ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

তাহসিন হত্যায় ৮ জন গুলি ছুড়ে, ৩ জন অস্ত্র সরবরাহ করেছে


তাহসিন হত্যায় ৮ জন গুলি ছুড়ে, ৩ জন অস্ত্র সরবরাহ করেছে

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে ইট-বালুর ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসিন (২৭) হত্যার ঘটনায় পুলিশ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে যে আটজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. সাজ্জাদ হোসেন, যিনি ছোট সাজ্জাদ নামেই পরিচিত। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা পূর্ব থেকেই জানা ছিল, এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ এবং হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ব্যবসায়িক আধিপত্য ও পূর্ববিরোধের কারণে তাহসিনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অস্ত্রধারীরা একটি কালো নোহা গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চায়ের দোকানে বসে থাকা তাহসিনকে লক্ষ্য করে তারা গুলি চালায়। হত্যার পর আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তারা পালিয়ে যায়।

২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রায় দুই বছর পর, ২৯ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে বিষয়টি বৃহস্পতিবার প্রকাশ পায়। এতে আটজনকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী এবং তিনজনকে সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তের সময় সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত, গাড়ির ভিডিও ফুটেজ, ময়নাতদন্ত ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নাসিরনগরে বিএনপির র‍্যালি, অংশগ্রহণের আহ্বান জামাল আহমদের

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সরাসরি অংশ নেওয়া আটজন হলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, মো. হাসান, মোহাম্মদ, মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী, মো. হেলাল, মো. ইলিয়াছ হোসেন অপু, মো. বোরহান এবং মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী। ছোট সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমন বর্তমানে কারাগারে আছেন। তবে বড় সাজ্জাদ দাবি করেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামিরা কালো নোহা গাড়িতে করে অদূরপাড়ায় যান। গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তারা তাহসিনের চায়ের দোকানের দিকে এগিয়ে যান। এরপর তাকে লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ছোড়া হয়। পুলিশের অভিযোগ, সাজ্জাদ ও তার সহযোগীরা অভিন্ন উদ্দেশ্যে এতে অংশ নেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সরাসরি গুলি চালান, অন্যরা অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।

চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বৃহস্পতিবার বলেন, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের নামেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

সরাসরি অংশ নেওয়া আটজনের বাইরে আরো তিনজনকে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে পুলিশ। তারা হলেন মো. এমরান, মো. সাইফুল ইসলাম ও শিহাব উদ্দিন সিদ্দিকী ওরফে রিহান শিহাব। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হত্যার পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই জানতেন এই তিনজন। তারা মূল আসামিদের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেন। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে প্ররোচনা, ইন্ধন ও অন্যান্যভাবে সহযোগিতা করেন।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে নিষিদ্ধ আ.লীগের সভাপতি নাসিরসহ ৩০ জন আটক

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অপর্ণা দাশ ও মাহরিন ইসলাম তাহসিনের ময়নাতদন্ত করেন।

তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে চারটি ফায়ার করা কার্তুজ, ১০টি ধাতব পিলেট ও ইনার ওয়াড উদ্ধার করা হয়। সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফরেনসিক ব্যালিস্টিক ল্যাবে এসব আলামত পরীক্ষা করা হয়। ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞ মুহম্মদ শাকেরুল আলম তার মতামতে বলেছেন, উদ্ধার করা চারটি কার্তুজ ১২ বোরের শটগান বা একই ধরনের স্মুথ বোর আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছে। পিলেট ও ইনার ওয়াডও শটগানজাতীয় অস্ত্রের প্রজেক্টাইল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এ ছাড়া তদন্তে আরও কয়েকটি আলামত জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে অভিযোগ করা কালো নোহা গাড়ি, তাহসিনের রক্তমাখা পোশাক, স্যান্ডেল, চশমা, ঘটনাস্থলের রক্তের নমুনা এবং হামলাকারীদের গাড়ি থেকে নামা-ওঠার ভিডিও ফুটেজসংবলিত একটি পেনড্রাইভ।

এমই

আরও পড়ুন: টঙ্গীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে যুবদল নেতা সানজিদ আহমেদ মিথুনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুকান্তের সংগ্রামী চেতনা সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


সুকান্তের সংগ্রামী চেতনা সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার তাগিদ

বাংলা সাহিত্যের প্রতিবাদী ও গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বক্তারা এই অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছেন, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন প্রকাশিত হয়েছে। তার জন্মশতবর্ষে সেই স্বপ্ন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সুকান্তের কবিতা, জীবনদর্শন ও সংগ্রামী চেতনার প্রাসঙ্গিকতা সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে।

চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সমাগম ঘটে।

সভায় কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ষাটের দশককে কেন্দ্র করে প্রগতিশীল সমাজ প্রগতির আন্দোলনের যে কল্পচিত্র তৈরি হয়েছে, তাতে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং সুকান্তের অবদান সবচেয়ে বড়। সুকান্ত ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ ও স্বল্পায়ু। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি কীভাবে এত শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন, তা বিস্ময়কর। তিনি যেন এলেন এবং ধূমকেতুর মতো মিলিয়ে গেলেন। তবে তিনজনই আমাদের পথচলার অনুপ্রেরণা। তাদের সৃষ্টিকর্মগুলো যদি আমরা একত্রিত করি, তাহলে একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থার কথা উঠে আসে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা সেই সমাজব্যবস্থা গড়তে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, একাত্তর আমাদের একটি সুযোগ দিয়েছিল। ভারত আমাদের সহযোগিতা করেছিল। কিন্তু অর্ধশতক পেরিয়ে দেখছি যে, সেই চেতনাকে আমরা পরাজিত করেছি এবং পাকিস্তানি মানসিকতা আমাদের ওপর চেপে বসেছে। আমরা মানুষের মননকে গঠন করতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি বরাবর তৎপর ছিল এবং আছে। কিন্তু আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের, আমাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবিচল থাকতে পারিনি।

আবুল মোমেন বলেন, বর্তমানের তরুণরা সুকান্তের কবিতা পড়ছে না। তারা সাহিত্য পড়ছে না। তাদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেখানেও রবীন্দ্রনাথের লেখাগুলো পুরোপুরি পড়তে হয় না। শুধু প্রশ্ন ও উত্তরগুলো পড়ে পরীক্ষায় লিখলেই চলে। এখন কোনো উপন্যাস না পড়েও বাংলা সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স পাস করা যায়। ইংরেজি সাহিত্যেও পাস করা যায়। সাহিত্যপাঠ ছাড়াই, বই না পড়েই প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। তাহলে জাতি এগোবে কীভাবে! সর্বনাশটা হয়ে গেছে শিক্ষায়। পড়া হতে হবে নিরীক্ষামূলক, আনন্দদায়ক। আমাদের রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সুকান্তকে আবার স্কুলে ঢুকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আজকের প্রজন্ম সাহিত্য বোঝে না। রবীন্দ্রনাথ বোঝে না। রবীন্দ্রনাথের চেয়ে নজরুল এগিয়ে অসাম্প্রদায়িক চিন্তার সাহিত্যচর্চায়। কিন্তু প্রজন্ম নজরুলকে একজন মুসলমান হিসেবে মনে রাখছে। সুকান্তকে তো ঝেড়ে ফেলেছে। আজকের প্রজন্ম নিজেদের রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সুকান্তের উত্তরসূরি মনে করে না। আমাদের রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সুকান্তকে নিয়ে আবার স্কুলে ঢুকতে হবে।

প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক সুভাষ দে বলেন, সুকান্ত আমৃত্যু মার্কসবাদী দর্শনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি সমাজ বিপ্লবের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। বিপ্লবী সংশপ্তকের মতো। বিপ্লবের ঠিকানা তিনি নানা কবিতায় দিয়েছেন। সৃষ্টির ওপর ভর করে চারপাশের সময় তাকে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যে বিপ্লবের কন্ঠস্বর সুকান্ত। শোষিত শ্রমজীবী মানুষের জীবনের লড়াইয়ে সুকান্তই হবেন অন্যতম আশ্রয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল মনসুর বলেন, প্রযুক্তির উল্লম্ফনে মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে গেছে। চিন্তার জগত পরিবর্তন হয়ে গেছে। বাম রাজনীতির মধ্যেও নানা ধরনের নতুন চিন্তা দেখা যাচ্ছে। এ জায়গায় সুকান্তকে প্রাসঙ্গিক রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। নতুনভাবে আমাদের রাজনৈতিক চিন্তার জগতকে সাজাতে হবে।

কবি ও নাট্যজন অভীক ওসমান বলেন, একজন কিশোর কবি পুরো ভারতবর্ষকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপটে সুকান্তকে আমরা আমাদের লড়াই-সংগ্রামে কতটা প্রাসঙ্গিক রাখতে পেরেছি, সেটি ভাবতে হবে। এক সময় গ্রামগঞ্জে রবীন্দ্র, নজরুল ও সুকান্তের জন্মজয়ন্তী হতো। এখন তো বিলুপ্তপ্রায়। তাহলে আমরা যে সমাজকে পাল্টানোর কথা বলি, সেটি কীভাবে হবে।

উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অমল কান্তি নাথের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্তার সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন কবি ইউসুফ মুহাম্মদ ও কেন্দ্রীয় উদীচীর সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সদস্য শিমুল সেন।

সাংস্কৃতিক পর্বে উদীচী ও রাগেশ্রীর শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন। সুরাঙ্গন পরিবেশন করে ‘রানার’ শিরোনামের নৃত্য। তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও বোধন দলীয় আবৃত্তিতে অংশ নেয়। একক আবৃত্তিতে অংশ নেন সোমা মুৎসুদ্দি, অঞ্চল চৌধুরী, ফারুক তাহের ও বেলায়েত হোসেন। একক গান পরিবেশন করেন জয় নেন, ভাস্কর রায়, বিউটি দেব ও বর্ণালী দাশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির জেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিত সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

​

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুয়াপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ও পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়া এমপি।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আদিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট টাঙ্গাইলের সভাপতি অধ্যাপক একেএম আব্দুল আউয়াল, গাজীপুর জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোখলেছুর রহমান, টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি আব্দুল বাসেত মিঞা প্রমুখ।

সভায় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলার বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতিরা বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানান। সেইসাথে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পুনরায় চালুর আহ্বানও জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বটতলায় কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই অনুষ্ঠিত হলো শিবিরের প্রকাশনা উৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


বটতলায় কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই অনুষ্ঠিত হলো শিবিরের প্রকাশনা উৎসব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায়, যেখানে একসময় কোরআন তিলাওয়াতের জন্য শোকজ করা হতো, মসজিদের ইমাম-কারির চাকরি চলে যেত, অথবা রমজানকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান করলে বিচারের সম্মুখীন হতে হতো—আজ সেখানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের ফলস্বরূপ আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার জন্য একটি মুক্ত পরিবেশ ফিরে এসেছে, এমন মন্তব্য করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এসএম ফরহাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজিত প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আমরা কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করতে চাই। যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াত করলে শোকজ নোটিশ আসত, ভিসি অফিস মসজিদের তারাবির নামাজের কারি সাহেবের চাকরি চলে যেত, রমজানকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান বা কোনো ইসলামী সংস্কৃতি তুলে ধরলে শিক্ষার্থীদের বিচারের মুখোমুখি করা হতো—আজ সেই বটতলাতেই ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশনা উৎসবের সাক্ষী হচ্ছে। এখানে ইসলামের ইতিহাস, মুসলিম ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

ফরহাদ ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আজকে আমরা বলতে পারি, ২৪-এর শহীদদের রক্তের বিনিময়ে, আহতদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ এখানে কাউকে ইসলামের কালচার প্র্যাকটিস করতে গিয়ে শোকজের মুখোমুখি হতে হয় না। কোনো হাফেজকে ভয় পেতে হয় না যে তিলাওয়াত করলে চাকরি যাবে; কোনো শিক্ষার্থীকে আতঙ্কিত হতে হয় না যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হবে।’

শিবির নেতা বিগত দেড় দশকের চরম দমন-পীড়ন ও মিথ্যা মামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘গত ১৫ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে শিবিরের কোনো প্রকাশনা হাতে পেলে শিক্ষার্থীদের চরম নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হতো। কোনো ডায়েরি বা ক্যালেন্ডার পেলে তাকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা দেওয়া হতো। এমনকি মেস থেকে চোখ বেঁধে শিক্ষার্থীদের ধরে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে দিয়ে বলা হতো—তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, তারা পুলিশের ওপর গুলি চালিয়েছে। অথচ বাস্তবে তাদের সামনে জঙ্গি উপাদান হিসেবে সাজিয়ে রাখা হতো আমাদের ডায়েরি, ক্যালেন্ডার ও ম্যাগাজিন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ এই ঐতিহাসিক বটতলায় দাঁড়িয়ে পুরো জাতির সামনে আমরা আমাদের সেই সব প্রকাশনা তুলে ধরেছি। দেশবাসী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা আজ এসে নিজেরাই পর্যবেক্ষণ ও বিচার করুক—কী উপাদান আসলে বিগত ফ্যাসিবাদের জন্য ভয়ের কারণ ছিল? মূলত আমরা ইসলামের কথা বলতাম, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতাম। আমরা চাইতাম তরুণ প্রজন্ম একটি আদর্শ ও আত্মমর্যাদাশীল প্রজন্ম হিসেবে গড়ে উঠুক এবং আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় প্রস্তুত হোক। আর এই সত্যের বাণীকেই তারা ভয় পেত।’

সবশেষে তিনি বলেন, শত জুলুম ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও কোনো বছরই শিবিরের প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ থাকেনি। একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ, সমাজের কাঠামোগত সংস্কার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা জাগ্রত রাখার এই লড়াই ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইনজীবীর শক্তি মানবিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও সততা : আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


আইনজীবীর শক্তি মানবিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও সততা : আইনমন্ত্রী

ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে আইন পেশায় সফলতার জন্য মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা, সততা এবং পূর্ণ অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, "একজন মানুষ বিপদে পড়ে আইনজীবীর কাছে এলে নিজের আস্থা, বিশ্বাস, ভরসা, প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তার কাছে সমর্পণ করেন।" তাই, মক্কেলের আর্থিক সামর্থ্যকে বিবেচনা না করে, আইনজীবীর প্রধান কর্তব্য হচ্ছে তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি উপস্থাপন এবং পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা।

আজ রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বিষয়ক ১৭তম হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এবং আইইউবি যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, "আইন পেশা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং।" এই পেশায় শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের দিকে মনোযোগী হলে চলবে না; বরং প্রয়োজন পূর্ণকালীন অঙ্গীকার, পেশাদারিত্ব, অধ্যবসায় ও গবেষণা। আদালতে প্রতিটি শব্দ ও যুক্তির গুরুত্ব রয়েছে। তাই একজন আইনজীবীকে যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে নির্ভুল তথ্য ও শক্তিশালী আইনি যুক্তি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

মক্কেল কত টাকা পারিশ্রমিক দিলেন, সেটি নয়; বরং তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি তুলে ধরতে পেরেছেন কি না, সেটিই একজন আইনজীবীর কাছে মুখ্য হওয়া উচিত।

মন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, "মানবাধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে বিস্তৃতভাবে কাজ করে।" অন্যদিকে, যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগের প্রশ্নটি সামনে আসে। তবে, সময়ের সঙ্গে যুদ্ধের ধরণ, ভাষা ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে।

আগে যুদ্ধের প্রধান উপকরণ ছিল অস্ত্র, বোমা ও গুলি; বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ, বাণিজ্যিক বিরোধ, বাণিজ্য বন্ধ এবং ভিসা বিধিনিষেধের মতো বিষয়ও রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশও নতুন-নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগ, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

আইনমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও দায়িত্ব রয়েছে।" মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের আকাক্সক্ষা ও দায়িত্বের প্রতিফলন।

তরুণদের মেধা, প্রজ্ঞা, যুক্তি, পরিশ্রম ও অঙ্গীকার দিয়ে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক এম. তামিম সভাপতিত্ব করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেন, বাংলাদেশে আইসিআরসির হেড অব ডেলিগেশন নিকোলাস ফ্লুরি এবং আইইউবির স্কুল অব ল’-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান বক্তৃতা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%