ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

গভীর রাতে বরিশালে ইউএনওর অভিযানে আটক ৪ জন


গভীর রাতে বরিশালে ইউএনওর অভিযানে আটক ৪ জন

বরিশাল নগরীর দপদপিয়া এলাকার কীর্তনখোলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুটি বাল্কহেড এবং রিফাজ জাহান ইকরা-১ নামের একটি লোড ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। এ অভিযানের সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়।

এছাড়া, প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ঘনফুট বালুবোঝাই এম-১ এবং এমবি জোবেদা নামের দুটি বাল্কহেডও জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

সূত্র জানায়, নগরীর কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া সেতুর নিচে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাতের নীরবতা উপেক্ষা করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বিসিজি স্টেশন বরিশাল দক্ষিণ জোনের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় তিনি নগরীর চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা আল আমিনের মালিকানাধীন দুটি বাল্কহেড ও একটি লোড ড্রেজার দেখতে পান।

আরও পড়ুন: পাঙ্গাশিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চালকরা জলযানগুলো নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে কোস্টগার্ড সদস্যদের তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বাল্কহেড ও ড্রেজারগুলো জব্দ করা হয় এবং চারজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন বাল্কহেড চালক বাচ্চু, শ্রমিক আব্দুল জলিল, মো. লিটন ও হুমাউন। অভিযানের সময় অন্য কয়েকজন শ্রমিক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে আটককৃতরা জানান।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবরও একই স্থানে অভিযান চালিয়ে আল আমিনের মালিকানাধীন ওই দুটি বাল্কহেড ও একটি ড্রেজার জব্দ করেছিল প্রশাসন। সে সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

তবে জরিমানা আদায়ের পর জব্দ করা বাল্কহেড ও ড্রেজারগুলো মালিক আল আমিনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। এরপর মাত্র ১১ দিন যেতে না যেতেই ৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে একই সরঞ্জাম আবারও দপদপিয়া সেতুর নিচে বালু উত্তোলনের সময় জব্দ হওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।

এদিকে বরিশালের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ২০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দপদপিয়া সেতু। সেতুর নিচে নিয়মিত ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সেতুর পিলার ও ভিত্তির আশপাশের মাটি সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। এমনকি সেতুর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের অবকাশ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠির রাজাপুরে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএনও রিফাত আরা মৌরি নতুন ঘর পেয়ে আবেগে কাঁদলেন জনম দুঃখী হতদরিদ্র জবেতন বিবি

এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা জানান, বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করেছেন। এ সময় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সরকারকে ধন্যবাদ, তবে এভাবে রাষ্ট্র চালাতে পারবেন না’: মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


‘সরকারকে ধন্যবাদ, তবে এভাবে রাষ্ট্র চালাতে পারবেন না’: মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

ডিবি পুলিশের কার্যক্রম এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘সরকারকে ধন্যবাদ, সরকারকে সাধুবাদ; তবে এভাবে রাষ্ট্র চলবে না, এভাবে আপনারা রাষ্ট্র চালাতে পারবেন না।’

শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইনের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, বিচার হতে পারে এবং পুলিশ আইন অনুযায়ী কাউকে গ্রেপ্তার বা হ্যান্ডকাফ পরাতে পারে। তবে আইনবহির্ভূতভাবে কারও বাসায় ডিবি পুলিশের হানা দেওয়া বা প্রকাশ্যে গ্রেপ্তার করার কোনো এখতিয়ার নেই।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ডিবি হলো ‘ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ’, তাদের কাজ হলো গোপনে তদন্ত পরিচালনা করা। প্রকাশ্যে পুলিশি মহড়া দিয়ে কারও বাসায় প্রবেশ করা তাদের কাজ নয়। তিনি ডিবির এমন অপেশাদার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এই সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। আমরা সবাই সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত; কিন্তু কোনো অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাহসিন হত্যায় ৮ জন গুলি ছুড়ে, ৩ জন অস্ত্র সরবরাহ করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


তাহসিন হত্যায় ৮ জন গুলি ছুড়ে, ৩ জন অস্ত্র সরবরাহ করেছে

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে ইট-বালুর ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসিন (২৭) হত্যার ঘটনায় পুলিশ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে যে আটজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. সাজ্জাদ হোসেন, যিনি ছোট সাজ্জাদ নামেই পরিচিত। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা পূর্ব থেকেই জানা ছিল, এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ এবং হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ব্যবসায়িক আধিপত্য ও পূর্ববিরোধের কারণে তাহসিনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অস্ত্রধারীরা একটি কালো নোহা গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চায়ের দোকানে বসে থাকা তাহসিনকে লক্ষ্য করে তারা গুলি চালায়। হত্যার পর আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তারা পালিয়ে যায়।

২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রায় দুই বছর পর, ২৯ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে বিষয়টি বৃহস্পতিবার প্রকাশ পায়। এতে আটজনকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী এবং তিনজনকে সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তের সময় সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত, গাড়ির ভিডিও ফুটেজ, ময়নাতদন্ত ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সরাসরি অংশ নেওয়া আটজন হলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, মো. হাসান, মোহাম্মদ, মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী, মো. হেলাল, মো. ইলিয়াছ হোসেন অপু, মো. বোরহান এবং মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী। ছোট সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমন বর্তমানে কারাগারে আছেন। তবে বড় সাজ্জাদ দাবি করেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামিরা কালো নোহা গাড়িতে করে অদূরপাড়ায় যান। গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তারা তাহসিনের চায়ের দোকানের দিকে এগিয়ে যান। এরপর তাকে লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ছোড়া হয়। পুলিশের অভিযোগ, সাজ্জাদ ও তার সহযোগীরা অভিন্ন উদ্দেশ্যে এতে অংশ নেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সরাসরি গুলি চালান, অন্যরা অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।

চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বৃহস্পতিবার বলেন, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের নামেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

সরাসরি অংশ নেওয়া আটজনের বাইরে আরো তিনজনকে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে পুলিশ। তারা হলেন মো. এমরান, মো. সাইফুল ইসলাম ও শিহাব উদ্দিন সিদ্দিকী ওরফে রিহান শিহাব। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হত্যার পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই জানতেন এই তিনজন। তারা মূল আসামিদের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেন। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে প্ররোচনা, ইন্ধন ও অন্যান্যভাবে সহযোগিতা করেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অপর্ণা দাশ ও মাহরিন ইসলাম তাহসিনের ময়নাতদন্ত করেন।

তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে চারটি ফায়ার করা কার্তুজ, ১০টি ধাতব পিলেট ও ইনার ওয়াড উদ্ধার করা হয়। সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফরেনসিক ব্যালিস্টিক ল্যাবে এসব আলামত পরীক্ষা করা হয়। ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞ মুহম্মদ শাকেরুল আলম তার মতামতে বলেছেন, উদ্ধার করা চারটি কার্তুজ ১২ বোরের শটগান বা একই ধরনের স্মুথ বোর আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছে। পিলেট ও ইনার ওয়াডও শটগানজাতীয় অস্ত্রের প্রজেক্টাইল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এ ছাড়া তদন্তে আরও কয়েকটি আলামত জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে অভিযোগ করা কালো নোহা গাড়ি, তাহসিনের রক্তমাখা পোশাক, স্যান্ডেল, চশমা, ঘটনাস্থলের রক্তের নমুনা এবং হামলাকারীদের গাড়ি থেকে নামা-ওঠার ভিডিও ফুটেজসংবলিত একটি পেনড্রাইভ।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুকান্তের সংগ্রামী চেতনা সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


সুকান্তের সংগ্রামী চেতনা সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার তাগিদ

বাংলা সাহিত্যের প্রতিবাদী ও গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বক্তারা এই অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছেন, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন প্রকাশিত হয়েছে। তার জন্মশতবর্ষে সেই স্বপ্ন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সুকান্তের কবিতা, জীবনদর্শন ও সংগ্রামী চেতনার প্রাসঙ্গিকতা সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে।

চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সমাগম ঘটে।

সভায় কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ষাটের দশককে কেন্দ্র করে প্রগতিশীল সমাজ প্রগতির আন্দোলনের যে কল্পচিত্র তৈরি হয়েছে, তাতে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং সুকান্তের অবদান সবচেয়ে বড়। সুকান্ত ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ ও স্বল্পায়ু। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি কীভাবে এত শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন, তা বিস্ময়কর। তিনি যেন এলেন এবং ধূমকেতুর মতো মিলিয়ে গেলেন। তবে তিনজনই আমাদের পথচলার অনুপ্রেরণা। তাদের সৃষ্টিকর্মগুলো যদি আমরা একত্রিত করি, তাহলে একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থার কথা উঠে আসে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা সেই সমাজব্যবস্থা গড়তে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, একাত্তর আমাদের একটি সুযোগ দিয়েছিল। ভারত আমাদের সহযোগিতা করেছিল। কিন্তু অর্ধশতক পেরিয়ে দেখছি যে, সেই চেতনাকে আমরা পরাজিত করেছি এবং পাকিস্তানি মানসিকতা আমাদের ওপর চেপে বসেছে। আমরা মানুষের মননকে গঠন করতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি বরাবর তৎপর ছিল এবং আছে। কিন্তু আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের, আমাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবিচল থাকতে পারিনি।

আবুল মোমেন বলেন, বর্তমানের তরুণরা সুকান্তের কবিতা পড়ছে না। তারা সাহিত্য পড়ছে না। তাদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেখানেও রবীন্দ্রনাথের লেখাগুলো পুরোপুরি পড়তে হয় না। শুধু প্রশ্ন ও উত্তরগুলো পড়ে পরীক্ষায় লিখলেই চলে। এখন কোনো উপন্যাস না পড়েও বাংলা সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স পাস করা যায়। ইংরেজি সাহিত্যেও পাস করা যায়। সাহিত্যপাঠ ছাড়াই, বই না পড়েই প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। তাহলে জাতি এগোবে কীভাবে! সর্বনাশটা হয়ে গেছে শিক্ষায়। পড়া হতে হবে নিরীক্ষামূলক, আনন্দদায়ক। আমাদের রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সুকান্তকে আবার স্কুলে ঢুকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আজকের প্রজন্ম সাহিত্য বোঝে না। রবীন্দ্রনাথ বোঝে না। রবীন্দ্রনাথের চেয়ে নজরুল এগিয়ে অসাম্প্রদায়িক চিন্তার সাহিত্যচর্চায়। কিন্তু প্রজন্ম নজরুলকে একজন মুসলমান হিসেবে মনে রাখছে। সুকান্তকে তো ঝেড়ে ফেলেছে। আজকের প্রজন্ম নিজেদের রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সুকান্তের উত্তরসূরি মনে করে না। আমাদের রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সুকান্তকে নিয়ে আবার স্কুলে ঢুকতে হবে।

প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক সুভাষ দে বলেন, সুকান্ত আমৃত্যু মার্কসবাদী দর্শনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি সমাজ বিপ্লবের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। বিপ্লবী সংশপ্তকের মতো। বিপ্লবের ঠিকানা তিনি নানা কবিতায় দিয়েছেন। সৃষ্টির ওপর ভর করে চারপাশের সময় তাকে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যে বিপ্লবের কন্ঠস্বর সুকান্ত। শোষিত শ্রমজীবী মানুষের জীবনের লড়াইয়ে সুকান্তই হবেন অন্যতম আশ্রয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল মনসুর বলেন, প্রযুক্তির উল্লম্ফনে মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে গেছে। চিন্তার জগত পরিবর্তন হয়ে গেছে। বাম রাজনীতির মধ্যেও নানা ধরনের নতুন চিন্তা দেখা যাচ্ছে। এ জায়গায় সুকান্তকে প্রাসঙ্গিক রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। নতুনভাবে আমাদের রাজনৈতিক চিন্তার জগতকে সাজাতে হবে।

কবি ও নাট্যজন অভীক ওসমান বলেন, একজন কিশোর কবি পুরো ভারতবর্ষকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপটে সুকান্তকে আমরা আমাদের লড়াই-সংগ্রামে কতটা প্রাসঙ্গিক রাখতে পেরেছি, সেটি ভাবতে হবে। এক সময় গ্রামগঞ্জে রবীন্দ্র, নজরুল ও সুকান্তের জন্মজয়ন্তী হতো। এখন তো বিলুপ্তপ্রায়। তাহলে আমরা যে সমাজকে পাল্টানোর কথা বলি, সেটি কীভাবে হবে।

উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অমল কান্তি নাথের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্তার সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন কবি ইউসুফ মুহাম্মদ ও কেন্দ্রীয় উদীচীর সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সদস্য শিমুল সেন।

সাংস্কৃতিক পর্বে উদীচী ও রাগেশ্রীর শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন। সুরাঙ্গন পরিবেশন করে ‘রানার’ শিরোনামের নৃত্য। তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও বোধন দলীয় আবৃত্তিতে অংশ নেয়। একক আবৃত্তিতে অংশ নেন সোমা মুৎসুদ্দি, অঞ্চল চৌধুরী, ফারুক তাহের ও বেলায়েত হোসেন। একক গান পরিবেশন করেন জয় নেন, ভাস্কর রায়, বিউটি দেব ও বর্ণালী দাশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির জেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিত সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

​

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুয়াপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ও পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়া এমপি।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আদিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট টাঙ্গাইলের সভাপতি অধ্যাপক একেএম আব্দুল আউয়াল, গাজীপুর জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোখলেছুর রহমান, টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি আব্দুল বাসেত মিঞা প্রমুখ।

সভায় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলার বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতিরা বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানান। সেইসাথে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পুনরায় চালুর আহ্বানও জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%