হোসেনপুর ( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
০১:৫৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির সংগঠনটির দায়িত্ব থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শুক্রবার তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই বিদায়ের ঘোষণা করেন।
এর আগে গত রাতের সময় সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলামও তার বিদায়ি বার্তার কথা জানিয়েছেন একটি পোস্টে।
নাছির তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, 'আজ আমি দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছি, তবে ছাত্রদল থেকে নয়। পদ থেকে বিদায় নেওয়া যায়; আদর্শ থেকে নয়। ভালোবাসা থেকে নয়, সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে নয়।'
আগামী দিনগুলোতে ছাত্রদলে যারা নেতৃত্বে আসবেন, তাদের ওপর তিনি আশাবাদী। নাছির বিশ্বাস করেন, তারা সংগঠনটিকে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলবে। নতুন নেতৃত্বের ডাকে তিনি যেকোনো সময় তাদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।
ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে, নাছির ছাত্রদলের দায়িত্ব পালনকালে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তার প্রতি সহযোগিতা এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা জানান।
তিনি বলতে থাকেন, ওয়ান ইলেভেনের দুর্দিনে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল। সেই কঠিন সময় থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১৭ বছরের অনিশ্চয়তার পর, আজ আমরা উজ্জ্বল ভিন্ন এক বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আছি। এই যাত্রা ছিল সহজ নয়; সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন, গুম ও খুনের ভয়াবহ বাস্তবতা সহ্য করে এগিয়ে যাওয়া। ছাত্রদলের পদ থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে নাছির বলছেন, আজ তার দায়িত্ব পালনের শেষ দিন। এটি একটি দীর্ঘ, কঠিন, ঘটনাবহুল এবং গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের এই যাত্রাটি সংক্ষেপে তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন নেতৃত্ব সব সময় তার রাজনৈতিক জীবনের অনুপ্রেরণা ছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তারা কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে পথ চলেছেন। কিন্তু তাদের সময়ে সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট। ওই সময়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, তাদের সাহস জোগানো, সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের সময়ে ছাত্রদলের বহু নেতাকর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন। ঢাকার পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়, পাঁচ কলেজ এবং চার মহানগরের তৎকালীন নেতৃত্ব অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন, এর জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নাছির।
জুলাইয়ের আন্দোলনের সময়ে নাহিদ, আসিফ, হাসনাত, সারজিস, কাদের, মাহিন, রিফাত রশিদ ও হান্নান মাসুদের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'আন্দোলনের সময়ে তারা ছাত্রদলকে গুরুত্বপূর্ণভাবে সেবা করেছে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে হয়তো ছাত্রদলের অবদান সব সময় স্বীকৃত হয়নি; তবে আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।'
এই দীর্ঘ সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল; তিনি জানান, সেটি হলো মব সংস্কৃতি। চারপাশে প্রচারণা, অপপ্রচার, বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ছাত্রদলকে রাজপথে সক্রিয় রাখা সহজ ছিল না। সকল প্রোপাগান্ডা কাটিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নিশ্চিত করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
দায়িত্বের অপূর্ণতা তুলে ধরে বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিছু কমিটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত অংশ সম্পন্ন না করতে পারার আফসোস তার রয়েছে। এই অপূর্ণতার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়াটাকে একটি ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একজন সংগঠক হিসেবে এই ফলাফল তাকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। কোথায় তারা ঘাটতি ছিল, কোথায় আরও ভালো করা যেত—এই প্রশ্নগুলি তার কাছে এসেছে। রাজনীতিতে পরাজয়ও শিক্ষা দেয়, তিনি মনে করেন ছাত্রদল এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী, আরো গ্রহণযোগ্য, এবং আরো সংগঠিত ছাত্রসংগঠন হয়ে উঠবে।
সবশেষে তিনি সহযোদ্ধাদের কষ্ট দিয়ে থাকলে ফেসবুক পোস্টে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নাছির বলেন, আজ তিনি বিদায় নিচ্ছেন একটি দায়িত্ব থেকে; কিন্তু সম্পর্ক, সংগ্রাম, এবং আদর্শ থেকে নয়। দেখা হবে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে, অন্য কোনো দায়িত্বে, অন্য সময়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের লিখতে না পারার করুণ দশা দেখে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি ভেঙে পড়েন এবং সবার সামনে কেঁদে ফেলেন, কারণ শিক্ষার্থীরা একটি সহজ লেখার অনুশীলনও শেষ করতে না পারায় অত্যন্ত হতাশ হন।
ড্যারিয়াস উইলিয়ামস হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। স্কুলের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ক্লাসেই শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দুর্বল দক্ষতা দেখে তিনি ভেঙে পড়েন। মঙ্গলবার দুপুরের খাবারের বিরতিতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে উইলিয়ামস জানান, তিন ঘণ্টা ক্লাস নেওয়ার পর শ্রেণিকক্ষে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতা এতটাই দুর্বল ছিল যে, তাদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।’
উইলিয়ামস নিউ এডুকেশন সিস্টেমের ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন বিভাগের একজন কর্মী। তিনি জানান, ক্লাসে থাকা উচ্চ মাধ্যমিকের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের দুটি অনুচ্ছেদ পড়তে দিয়েছিলেন। এরপর একটি বাক্য সম্পূর্ণ করতে বলেন, যদিও বাক্যটির বেশিরভাগ অংশ তিনি আগেই লিখে দিয়েছিলেন।
যদিও শিক্ষার্থীরা সেই বাক্যটিও সম্পূর্ণ করতে না পারায় তিনি হতবাক হয়ে যান। উইলিয়ামস বলেন, ‘আমি তাদের জন্য মূলত বাক্যটি প্রায় অপরূপভাবে লিখে দিয়েছিলাম। এরা ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। অথচ তারা চারটি শব্দও পূরণ করতে পারেনি। মাত্র চারটি শব্দ!’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি তাদের লিখার বিষয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। আমরা একসঙ্গে বিষয়টি চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করেছি। এমনকি প্রশ্ন দেওয়ার আগেই আমি তাদের উত্তরগুলোও বলে দিয়েছিলাম। তারপরও তারা কাজটি করতে পারেনি। সমস্যাটা কোথায়, আমি সত্যিই জানি না।’
হতাশা প্রকাশ করে উইলিয়ামস বলেন, ‘এটা স্কুলের মাত্র দ্বিতীয় দিন। অথচ আমার ক্লাসে এমন শিক্ষার্থী আছে, যারা ঠিকমতো পড়তে পারে না। এমনকি শেষ বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী লিখতেও পারে না। তারা লিখতে পারে না।’
এ কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। গাল বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকা অবস্থায় উইলিয়ামস বলেন, তার শিক্ষার্থীরা কথা বলতে পারে, যুক্তি দিতে পারে এবং নিজেদের যুক্তির পক্ষে ব্যাখ্যাও দিতে পারে। কিন্তু সেই দক্ষতা তারা লিখিত কাজে প্রয়োগ করতে পারছে না।
ভিডিওটি প্রকাশের পর উইলিয়ামস সমালোচনার মুখে পড়েন। সমালোচকেরা প্রশ্ন টানেন, শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে কথা বলার মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার আছে কি না।
শিক্ষকতার পাশাপাশি উইলিয়ামস খণ্ডকালীন রান্নাবিষয়ক কনটেন্টও তৈরি করেন। গত এপ্রিল মাসে তিনি বার্কলি কলেজ অব মিউজিক থেকে অর্জন করা তার দ্বিতীয় স্নাতক ডিগ্রি প্রকাশ্যে দেখান। এরপর তিনি জানান, তিনি আমেরিকান কলেজ অব এডুকেশনে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন। সেখানে তিনি কারিকুলাম অ্যান্ড ইনস্ট্রাকশন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
উইলিয়ামস আরো জানান, তার বেশ কয়েকটি পেশাগত সনদ রয়েছে। এর মধ্যে টেক্সাস অঙ্গরাজ্য এবং টেক্সাস এডুকেশন এজেন্সির সনদও রয়েছে। সমালোচনার জবাবে প্রকাশিত একটি পরবর্তী ভিডিওতে উইলিয়ামস বলেন, ‘আমার সব সনদই ঠিকঠাক রয়েছে।’
উইলিয়ামস বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে যারা মনে করেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য আমার যোগ্যতা নিয়ে সমস্যা আছে, তারা দায়িত্ব নিয়ে দেখান। আপনারা সনদ নিন, এসব উচ্চ বিদ্যালয়ে যান, একটি শ্রেণিকক্ষ নিন। প্রতি ক্লাসে ২২ জন শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে পড়ান। তারপর আমি দেখব, আপনারা কতটা ভালো করতে পারেন।’
শ্রেণিকক্ষে উইলিয়ামসের কান্নায় ভেঙে পড়ার ঘটনার কয়েক দিন পর নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দক্ষতা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, গত শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।
এ সপ্তাহে রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় শ্রেণির ৫৭ শতাংশ, চতুর্থ শ্রেণির ৫২ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণির ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ আর্টস (ইএলএ) পরীক্ষায় ফেল করেছে।
শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৪৮ শতাংশ পরীক্ষায় নির্ধারিত দক্ষতার স্তরে পৌঁছেছে। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৫ শতাংশ কমেছে, যা শিক্ষা বিভাগ ‘উল্লেখযোগ্য’ পতন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি। সম্প্রতি তাকে ডেঙ্গু শনাক্ত করার পর চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নতুন রিয়্যালিটি শো-এর প্রচারণার কাজে ব্যস্ত থাকার মধ্যেই তার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ভক্তরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নেটিজেনরা প্রিয় অভিনেত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। এরই মাঝে শো ‘দ্য ট্রেইটর্স’-এর দ্বিতীয় সিজন সম্পর্কে আপডেট এসেছে। করণ জোহর সঞ্চালিত এই রিয়্যালিটি শোতে মোট ২১ জন প্রতিযোগীর চূড়ান্ত তালিকায় শ্বেতার নাম রয়েছে।
তবে শো শুরুর ঠিক আগে শ্বেতার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত শোতে অংশ নিতে পারবেন কি না, সেটি এখন ভক্তদের মধ্যে বড় প্রশ্ন।
শোটির একটি প্রচারণামূলক ভিডিওতে শ্বেতাকে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, কীভাবে তিনি নিজের স্বামীর পরকীয়া বা প্রতারণা হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন।
শ্বেতার সেই বক্তব্য প্রকাশের পর থেকে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই প্রাক্তন স্বামী রাজা চৌধুরীর একটি বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার সামনে এসেছে।
রাজা সেখানে শ্বেতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তার দাবি, শ্বেতা অভিনেতা সিজান খানসহ একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক জড়িয়েছিলেন, আর এটা তাদের দাম্পত্যজীবন চলাকালীনই ঘটেছিল। তিনি দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে হাজির হয়েছেন।
শ্বেতার অসুস্থতার মাঝে সাবেক দম্পতির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সৃষ্টি হওয়া এই বিতর্কের মধ্যে নজর রয়েছে ‘দ্য ট্রেইটর্স’-এর দ্বিতীয় সিজনের দিকে। তবে শ্বেতার শারীরিক অবস্থা ও শোতে তার অংশগ্রহণ নিয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম কলম্বিয়ায় বৃহস্পতিবারও উদ্ধার অভিযান চলছে। সোমবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা নতুন করে মৃত্যুর সংখ্যা জানান। তিনি বলেন, ৩ হাজার ৯৭১ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন ৩৭৯ জন।
বৃহস্পতিবার এর আগে ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ হিসাব দেন কলম্বিয়ার দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের মহাপরিচালক ডেভিড সান্তিয়াগো তামায়ো।
তিনি বলেন, ভূমিকম্পে ১২ হাজারের বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ৭৪ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তামায়ো বলেন, ভূমিকম্পে ১৭০টির বেশি ভবন ধসে পড়েছে। বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি পথচারী সেতু ধসে পড়েছে।
২০টি সড়ক সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ভূমিকম্পে ২০০টির বেশি সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচটি বিমানবন্দর ও ৪৪টি পানি সরবরাহব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বড়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার।
একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে হবে এবং আজ যারা কষ্টে আছেন, সেই বিপুলসংখ্যক কলম্বিয়ানকে ত্রাণ দিতে হবে।’ নিউইয়র্কের সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নিউ জার্সির বার্গেনফিল্ডের এক নারীও রয়েছেন।
নিজের এক মেয়েকে উদ্ধার করতে তিনি একটি ভবনের ভেতরে ছুটে গিয়েছিলেন। তখন ভবনটি ধসে পড়ে তিনি চাপা পড়েন।
কলম্বিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে চোকো অঞ্চলের পেরেইরা শহর এবং ভায়ে দেল কাউকা এলাকার কালি শহর। বুধবার পেরেইরায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
তিনি ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় সেখানে আটকে ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করতে বুধবার কলম্বিয়ায় প্রায় ৪০ সদস্যের মার্কিন নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার দল পাঠানো হয়েছে।
কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, শহরটিতে অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরটির জনসংখ্যা ২২ লাখের বেশি।
কালির দক্ষিণ অংশে, ক্লিনিকা কলম্বিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছের একটি আবাসিক এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে একটি ভবন ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শত শত উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মানুষকে খুঁজছেন।
এদের একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘জীবন বাঁচানোর এই দৌড়ে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।’ উদ্ধার অভিযানে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর তৃতীয় ব্রিগেডের সেনারাও অংশ নিচ্ছেন।
ব্রিগেডটি এক পোস্টে জানায়, কালি এলাকায় সেনারা ‘কুকুরের একটি দল, তাপ শনাক্ত করতে পারে এমন একটি ড্রোন এবং বিশেষ সরঞ্জাম’ ব্যবহার করেছে।
এদিকে কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকিব্যবস্থাপনা ইউনিট চোকো অঞ্চলে চলমান উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ইউনিটটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছে, ‘সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কুকুর, শারীরিক অনুসন্ধান ও প্রযুক্তির সহায়তায় এই নারী-পুরুষরা জীবিত মানুষদের খুঁজছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার সান হোসে দেল পালমারের প্রায় ৩ মাইল পূর্বে। দে লা এসপ্রিয়েলার সরকারের মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, গত এক দশকে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। ভূমিকম্পটি পুরো কলম্বিয়ায় অনুভূত হয়েছে। প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও এর কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ, মুঠোফোন ও ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ