প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির সংগঠনটির দায়িত্ব থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শুক্রবার তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই বিদায়ের ঘোষণা করেন।
এর আগে গত রাতের সময় সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলামও তার বিদায়ি বার্তার কথা জানিয়েছেন একটি পোস্টে।
নাছির তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, 'আজ আমি দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছি, তবে ছাত্রদল থেকে নয়। পদ থেকে বিদায় নেওয়া যায়; আদর্শ থেকে নয়। ভালোবাসা থেকে নয়, সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে নয়।'
আগামী দিনগুলোতে ছাত্রদলে যারা নেতৃত্বে আসবেন, তাদের ওপর তিনি আশাবাদী। নাছির বিশ্বাস করেন, তারা সংগঠনটিকে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলবে। নতুন নেতৃত্বের ডাকে তিনি যেকোনো সময় তাদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।
ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে, নাছির ছাত্রদলের দায়িত্ব পালনকালে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তার প্রতি সহযোগিতা এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা জানান।
তিনি বলতে থাকেন, ওয়ান ইলেভেনের দুর্দিনে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল। সেই কঠিন সময় থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১৭ বছরের অনিশ্চয়তার পর, আজ আমরা উজ্জ্বল ভিন্ন এক বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আছি। এই যাত্রা ছিল সহজ নয়; সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন, গুম ও খুনের ভয়াবহ বাস্তবতা সহ্য করে এগিয়ে যাওয়া। ছাত্রদলের পদ থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে নাছির বলছেন, আজ তার দায়িত্ব পালনের শেষ দিন। এটি একটি দীর্ঘ, কঠিন, ঘটনাবহুল এবং গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের এই যাত্রাটি সংক্ষেপে তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন নেতৃত্ব সব সময় তার রাজনৈতিক জীবনের অনুপ্রেরণা ছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তারা কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে পথ চলেছেন। কিন্তু তাদের সময়ে সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট। ওই সময়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, তাদের সাহস জোগানো, সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের সময়ে ছাত্রদলের বহু নেতাকর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন। ঢাকার পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়, পাঁচ কলেজ এবং চার মহানগরের তৎকালীন নেতৃত্ব অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন, এর জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নাছির।
জুলাইয়ের আন্দোলনের সময়ে নাহিদ, আসিফ, হাসনাত, সারজিস, কাদের, মাহিন, রিফাত রশিদ ও হান্নান মাসুদের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'আন্দোলনের সময়ে তারা ছাত্রদলকে গুরুত্বপূর্ণভাবে সেবা করেছে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে হয়তো ছাত্রদলের অবদান সব সময় স্বীকৃত হয়নি; তবে আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।'
এই দীর্ঘ সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল; তিনি জানান, সেটি হলো মব সংস্কৃতি। চারপাশে প্রচারণা, অপপ্রচার, বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ছাত্রদলকে রাজপথে সক্রিয় রাখা সহজ ছিল না। সকল প্রোপাগান্ডা কাটিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নিশ্চিত করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
দায়িত্বের অপূর্ণতা তুলে ধরে বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিছু কমিটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত অংশ সম্পন্ন না করতে পারার আফসোস তার রয়েছে। এই অপূর্ণতার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়াটাকে একটি ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একজন সংগঠক হিসেবে এই ফলাফল তাকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। কোথায় তারা ঘাটতি ছিল, কোথায় আরও ভালো করা যেত—এই প্রশ্নগুলি তার কাছে এসেছে। রাজনীতিতে পরাজয়ও শিক্ষা দেয়, তিনি মনে করেন ছাত্রদল এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী, আরো গ্রহণযোগ্য, এবং আরো সংগঠিত ছাত্রসংগঠন হয়ে উঠবে।
সবশেষে তিনি সহযোদ্ধাদের কষ্ট দিয়ে থাকলে ফেসবুক পোস্টে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নাছির বলেন, আজ তিনি বিদায় নিচ্ছেন একটি দায়িত্ব থেকে; কিন্তু সম্পর্ক, সংগ্রাম, এবং আদর্শ থেকে নয়। দেখা হবে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে, অন্য কোনো দায়িত্বে, অন্য সময়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন