফ আলী অভিযোগ করেছেন, আমন ও শাকসবজির মৌসুমে এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। তারা জানান, সরকারিভাবে টিএসপি ও ইউরিয়া সারের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তাদের যথাক্রমে ১ হাজার ৫৫০ ও ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ডিলাররা জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে মেমো করলেও ৩০ বিঘা জমির জন্য মাত্র এক বস্তা সার দিচ্ছেন। কিছু অসাধু ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশে সার খুচরা দোকানে পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
আরও পড়ুন: নড়াইলে আমন ধানের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাটি বাধ্যতামূলক ছিল না। তিনি বলেন, "অক্টোবর-নভেম্বর মাসের বরাদ্দ নিরাপদ রাখতে চাওয়া হয়েছিল। আগামী ৭-৮ অক্টোবরের মধ্যে নিয়মিত বরাদ্দ ছাড় করা হবে।"
তিনি আরও জানান, জেলায় ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ৭৮ হাজার ৫৪৪ মেট্রিক টন ইউরিয়ার চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৬৫ হাজার ৯৯৭ মেট্রিক টন। ৫৬ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন টিএসপির চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ২১ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন। তবে ডিএপি সার চাহিদার তুলনায় কিছুটা বেশি পাওয়া গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন