ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মহাকাশে আয়না বসিয়ে রাতেও রোদ বিক্রির পরিকল্পনা


মহাকাশে আয়না বসিয়ে রাতেও রোদ বিক্রির পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘রিফ্লেক্ট অরবিটাল’ মহাকাশে বিশাল আয়না বসানোর পরিকল্পনা করেছে, যা রাতের অন্ধকারে সূর্যের আলো পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য হলো, পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে হাজার হাজার আয়না-উপগ্রহ স্থাপন করে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করা এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকায় সেই আলো পৌঁছে দেওয়া। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, দুর্যোগকবলিত এলাকায় আলোর ব্যবস্থা করা এবং রাতের উদ্ধার অভিযান সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

তবে, মহাকাশে এত বিপুলসংখ্যক আয়না-উপগ্রহ স্থাপন এবং রাতের আকাশে কৃত্রিম আলো ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদেরা। তাদের আশঙ্কা, এই উদ্যোগের ফলে আলোকদূষণ বাড়বে, বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হবে এবং মানুষের ঘুমের জৈবিক ছন্দেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রিফ্লেক্ট অরবিটাল জানিয়েছে, তারা ভারতের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে এ প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ‘ইয়ারেন্ডিল-১’ নামে প্রথম পরীক্ষামূলক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হবে। এর আগে, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) পরীক্ষামূলক উপগ্রহ উৎক্ষেপণের অনুমোদন দেয়।

আরও পড়ুন: ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তাকারী দেশ বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে: আইআরজিসি

প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৪৫ কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১৮ মিটার বাই ১৮ মিটার আকারের বিশাল প্রতিফলক আয়না স্থাপন করা হবে। সূর্য অস্ত যাওয়ার পরও এসব আয়নার অবস্থান ও অভিমুখ নিয়ন্ত্রণ করে পৃথিবীর নির্দিষ্ট এলাকায় সূর্যের আলো প্রতিফলিত করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি আয়না প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আলো ফেলতে পারবে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

গ্রাহকদের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পছন্দের এলাকার জন্য আলোর বরাত দিতে হবে এ সেবা পেতে। অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত স্থানে আলো পৌঁছে দিতে মহাকাশে থাকা আয়না-উপগ্রহগুলোর অবস্থান ও দিক পরিবর্তন করবে প্রতিষ্ঠানটি।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে ৫০ হাজার আয়না-উপগ্রহ পাঠাতে চায় রিফ্লেক্ট অরবিটাল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শুরুতে এসব আয়নার প্রতিফলিত আলো পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো হবে। তবে উপগ্রহের সংখ্যা বাড়লে আলোর তীব্রতা ও স্থায়িত্ব আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। কৃষিজমিতে আলো সরবরাহ, নষ্ট হয়ে যাওয়া সড়কবাতির বিকল্প ব্যবস্থা এবং সামরিক অভিযানে সৌরশক্তি জোগানোর মতো কাজেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছে তারা।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা অঞ্চলের লোন পাইনের কাছে মাউন্ট হুইটনির আশপাশে এ প্রযুক্তির একটি প্রদর্শনী চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত ওই পরীক্ষায় মরুভূমির একটি এলাকায় শক্তিশালী কৃত্রিম আলো ফেলা হয়। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ তীব্র আলো দেখে বিস্মিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের একজন আলোটিকে ‘চোখধাঁধানো’ বলে বর্ণনা করেন।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদি হামলায় শিশুসহ ৯ নিহত, আহত ১৪

রিফ্লেক্ট অরবিটালের মুখপাত্রের দাবি, রাতের অন্ধকারে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোই এ সেবার প্রথম গ্রাহক হতে পারে। উদ্ধার অভিযানে এ প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে, তা তুলে ধরতেই ওই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।

আলোকদূষণ ও প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে শঙ্কা

প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ বায়ুমণ্ডলে আলোর বিচ্ছুরণ। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসার সময় বায়ুর অণু ও অ্যারোসল কণার সঙ্গে সংঘর্ষে ছড়িয়ে পড়বে। ভূপৃষ্ঠে পৌঁছানোর পরও আলোর একটি অংশ প্রতিফলিত হয়ে আবার বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে শুধু নির্ধারিত এলাকাই নয়, এর আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও আলোকিত হয়ে উঠবে।

গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, মূল আলোকিত এলাকা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরেও এ আলোর তীব্রতা পূর্ণিমার চাঁদের আলোর চেয়ে বেশি হতে পারে। অর্থাৎ, যারা অর্থের বিনিময়ে এ সেবা নেবেন না, তাদেরও অনিচ্ছায় কৃত্রিম আলোর প্রভাবের মধ্যে পড়তে হতে পারে।

আরও পড়ুন: চীন উৎক্ষেপণ করল আরও ৩টি রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট

প্রকল্পটির বিরোধিতায় গত আগস্টে পরিবেশবিষয়ক আইনি সংস্থা আর্থজাস্টিসের মাধ্যমে চারটি সংগঠন এফসিসির কাছে অনুমোদন পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে। আর্থজাস্টিসের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জ্যান হ্যাসেলম্যান এ পরিকল্পনাকে ‘নির্বোধ’ ও ‘পাগলামি’ বলে সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, পৃথিবীর সব প্রাণীর বিবর্তন দিন ও রাতের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হয়েছে। সেই প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। ৫০ হাজার আয়না-উপগ্রহ স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মানুষের পরিচিত রাতের আকাশ চিরতরে বদলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞানীদের মতে, পাখি, পোকামাকড় ও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় নেওয়া এবং প্রজননের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম দিন-রাতের স্বাভাবিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। রাতের অন্ধকারে কৃত্রিম আলোর মাত্রা বেড়ে গেলে এসব প্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও জীবনচক্র ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটিও এ প্রযুক্তি নিয়ে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে সরাসরি প্রতিফলিত তীব্র আলোর দিকে তাকালে চোখের ক্ষতি হতে পারে।

আরও পড়ুন: নাজরান অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি সিভিল ডিফেন্স

এ ছাড়া পৃথিবীর কক্ষপথে ক্রমবর্ধমান উপগ্রহের সংখ্যা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কক্ষপথে ১০ লাখ ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এর সঙ্গে হাজার হাজার আয়না-উপগ্রহ যুক্ত হলে রাতের আকাশে নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি মহাকাশে আবর্জনার পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন সমালোচকেরা।

বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়েও বিতর্ক

রিফ্লেক্ট অরবিটালের যুক্তি, রাতের বেলায় সৌর প্যানেলে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করতে পারলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় বাড়বে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে, যা পরিবেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

তবে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের একাংশ পৃথিবীতে সূর্যের শক্তির পরিমাণ ও বণ্টন নিয়ে এ ধরনের কৃত্রিম পরিবর্তনের বিরোধিতা করছেন। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী ডেভিড হো বলেন, বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যার ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ছে।

আরও পড়ুন: স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির ৬ সদস্যকে হত্যার পর শহরে ছড়িয়ে দিলেন লাশের টুকরো

তিনি বলেন, উষ্ণায়ন কমানোর লক্ষে কেউ কেউ মহাকাশে আয়না বসিয়ে সূর্যের আলো পৃথিবী থেকে দূরে প্রতিফলিত করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। অথচ রিফ্লেক্ট অরবিটাল সেই আয়না ব্যবহার করে সূর্যের আলো পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ জলবায়ুর ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

সমালোচনার মুখে রিফ্লেক্ট অরবিটাল জানিয়েছে, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলগুলোকে কৃত্রিম আলোর আওতার বাইরে রাখার বিষয়ে বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে তারা।

প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র বলেন, তারা নজরদারি ও সমালোচনাকে স্বাগত জানান। সরকার, বিজ্ঞানী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করাকেই নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করেন তারা।

তবে প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য সুবিধার পাশাপাশি পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও রাতের আকাশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক এখনো কাটেনি।

আরও পড়ুন: বিনিয়োগ তহবিল কেলেঙ্কারিতে তুরস্কের সাবেক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া কারাগারে

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি ছাড়া ২১ বছর পর আর্জেন্টিনার নতুন দল ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


মেসি ছাড়া ২১ বছর পর আর্জেন্টিনার নতুন দল ঘোষণা

এই প্রথমবার লিওনেল মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে, যা ২১ বছরের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি নতুন দলটি সাজিয়েছেন মেসির অনুপস্থিতিতে।

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক ঘটে মেসির। এরপর থেকে তিনি জাতীয় দলের আক্রমণভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জিতেছেন। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে ফিনালিসিমা, কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা অর্জন করে।

মেসির জাতীয় দল থেকে বিদায়ের পর এটি স্ক্যালোনির প্রথম দল ঘোষণার ঘটনা। আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ১৩ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের লা বোমবোনেরায় তারা উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলবে। এরপর ১৭ নভেম্বর কর্দোবার এস্তাদিও মারিও আলবার্তো কেম্পেসে কোস্টারিকার মুখোমুখি হবে।

নতুন স্কোয়াডে তিনটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন রয়েছে। প্রথমবার ডাক পেয়েছেন চেলসির ২১ বছর বয়সি ডিফেন্ডার অ্যারন আনসেলমিনো। দলে ফিরেছেন রিভার প্লেটের গঞ্জালো মন্তিয়েল ও পারমার মারিয়ানো ত্রোইলো। স্ক্যালোনি পালমেইরাসের আগুস্তিন জিয়াই ও ফ্লাকো লোপেজকেও দলে রেখেছেন। তবে মেসির ঘনিষ্ঠ সতীর্থ রদ্রিগো দি পল ও জিওভানি লো সেলসো এবার দলে জায়গা পাননি।

আর্জেন্টিনার স্কোয়াড

গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো, সান্তিয়াগো বেলত্রান।

ডিফেন্ডার: গনজালো মন্তিয়েল, অগাস্তিন গিয়াই, অ্যারন আনসেলমিনো, মারিয়ানো ত্রোইলো, লিওনার্দো বালের্দি, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস তালিয়াফিকো, রোমান ভেগা, এজেকুয়েল ফার্নান্দেজ।

মিডফিল্ডার: ম্যাক্সিমো পেরোনে, এজেকুয়েল পালাসিওস, ভ্যালেন্তিন বারকো, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, নিকোলাস পাজ, মাতিয়াস সুলে, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো, জিউলিয়ানো সিমিওনে, থিয়াগো আলমাদা, হুয়ান হোসে লোপেজ।

ফরোয়ার্ড: জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি, সান্তিয়াগো কাস্ত্রো, হুলিয়ান আলভারেজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার ও বীজে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা, কর্মকর্তাদের বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশ ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ রব্বানী, স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


সার ও বীজে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা, কর্মকর্তাদের বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশ ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকের

ঝালকাঠিতে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা এবং নবনিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারদের সাথে চুক্তি সম্পাদন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ০৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ মমিন উদ্দিন।

সভায় জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ মমিন উদ্দিন জেলার কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং কৃষকদের অধিকার রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। নবনিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষকরা আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের নিকট মানসম্মত সার ও বীজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সার বিতরণ ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সারের সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং নবনিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলার সামগ্রিক কৃষি উপকরণ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে নবনিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারদের সাথে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিরাইয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২ পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই, দুশ্চিন্তায় ক্ষতিগ্রস্তরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হামিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৬ পি.এম


দিরাইয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২ পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই, দুশ্চিন্তায় ক্ষতিগ্রস্তরা

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মুহূর্তের আগুনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। বসতঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া এসব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা।

হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নতুন করে ঘর তৈরি, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা দুশ্চিন্তা।

এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরমঙ্গল ইউনিয়নের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে ছুটে যান বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাংবাদিকরা। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের দুর্দশার কথা শোনেন এবং এই কঠিন সময়ে মানসিকভাবে সাহস জোগানোর চেষ্টা করেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা দিয়ে তাঁ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কপাল পুড়ছে নেতানিয়াহুর, সরকার সরানোর জন্য জোট গঠনের আলোচনা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ পি.এম


কপাল পুড়ছে নেতানিয়াহুর, সরকার সরানোর জন্য জোট গঠনের আলোচনা শুরু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য জোট গঠনের আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন দেশটির চারটি ইহুদি বিরোধী দলের নেতা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হার্জলিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা দ্রুত জোট আলোচনা শুরু করার এবং আগামী সপ্তাহে নতুন নেসেটের (ইসরাইলের পার্লামেন্ট) শপথের আগে সংসদীয় কৌশল সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন করা সম্ভব হবে কিনা, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো স্পষ্ট পথ ছিল না।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। চারটি ইহুদি বিরোধী দলের আসনসংখ্যা ৪৮, যেখানে নেতানিয়াহুর জোটের রয়েছে ৫৩টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিরোধীদের দুটি আরব দলের সমর্থন প্রয়োজন। ওই দুটি দল সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। কিন্তু ইহুদি বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশই আরব দলগুলোকে জোটসঙ্গী করতে রাজি নয়। ফলে নতুন সরকার গঠনের পথ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ইয়াশার দলের নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াচাদ দলের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরাইল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান দ্রুত নেতানিয়াহু সরকারকে সরানোর প্রতিশ্রুতি দেন। গাদি আইজেনকটের প্রস্তাবিত চারটি নীতির ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তারা।

নীতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করে—ইসরাইলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গাজায় তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস ও শাসনের অবসান ঘটানো।

যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দলগুলোর নেতারা ঐক্যবদ্ধ এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর গঠিত সরকারকে সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। নেসেটে থাকা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠকে বি’ইয়াচাদের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিদায়ী নেসেটের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও উপস্থিত ছিলেন। নতুন নেসেটের অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি হতে পারে লিকুদ দলের আইনপ্রণেতা আমির ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে সরানো। এতে নেতানিয়াহুর বাধার মুখে থাকা কয়েকটি আইন প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়টি।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে ওহানাকে সরিয়ে লাপিদকে স্পিকার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী সোমবার নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ গাদি আইজেনকটকে দেওয়ার সুপারিশের বিষয়েও একমত হন তারা। পাশাপাশি জোট গঠনের আলোচনা এবং নীতিগত নির্দেশিকা তৈরির কাজ অবিলম্বে শুরু করতে নিজেদের আলোচক দলকে নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনের ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নেতানিয়াহু ও লিকুদ পার্টির প্রচারণার সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা। তাদের ভাষায়, এটি একটি ‘বিপজ্জনক ও উন্মত্ত প্রচারণা’। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় তারা কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। লিকুদ পার্টির অভিযোগ, কাতার বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তি গোপনে অর্থ দিয়ে আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করেছে এবং নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানালেও তা নাকচ করেছেন নির্বাচন তদারকির দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোআম সোলবার্গ।

বৈঠকের পর বি’ইয়াচাদ নেতা নাফতালি বেনেট আইজেনকটের সরকার গঠনের উদ্যোগে তার দলের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আইজেনকটকে দ্রুত সরকার গঠনে সহায়তা করতে তার দলের সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই, দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বেনেট আরও বলেন, ওহানাকে নেসেটের স্পিকারের পদ থেকে দ্রুত সরিয়ে এমন একটি ‘জাতীয় পুনর্গঠনমূলক জায়নবাদী সরকার’ গঠনের পথ তৈরি করতে হবে, যা সামরিক সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য পরিবর্তন আনবে।

বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে ইয়ার লাপিদ বলেন, নির্বাচনের ফলকে দুর্বল করার গুরুতর ও বিপজ্জনক চেষ্টা চলছে। সরকার গঠন করা জরুরি। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রমাণ করেছে, নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরানো প্রয়োজন।

আরব দলের নেতাদের সঙ্গেও গোলানের বৈঠক

বিরোধী নেতাদের বৈঠকের আগে ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন ও আহমেদ তিবির সঙ্গে বৈঠক করেন। নির্বাচনের পর এই প্রথম তাদের মধ্যে বৈঠক হলো। গোলানের দলের বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু সরকারকে সরানোর পদক্ষেপ এবং আরব জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘পরিবর্তনের সরকার’ গঠনের লক্ষ্যে পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের আগে সমন্বয় অব্যাহত রাখতে একমত হয়েছেন দুই পক্ষ। সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন গোলান। ভবিষ্যৎ জোট সরকারে তাদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি। চার দলের ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে তিনিই একমাত্র নেতা, যিনি প্রকাশ্যে এমন সহযোগিতার পক্ষে কথা বলেছেন।

অন্যদিকে, বিরোধী জোটের বাকি নেতারা আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সংখ্যালঘু সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। মঙ্গলবার এর আগে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত ইসরাইল বেইতেনু দলের নেতা লিবারম্যান বলেন, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন ছাড়াই একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, আরেকটি নির্বাচন ঠেকাতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং সঠিকভাবে এগোলে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন ছাড়াই কার্যকর ও স্থিতিশীল সরকার গঠন করা সম্ভব। তবে কীভাবে এমন সরকার গঠন করা যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি লিবারম্যান। সোমবার তিনি সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়ার পক্ষে প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ করার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে হারেদি বা অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতাও করেছিলেন।

তবে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে হারেদি দলগুলোর সরকারে অংশগ্রহণের বিষয়ে আগের মতো দৃঢ় বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেননি তিনি। এতে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক সেবা থেকে অতি-অর্থোডক্সদের অব্যাহতি দেওয়ার বিরোধিতা করে প্রচারণা চালালেও তাদের জোটে নেওয়ার বিষয়ে তার অবস্থান কিছুটা নমনীয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিরোধীদের সমালোচনায় নেতানিয়াহু

বিরোধী দলগুলো যখন জোট গঠনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, তখন মঙ্গলবার প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের আক্রমণ করেছেন নেতানিয়াহু। আরব কিংবা অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তার দল লিকুদ পার্টি।

দলটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একটি বিস্তৃত জাতীয় সরকার গঠনের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেও বিরোধীরা সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল একটি বিপজ্জনক সরকার গঠন করতে চায়। গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে এমন সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে লিকুদ। দলটির দাবি, সম্ভাব্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্য হামাস ও হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও অনিচ্ছুক। এ ক্ষেত্রে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দলের দিকে ইঙ্গিত করেছে তারা।

অন্যদিকে, বিরোধী নেতারাও নেতানিয়াহুর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরে সরকারের ব্যর্থতার জন্য তারা নেতানিয়াহুকে দায়ী করেন এবং তার প্রতি গভীর অনাস্থার কথা জানিয়েছেন।

অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও বিরোধীদের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন নেতানিয়াহু। বিরোধীরা সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার প্রতিশ্রুতি দিলেও লিবারম্যান হারেদি দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের নেতানিয়াহু-সমর্থক ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম দল আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর নেতানিয়াহুর নিজের সরকার গঠনের কোনো স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না। বরং বিরোধীরা যাতে নতুন সরকার গঠন করতে না পারে, সে চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এর ফলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%