ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ফারিহার স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ালো মহিলা ক্রীড়া সংস্থা


ফারিহার স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ালো মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

দারিদ্র্য এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ফুটবলে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে ছোট্ট জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিহা। ‘নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এ সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছে। এবার তার ফুটবলার হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা।

ফারিহার বিকাশের জন্য সংস্থাটি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে এক বছরের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া, ফুটবল সরঞ্জাম, জার্সি, বুট ও ট্র্যাকস্যুটের পাশাপাশি তার উন্নত চিকিৎসার সকল ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছে তারা।

বাকপ্রতিবন্ধী বাবার ও দিনমজুর মায়ের সন্তান ফারিহা। সীমিত সামর্থ্য এবং বিভিন্ন বাধার মধ্যেও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা এবং প্রতিভার স্বাক্ষর রয়েছে। তার এই প্রতিভা যেন আর্থিক সংকটের কারণে থেমে না যায়, ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ যেন নিশ্চিত হয়- সেই লক্ষ্যেই মহিলা ক্রীড়া সংস্থা পাশে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: মাঠে গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে তেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল নিহত

মঙ্গলবার ধানমন্ডির রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফারিহার জন্য এই সহায়তার ঘোষণা দেন সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। এ সময় সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার রত্নাসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মহিলা ক্রীড়া সংস্থার এই উদ্যোগে ফারিহা উচ্ছ্বসিত। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম পাওয়ার আশ্বাস তার ফুটবলে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। ভবিষ্যতে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে চায় এই ক্ষুদে ফুটবলার।

সংস্থাটির প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং পরিচর্যা পেলে একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে ফারিহা।

আরও পড়ুন: ম্যারাথনে অংশ নিয়ে দাদার স্মরণে র‍্যাচেল অ্যাপার মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সউদী আরামকোর সমন্বিত নিট আয় ৯ শতাংশ বেড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১০ পি.এম


চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সউদী আরামকোর সমন্বিত নিট আয় ৯ শতাংশ বেড়েছে

সউদী আরামকোর সমন্বিত নিট আয় ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১,৭০০ কোটি সউদী রিয়ালে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ১০,৭২০ কোটি রিয়াল।

মঙ্গলবার প্রকাশিত কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ প্রবাহ বেড়ে ১৪,৫২০ কোটি রিয়ালে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ১৩,৫৪০ কোটি রিয়াল। একই সঙ্গে কোম্পানির ফ্রি ক্যাশ ফ্লো বেড়ে ১০,৫৮০ কোটি রিয়ালে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮,৮৪০ কোটি রিয়াল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরামকোর গিয়ারিং অনুপাত কমে ৫.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত জুনের শেষে ছিল ৬.২ শতাংশ।

এদিকে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের জন্য ৮,২১০ কোটি রিয়ালের মূল লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা বার্ষিক ভিত্তিতে ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই লভ্যাংশ চতুর্থ প্রান্তিকে প্রদান করা হবে।

রিফাইনিং মার্জিন উন্নত হওয়ার ফলে ডাউনস্ট্রিম খাতে সুদের আগে সমন্বিত আয়, আয়কর এবং জাকাত বাবদ আয় বার্ষিক ভিত্তিতে ২৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মূল উৎপাদন বা আপস্ট্রিম কার্যক্রমে আরামকো ‘জুলুফ’ ক্রুড অয়েল ইনক্রিমেন্ট প্রকল্পের উৎপাদন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ‘জাফুরা ফেজ টু’, ‘ফাধিলি গ্যাস প্ল্যান্ট’ সম্প্রসারণ এবং ‘দাম্মাম ফিল্ড’ উন্নয়নের মতো প্রধান প্রকল্পগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়েই এগোচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি রফতানি কার্যক্রমে তাদের নমনীয়তা বজায় রেখেছে। বৈশ্বিক সরবরাহ নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে আরামকো বিদেশে অতিরিক্ত স্টোরেজ সক্ষমতা এবং বিকল্প রফতানি রুট অন্বেষণ করছে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) খাতে উপস্থিতি বাড়াতে কোম্পানিটি ‘হুমেইন’-এর ৪৯ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। প্রায় ৯৯০ কোটি রিয়াল মূল্যের সম্পদ হস্তান্তর ও নগদ অর্থ যোগানের মাধ্যমে এই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হচ্ছে।

একইসঙ্গে নিজস্ব আপস্ট্রিম দক্ষতা কাজে লাগিয়ে খনিজ অনুসন্ধান ও মাইনিং খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ গঠনের লক্ষ্যে শেয়ারহোল্ডারদের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে আরামকো।

আর্থিক ফলাফলের বিষয়ে আরামকোর প্রেসিডেন্ট ও সিইও আমিন এইচ. নাসের কোম্পানির কর্মীদের নিষ্ঠা, নিখুঁত পরিচালনা ও শক্তিশালী সাপ্লাই চেইনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের কাছে নির্ভরযোগ্যভাবে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে আরামকো সক্ষম হয়েছে।

আমিন নাসের পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, আরামকো অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারফরম্যান্স বৃদ্ধির ওপর মনোনিবেশ করছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ ও মূল্য তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে ড্যাবের বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১১ পি.এম


কক্সবাজারে ড্যাবের বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজারে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের উদ্যোগে সংগঠনটির জেলা পর্যায়ের সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভাটি গত ২ নভেম্বর কক্সবাজার শহরের একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল ড্যাব-কক্সবাজারের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন নিয়ে সদস্যদের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করা। দীর্ঘ আলোচনা শেষে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠনের রূপরেখা প্রণয়ন করা হয় এবং কার্যনির্বাহী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সম্ভাব্য সদস্যদের নাম প্রস্তাব করা হয়।

সভাটি অধ্যাপক ডা. মো. জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যিনি ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের আহ্বায়ক। সভায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ড্যাব-কক্সবাজারের পক্ষ থেকে বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও ড্যাব-কক্সবাজারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মিছবাহ উদ্দীন আহমদ।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ড্যাব-কক্সবাজারের সদস্য ডা. ইউসুফ আলী। এ সময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

সভায় ড্যাবের কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, সদস্যদের অংশগ্রহণ এবং নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। কক্সবাজারের সর্বস্তরের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ রাখা হয়, যেখানে উপস্থিত সদস্যরা তাঁদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের সহ-সভাপতি ডা. মো. তমিজউদ্দীন আহমেদ মানিক, যুগ্ম মহাসচিব ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী ও ডা. এস এম সরোয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সামশুল আরেফিন সুমন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জাহিদ ইকবাল, সহ-চিকিৎসক কল্যাণ সম্পাদক ডা. মো. সাদ্দাম হোসেন, ডা. রাজেদ আল হাসান ও ডা. মেহেদি হাসান।

ড্যাব-কক্সবাজারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের এবং সংগঠনটির উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আয়ুব আলী।

সভা সঞ্চালনা করেন ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. নুরুল করিম চৌধুরী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহাকাশে আয়না বসিয়ে রাতেও রোদ বিক্রির পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


মহাকাশে আয়না বসিয়ে রাতেও রোদ বিক্রির পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘রিফ্লেক্ট অরবিটাল’ মহাকাশে বিশাল আয়না বসানোর পরিকল্পনা করেছে, যা রাতের অন্ধকারে সূর্যের আলো পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য হলো, পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে হাজার হাজার আয়না-উপগ্রহ স্থাপন করে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করা এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকায় সেই আলো পৌঁছে দেওয়া। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, দুর্যোগকবলিত এলাকায় আলোর ব্যবস্থা করা এবং রাতের উদ্ধার অভিযান সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

তবে, মহাকাশে এত বিপুলসংখ্যক আয়না-উপগ্রহ স্থাপন এবং রাতের আকাশে কৃত্রিম আলো ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদেরা। তাদের আশঙ্কা, এই উদ্যোগের ফলে আলোকদূষণ বাড়বে, বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হবে এবং মানুষের ঘুমের জৈবিক ছন্দেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রিফ্লেক্ট অরবিটাল জানিয়েছে, তারা ভারতের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে এ প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ‘ইয়ারেন্ডিল-১’ নামে প্রথম পরীক্ষামূলক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হবে। এর আগে, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) পরীক্ষামূলক উপগ্রহ উৎক্ষেপণের অনুমোদন দেয়।

প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৪৫ কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১৮ মিটার বাই ১৮ মিটার আকারের বিশাল প্রতিফলক আয়না স্থাপন করা হবে। সূর্য অস্ত যাওয়ার পরও এসব আয়নার অবস্থান ও অভিমুখ নিয়ন্ত্রণ করে পৃথিবীর নির্দিষ্ট এলাকায় সূর্যের আলো প্রতিফলিত করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি আয়না প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আলো ফেলতে পারবে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

গ্রাহকদের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পছন্দের এলাকার জন্য আলোর বরাত দিতে হবে এ সেবা পেতে। অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত স্থানে আলো পৌঁছে দিতে মহাকাশে থাকা আয়না-উপগ্রহগুলোর অবস্থান ও দিক পরিবর্তন করবে প্রতিষ্ঠানটি।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে ৫০ হাজার আয়না-উপগ্রহ পাঠাতে চায় রিফ্লেক্ট অরবিটাল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শুরুতে এসব আয়নার প্রতিফলিত আলো পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো হবে। তবে উপগ্রহের সংখ্যা বাড়লে আলোর তীব্রতা ও স্থায়িত্ব আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। কৃষিজমিতে আলো সরবরাহ, নষ্ট হয়ে যাওয়া সড়কবাতির বিকল্প ব্যবস্থা এবং সামরিক অভিযানে সৌরশক্তি জোগানোর মতো কাজেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছে তারা।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা অঞ্চলের লোন পাইনের কাছে মাউন্ট হুইটনির আশপাশে এ প্রযুক্তির একটি প্রদর্শনী চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত ওই পরীক্ষায় মরুভূমির একটি এলাকায় শক্তিশালী কৃত্রিম আলো ফেলা হয়। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ তীব্র আলো দেখে বিস্মিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের একজন আলোটিকে ‘চোখধাঁধানো’ বলে বর্ণনা করেন।

রিফ্লেক্ট অরবিটালের মুখপাত্রের দাবি, রাতের অন্ধকারে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোই এ সেবার প্রথম গ্রাহক হতে পারে। উদ্ধার অভিযানে এ প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে, তা তুলে ধরতেই ওই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।

আলোকদূষণ ও প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে শঙ্কা

প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ বায়ুমণ্ডলে আলোর বিচ্ছুরণ। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসার সময় বায়ুর অণু ও অ্যারোসল কণার সঙ্গে সংঘর্ষে ছড়িয়ে পড়বে। ভূপৃষ্ঠে পৌঁছানোর পরও আলোর একটি অংশ প্রতিফলিত হয়ে আবার বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে শুধু নির্ধারিত এলাকাই নয়, এর আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও আলোকিত হয়ে উঠবে।

গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, মূল আলোকিত এলাকা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরেও এ আলোর তীব্রতা পূর্ণিমার চাঁদের আলোর চেয়ে বেশি হতে পারে। অর্থাৎ, যারা অর্থের বিনিময়ে এ সেবা নেবেন না, তাদেরও অনিচ্ছায় কৃত্রিম আলোর প্রভাবের মধ্যে পড়তে হতে পারে।

প্রকল্পটির বিরোধিতায় গত আগস্টে পরিবেশবিষয়ক আইনি সংস্থা আর্থজাস্টিসের মাধ্যমে চারটি সংগঠন এফসিসির কাছে অনুমোদন পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে। আর্থজাস্টিসের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জ্যান হ্যাসেলম্যান এ পরিকল্পনাকে ‘নির্বোধ’ ও ‘পাগলামি’ বলে সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, পৃথিবীর সব প্রাণীর বিবর্তন দিন ও রাতের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হয়েছে। সেই প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। ৫০ হাজার আয়না-উপগ্রহ স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মানুষের পরিচিত রাতের আকাশ চিরতরে বদলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞানীদের মতে, পাখি, পোকামাকড় ও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় নেওয়া এবং প্রজননের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম দিন-রাতের স্বাভাবিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। রাতের অন্ধকারে কৃত্রিম আলোর মাত্রা বেড়ে গেলে এসব প্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও জীবনচক্র ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটিও এ প্রযুক্তি নিয়ে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে সরাসরি প্রতিফলিত তীব্র আলোর দিকে তাকালে চোখের ক্ষতি হতে পারে।

এ ছাড়া পৃথিবীর কক্ষপথে ক্রমবর্ধমান উপগ্রহের সংখ্যা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কক্ষপথে ১০ লাখ ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এর সঙ্গে হাজার হাজার আয়না-উপগ্রহ যুক্ত হলে রাতের আকাশে নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি মহাকাশে আবর্জনার পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন সমালোচকেরা।

বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়েও বিতর্ক

রিফ্লেক্ট অরবিটালের যুক্তি, রাতের বেলায় সৌর প্যানেলে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করতে পারলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় বাড়বে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে, যা পরিবেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

তবে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের একাংশ পৃথিবীতে সূর্যের শক্তির পরিমাণ ও বণ্টন নিয়ে এ ধরনের কৃত্রিম পরিবর্তনের বিরোধিতা করছেন। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী ডেভিড হো বলেন, বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যার ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ছে।

তিনি বলেন, উষ্ণায়ন কমানোর লক্ষে কেউ কেউ মহাকাশে আয়না বসিয়ে সূর্যের আলো পৃথিবী থেকে দূরে প্রতিফলিত করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। অথচ রিফ্লেক্ট অরবিটাল সেই আয়না ব্যবহার করে সূর্যের আলো পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ জলবায়ুর ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

সমালোচনার মুখে রিফ্লেক্ট অরবিটাল জানিয়েছে, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলগুলোকে কৃত্রিম আলোর আওতার বাইরে রাখার বিষয়ে বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে তারা।

প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র বলেন, তারা নজরদারি ও সমালোচনাকে স্বাগত জানান। সরকার, বিজ্ঞানী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করাকেই নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করেন তারা।

তবে প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য সুবিধার পাশাপাশি পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও রাতের আকাশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক এখনো কাটেনি।

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি ছাড়া ২১ বছর পর আর্জেন্টিনার নতুন দল ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


মেসি ছাড়া ২১ বছর পর আর্জেন্টিনার নতুন দল ঘোষণা

এই প্রথমবার লিওনেল মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে, যা ২১ বছরের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি নতুন দলটি সাজিয়েছেন মেসির অনুপস্থিতিতে।

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক ঘটে মেসির। এরপর থেকে তিনি জাতীয় দলের আক্রমণভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জিতেছেন। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে ফিনালিসিমা, কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা অর্জন করে।

মেসির জাতীয় দল থেকে বিদায়ের পর এটি স্ক্যালোনির প্রথম দল ঘোষণার ঘটনা। আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ১৩ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের লা বোমবোনেরায় তারা উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলবে। এরপর ১৭ নভেম্বর কর্দোবার এস্তাদিও মারিও আলবার্তো কেম্পেসে কোস্টারিকার মুখোমুখি হবে।

নতুন স্কোয়াডে তিনটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন রয়েছে। প্রথমবার ডাক পেয়েছেন চেলসির ২১ বছর বয়সি ডিফেন্ডার অ্যারন আনসেলমিনো। দলে ফিরেছেন রিভার প্লেটের গঞ্জালো মন্তিয়েল ও পারমার মারিয়ানো ত্রোইলো। স্ক্যালোনি পালমেইরাসের আগুস্তিন জিয়াই ও ফ্লাকো লোপেজকেও দলে রেখেছেন। তবে মেসির ঘনিষ্ঠ সতীর্থ রদ্রিগো দি পল ও জিওভানি লো সেলসো এবার দলে জায়গা পাননি।

আর্জেন্টিনার স্কোয়াড

গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো, সান্তিয়াগো বেলত্রান।

ডিফেন্ডার: গনজালো মন্তিয়েল, অগাস্তিন গিয়াই, অ্যারন আনসেলমিনো, মারিয়ানো ত্রোইলো, লিওনার্দো বালের্দি, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস তালিয়াফিকো, রোমান ভেগা, এজেকুয়েল ফার্নান্দেজ।

মিডফিল্ডার: ম্যাক্সিমো পেরোনে, এজেকুয়েল পালাসিওস, ভ্যালেন্তিন বারকো, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, নিকোলাস পাজ, মাতিয়াস সুলে, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো, জিউলিয়ানো সিমিওনে, থিয়াগো আলমাদা, হুয়ান হোসে লোপেজ।

ফরোয়ার্ড: জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি, সান্তিয়াগো কাস্ত্রো, হুলিয়ান আলভারেজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%