ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

কপাল পুড়ছে নেতানিয়াহুর, সরকার সরানোর জন্য জোট গঠনের আলোচনা শুরু


কপাল পুড়ছে নেতানিয়াহুর, সরকার সরানোর জন্য জোট গঠনের আলোচনা শুরু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য জোট গঠনের আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন দেশটির চারটি ইহুদি বিরোধী দলের নেতা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হার্জলিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা দ্রুত জোট আলোচনা শুরু করার এবং আগামী সপ্তাহে নতুন নেসেটের (ইসরাইলের পার্লামেন্ট) শপথের আগে সংসদীয় কৌশল সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন করা সম্ভব হবে কিনা, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো স্পষ্ট পথ ছিল না।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। চারটি ইহুদি বিরোধী দলের আসনসংখ্যা ৪৮, যেখানে নেতানিয়াহুর জোটের রয়েছে ৫৩টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিরোধীদের দুটি আরব দলের সমর্থন প্রয়োজন। ওই দুটি দল সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। কিন্তু ইহুদি বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশই আরব দলগুলোকে জোটসঙ্গী করতে রাজি নয়। ফলে নতুন সরকার গঠনের পথ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ইয়াশার দলের নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াচাদ দলের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরাইল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান দ্রুত নেতানিয়াহু সরকারকে সরানোর প্রতিশ্রুতি দেন। গাদি আইজেনকটের প্রস্তাবিত চারটি নীতির ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তারা।

আরও পড়ুন: আমাজন রেইনফরেস্টে প্রায় ১২ হাজার ৬০০ বছরের প্রাচীন শিলাচিত্র, আট মাইল বিস্তৃত ‘প্রাচীনকালের সিস্টিন চ্যাপেল’

নীতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করে—ইসরাইলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গাজায় তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস ও শাসনের অবসান ঘটানো।

যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দলগুলোর নেতারা ঐক্যবদ্ধ এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর গঠিত সরকারকে সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। নেসেটে থাকা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠকে বি’ইয়াচাদের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিদায়ী নেসেটের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও উপস্থিত ছিলেন। নতুন নেসেটের অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি হতে পারে লিকুদ দলের আইনপ্রণেতা আমির ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে সরানো। এতে নেতানিয়াহুর বাধার মুখে থাকা কয়েকটি আইন প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়টি।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে ওহানাকে সরিয়ে লাপিদকে স্পিকার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী সোমবার নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ গাদি আইজেনকটকে দেওয়ার সুপারিশের বিষয়েও একমত হন তারা। পাশাপাশি জোট গঠনের আলোচনা এবং নীতিগত নির্দেশিকা তৈরির কাজ অবিলম্বে শুরু করতে নিজেদের আলোচক দলকে নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানে কবে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, জানা গেল ৯ নভেম্বর তারিখ

এদিকে, নির্বাচনের ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নেতানিয়াহু ও লিকুদ পার্টির প্রচারণার সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা। তাদের ভাষায়, এটি একটি ‘বিপজ্জনক ও উন্মত্ত প্রচারণা’। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় তারা কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। লিকুদ পার্টির অভিযোগ, কাতার বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তি গোপনে অর্থ দিয়ে আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করেছে এবং নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানালেও তা নাকচ করেছেন নির্বাচন তদারকির দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোআম সোলবার্গ।

বৈঠকের পর বি’ইয়াচাদ নেতা নাফতালি বেনেট আইজেনকটের সরকার গঠনের উদ্যোগে তার দলের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আইজেনকটকে দ্রুত সরকার গঠনে সহায়তা করতে তার দলের সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই, দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বেনেট আরও বলেন, ওহানাকে নেসেটের স্পিকারের পদ থেকে দ্রুত সরিয়ে এমন একটি ‘জাতীয় পুনর্গঠনমূলক জায়নবাদী সরকার’ গঠনের পথ তৈরি করতে হবে, যা সামরিক সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য পরিবর্তন আনবে।

বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে ইয়ার লাপিদ বলেন, নির্বাচনের ফলকে দুর্বল করার গুরুতর ও বিপজ্জনক চেষ্টা চলছে। সরকার গঠন করা জরুরি। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রমাণ করেছে, নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরানো প্রয়োজন।

আরব দলের নেতাদের সঙ্গেও গোলানের বৈঠক

আরও পড়ুন: পারস্য উপসাগরে ট্যাংকারে হামলা, নিহত ১ নাবিক

বিরোধী নেতাদের বৈঠকের আগে ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন ও আহমেদ তিবির সঙ্গে বৈঠক করেন। নির্বাচনের পর এই প্রথম তাদের মধ্যে বৈঠক হলো। গোলানের দলের বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু সরকারকে সরানোর পদক্ষেপ এবং আরব জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘পরিবর্তনের সরকার’ গঠনের লক্ষ্যে পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের আগে সমন্বয় অব্যাহত রাখতে একমত হয়েছেন দুই পক্ষ। সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন গোলান। ভবিষ্যৎ জোট সরকারে তাদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি। চার দলের ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে তিনিই একমাত্র নেতা, যিনি প্রকাশ্যে এমন সহযোগিতার পক্ষে কথা বলেছেন।

অন্যদিকে, বিরোধী জোটের বাকি নেতারা আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সংখ্যালঘু সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। মঙ্গলবার এর আগে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত ইসরাইল বেইতেনু দলের নেতা লিবারম্যান বলেন, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন ছাড়াই একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, আরেকটি নির্বাচন ঠেকাতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং সঠিকভাবে এগোলে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন ছাড়াই কার্যকর ও স্থিতিশীল সরকার গঠন করা সম্ভব। তবে কীভাবে এমন সরকার গঠন করা যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি লিবারম্যান। সোমবার তিনি সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়ার পক্ষে প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ করার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে হারেদি বা অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতাও করেছিলেন।

আরও পড়ুন: ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেসম্যানের হিন্দুত্ববাদের ‘দ্ব্যর্থহীন নিন্দা’

তবে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে হারেদি দলগুলোর সরকারে অংশগ্রহণের বিষয়ে আগের মতো দৃঢ় বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেননি তিনি। এতে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক সেবা থেকে অতি-অর্থোডক্সদের অব্যাহতি দেওয়ার বিরোধিতা করে প্রচারণা চালালেও তাদের জোটে নেওয়ার বিষয়ে তার অবস্থান কিছুটা নমনীয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিরোধীদের সমালোচনায় নেতানিয়াহু

বিরোধী দলগুলো যখন জোট গঠনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, তখন মঙ্গলবার প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের আক্রমণ করেছেন নেতানিয়াহু। আরব কিংবা অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তার দল লিকুদ পার্টি।

দলটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একটি বিস্তৃত জাতীয় সরকার গঠনের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেও বিরোধীরা সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল একটি বিপজ্জনক সরকার গঠন করতে চায়। গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে এমন সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে লিকুদ। দলটির দাবি, সম্ভাব্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্য হামাস ও হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও অনিচ্ছুক। এ ক্ষেত্রে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দলের দিকে ইঙ্গিত করেছে তারা।

আরও পড়ুন: ৭ শর্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠানো

অন্যদিকে, বিরোধী নেতারাও নেতানিয়াহুর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরে সরকারের ব্যর্থতার জন্য তারা নেতানিয়াহুকে দায়ী করেন এবং তার প্রতি গভীর অনাস্থার কথা জানিয়েছেন।

অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও বিরোধীদের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন নেতানিয়াহু। বিরোধীরা সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার প্রতিশ্রুতি দিলেও লিবারম্যান হারেদি দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের নেতানিয়াহু-সমর্থক ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম দল আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর নেতানিয়াহুর নিজের সরকার গঠনের কোনো স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না। বরং বিরোধীরা যাতে নতুন সরকার গঠন করতে না পারে, সে চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এর ফলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

আরও পড়ুন: অমাবস্যার অন্ধকারে ইরানে হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখা হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ পি.এম


‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখা হলো

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন কার্যক্রমে পুনরাবৃত্তি বা দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) রয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য তিন সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং আন্না মিনিজ।

সভায় প্রকল্পের ওপর একটি উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রকল্পের কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় এবং কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি মাথায় রেখে প্রকল্পের নাম ‘ই-পার্লামেন্ট’ পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য কার্যক্রমে পুনরাবৃত্তি বা কাজের দ্বৈততা রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার জন্য গঠিত তিন সদস্যের উপকমিটি সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিনিজকে নিয়ে গঠিত হয়েছে। এই উপকমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন মূল কমিটির কাছে জমা দেবে।

সভা শেষে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদকে যুগোপযোগী ও ই-পার্লামেন্টে রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের জনগণ যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণেরা বুকের রক্ত দিয়ে সংসদে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করেছেন। এটি আমাদের অঙ্গীকার। নাগরিকদের সরাসরি সংসদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাগজনির্ভর সংসদের পরিবর্তে কাগজবিহীন সংসদ গড়তে চাই।

সংসদের প্রতিদিনের কার্যক্রমে কয়েক টন কাগজ ব্যবহার হয়, যা পরিবেশের ক্ষতি করে। ই-পার্লামেন্ট চালু হলে কাগজের ব্যবহার কমবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংসদের অধিবেশন, বিল ও আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোট দেওয়ার রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া যাবে। এতে নাগরিকরা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবেন। অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে আইনের খসড়ার ওপর মতামত দেওয়া এবং ই-পিটিশন দাখিলের সুযোগ থাকবে। এমনকি গ্রামের মানুষও নিজেদের অভিযোগ সরাসরি সংসদে জানাতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, সংসদের কার্যক্রম, বাজেট ও আইনের খসড়া ছাপাতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। ই-পার্লামেন্ট চালু হলে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমবে। সংসদ ভবনে প্রবেশ ও অবস্থানের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যাবে। এতে নিরাপত্তা, আসন ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ই-পার্লামেন্ট প্রকল্পের জন্য এখনো কোনো বরাদ্দ হয়নি। উদ্যোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা যাচ্ছে না। তবে গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এ উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলাস্কার সিনেট নির্বাচনকে ‘জালিয়াতি’ বললেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


আলাস্কার সিনেট নির্বাচনকে ‘জালিয়াতি’ বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবারও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে একই নামের একাধিক প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামানো হয়েছিল। এই ঘটনাকে তিনি ‘পুরোপুরি জালিয়াতি’ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে টেলিফোনের মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই অভিযোগের কথা জানান। সাক্ষাৎকারের সময় তিনি গত সপ্তাহে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের বিষয়টি তুলে ধরেন। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী মেরি পেলটোলার নির্বাচনি প্রচারশিবির এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে একজন ‘স্পয়লার’ প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিল।

এদিকে, রিপাবলিকান দলের বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের নামের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে এমন আরেক ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর অভিযোগের তদন্তকে জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, একই নামের ওই প্রার্থীকে ব্যালটে রেখে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, দ্বিতীয় সুলিভান সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি হয়েছিল। তিনি বলেন, এটি ছিল একটি অপরাধমূলক কাজ।

এছাড়া, রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন আরেক ব্যক্তিকেও নির্বাচনের ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সূত্র: আল জাজিরা

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবুগঞ্জ কৃষি অফিসে ১০-১১ বছর ধরে দুর্নীতি ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি কৃষকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ পি.এম


বাবুগঞ্জ কৃষি অফিসে ১০-১১ বছর ধরে দুর্নীতি ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি কৃষকদের

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কৃষি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে বিতরণ না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করে আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (তদন্ত) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন তাঁরা।

অভিযোগপত্রে বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সাবেক উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে বরিশাল সদর উপজেলায় কর্মরত উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাসেল সিকদার, বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও উৎপল চন্দ্র দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সরকারি কৃষি প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কৃষকদের আধুনিক কৃষিপদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করা, উন্নত জাতের ফসল উৎপাদন, কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী স্থাপনের জন্য সরকার বিভিন্ন সময় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এসব প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষির সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

কিন্তু বাবুগঞ্জে এসব প্রকল্পের কয়েকটির বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী বাস্তবায়ন না করেই প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। আবার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ও কৃষি উপকরণ যথাযথভাবে বিতরণ না করে কাগজপত্রে ব্যয়ের হিসাব দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন, উপকারভোগীদের তালিকা, প্রদর্শনীর স্থান এবং ব্যয়ের হিসাব যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত করার শামিল।


অভিযোগপত্র ও স্থানীয় কৃষকদের বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব অনিয়মের সঙ্গে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনিয়ম হলেও যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারি অর্থ বরাদ্দের পর তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত না হলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কৃষক দলের পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়।

কিন্তু অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশ, প্রতিবাদ এবং মানববন্ধনের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ তদন্ত না হলে প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যেতে পারে। তাই শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং প্রকল্পভিত্তিক তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের নিষ্পত্তি চান তাঁরা।


এদিকে, আলোচিত ঘটনার পর বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পারস্পরিক বদলি হয়েছে এবং তিনি দ্রুত উপজেলা ত্যাগ করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এই বদলির সঙ্গে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কৃষকদের প্রশ্ন, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব, প্রকল্প বাস্তবায়নের নথিপত্র এবং উপকারভোগীদের তালিকা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে কোন কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তা জনসম্মুখে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।


অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপপরিচালকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে নাম আসা রাসেল সিকদার, মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও উৎপল চন্দ্র দাসের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।


স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে গত ১০ থেকে ১১ বছরের প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, অর্থ ছাড়, ব্যয়ের ভাউচার, বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, প্রদর্শনী কার্যক্রম, উপকারভোগীদের তালিকা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি অর্থ যাতে কোনোভাবেই অনিয়ম বা দুর্নীতির মাধ্যমে অপব্যবহার না হয়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষকদের বক্তব্য, কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সেই অর্থের প্রকৃত সুফল কৃষকের হাতে পৌঁছানোই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান দায়িত্ব। অথচ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা বাস্তবায়ন ছাড়াই ব্যয়ের হিসাব দেখানোর অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক ও কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যম দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ পি.এম


গণমাধ্যম দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন গত শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক লাইভে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে) এবং রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব।

রোববার রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে) একটি বিবৃতির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ প্রকাশ করে।

রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরপিইউজে) সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক এবং সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহার মান্নানের পাঠানো বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমকে দ্বিখণ্ডিত করার অর্থ হলো গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দ্বিখণ্ডিত করার ঘৃণ্য চেষ্টা। যারা এই অপপ্রয়াস চালিয়েছে, তারা কখনোই সফল হয়নি। গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রই সবসময় বিজয়ী হয়েছে। এ ধরনের ঘৃণ্য কাজের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “আমরা মনে করি, এই অর্বাচীনকে থামানো উচিত। তা না হলে পৃষ্ঠপোষকদের পস্তাতে হবে। কারণ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সর্বদা একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করে। যদি কারো পছন্দ না হয় বা কেউ অপমানবোধ করেন, তাহলে তিনি প্রতিবাদ করার পাশাপাশি প্রচলিত আইনের পথ বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু রাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার চেয়ারে বসে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে অপদস্ত করা এবং গলা টিপে ধরা শুধুমাত্র সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি হস্তক্ষেপ নয়, এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রের প্রধান এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%